পোষা প্রাণী বা বন্য পশুর সঙ্গে মানুষের গভীর ভালোবাসার গল্প সবসময়ই আমাদের মন স্পর্শ করে। বিশেষ করে বিপদের মুহূর্তে কোনো পশুর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া আমাদের আবেগপ্রবণ করে তোলে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ও গল্প দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দেখা যায়, একজন কেয়ারটেকার মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর জুলিয়াস নামের এক গরিলা চিৎকার করে সাহায্য চাইছে। দৃশ্যটি প্রথম দেখায় যেকোনো মানুষের মনেই আবেগ তৈরি করবে। কিন্তু এই আবেগঘন দৃশ্যের পেছনের সত্যটি আসলে কী?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়ানো সেই ছবিটি মূলত সিসিটিভি ফুটেজের দুটি স্ক্রিনশটের কোলাজের মতো দেখায়। যার একটিতে কেয়ারটেকার দাঁড়িয়ে আছেন এবং অন্যটিতে তিনি মাটিতে অচেতন হয়ে পড়ে আছেন। আর পাশে থাকা গরিলাটি যেন আকুল হয়ে কাউকে ডাকছে, সাহায্য চাইছে। সত্যি কি কোনো কেয়ার সেন্টারে এমন ঘটনা ঘটেছে?
ঘটনার অনুসন্ধানে নেমে সত্যতা যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান স্নোপস দেখতে পায়, এই আবেগঘন দৃশ্যটি কোনো বাস্তব ঘটনার অংশ নয়, বরং এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ছবি।
লোকটির বগল বা এক্সিলার অংশটি আবছা, যা বিভ্রম তৈরি করে
এআই শনাক্তকরণ টুলের সাহায্যে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ছবিটি ওপেনএআই-এর প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ছবিটির দিকে গভীরভাবে তাকালে কিছু কারিগরি ত্রুটিও চোখে পড়ে। যেমন, লোকটির বগলের কাছের অংশ এবং গরিলাটির পায়ের গঠন কিছুটা বিকৃত। এছাড়া সাধারণত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজের স্ক্রিনশট এতটা ঝকঝকে বা হাই রেজ্যুলেশনের হয় না, যতটা ছবিতে দেখা যাচ্ছিল।
ভুয়া ছবিতে গরিলার পায়ের গঠনে ত্রুটি
ইন্টারনেটে রিভার্স ইমেজ সার্চ কিংবা গুগল অনুসন্ধানেও এই ধরনের কোনো ঘটনার সত্যতা মেলেনি। জুলিয়াস নামের এই গরিলা বা ওই কেয়ারটেকার সম্পর্কে কোনো বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম বা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বা কেয়ার সেন্টার থেকেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। যদি সত্যিই এমন কোনো হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটত, তবে বিশ্বজুড়ে মূলধারার গণমাধ্যমগুলোয় নিশ্চয়ই তা বড় করে শিরোনাম হতো।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গল্পটির মূল উৎস ‘স্টোরিটাইম’ নামের একটি সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যাকাউন্ট। মানুষের আবেগ ও সহানুভূতিকে কাজে লাগিয়ে ইন্টারনেটে লাইক, শেয়ার ও ভিউ বাড়ানোই ছিল এই ভুয়া ছবি এবং মনগড়া গল্পের মূল উদ্দেশ্য। এমন আবেগঘন ভুয়া গল্প ছড়িয়ে মূলত অনলাইন স্টোরের পণ্য বিক্রি ও ব্যবসা করাই তাদের লক্ষ্য থাকে। তাই অনলাইনে এমন সুন্দর কিন্তু অবিশ্বাস্য কোনো গল্প দেখলে আবেগাপ্লুত হওয়ার আগে সেটির সত্যতা যাচাই করে নেয়া জরুরি।
—স্নোপস থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে