মানুষের কথা শুনেই নতুন শব্দ শিখে ফেলে কিছু বুদ্ধিমান কুকুর!

কিছু বিশেষ গুণসম্পন্ন বুদ্ধিমান কুকুর ছোট শিশুদের মতো আমাদের কথা শুনে নিজ থেকেই নতুন নতুন শব্দ শিখতে পারে। বিজ্ঞানীরা এ প্রক্রিয়াকে বলেন ‘ইভসড্রপিং’ বা আড়িপাতা। মানে, সরাসরি শেখানো ছাড়াই কথোপকথন শুনে নিজে নিজে শেখা।

ঘরের কোণে একটি কুকুর চুপচাপ বসে আছে। সামনে দুজন মানুষ নতুন কোনো খেলনা হাতে নিয়ে কথা বলছে। তারা খেলনার নাম বলছে, একে অপরের হাতে দিচ্ছে, আবার খেলনাটির নাম নিয়ে কথা বলছে। অথচ কুকুরটির দিকে কেউ তাকাচ্ছে না, কেউ তাকে ডাকছেও না। কিন্তু কিছুক্ষণ পর যখন কুকুরটিকে খেলনাটি নিয়ে আসতে বলা হলো, সে ঠিক সেই খেলনাটিই তুলে আনল। যেন সে পুরো সময়টায় মানুষের কথাবার্তা শুনে সব বুঝে ফেলেছিল।

এ গল্পটি কোনো কল্পকাহিনি নয়। হাঙ্গেরির ইওটভোস লোরান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু বিশেষ গুণসম্পন্ন বুদ্ধিমান কুকুর ছোট শিশুদের মতো আমাদের কথা শুনে নিজ থেকেই নতুন নতুন শব্দ শিখতে পারে। বিজ্ঞানীরা এ প্রক্রিয়াকে বলেন ‘ইভসড্রপিং’ বা আড়িপাতা। মানে, সরাসরি শেখানো ছাড়াই কথোপকথন শুনে নিজে নিজে শেখা।

৯ বছর বয়সী রেস্কিউড কুকুর শীরা ৩০০টিরও বেশি খেলনার নাম জানে

বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৮ মাস বয়সী মানব শিশুরাও চোখের দৃষ্টি কিংবা কথার ভঙ্গি বুঝে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। এমনকি অন্যের কথোপকথন শুনেও তারা খুব সহজে বুঝতে সক্ষম হয় যে কোন শব্দটি দিয়ে কোন জিনিসকে বোঝানো হচ্ছে। এজন্য গবেষকেরা জানতে চেয়েছিলেন, কুকুরের মাঝেও এমন কোনো ক্ষমতা আছে কিনা?

আর তাই পরীক্ষার জন্য ১০টি কুকুর বেছে নেয়া হয়। এ কুকুরগুলোর মালিকদের দাবি ছিল, তাদের পোষা প্রাণীটি অনেক খেলনার নাম মনে রাখতে পারে। গবেষণার শুরুতে দেখা যায়, মাত্র ৮ মিনিট মানুষের কথা শুনেই ১০টি কুকুরেরর মাঝে ৭টি কুকুর দুটি নতুন খেলনার নাম চটপট শিখে ফেলেছে।

তবে আসল চমক ছিল পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে। এবার মালিকেরা আড্ডা দেয়ার ছলে নিজেদের মধ্যে খেলনা নিয়ে কথা বলতে থাকেন। কিন্তু কুকুরের দিকে তাকান না বা কোনো নির্দেশও দেন না। এ সময় কুকুরগুলো বেশ দূর থেকে খাঁচা বা বেষ্টনীর ভেতর বসে শুধু তাদের মালিকদের কথোপকথন শুনেছে। তবুও ৭টি কুকুর আবারো সঠিক খেলনাটি চিনে বের করে নিতে পেরেছে।

গবেষণার তৃতীয় ধাপে দেখা যায়, খেলনাগুলো চোখের সামনে না থাকলেও কেবল বাক্যের ভেতরে নাম শুনেই কুকুররা সেগুলো শনাক্ত করতে পারছে। এমনকি দুই সপ্তাহ পরেও কুকুরগুলো খেলনার নাম মনে রাখতে পেরেছিল।

গবেষক শ্যানি ড্রর জানান, বিশেষ এ কুকুরগুলো মানুষের যোগাযোগ এত গভীরভাবে বোঝে যে তাদের আলাদা করে কোনো কিছু শেখানোর প্রয়োজন হয় না। তারা মানুষের আড্ডা থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য একা একা শিখে নিতে সক্ষম। তবে সব কুকুরের আবার এমন ক্ষমতা নেই। যেসব কুকুরের মধ্যে নিজ থেকে শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার প্রবণতা আছে, এসব বিশেষ কুকুরদের বলা হয় ‘গিফটেড ওয়ার্ড লার্নার’।

বিশেষ কুকুরদের মধ্যে বোর্ডার কলি বেশি থাকলেও জার্মান শেফার্ড, ল্যাব্রাডর রিট্রিভার আর ব্লু হিলারের মতো মিশ্র ব্রিডের কুকুরও আছে। কিন্তু সাধারণ ১০টি বোর্ডার কলি ব্রিডের কুকুরের ওপর একই পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, তারা এভাবে নতুন শব্দ শিখতে পারে না।

গবেষকদের মতে, বিষয়টি অনেকটা গাড়ি আর সাইকেলের মতো। দুটোই চলে, কিন্তু তাদের চলার শক্তি আর প্রক্রিয়া একেবারেই আলাদা। অর্থাৎ মানুষের সঙ্গে কুকুরের সংযোগের বিষয়টি অনেকটা প্রাকৃতিক। কুকুরের ক্ষেত্রে তা ব্রিড ভেদে আলাদা হতে পারে, আবার কখনো কখনো তার ইচ্ছাশক্তির ওপরও নির্ভর করতে পারে।

—সিএনএন

আরও