রিভিউ

প্রশংসা ও নিন্দার বাইরে আওরঙ্গজেবের জটিল প্রতিচ্ছবি

ফারুকি দেখিয়েছেন, আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর অনুগত অভিজাতরা তার স্মৃতিকে নতুনভাবে নির্মাণ করেন। বিশেষ করে মুস্তাইদ খানের ‘মাআসির-ই আলমগিরি’ তাকে সুন্নি ইসলামের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরে। পরে ঔপনিবেশিক ইতিহাসবিদ এবং জাতীয়তাবাদী ইতিহাসচর্চা সেই বয়ান গ্রহণ করে, যা আজো রাজনৈতিক বিতর্ককে প্রভাবিত করছে

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে খুব কম শাসকই আছেন, যাদের নাম আজো বাদশা আলমগীর তথা আওরঙ্গজেবের মতো এত তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করে। ১৬৫৮ থেকে ১৭০৭ সাল পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাব্দী শাসন করা ষষ্ঠ মুঘল সম্রাটকে কেউ দেখেন ধর্মীয় উগ্রবাদী হিসেবে, যিনি আকবরের ধর্মীয় সহনশীলতার নীতি ধ্বংস করেছিলেন। আবার অন্যদের কাছে তিনি এমন এক মহান ইসলামী শাসক, যিনি ইতিহাসে অন্যায়ভাবে কলঙ্কিত হয়েছেন।

সমকালীন ভারতে এই বিতর্ক আরো তীব্র হয়েছে। তার নামে থাকা সড়কের নাম পরিবর্তন, শহরের নতুন নামকরণ, পাঠ্যবই নিয়ে সংঘাত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তপ্ত বিতর্ক এবং নাগপুরে তার সমাধি ভেঙে ফেলার দাবিতে সহিংসতা—সবই প্রমাণ করে, আওরঙ্গজেব কেবল অতীতের একজন সম্রাট নন; তিনি সমসাময়িক রাজনীতিরও অংশ।

এমন এক প্রেক্ষাপটে ইতিহাসবিদ মুনিস ডি ফারুকি লিখেছেন “আওরঙ্গজেব ‘আলমগীর অ্যান্ড দ্য মুঘল এম্পায়ার: আ হিস্ট্রি রিটোল্ড” । আওরঙ্গজেবকে নায়ক বা খলনায়ক বানানো বইটির উদ্দেশ্য নয়; বরং তাকে নিজ সময়, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ব্যক্তিত্বের জটিলতার মধ্যে পুনর্মূল্যায়ন করা।

ফারুকির মতে, আওরঙ্গজেবকে নিয়ে দুই বিপরীত বয়ানই অসম্পূর্ণ। উভয় পক্ষই প্রায় একই ঐতিহাসিক তথ্য ব্যবহার করলেও প্রাথমিক উৎসগুলোর গভীরে খুব কমই গেছে। তাই তিনি সরাসরি ফারসি ভাষায় লিখিত সরকারি ইতিহাস, প্রশাসনিক নথি, ভ্রমণবৃত্তান্ত, ব্যক্তিগত চিঠিপত্র, আঞ্চলিক ইতিহাস, জীবনীগ্রন্থ এবং বিশেষ করে এতদিন প্রায় অব্যবহৃত ‘আখবারাত-ই দরবার-ই মুয়াল্লা’ (রাজদরবারের সংবাদ বুলেটিন) ও ‘দস্তাবেজাত’ (আজ আহদ-ই মুঘলিয়া) ব্যবহার করে নতুনভাবে প্রশ্ন তুলেছেন—আসল ইতিহাস কী বলে?

ফারুকির মূল্যায়নে, আলমগীর না হিন্দু সভ্যতার ধ্বংসকারী, না মুসলিম পরিচয়ের কিংবদন্তি রক্ষাকর্তা। তিনি ছিলেন জটিল, ধর্মপরায়ণ, দক্ষ, রাজনৈতিকভাবে বিচক্ষণ এবং কখনো কঠোর, কখনো সহানুভূতিশীল এক শাসক

যদুনাথ সরকারের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ

ফারুকির মতে, আওরঙ্গজেবকে বোঝার ক্ষেত্রে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ইতিহাসবিদ স্যার যদুনাথ সরকারের প্রভাব কার্যত অপ্রতিদ্বন্দ্বী। বিশ শতকের শুরুতে প্রকাশিত তার পাঁচ খণ্ডের ‘হিস্ট্রি অব আওরঙ্গজেব’ দীর্ঘদিন গবেষণার মূল ভিত্তি হয়ে ছিল।

ফারুকি মনে করেন, যদুনাথ সরকারের প্রথম দিকের মূল্যায়ন তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। কিন্তু ১৯২০-এর দশকের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি তার বিরূপ মনোভাব শেষ পর্যন্ত আওরঙ্গজেবকে এমন একজন শাসক হিসেবে উপস্থাপন করে, যিনি হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যকে অসম্ভব করে তুলেছিলেন।

লেখকের মতে, পরবর্তী অধিকাংশ গবেষকও এইকাঠামো থেকে বেরিয়ে আসতে পারেননি। ফলে আওরঙ্গজেবকে নিয়ে গবেষণা একসময় জনপ্রিয় ইতিহাসচর্চা ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যার কাছে অনেকটাই ছেড়ে দেয়া হয়।

সিংহাসনে বসা ছিল দীর্ঘ প্রস্তুতির ফল

আওরঙ্গজেব কেবল ভাগ্য, ষড়যন্ত্র বা ভাইদের হত্যা করে ক্ষমতা দখল করেছিলেন—প্রচলিত এ ধারণা প্রত্যাখ্যান করেন ফারুকি। তার মতে, সিংহাসনে আরোহণের আগে আওরঙ্গজেব কয়েক দশক ধরে নিজেকে প্রস্তুত করেছিলেন। দাক্ষিণাত্য, গুজরাট ও মুলতানের মতো কঠিন প্রদেশে শাসনের দায়িত্ব পালন করে তিনি বাস্তব প্রশাসনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। সেখানে তাকে খরা, অর্থসংকট, বিদ্রোহ, সীমান্ত অস্থিরতা ও দুর্বল রাজস্বব্যবস্থার মোকাবিলা করতে হয়েছিল। এসব অভিজ্ঞতাই তাকে দক্ষ প্রশাসক ও সেনাপতিতে পরিণত করে।

একই সময়ে তিনি আফগান, ইরানি, মারাঠা, ভারতীয় মুসলিম, হিন্দু, ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, হাবসি এবং এমনকি ইংরেজ গোলন্দাজ জন লিউসসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কর্মকর্তা, সৈনিক ও প্রশাসকদের নিয়ে শক্তিশালী একটি ব্যক্তিগত অনুসারী বলয় গড়ে তোলেন।

ফারুকি জোর দিয়ে বলেন, কোথাও এমন প্রমাণ নেই যে আওরঙ্গজেবের অধীনে কাজ করতে ইসলাম গ্রহণ বাধ্যতামূলক ছিল।

১৬৫৭ সালে শাহজাহান অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তরাধিকার যুদ্ধ শুরু হয়। ফারুকির মতে, দারা শিকোহের তুলনায় সংগঠিত, যুদ্ধ-অভিজ্ঞ ও বিশ্বস্ত অনুসারী গোষ্ঠীই আওরঙ্গজেবের সিংহাসন জয়ের মূল ভিত্তি ছিল। তিনি শুধু ভাগ্যের জোরে নয়, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রস্তুতির ফলেই সিংহাসনে বসেন।

আরো বিতর্কিতভাবে ফারুকি লিখেছেন, পরবর্তী যুগে উদারপন্থার প্রতীক হয়ে ওঠা দারা শিকোহ সমসাময়িক সময়ে বহু প্রভাবশালী অভিজাতকে নিজের বিরুদ্ধে ঠেলে দিয়েছিলেন। বিপরীতে আওরঙ্গজেব ছিলেন বাস্তববাদী জোট-গঠনকারী নেতা।

ধর্মপরায়ণ, কিন্তু ধর্মান্ধ?

বইটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ আলমগীরের শাসনে ইসলামের ভূমিকা নিয়ে।

ফারুকি দেখিয়েছেন, আলমগীর ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ। তিনি পুরো কোরআন মুখস্থ করেছিলেন, মদ্যপান করতেন না, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার ত্যাগ করেছিলেন, চার স্ত্রীর বেশি গ্রহণ করেননি, উপপত্নী রাখেননি এবং আকবরের আমলের কিছু দরবারি রীতি বাতিল করেছিলেন। তবে তার ব্যক্তিগত ধর্মনিষ্ঠাকে রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।

এক সুন্নি অভিজাতের প্রশাসন থেকে শিয়াদের অপসারণের প্রস্তাবে আলমগীর উত্তর দেন, ‘পার্থিব বিষয়ের সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক কী? প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে সংকীর্ণ ধর্মান্ধতার সম্পর্কই বা কোথায়? তোমার ধর্ম তোমার জন্য, আমার ধর্ম আমার জন্য। ... জ্ঞানী মানুষ কখনোই দক্ষ কর্মকর্তাদের শুধু ধর্মীয় কারণে পদচ্যুত করার পক্ষে নয়।’

ফারুকির মতে, এই বক্তব্যই প্রমাণ করে যে তিনি ধর্মপ্রাণ ছিলেন, কিন্তু প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সবসময় ধর্মীয় পরিচয়কে মুখ্য করেননি।

ফারুকি মনে করেন, যদুনাথ সরকারের প্রথম দিকের মূল্যায়ন তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। কিন্তু ১৯২০-এর দশকের সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রতি তার বিরূপ মনোভাব শেষ পর্যন্ত আওরঙ্গজেবকে এমন একজন শাসক হিসেবে উপস্থাপন করে, যিনি হিন্দু-মুসলমানের ঐক্যকে অসম্ভব করে তুলেছিলেন

জিজিয়া ও মন্দির ধ্বংসের পুনর্মূল্যায়ন

১৬৭৯ সালে জিজিয়া কর পুনর্বহালকে সাধারণত ধর্মীয় বৈষম্যের উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু ফারুকি মনে করেন, আওরঙ্গজেবের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যকে পুরস্কৃত করা এবং নতুন বাণিজ্যিক শক্তির ওপর মুঘল কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

তিনি উল্লেখ করেন, জিজিয়া থেকে নারী, শিশু, বৃদ্ধ, দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব এবং রাষ্ট্রের সেবায় নিয়োজিত অনেক অমুসলিমকে অব্যাহতি দেয়া হতো।

মন্দির ধ্বংসের ঘটনাগুলোকে ফারুকি অস্বীকার করেননি। বরং এগুলোকে নিন্দনীয় বলেই উল্লেখ করেছেন। তবে তার মতে, অধিকাংশ ঘটনা মারাঠাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের এলাকায় নির্দিষ্ট কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে সংঘটিত হয়েছিল; এগুলো সমগ্র সাম্রাজ্যজুড়ে ধর্মীয় নিধননীতির অংশ ছিল না।

বইয়ে আরো দেখানো হয়েছে, শাসনের শুরুতে আলমগীর অনেক মন্দিরের কর মওকুফ করেছিলেন, অমুসলিমদের ভূমি অনুদান বহাল রেখেছিলেন, হিন্দু উৎসবকে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন এবং দারা শিকোহের ঘনিষ্ঠ সংস্কৃত পণ্ডিত কবীন্দ্রাচার্য সরস্বতীকেও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় থাকতে দিয়েছিলেন।

১৬৫৮ সালে মেওয়ারের রানা রাজ সিংহকে লেখা চিঠিতে তিনি লিখেছিলেন, ‘শাসকের কর্তব্য হলো বিভিন্ন সম্প্রদায় ও ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের মানুষ যেন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করা।’

ফারুকি আরো উল্লেখ করেন, জীবনের শেষ দিকে আওরঙ্গজেবের প্রিয় তসবিহটি নাকি প্রথম শিয়া ইমাম হজরত আলী (রা.)-এর ছিল। তিনি আলীর নামে খোদাই করা তলোয়ারও তৈরি করিয়েছিলেন এবং আশুরা পালনের রীতিও অব্যাহত রাখেন।

কঠোরতার অন্ধকার দিক

ফারুকি কোথাও আলমগীরকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করেননি। তিনি স্পষ্টভাবে লিখেছেন, শিখ সম্প্রদায়ের প্রতি মুঘল আচরণ ছিল অসহিষ্ণুতার অন্যতম বড় উদাহরণ। গুরু তেগ বাহাদুরের মৃত্যুদণ্ড ছিল নিষ্ঠুর পদক্ষেপ।

একইভাবে জাট ও সাতনামি বিদ্রোহ দমনেও কঠোরতা দেখানো হয়েছিল। এমনকি সামাজিক বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মুসলমানদেরও কঠিন শাস্তি দেয়া হতো।

তবে লেখকের সিদ্ধান্ত হলো, এসব পদক্ষেপ পরিকল্পিত ধর্মান্তরকরণ কর্মসূচির অংশ ছিল না; বরং আলমগীর যাদের সাম্রাজ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি মনে করতেন, তাদের বিরুদ্ধেই কঠোর রাষ্ট্রশক্তি প্রয়োগ করতেন।

বইটির সবচেয়ে মৌলিক অবদানগুলোর একটি হলো হারেম ও খোজা প্রশাসনের রাজনৈতিক ভূমিকার বিশ্লেষণ

হারেম ও খোজাদের নতুন মূল্যায়ন

বইটির সবচেয়ে মৌলিক অবদানগুলোর একটি হলো হারেম ও খোজা প্রশাসনের রাজনৈতিক ভূমিকার বিশ্লেষণ।

ফারুকির মতে, জাহানারা, রোশনারা ও জিনাত-উন-নিসা শুধু অন্তঃপুরের সদস্য ছিলেন না; তারা ছিলেন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে জিনাত-উন-নিসা কোষাগার, রাজপরিবারের বিরোধ এবং প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তদারকি করতেন।

একইভাবে খোজা কর্মকর্তারাও শুধু অন্তঃপুরের কর্মচারী ছিলেন না। তারা দুর্গ পরিচালনা, গোয়েন্দা কার্যক্রম, প্রদেশ শাসন এবং সম্রাটের কাছে প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। খিদমতগার খান তৃতীয়কে ফারুকি মুঘল ইতিহাসের অন্যতম ক্ষমতাধর খোজা কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দাক্ষিণাত্যের যুদ্ধই কাল হলো

ফারুকির মতে, ১৬৮০-এর দশক থেকে দাক্ষিণাত্যে ব্যক্তিগতভাবে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত আওরঙ্গজেব ও মুঘল সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা করে।

বিজাপুর, গোলকোন্ডা ও সম্ভাজির বিরুদ্ধে প্রাথমিক সাফল্য এলেও মারাঠারা দ্রুত নিজেদের কৌশল বদলে ফেলে। দীর্ঘ যুদ্ধ সাম্রাজ্যের অর্থনীতি দুর্বল করে দেয়, অভিজাতদের বেতন বকেয়া পড়ে এবং প্রাদেশিক গভর্নররা স্বাধীন শক্তিকেন্দ্রে পরিণত হতে শুরু করেন।

১৭০৭ সালে মৃত্যুর মাত্র ৪০ দিন আগে ৮৮ বছর বয়সী আওরঙ্গজেব প্রায় অন্ধ, অসুস্থ ও স্মৃতিভ্রংশে আক্রান্ত হয়েও প্রশাসনিক কাজ করে যাচ্ছিলেন। যে শাসক বিশ্বাস করতেন, খোদা তাকে সাম্রাজ্যের গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য বেছে নিয়েছেন, জীবনের শেষ দিকে তিনিই নিজেকে ব্যর্থ বলে মনে করতে শুরু করেন।

মৃত্যুর পর তৈরি হলো নতুন আওরঙ্গজেব

ফারুকি দেখিয়েছেন, আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর অনুগত অভিজাতরা তার স্মৃতিকে নতুনভাবে নির্মাণ করেন। বিশেষ করে মুস্তাইদ খানের ‘মাআসির-ই আলমগিরি’ তাকে সুন্নি ইসলামের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরে। পরে ঔপনিবেশিক ইতিহাসবিদ এবং জাতীয়তাবাদী ইতিহাসচর্চা সেই বয়ান গ্রহণ করে, যা আজো রাজনৈতিক বিতর্ককে প্রভাবিত করছে।

ফারুকির মূল্যায়নে, আলমগীর না হিন্দু সভ্যতার ধ্বংসকারী, না মুসলিম পরিচয়ের কিংবদন্তি রক্ষাকর্তা। তিনি ছিলেন জটিল, ধর্মপরায়ণ, দক্ষ, রাজনৈতিকভাবে বিচক্ষণ এবং কখনো কঠোর, কখনো সহানুভূতিশীল এক শাসক।

বইটি আওরঙ্গজেবকে ঘিরে বিতর্কের অবসান ঘটাবে না। তবে এটি দেখায়, ইতিহাসকে রাজনৈতিক স্লোগানের বদলে প্রামাণ্য উৎসের আলোকে বিচার করা কতটা জরুরি। অতীত কখনোই সাদা-কালো নয়; বাস্তবতা সবসময়ই আরো জটিল, আরো মানবিক এবং আরো শিক্ষণীয়।

স্ক্রল ডট ইনে প্রকাশিত রানা সাফভির রিভিউর সংক্ষিপ্ত রূপ

আরও