অস্ট্রেলিয়ার গভীর সমুদ্রে বিজ্ঞানীরা দুটি নতুন সামুদ্রিক প্রাণীর সন্ধান পেয়েছেন। এগুলো হলো ছোট আকারের উজ্জ্বল ‘ল্যান্টার্ন শার্ক’ এবং বাদামের আকৃতির স্বচ্ছ কাঁকড়া। অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা সিএসআইআরও ২০২২ সালে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে গ্যাসকয়ন মেরিন পার্কে গবেষণা অভিযানে প্রাণীগুলো শনাক্ত করে। খবর বিবিসি।
বিশ্বের অন্যতম জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ দেশ অস্ট্রেলিয়া। এখানে ১০ লাখেরও বেশি প্রজাতির প্রাণী ও উদ্ভিদ রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশই পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তবে দেশটির বিশাল সমুদ্রাঞ্চলের অনেক অংশ এখনো অনাবিষ্কৃত, যেখানে অসংখ্য অজানা প্রাণী বাস করে বলে ধারণা করা হয়।
নতুন প্রজাতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচনায় এসেছে ‘ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ান ল্যান্টার্ন শার্ক’। গভীর সমুদ্রের ছোট আকারের এ হাঙরের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ৪০ সেন্টিমিটার। এদের চোখ বড় এবং পেটের অংশ জ্বলজ্বলে আলো উৎপন্ন করে। হাঙরটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬০০ মিটার গভীরে পাওয়া গেছে।
সিএসআইআরওর মৎসবিজ্ঞানী ড. উইল হোয়াইট বলেন, “ল্যান্টার্ন শার্ক বায়োলুমিনেসেন্ট (যেসব প্রাণী বা উদ্ভিদ নিজে থেকেই আলো উৎপন্ন করতে পারে)। এদের দেহের নিচের অংশে ও পাশে থাকা ‘ফোটোফোর’ নামের বিশেষ অঙ্গ থেকে আলো উৎপন্ন হয়।”
ওয়েস্ট অস্ট্রেলিয়ান ল্যান্টার্ন শার্ক ছবি: বিবিসি
এছাড়াও বিজ্ঞানীরা একটি নতুন প্রজাতির পোরসেলিন কাঁকড়াও আবিষ্কার করেছেন, যার দৈর্ঘ্য মাত্র দেড় সেন্টিমিটার। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২২ মিটার নিচে পাওয়া গেছে। এই কাঁকড়াগুলো সাধারণ কাঁকড়ার মতো শিকার করতে পাঞ্জা ব্যবহার করে না; বরং মুখের চারপাশে থাকা সূক্ষ্ম লোম ব্যবহার করে পানির মধ্যে থাকা প্ল্যাঙ্কটন জাতীয় ক্ষুদ্র খাদ্যকণা সংগ্রহ করে খায়।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের জলজ প্রাণীবিদ ড. অ্যান্ড্রু হোজি বলেন, “পোরসেলিন কাঁকড়া হলো ‘ফিল্টার ফিডার’। তারা পানিতে থাকা প্ল্যাঙ্কটন ছেঁকে খায়।”
এই অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০টি নতুন প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মাত্র ৪ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের লালচে রঙের কার্নাভন ফ্ল্যাপজ্যাক অক্টোপাস। গবেষকরা ধারণা করছেন, আরো প্রায় ৬০০ প্রজাতি এখনো শনাক্ত হওয়া বাকি। নতুন প্রজাতি নিশ্চিত ও নামকরণ করতে বছরের পর বছর সময় লাগে, কারণ প্রতিটির বিশদ বিশ্লেষণ ও তুলনা প্রয়োজন।
এই আবিষ্কার দেখিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ার গভীর সমুদ্রে এখনো অসংখ্য অজানা প্রাণী লুকিয়ে আছে এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আরো গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।