হিমালয়ের মেরা পিক পর্বত অভিযানে যাচ্ছেন প্রমা চৌধুরী

প্রমা জানান, মেরা পিক জয় করলে তিনি হবেন চট্টগ্রাম থেকে ৬ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার হিমালয়ের কোনো শৃঙ্গ জয়ে প্রথম নারী। এর আগে বাংলাদেশ থেকে মেরা পিক ট্রেকিং সম্পন্ন করেছেন নিশাত মজুমদার, শায়লা পারভীন ও তানজিনা রহমান শান্তা।

হিমালয়ের বরফঢাকা শৃঙ্গ জয়ের চ্যালেঞ্জে বের হচ্ছেন চট্টগ্রামের প্রমা চৌধুরী। আগামী ১০ অক্টোবর নেপালের মেরা পিক পর্বত অভিযানের যাত্রা শুরু করবেন তিনি, যা হিমালয়ের সর্বোচ্চ ট্রেকিং পিক (৬ হাজার ৪৭৬ মিটার)।

প্রমার জন্য এটিই হিমালয়ের প্রথম অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে না। চলতি বছরের জুনে তিনি সফলভাবে এভারেস্ট বেস ক্যাম্প ১ (৫ হাজার ৩৬৪ মিটার) পর্যন্ত ট্রেক সম্পন্ন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা তাকে আরো দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করেছে বড় স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের তৃতীয় নারী হিসেবে তিনি জয় করতে চান বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট (৮ হাজার ৮৪৯ মিটার)।

মেরা পিক অভিযানের জন্য প্রমা বেছে নিয়েছেন নেপালের হিঙ্কু ভ্যালি রুট, যা দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং। রুটটিতে তাকে ১২ দিনেরও বেশি সময় বরফে ঢাকা ট্রেইল, হিমবাহ ও দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করতে হবে।

উচ্চতা, অক্সিজেনের স্বল্পতা ও তীব্র ঠান্ডার সঙ্গে এ লড়াইয়ের কারণ হিসেবে প্রমা বলেন, মেরা পিকের চূড়ায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে নারীদের জন্য অনুপ্রেরণা জোগাতে চান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘পাহাড়ের মতো জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ জয় করা যায়। আমি চাই আমার যাত্রা প্রমাণ করুক, নারীরা চাইলেই যেকোনো স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। আমার চূড়ান্ত স্বপ্ন হলো একদিন এভারেস্ট জয় করা। পাশাপাশি বাংলাদেশের নারীদের বার্তা পৌঁছে দেয়া যে, স্বপ্ন দেখো, সাহস করো, জয় করো।’

আমা দাবলাম পর্বতের সামনে দাঁড়িয়ে প্রমা চৌধুরী

প্রমা জানান, মেরা পিক জয় করলে তিনি হবেন চট্টগ্রাম থেকে ৬ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতার হিমালয়ের কোনো শৃঙ্গ জয়ে প্রথম নারী। এর আগে বাংলাদেশ থেকে মেরা পিক ট্রেকিং সম্পন্ন করেছেন নিশাত মজুমদার, শায়লা পারভীন ও তানজিনা রহমান শান্তা।

প্রমা কেবল অভিযাত্রীই নন, একজন নারী ক্ষমতায়নকর্মীও। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন উইমেন ইন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড। তিনি বিশ্বাস করেন, নারীর পক্ষে করা অসম্ভব এমন কিছুই নেই।

এছাড়া প্রমা একজন ব্ল্যাক বেল্ট মার্শাল আর্টিস্ট, যা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে আরো শক্তিশালী করেছে। বর্তমানে তিনি ডেকাথলন বাংলাদেশে কাজ করছেন, যেখানে তিনি আউটডোর অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ও নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন।

তার এ অভিযানে পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে সেন্ট্রো টেক্স। আর মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে রোপ ফোর আউটডোর এডুকেশন টিম।

আরও