মাত্র তিন সিনেমা— হলিউডে অবিস্মরণীয় জুটি হয়ে আছেন তারা

হলিউডের চিরাচরিত প্রেমিক-প্রেমিকার ধারণাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়াই ছিল টম ও মেগের সবচেয়ে বড় শক্তি। আশির দশকের শেষ বা নব্বইয়ের শুরুতে হলিউডের 'হিরো' মানেই ছিল অতিমানবীয় চেহারা কিংবা ধরাছোঁয়ার বাইরের কোনো সুপুরুষ। আর নায়িকা মানেই নিখুঁত সৌন্দর্যের কোনো দেবী। কিন্তু টম হ্যাংকস পর্দায় হাজির হলেন একেবারে ‘পাশের বাড়ির ছেলে’র মতো। লাজুক, কিছুটা উদাসীন, আবার প্রয়োজনে অসম্ভব রকম বিশ্বস্ত। অন্যদিকে মেগ রায়ান হয়ে উঠলেন ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’—চটপটে, প্রচণ্ড বুদ্ধিমতী, কিন্তু অনুভূতির জায়গায় ভীষণ ছটফটে ও সংবেদনশীল

হলিউডের ইতিহাস ঘেঁটে দেখলে চোখে পড়ে রোমান্সের অজস্র ব্যাকরণ—কখনো লাগামছাড়া আবেগ, কখনো বিরহ-ব্যথা, আবার কখনো বা আধুনিক জীবনের জটিল হিসাব-নিকাশ। ষাট কিংবা সত্তরের দশকের ধ্রুপদী রোমান্স থেকে শুরু করে নব্বইয়ের দশকের গ্ল্যামারাস সিনেমা, প্রেম বারবার নিজের রূপ বদলেছে রূপালি পর্দায়। তবে সেই নব্বইয়ের দশকে, যখন হলিউড মেতেছিল চাকচিক্য আর চটুল রোমান্টিক কমেডির মোহে, ঠিক তখনই একজোড়া তারকা সিনেমা হলের অন্ধকারকে ভরিয়ে দিয়েছিলেন এক অদ্ভুত উষ্ণতায়।

তাদের মধ্যে ছিল না কোনো কৃত্রিম গ্ল্যামারের ঝিলিক, ছিল না শারীরিক উপস্থিতির উগ্র চটক। অথচ তারা যখন একই পর্দায় মুখ তুলে তাকাতেন, দর্শকরা তাদের চোখেই নিজেদের স্বপ্নগুলো দেখতে পেতেন। সিনেমার ব্যাকরণে একেই হয়তো বলে খাঁটি ‘অন-স্ক্রিন ম্যাজিক’। সেই মানুষ দুটি আর কেউ নন—টম হ্যাংকস ও মেগ রায়ান।

হলিউডে অনেক জুটিই দশ-বারোটি সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করে রেকর্ড গড়েছেন। কিন্তু টম হ্যাংকস ও মেগ রায়ানের গল্পটা একেবারেই আলাদা। সিনেমার রাজত্বে তারা মূলধারার জুটি হিসেবে মাত্র তিনটি ছবিতে একে অপরের মুখোমুখি বা পাশাপাশি দাঁড়িয়েছেন। আর সেই তিনটি ছবি দিয়েই তারা হলিউডের রোমান্টিক ঘরানার মানচিত্র চিরতরে বদলে দিয়েছেন।

আজকের ডিজিটাল যুগে রোমান্টিক সিনেমার চেহারা অনেক বদলে গেছে। শর্ট ফর্ম কনটেন্ট, ডেটিং অ্যাপ আর আধুনিক জেনারেশনের জটিল সম্পর্কের ভিড়ে পর্দার সেই সহজ-সরল প্রেম অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তবুও আজ যখন কোনো তরুণ পরিচালক নতুন কোনো রোমান্টিক কমেডি বানাতে যান, তাকে ঘুরেফিরে টম-মেগ জুটির তৈরি করা ব্যাকরণেই চোখ রাখতে হয়

টম হ্যাংকস ও মেগ রায়ান কেন আলাদা?

হলিউডের চিরাচরিত প্রেমিক-প্রেমিকার ধারণাকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়াই ছিল টম ও মেগের সবচেয়ে বড় শক্তি। আশির দশকের শেষ বা নব্বইয়ের শুরুতে হলিউডের 'হিরো' মানেই ছিল অতিমানবীয় চেহারা কিংবা ধরাছোঁয়ার বাইরের কোনো সুপুরুষ। আর নায়িকা মানেই নিখুঁত সৌন্দর্যের কোনো দেবী। কিন্তু টম হ্যাংকস পর্দায় হাজির হলেন একেবারে ‘পাশের বাড়ির ছেলে’র মতো। লাজুক, কিছুটা উদাসীন, আবার প্রয়োজনে অসম্ভব রকম বিশ্বস্ত। অন্যদিকে মেগ রায়ান হয়ে উঠলেন ‘পাশের বাড়ির মেয়ে’—চটপটে, প্রচণ্ড বুদ্ধিমতী, কিন্তু অনুভূতির জায়গায় ভীষণ ছটফটে ও সংবেদনশীল।

পরাবাস্তব ধাঁচের ‘জো ভার্সেস দ্য ভলকানো’ সিনেমায় প্রথমবার জুটি হন টম হ্যাংকস ও মেগ রায়ান

চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের মতে, এ অনন্যতাই তাদের অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছিল। দর্শকরা টম ও মেগ-কে পর্দায় দেখলে ভাবত, ‘এ তো আমারই গল্প!’ নামকরা মার্কিন চলচ্চিত্র সমালোচক রজার ইবার্ট তাদের জুটির ধরন নিয়ে অত্যন্ত চমৎকার একটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, টম হ্যাংকস ও মেগ রায়ানের রোমান্স শরীরের চেয়ে মনের সংযোগকে বেশি ফুটিয়ে তোলে। তাদের মধ্যকার রসায়ন ছিল মার্জিত ও বিশুদ্ধ। একটি মিষ্টি হাসি, একটু চোখের ইশারা কিংবা একটা সাধারণ করমর্দন দিয়েই তারা পর্দায় যে বিদ্যুৎ তরঙ্গ তৈরি করতে পারতেন, তা অনেক উগ্র ঘনিষ্ঠ দৃশ্যও করতে পারত না।

তারা যখন ভালোবাসতেন, তখন ভালোবাসার চাওয়াটা শরীর ছাড়িয়ে পৌঁছে যেত এক অপার্থিব আত্মিক অনুভূতির জায়গায়। তারা পর্দায় এমন এক ধরনের নিরাপদ আশ্রয় বা ‘কমফোর্ট জোন’ তৈরি করতেন, যা দর্শককে দৈনন্দিন জীবনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দিত।

কালজয়ী সেই সফর: ভালোবাসার তিন অধ্যায়

এই জুটির প্রথম রূপালি সফর শুরু হয়েছিল ১৯৯০ সালে, ‘জো ভার্সেস দ্য ভলকানো’ সিনেমার মাধ্যমে। জন প্যাট্রিক শ্যানলির পরিচালিত অদ্ভুত ও পরাবাস্তব ধাঁচের রোমান্টিক কমেডি এটি। ছবিতে টম হ্যাংকস অভিনয় করেন 'জো' চরিত্রে—একঘেয়ে জীবন নিয়ে চরম বিরক্ত এক মানুষ, যে কিনা মরণব্যাধিতে আক্রান্ত। জীবন্ত আগ্নেয়গিরিতে লাফিয়ে পড়ে আত্মাহুতি দেয়ার এক অদ্ভুত চুক্তি করে সে এক দ্বীপে যাত্রা করে। আর এই যাত্রায় তার সঙ্গে দেখা হয় মেগ রায়ানের। সিনেমাটিতে মেগ তিনটি ভিন্ন চরিত্রে (ডিডি, অ্যাঞ্জেলিকা এবং প্যাট্রিসিয়া) অভিনয় করে তার বহুমুখী প্রতিভার চরম স্বাক্ষর রেখেছিলেন। সিনেমাটি বক্স অফিসে বিশাল আলোড়ন তৈরি করতে না পারলেও, হলিউডের জহুরি নির্মাতারা ঠিকই চিনে নিয়েছিলেন টম ও মেগের নিখুঁত কেমিস্ট্রি।

এরপর এল ১৯৯৩ সাল। মুক্তি পেল নোরা এফ্রন পরিচালিত 'স্লিপলেস ইন সিয়াটল'—যে সিনেমাটি হলিউডে রোমান্সের ইতিহাসে নতুন এক স্বর্ণালি অধ্যায়ের সূচনা করে। স্ত্রী-হারা একাকী বাবা স্যাম (টম হ্যাংকস) এবং বহুদূরে বাল্টিমোরে থাকা সাংবাদিক অ্যানি (মেগ রায়ান)—এই দুজনের এক দূরবর্তী ভালোবাসার গল্প ছিল এটি।

'স্লিপলেস ইন সিয়াটল' সিনেমায় মেগ রায়ান ও টম হ্যাংকস

সিনেমার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক ছিল, পুরো ছবির প্রায় ৯৫ ভাগ সময় জুড়েই তারা একে অপরের থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে ছিলেন! পুরো সিনেমা জুড়েই ছিল তাদের বিচ্ছিন্নতা। কিন্তু তা সত্ত্বেও স্রেফ কণ্ঠস্বর, রেডিওর তরঙ্গ আর মুখের তীব্র আকুলতা দিয়েই তারা দর্শকদের পর্দায় ধরে রেখেছিলেন। সিনেমার একেবারে শেষ মুহূর্তে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় তাদের সেই প্রথম মুখোমুখি হওয়ার দৃশ্যটি আজো কালজয়ী। একে চলচ্চিত্র সমালোচকরা বলেন আইসোলেটেড কেমিস্ট্রি বা বিচ্ছিন্ন রসায়ন—যা কোনো রকম শারীরিক উপস্থিতি ছাড়াই শুধু অনুভূতির শক্তিতে পর্দায় আগুন জ্বালাতে পারে।

নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে, অর্থাৎ ১৯৯৮ সালে এই জুটি উপহার দেয় 'ইউ হ্যাভ গট মেইল'। প্রযুক্তি আর ইমেইলের নতুন নতুন আনাগোনায় তখন পৃথিবী কেবল বদলাতে শুরু করেছে। ছবিতে জো ফক্স (টম হ্যাংকস) একটি বিশাল চেইন বুকস্টোরের মালিক, আর ক্যাথলিন কেলি (মেগ রায়ান) একটি ঐতিহ্যবাহী ছোট্ট শিশুতোষ বইয়ের দোকানের মালকিন। বাস্তব জীবনে ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে তারা একে অপরের চরম শত্রু। কিন্তু ছদ্মনামে ইমেইলের ভার্চুয়াল জগতে তারা একে অপরের সঙ্গে গভীর ভালোবাসায় মগ্ন। অথচ তারা জানেই না স্ক্রিনের ওপারের মানুষটি আসলে কে!

আধুনিক প্রযুক্তির স্পর্শে ‘এনিমিজ-টু-লাভার্স’ ট্রোপকে কীভাবে ক্ল্যাসিক রূপ দেয়া যায়, এই ছবি ছিল তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

নেপথ্যের কারিগর নোরা এফ্রন

টম হ্যাংকস ও মেগ রায়ান জুটির কথা বলতে গেলে যার নাম বাদ দেয়া একেবারেই অসম্ভব, তিনি হলেন কিংবদন্তি চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক নোরা এফ্রন। মূলত তার হাত ধরেই এই জুটির রূপকথা পূর্ণতা পেয়েছিল। এফ্রনের ধারালো, দ্রুতগতির ও বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপকে খুব কম অভিনেতাই পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারতেন। কিন্তু টম ও মেগ ছিলেন সেখানে ব্যতিক্রম।

নোরা এফ্রন এই জুটিকে হলিউডের স্বর্ণযুগের সর্বকালের সেরা জুটি স্পেন্সার ট্রেসি এবং ক্যাথরিন হেপবার্নের সঙ্গে তুলনা করতেন। এক সাক্ষাৎকারে এফ্রন এই জুটির রহস্যময় সংযোগ নিয়ে বলেছিলেন, ‘ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে তাদের আলাদা করে কিছু বুঝিয়ে দিতে হতো না। তারা একে অপরের অবয়ব ও মুখের ভাষা পড়তে পারত। একজনের সংলাপ শেষ হওয়ার আগেই অন্যজন বুঝে যেত কীভাবে তার প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। এটা অভিনয় নয়, এটা এক ধরনের টেলিপ্যাথি।’

এফ্রন বিশ্বাস করতেন, টম ও মেগের অভিনয়ের ক্ষেত্রে ছিলেন অত্যন্ত উদার। তারা কখনো পর্দায় একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন না, বরং একে অপরকে আরো সুন্দর করে তোলার জন্য অভিনয় করতেন।

পর্দায় যাদের এত ব্যাকুল প্রেম, বাস্তব জীবনে তাদের সম্পর্কটা কেমন ছিল? হলিউডের অনেক রোমান্টিক জুটিকে ঘিরে যে প্রেমের গুঞ্জন ওঠে, টম ও মেগের ক্ষেত্রে কখনোই তা ঘটেনি। তাদের সম্পর্কটি রূপ নিয়েছিল এক আজীবন ও সুদৃঢ় বন্ধুত্বে

বাস্তব জীবনেও ভালো বন্ধু মেগ রায়ান ও টম হ্যাংকস

পর্দার বাইরের আজীবন বন্ধুত্ব

পর্দায় যাদের এত ব্যাকুল প্রেম, বাস্তব জীবনে তাদের সম্পর্কটা কেমন ছিল? হলিউডের অনেক রোমান্টিক জুটিকে ঘিরে যে প্রেমের গুঞ্জন ওঠে, টম ও মেগের ক্ষেত্রে কখনোই তা ঘটেনি। তাদের সম্পর্কটি রূপ নিয়েছিল এক আজীবন ও সুদৃঢ় বন্ধুত্বে।

নিজেদের এই অন-স্ক্রিন সাফল্য নিয়ে টম হ্যাংকস সবসময়ই মেগ রায়ানের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘মেগের সঙ্গে অভিনয় করা মানে কোনো কাজই না, এটা অত্যন্ত সহজ।’

অন্যদিকে মেগ রায়ান টমের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে দেখতেন এক পরম নিরাপত্তার জায়গা থেকে। এক সাক্ষাৎকারে মেগ বলেছিলেন, টমের সঙ্গে যখন আমি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই, আমার মনে হয় আমি সম্পূর্ণ নিরাপদ। আমি জানি আমি পড়ে যাব না, কারণ ও আমাকে ধরে নেবে।

বাস্তব জীবনে তারা একে অপরের কঠিনতম সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন। টম হ্যাংকসের স্ত্রী রিটা উইলসনের সঙ্গে মেগের পারিবারিক সম্পর্ক বেশ নিবিড়। তাদের এই গভীর বন্ধুত্বের এক নিদর্শন দেখা যায় ২০১৫ সালে। মেগ রায়ান যখন নিজের পরিচালিত প্রথম সিনেমা 'ইথাকা' তৈরি করেন, তখন বন্ধু মেগের এক ডাকেই কোনো বড় পারিশ্রমিক ছাড়া একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হয়ে যান টম হ্যাংকস।

কেন আর একসঙ্গে কাজ করেননি?

'ইউ হ্যাভ গট মেইল'-এর বিশাল সাফল্যের পর সারা বিশ্ব চাতক পাখির মতো চেয়ে ছিল—কখন আবার একসঙ্গে দেখা যাবে টম হ্যাংকস ও মেগ রায়ানকে? কিন্তু সেই সুযোগ আর কখনো আসেনি। এর পেছনে কোনো ঝগড়া বা বিরোধ ছিল না, বরং ছিল এক গভীর সচেতনতা।

প্রথমত, তারা দুজনেই জানতেন নোরা এফ্রনের সঙ্গে তারা যে দুটি সিনেমা করেছেন, তা এরই মধ্যে রোমান্টিক ঘরানার সর্বোচ্চ শিখর ছুঁয়ে ফেলেছে। নতুন করে আবার কাজ করলে দর্শকদের প্রত্যাশার চাপ এতটাই বেশি থাকত যে, সামান্য ভুল হলেই তাদের জুটির ঐতিহাসিক ভাবমূর্তি বা 'লেগেসি' ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

দ্বিতীয়ত, নব্বইয়ের দশকের পর দুজনের ক্যারিয়ার দুই ভিন্ন মোড় নেয়। টম হ্যাংকস নিজেকে শুধু রোমান্টিক ইমেজে আটকে না রেখে 'ফরেস্ট গাম্প', 'সেভিং প্রাইভেট রায়ান' কিংবা 'কাস্ট অ্যাওয়ে'-র মতো গম্ভীর ও নাটকীয় চরিত্রে মনোনিবেশ করেন। অন্যদিকে মেগ রায়ানও মিষ্টি মেয়ের খোলস ছেড়ে ভিন্ন ধাঁচের ধারালো অভিনয়ে মনোযোগ দেন এবং পরবর্তীতে পরিচালনায় আসেন।

তৃতীয়ত, তাদের জন্য উপযুক্ত চিত্রনাট্যের অভাব ছিল। ২০১২ সালে নোরা এফ্রনের অকালমৃত্যুর পর সেই শূন্যতা আরো বড় হয়ে দাঁড়ায়। টম হ্যাংকস একবার রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘আমরা যদি বারবার একসঙ্গে কাজ করতেই থাকতাম, তবে দর্শক হয়তো আমাদের দেখে হাঁপিয়ে উঠত!’

পর্দায় টম হ্যাংকস ও মেগ রায়ানের ভালোবাসার সফরকে পূর্ণতা দেয় ‘ইউ হ্যাভ গট আ মেইল’

রোমান্টিক সিনেমায় টম হ্যাংকস-মেগ রায়ানের ‘লেগেসি’

আজকের ডিজিটাল যুগে রোমান্টিক সিনেমার চেহারা অনেক বদলে গেছে। শর্ট ফর্ম কনটেন্ট, ডেটিং অ্যাপ আর আধুনিক জেনারেশনের জটিল সম্পর্কের ভিড়ে পর্দার সেই সহজ-সরল প্রেম অনেকটাই হারিয়ে গেছে। তবুও আজ যখন কোনো তরুণ পরিচালক নতুন কোনো রোমান্টিক কমেডি বানাতে যান, তাকে ঘুরেফিরে টম-মেগ জুটির তৈরি করা ব্যাকরণেই চোখ রাখতে হয়।

'ইউ হ্যাভ গট মেইল'-এর সেই ইমেইলের প্রেম আজকের যুগের 'হাউ টু লুজ এ গাই ইন টেন ডেজ', 'দ্য প্রপোজাল' কিংবা আধুনিক ওটিটি প্লাটফর্মের অজস্র রোমান্টিক ড্রামার মূল প্রেরণা। ইন্টারনেটে অচেনা মানুষের প্রতি ভালোবাসার যে বীজ তারা ১৯৯৮ সালে বুনেছিলেন, তা আজ প্রতিটি ডিজিটাল রোমান্সের মূল ভিত্তি।

টম হ্যাংকস ও মেগ রায়ান প্রমাণ করে গেছেন— রোমান্টিক ছবিতে কেবল চমৎকার চোখ বা আকর্ষণীয় শরীর থাকলেই যুগান্তকারী জুটি হওয়া যায় না; তার জন্য লাগে দুটি আত্মার অনায়াস মেলবন্ধন ও স্ক্রিনে সততা।

তারা কয়েক ডজন সিনেমা করেননি। মাত্র তিনটি ছবির ছোট একটি ঝুলিতে ভর করেই হলিউডের একশো বছরের রোমান্টিক ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অধ্যায় হিসেবে নিজেদের নাম খোদাই করে রেখে গেছেন। সময় বয়ে যাবে, সিনেমার প্রযুক্তি বদলাবে, কিন্তু যখনই কোনো এক বিষণ্ণ সন্ধ্যায় দর্শক একটু খাঁটি ভালোবাসা আর আশ্রয়ের খোঁজে পর্দার দিকে তাকাবেন—তখনই সিয়াটলের সেই বৃষ্টিভেজা রাত কিংবা নি ইয়র্কের বইয়ের দোকানে ফিরে আসবেন টম হ্যাংকস ও মেগ রায়ান। কারণ কিছু জুটি চিরকালের হয়, তারা সময়কে জয় করে অমর হয়ে থাকেন।

আরও