দীর্ঘস্থায়ী সংকটের মুখে যুক্তরাজ্যের অর্ধেকের বেশি প্রজাপতির প্রজাতি

যুক্তরাজ্যের বাটারফ্লাই মনিটরিং স্কিম জানায়, ১৯৭৬ সালে পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৯টি প্রজাতির মধ্যে ৩১টি প্রজাতির সংখ্যা কমে গেছে।

যুক্তরাজ্যের প্রজাপতির প্রজাতির অর্ধেকেরও বেশি দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সম্মুখীন হয়েছে, এমনটিই উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায়।

যুক্তরাজ্যের বাটারফ্লাই মনিটরিং স্কিম জানায়, ১৯৭৬ সালে পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫৯টি প্রজাতির মধ্যে ৩১টি প্রজাতির সংখ্যা কমে গেছে। খবর বিবিসি

এ ছাড়াও সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৪ সাল ছিল দেশজুড়ে প্রজাপতির সংখ্যার দিক থেকে পঞ্চম-সর্বনিম্ন বছর। যেখানে আগের বছরের তুলনায় আটটি প্রজাতি ছাড়া বাকি সবগুলো প্রজাতির সংখ্যাই কমেছে। যদিও আবহাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় প্রতি বছর প্রজাপতির সংখ্যা ওঠানামা করতে পারে।

বাটারফ্লাই কনজারভেশনের প্রধান বিজ্ঞানী ড. রিচার্ড ফক্স বলেন, পরিবেশের ওপর মানুষের বিরূপ প্রতিক্রিয়াই প্রজাপ্রতির এ দীর্ঘস্থায়ী সংকটের জন্য দায়ী।

গত বছর অনেক প্রজাপতির প্রজাতির সংখ্যা কমেছে, বিশেষ করে নয়টি প্রজাতি সর্বনিম্ন রেকর্ড সংখ্যায় পৌঁছেছে। এর মধ্যে গ্রিজলড স্কিপার, ক্রিপ্টিক উড হোয়াইট ও চক হিল ব্লু প্রজাতির সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

কিন্তু পর্যবেক্ষণ শুরু হওয়ার পর থেকে ২২টি প্রজাতি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে স্মল টরটয়েজশেল প্রজাপতি, যার সংখ্যা গত ৪৯ বছরে ৮৬ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে গ্রিন-ভেইনড হোয়াইট প্রজাপতির সংখ্যা ২৮ শতাংশ কমেছে।

বাগান, পার্ক ও গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ প্রজাপতিদের জন্য ২০২৪ সালটি ছিল দ্বিতীয়-সবচেয়ে খারাপ বছর। কারণ ২০২৩ সাল থেকে মাত্র ছয়টি প্রজাতির সংখ্যা বেড়েছে।

ড. ফক্স বলেন, প্রজাপতির সংখ্যা হ্রাসের কারণ হলো মানুষের দ্বারা বন্যপ্রাণী সমৃদ্ধ আবাসস্থলের ধ্বংস, সেই সঙ্গে কীটনাশক এবং অন্যান্য বিষাক্ত ও দূষিত জিনিসের ব্যবহার।

তিনি আরো বলেন, প্রজাপতি মানুষের জন্য পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে কাজ করে।

বিবিসি রেডিও ফোর- টুডে প্রোগ্রামে ড. ফক্স বলেন, যখন প্রজাপতি হ্রাস পায়, তখন আমরা বুঝতে পারি যে আমাদের পরিবেশে বড় সমস্যা রয়েছে।

আবহাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় প্রজাপতির সংখ্যা বার্ষিক ওঠানামা করে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে কম সংখ্যার কারণ হলো বসন্তকালের অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও তুলনামূলক কম উষ্ণতার গ্রীষ্মকাল।

তবে ড. ফক্স উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আবহাওয়ার অস্বাভাবিকতা আরো বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, যখন খারাপ আবহাওয়া হয়, তখন এরই মধ্যে হ্রাস পাওয়া প্রজাপতির প্রজাতিগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিতে পড়ে এবং আগের মতো দ্রুত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় না। তবে এ প্রবণতা বদলানো সম্ভব। যদি মানুষ তাদের বাগানগুলোকে বেশি প্রাকৃতিকভাবে বাড়তে দেয় এবং গ্রীষ্মকালে ঘাস বড় হতে দেয়। এতে প্রজাপতির সংখ্যা ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

এ পর্যবেক্ষণ প্রকল্পের অধীনে যুক্তরাজ্যের ৩ হাজার ৫৫২টি স্থানে স্বেচ্ছাসেবকরা প্রজাপতি গণনা করেন।

আরও