বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি তিনি। বৈদ্যুতিক গাড়ি থেকে রকেট, স্যাটেলাইট থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে মানুষের মস্তিষ্কে চিপ বসানোর প্রযুক্তি—ইলোন মাস্কের আগ্রহের তালিকা ছোট নয়। তবে অস্কারজয়ী তথ্যচিত্র নির্মাতা অ্যালেক্স গিবনির নতুন তথ্যচিত্র বলছে, মাস্ককে শুধু সফল প্রযুক্তি উদ্যোক্তা হিসেবে দেখলে গল্পের বড় অংশই বাদ পড়ে যায়। গিবনির প্রশ্ন আরো অস্বস্তিকর—একজন অনির্বাচিত ব্যক্তির হাতে এত অর্থ, প্রযুক্তি, তথ্য ও রাজনৈতিক প্রভাব জমা হওয়া কতটা নিরাপদ?
এই প্রশ্ন নিয়েই গিবনি নির্মাণ করেছেন প্রায় চার ঘণ্টার তথ্যচিত্র ‘মাস্ক’। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে এর ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হওয়ার কথা। এরপর টরন্টো চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের পর অক্টোবরে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। ২০২৭ সালে মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্ক এইচবিওতে প্রচার হবে ছবিটির আরো দীর্ঘ সংস্করণ।
মজার ব্যাপার হলো, মাস্ককে নিয়ে গিবনির এই যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের শেষ দিকে। তখন তিনি হয়তো ভেবেছিলেন, দুই ঘণ্টায় ইলোন মাস্ককে ধরে ফেলা যাবে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে ছবিটির একটি দুই ঘণ্টার সংস্করণ প্রায় শেষও করে ফেলেছিলেন।
সেখানে ছিল দক্ষিণ আফ্রিকায় মাস্কের শৈশব, প্রযুক্তি জগতে তার শুরুর সময়, অনলাইন পেমেন্ট প্রতিষ্ঠান পেপ্যালের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার উত্থান, মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক, মস্তিষ্ক-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নিউরালিংক, টুইটার কিনে সেটিকে ‘এক্স’-এ রূপান্তর এবং তার বহুল আলোচিত ব্যক্তিগত জীবন।
তারপর গল্পে ঢুকে পড়ল রাজনীতি।
২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন মাস্ক। ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারেও তাকে সক্রিয়ভাবে দেখা যায়। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর মাস্ক যুক্ত হন ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিশিয়েন্সি বা ডিওজিই-এর কার্যক্রমে। আর এখানেই গিবনির দুই ঘণ্টার সিনেমা যেন বলতে শুরু করে—‘এত তাড়াতাড়ি শেষ করলে হবে?’
এইচবিওর কর্মকর্তারাও নতুন ঘটনাগুলো ছবিতে যুক্ত করতে আগ্রহ দেখান। শুটিং চলতে থাকে আরো প্রায় দুই বছর। একপর্যায়ে ছবিটির দৈর্ঘ্য দাঁড়ায় ছয় ঘণ্টায়। পরে অবশ্য সেটিকে কমিয়ে আনা হয়েছে।
সম্পাদনার শেষ পর্যায়েও গিবনি যেন মাস্কের ‘ক্ষমতা’ বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ম্যানহাটনের একটি সম্পাদনা কক্ষে ছবির দৃশ্য দেখছিলেন তিনি। পর্দায় দেখা যায়, প্রেসিডেন্টের অভিষেকের পর ওয়াশিংটনের একটি ভবনের ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন হাস্যোজ্জ্বল মাস্ক। পেছন থেকে কেউ তাকে প্রশ্ন করেন, ‘ক্ষমতা কেমন লাগছে, মিস্টার মাস্ক?’
দৃশ্যটি দেখে গিবনি সাউন্ড টিমকে বলেন, ‘পাওয়ার কথাটা আরেকটু গরম করো।’ এক অর্থে ওই একটি শব্দই পুরো তথ্যচিত্রের কেন্দ্রবিন্দু—ক্ষমতা।
গিবনির যুক্তি, মাস্কের শক্তি শুধু তার বিপুল সম্পদে নয়। একই ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবের আওতায় রয়েছে বৈদ্যুতিক গাড়ি, মহাকাশযান, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্যক্রমের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ। আধুনিক বিশ্বে কোনো একজন বেসরকারি ব্যক্তির হাতে এভাবে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার নজির খুব বেশি নেই।
তথ্যচিত্রের প্রথম ভাগে মাস্কের ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন বিতর্ক তুলে ধরেছেন গিবনি। এর মধ্যে রয়েছে টেসলার প্রতিষ্ঠায় কার অবদান কতটা ছিল তা নিয়ে বিরোধ, স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চালানোর প্রযুক্তি নিয়ে অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতির অভিযোগ, নিউরালিংকের পরীক্ষায় ব্যবহৃত বানরের কষ্ট নিয়ে প্রাণী অধিকারকর্মীদের অভিযোগ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কে গোপনীয়তা চুক্তি বা এনডিএ ব্যবহারের অভিযোগ।
গিবনির ভাষ্যে, মাস্কের সবচেয়ে বড় দক্ষতা হয়তো শুধু প্রকৌশল বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় নয়; ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বিশাল গল্প বিক্রি করতেও তিনি অসাধারণ দক্ষ।
মঙ্গল গ্রহে বসতি, পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় গাড়ি, মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে কম্পিউটারের সংযোগ—মাস্ক বহু বছর ধরেই এমন সব ভবিষ্যতের ছবি দেখিয়ে এসেছেন, যা বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষ উভয়ের কল্পনাকে নাড়া দেয়।
তবে ছবির দ্বিতীয় ভাগে গিবনি আরো গুরুতর একটি প্রশ্ন তোলেন—মাস্ক কি শুধু ব্যবসায়ী হিসেবেই ক্ষমতা বাড়াচ্ছেন, নাকি রাষ্ট্রের প্রচলিত ক্ষমতার কাঠামোর বাইরেও নিজস্ব প্রভাববলয় তৈরি করছেন? এর একটি বড় উদাহরণ স্টারলিংক।
ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট যোগাযোগে স্টারলিংক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে একটি বেসরকারি কোম্পানির মালিক হিসেবে মাস্ক কখনো কখনো এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার অবস্থানে পৌঁছে যান, যার প্রভাব সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রেও পড়তে পারে।
আরেকদিকে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিভিন্ন মিশন স্পেসএক্সের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। গিবনির চোখে বিষয়টি শুধু একজন সফল ঠিকাদারের গল্প নয়; বরং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সঙ্গে একজন ব্যক্তির ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য কতটা জড়িয়ে গেছে, তারও উদাহরণ।
সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি অবশ্য ডিওজিইনিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুর দিকে ডিওজিইর কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন মাস্ক। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ব্যয়, জনবল ও তথ্যব্যবস্থায় তাদের প্রবেশাধিকার নিয়ে সে সময় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। গিবনির দাবি, ডিওজিইর কয়েকজন কর্মকর্তা সরকারি তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায় অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন। এসব ব্যবস্থায় লাখ লাখ মার্কিন নাগরিকের ব্যক্তিগত ও প্রশাসনিক তথ্য রয়েছে।
তবে তথ্যচিত্রটি এমন কোনো প্রমাণ হাজির করে না যে মাস্ক এসব তথ্য রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করেছেন। বরং গিবনি প্রশ্ন তুলেছেন—এত বিপুল তথ্য হাতে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলে সেটি দিয়ে কী করা সম্ভব?
প্রযুক্তিবিষয়ক মার্কিন সাময়িকী ‘ওয়্যার্ড’-এর গ্লোবাল এডিটোরিয়াল ডিরেক্টর কেটি ড্রামন্ড তথ্যচিত্রে একই প্রশ্ন তুলেছেন। তার বক্তব্য, একজন নাগরিকের আয়, সরকারি সুবিধা, প্রশাসনিক রেকর্ড থেকে শুরু করে নানা ধরনের তথ্য সরকারের কাছে থাকে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এসব তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হলে তার রাজনৈতিক ব্যবহার কত দূর যেতে পারে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণার পথিকৃৎ এবং নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী জিওফ্রে হিন্টনও তথ্যচিত্রে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অন্যায্য সুবিধা নিতে চাইলে ভোটারদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। তবে এসব বক্তব্য মূলত আশঙ্কা ও সম্ভাব্য ঝুঁকির বিশ্লেষণ। গিবনি নিজেও স্বীকার করেছেন, ডিওজিইর হাতে যেসব তথ্যের প্রবেশাধিকার ছিল, সেগুলো শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে বা কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
দ্য হলিউড রিপোর্টার মাস্কের তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্যচিত্রে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য চেয়েছিল। কোনো প্রতিষ্ঠানই জবাব দেয়নি। ছবিতে মাস্কের সাবেক সঙ্গী অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ারের বক্তব্যও রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফল আসার আগেই মাস্ককে ফল নিয়ে অস্বাভাবিকভাবে আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল। সেন্ট ক্লেয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, মাস্ক তাকে বলেছিলেন তিনি ‘ম্যাট্রিক্সের অ্যানোমালি’ ছেড়ে দেবেন। তাদের কথোপকথনের একটি বার্তায় মাস্ক লিখেছিলেন, তার ‘মহাকাশে দশ হাজার লেজার’ রয়েছে।
গিবনি সেন্ট ক্লেয়ারকে প্রশ্ন করেন, মাস্ক কি স্টারলিংকের কথা বোঝাচ্ছিলেন? সেন্ট ক্লেয়ারের উত্তর—তিনি জানেন না, তবে মাস্কের আর কোথায় ‘স্পেস লেজার’ আছে, সেটিও তার জানা নেই। এটি কি নিছক মাস্কের পরিচিত রসিকতা, নাকি অন্য কোনো ইঙ্গিত—গিবনি তার উত্তর দেননি। দর্শকের জন্য প্রশ্নটি ঝুলিয়ে রেখেছেন। মাস্ককে নিয়ে রহস্য তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্য নির্মাতাদের খুব বেশি পরিশ্রম করতে হয় না; অনেক সময় উপকরণ তিনি নিজেই দিয়ে দেন।
আরো মজার ঘটনা ঘটেছে মাস্ককে সাক্ষাৎকারে পাওয়ার চেষ্টা নিয়ে। তিন বছর আগে তথ্যচিত্রটির ঘোষণা হওয়ার পর মাস্ক এক্সে একে ‘হিট পিস’ বলে মন্তব্য করেন। গিবনির পাল্টা প্রশ্ন ছিল, ‘আপনি জানলেন কীভাবে?’ পরে মাস্ক তাকে আক্রমণাত্মক ভাষায় ‘ডুশ’ বললে গিবনি জবাব দেন, ‘Douché’—শেষে ফরাসি টান যোগ করে। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাবান প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের একজন এবং অস্কারজয়ী নির্মাতার বিরোধ এভাবে একপর্যায়ে ব্যাকরণের সূক্ষ্ম রসিকতায় গিয়ে ঠেকে।
তবে মাস্ক সাক্ষাৎকার না দেয়ায় গিবনির সামনে আরেকটি সমস্যা তৈরি হয়—ছবিতে মাস্ককে কীভাবে ‘কথা বলানো’ হবে? সমাধানও মাস্কের জগত থেকেই এসেছে। গিবনির দল ইন্টারনেটে থাকা মাস্কের বিভিন্ন পুরনো বক্তব্যের অডিও সংগ্রহ করেছে। এরপর তৈরি করেছে মাস্কের একটি ডিজিটাল ভিডিও গেম অবতার। তথ্যচিত্রের কয়েকটি দৃশ্যে তাকে পুরনো ভিডিও গেমের চরিত্রের মতো দেখা যাবে—হেলথ বার আছে, লাইফ আছে, আবার ‘রেসপন’ও আছে।
কেন এমন ব্যবস্থা? গিবনির ব্যাখ্যা, মাস্ক নিজেই বহুবার বলেছেন আমরা হয়তো কোনো বিশাল কম্পিউটার সিমুলেশনের মধ্যে বাস করছি। তার চিন্তায় বাস্তবতা, ভিডিও গেম ও প্রযুক্তির সীমারেখা প্রায়ই মিশে যায়। তাই মাস্কের গল্প বলতে গিয়ে তাকে ভিডিও গেমের চরিত্র বানিয়ে ফেলার মধ্যে নির্মাতা এক ধরনের বিদ্রূপ খুঁজে পেয়েছেন।
গিবনি মাস্ককে ‘দ্য উইজার্ড অব অজ’-এর চরিত্রের সঙ্গেও তুলনা করেছেন। গল্পটিতে বিশাল ও ভয়ংকর এক মুখ সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু পর্দা সরিয়ে দেখা যায়, পেছনে বসে একজন সাধারণ মানুষ যন্ত্রপাতি নাড়ছেন। গিবনির বক্তব্য, ক্ষমতাবান মানুষকে ভয় পাওয়ার একটি কারণ হলো তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিশাল ভাবমূর্তি। পর্দাটা একটু সরিয়ে দিলে হয়তো দেখা যায়, ‘মহাপরাক্রমশালী’ মানুষের পেছনেও রয়েছেন সীমাবদ্ধতা, দুর্বলতা ও অসংগতি থাকা একজন মানুষ।
তথ্যচিত্রের শেষ দিকে পডকাস্টার ও লেখক স্যাম হ্যারিসের বক্তব্য ছবিটির মূল সতর্কবার্তাকে সবচেয়ে সরাসরি ভাষায় তুলে ধরে। হ্যারিস বলেন, একজন ব্যক্তির মানসিক ও আচরণগত অস্থিরতা যখন রাজনীতি, অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে বিশাল প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তখন সেটি আর ব্যক্তিগত বিষয় থাকে না।
তার ভাষায়, ‘এতটা বিশৃঙ্খল একজন মানুষ, যিনি সম্পূর্ণ অনির্বাচিত, তার হাতে এত ক্ষমতা থাকা উন্মাদনার মতো।’
গিবনিও ঠিক এই জায়গাটিতেই দর্শকদের নিয়ে যেতে চান। তার বক্তব্য, মানুষ প্রায়ই ধরে নেয়—অত্যন্ত ধনী একজন মানুষ নিশ্চয়ই খুব যুক্তিবাদী এবং সবকিছু বুঝেশুনেই করছেন। কিন্তু যদি সেই ধারণাটিই ভুল হয় তাহলে কি হবে?
গিবনি উত্তর চাপিয়ে দেননি। তবে প্রশ্নটা এমনভাবে তুলেছেন, যাতে সিনেমা শেষ হওয়ার পরও সেটি মাথা থেকে সহজে না যায়। আর মাস্ক ছবিটি দেখে কী করবেন—চুপ থাকবেন, এক্সে ঝড় তুলবেন, নাকি আদালতের দরজায় যাবেন?
সেটি হয়তো এই চার ঘণ্টার তথ্যচিত্রের পরের পর্ব।
হলিউড রিপোর্টার অবলম্বনে