যেভাবে এলো বিশ্ব গন্ডার দিবস

আজ পৃথিবীতে টিকে আছে পাঁচ প্রজাতির গণ্ডার—কালো, সাদা, বৃহত্তর একশৃঙ্গ, সুমাত্রান ও জাভান। ২০২৬ সালের ইন্টারন্যাশনার রাইন ফাউনডেশনের হিসাবে বৃহত্তর একশৃঙ্গ গণ্ডারের সংখ্যা প্রায় ৪,০৭৫ এবং কালো গণ্ডারের সংখ্যা ৬,৭৮৮। সাদা গণ্ডারের সংখ্যা কমে প্রায় ১৫,৭৫২ হয়েছে। একই প্রতিবেদনে জাভান ও সুমাত্রান গণ্ডারের পরিস্থিতিকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সুমাত্রান গণ্ডারের সংখ্যা রয়েছে ৩৪-৪৭ এর মধ্যে, আর জাভান গন্ডারের সংখ্যা ৫০ টি মাত্র।

প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর পালিত হয় ‘বিশ্ব গন্ডার দিবস’। দিবসটির জন্ম বড় কোনো সম্মেলন, রাষ্ট্রীয় ঘোষণা কিংবা দীর্ঘ রাজনৈতিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে হয়নি। ছোট্ট একটি ই-মেইল থেকে এর শুরু। গন্ডারের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদ থেকে শুরু হওয়া ছোট উদ্যোগ এক সময় পায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর ন্যাচার- সাউথ আফ্রিকা ২০১০ সালে বিশ্ব গন্ডার দিবস প্রথম ঘোষণা করে। তবে দিবসটি আন্তর্জাতিক রূপ পায় পরের বছর। দিবসটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার গল্পের পেছনে রয়েছে দুটি নাম, লিজা জেন ক্যাম্পবেল ও হিসজা কটা লার্সন।

২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে জিম্বাবুয়ের চিশাকওয়ে র‍্যাঞ্চ-এর সঙ্গে যুক্ত লিজা জেন ক্যাম্পবেল পরবর্তী বিশ্ব গন্ডার দিবস নিয়ে পরিকল্পনা করছিলেন। নতুন ধারণা ও সম্ভাব্য সহযোগী খুঁজতে গিয়ে তিনি অনলাইনে হিসজা কটা লার্সন-এর ব্লগ খুঁজে পান। এরপর ক্যাম্পবেল তাকে একটি ই-মেইল পাঠান। দুজনের মধ্যে যোগাযোগের পর তারা বুঝতে পারেন, তাদের লক্ষ্য একই বিশ্ব গন্ডার দিবসকে শুধু আফ্রিকার গন্ডারকেন্দ্রিক না রেখে পৃথিবীতে টিকে থাকা পাঁচটি প্রজাতির গন্ডারকে নিয়ে আন্তর্জাতিক সচেতনতার দিন হিসেবে গড়ে তোলা।

এরপর কয়েক মাস দুজন একসঙ্গে কাজ করেন। অনলাইন ও অফলাইন বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ২০১১ সালের বিশ্ব গন্ডার দিবস আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে। আফ্রিকার পাশাপাশি এশিয়ার গন্ডারও চলে আসে প্রচারণার কেন্দ্রে। পরে সংরক্ষণ সংগঠন, চিড়িয়াখানা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে দিবসটির সঙ্গে যুক্ত হতে থাকে।

কেন গন্ডারের জন্য দিবসের প্রয়োজন হলো?

ইন্টারন্যাশনার রাইনো ফাউনডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০ শতকের শুরুতে পৃথিবীতে ৫ লাখ গন্ডার বিচরণ করত। কিন্তু ১৯৭০ সালের মধ্যে সেই সংখ্যা নেমে আসে প্রায় ৭০ হাজারে। সাম্প্রতিক হিসাবে বিশ্বে গন্ডারের মোট সংখ্যা এখন প্রায় ২৬ হাজার ৭০০।

এ সংকটের পেছনে রয়েছে অবৈধ শিকার, শিংয়ের চাহিদা এবং আবাসস্থল খণ্ডিত হয়ে যাওয়া। ইন্টারন্যাশনার রাইন ফাউনডেশনের হিসাবে, গত এক দশকে আফ্রিকা ও এশিয়ায় প্রায় ৯ হাজার গন্ডার শিকারিদের হাতে মারা গেছে। গন্ডারের শিংকে ঘিরে প্রচলিত নানা ভুল ধারণা এর অবৈধ বাণিজ্যের অন্যতম কারণ।

আজ পৃথিবীতে টিকে আছে পাঁচ প্রজাতির গন্ডার—কালো, সাদা, বৃহত্তর একশৃঙ্গ, সুমাত্রান ও জাভান। ২০২৬ সালের ইন্টারন্যাশনার রাইন ফাউনডেশনের হিসাবে বৃহত্তর একশৃঙ্গ গন্ডার সংখ্যা প্রায় ৪,০৭৫ এবং কালো গন্ডাের সংখ্যা ৬,৭৮৮। সাদা গন্ডারের সংখ্যা কমে প্রায় ১৫,৭৫২ হয়েছে। একই প্রতিবেদনে জাভান ও সুমাত্রান গন্ডারের পরিস্থিতিকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সুমাত্রান গন্ডারের সংখ্যা রয়েছে ৩৪-৪৭ এর মধ্যে, আর জাভান গন্ডারের সংখ্যা মাত্র ৫০টি।

এ পাঁচ প্রজাতিকে সামনে রেখেই এ বছর বিশ্ব গন্ডার দিবসের মূল স্লোগান— ‘ফাইভ রাইনো স্পিসেস ফরেফার’।

একটি ই-মেইল থেকে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ আজ বিশ্বজুড়ে ৫০টি গন্ডার সংরক্ষণের পরিচিত প্রতীক।

আরও