আন্তর্জাতিক তিমি হাঙর দিবস

‘সাগর দৈত্য’ রক্ষক তারা

বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর শুধু মাছের ভাণ্ডার নয়, এটি অসংখ্য বিরল ও বিপন্ন সামুদ্রিক প্রাণীরও গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। বিশালাকার তিমি হাঙর, ডলফিন, তিমি, সামুদ্রিক কচ্ছপ ও বিভিন্ন প্রজাতির বা শাপলাপাতা মাছ—এসব প্রাণী সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু মাছ ধরার জালে আটকা পড়া, নির্বিচার শিকার এবং সামুদ্রিক পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে এসব প্রাণীর অস্তিত্ব আজ হুমকির মুখে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশের কিছু জেলে এখন শুধু মাছ শিকারিই নন; তারা হয়ে উঠছেন সমুদ্রের জীববৈচিত্র্যের রক্ষকও।

সমুদ্রের গভীরে বিচরণ করা প্রাণীদের মধ্যে তিমি হাঙর অন্যতম বিস্ময়কর। বিশাল আকৃতির কারণে প্রথম দেখায় ভয়ংকর মনে হলেও প্রকৃতিতে এরা অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের। এ কারণেই বিশ্বের বৃহত্তম এ মাছকে বলা হয় সমুদ্রের ‘শান্ত বা দয়ালু দৈত্য’ (জেন্টল জায়ান্ট)। প্রতি বছর ৩০ আগস্ট বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক তিমি হাঙর দিবস। সমুদ্রের এ অনন্য প্রাণীর অস্তিত্ব রক্ষা, এর আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে তৈরি হওয়া হুমকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই দিবসটি পালন করা হয়।

অতিরিক্ত ও অবৈধ শিকার, মাছ ধরার জালে আটকা পড়া, বড় জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং প্লাস্টিকসহ সামুদ্রিক দূষণ এদের জন্য বড় হুমকি। ধীরগতিতে বৃদ্ধি ও প্রজননের কারণে এদের সংখ্যা কমে গেলে তা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা কঠিন। এসব কারণে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন তিমি হাঙরকে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তাই এ প্রাণীর রক্ষক হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশের কিছু জেলেও

তিমি হাঙরের নামের সঙ্গে ‘তিমি’ শব্দটি থাকলেও এটি কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণী নয়। প্রকৃতপক্ষে তিমি হাঙর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাছ। পূর্ণবয়স্ক এ মাছ প্রায় ১৮ মিটার বা ৬০ ফুট পর্যন্ত লম্বা এবং ওজন হতে পারে ৪০ টনেরও বেশি। বিশাল দেহ, প্রশস্ত মুখ এবং ধীরগতির সাঁতারের কারণে সমুদ্রে এদের উপস্থিতি সহজেই চোখে পড়ে। তবে বিশাল আকৃতির এ প্রাণী ভয়ংকর শিকারি নয়। মুখে হাজার হাজার ক্ষুদ্র দাঁত থাকলেও সেগুলো ব্যবহার করে এরা বড় প্রাণীকে কামড়ে শিকার করে না। বরং এরা ‘ফিল্টার ফিডার’ বা ছাঁকনি খাদক। বিশাল মুখ হাঁ করে সমুদ্রের পানির সঙ্গে প্ল্যাঙ্কটন, ক্ষুদ্র মাছ, মাছের ডিম এবং অন্যান্য অতি ছোট সামুদ্রিক প্রাণী গ্রহণ করে। এরপর বিশেষ ধরনের ছাঁকনি ব্যবস্থার মাধ্যমে খাবার আলাদা করে নেয় এবং পানি বের করে দেয়। এভাবেই সমুদ্রের বৃহত্তম মাছগুলোর একটি অত্যন্ত ক্ষুদ্র প্রাণীর ওপর নির্ভর করে জীবন ধারণ করে।

ছবি: ওয়ার্ল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া

তিমি হাঙরের আরেকটি বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো এর শরীরের নকশা। গাঢ় রঙের পিঠজুড়ে থাকা সাদা বিন্দু ও রেখার বিন্যাস একেকটি প্রাণীর ক্ষেত্রে একেক রকম। বিজ্ঞানীরা এ নকশাকে অনেকটা মানুষের আঙুলের ছাপের সঙ্গে তুলনা করেন। মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট যেমন ব্যক্তিভেদে আলাদা, তেমনি তিমি হাঙরের শরীরের বিন্দুর নকশাও স্বতন্ত্র। এ বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে গবেষকরা পৃথক তিমি হাঙর শনাক্ত করেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের চলাচল ও জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করেন।

সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তিমি হাঙর বর্তমানে মানুষের নানা কর্মকাণ্ডের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছে। অতিরিক্ত ও অবৈধ শিকার, মাছ ধরার জালে আটকা পড়া, বড় জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষ এবং প্লাস্টিকসহ সামুদ্রিক দূষণ এদের জন্য বড় হুমকি। ধীরগতিতে বৃদ্ধি ও প্রজননের কারণে এদের সংখ্যা কমে গেলে তা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা কঠিন। এসব কারণে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা আইইউসিএন তিমি হাঙরকে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। তাই এ প্রাণীর রক্ষক হিসেবে কাজ করছেন বাংলাদেশের কিছু জেলেও।

ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির (ডব্লিউসিএস) একটি প্রতিবেদনে বঙ্গোপসাগরে তিমি হাঙরসহ বড় সামুদ্রিক প্রাণী রক্ষায় জেলেদের ভূমিকার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের অন্যতম চরিত্র মাছ ধরার ট্রলার ‘আল সাত্তার’-এর অধিনায়ক মোহাম্মদ মালেক ব্যাপারী। এক রাতে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ গিলনেট টেনে তোলার সময় তিনি ও তার সহযোগীরা জালে অস্বাভাবিক বড় একটি প্রাণীর উপস্থিতি টের পান। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, সেটি একটি তিমি হাঙর—বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাছগুলোর একটি। প্রাণীটির দৈর্ঘ্য প্রায় তাদের নৌ-যানের সমান ছিল।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে এত বড় একটি হাঙর জালে ধরা পড়লে সেটিকে তীরে নিয়ে আসার আর্থিক প্রলোভন কম নয়। এর মাংস ও পাখনা বিক্রি করে অর্থ উপার্জনের সুযোগও থাকে। কিন্তু নৌকার অধিনায়ক মালেক ব্যাপারী ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন। ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির ‘সিটিজেন সায়েন্স ফিশারম্যান সেফটি নেটওয়ার্ক’-এর সদস্য হওয়ায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি এসব সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিলেন। তাই বিপন্ন তিমি হাঙরটিকে হত্যা বা বিক্রি না করে জীবিত অবস্থায় মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।

কাজটি সহজ ছিল না। বিশাল প্রাণীটিকে জাল থেকে বের করতে গিয়ে নৌকার দুই কর্মী সামান্য আহত হন। সেটিকে মুক্ত করার জন্য জালের একটি বড় অংশও কেটে ফেলতে হয়। অর্থাৎ তিমি হাঙরটিকে বাঁচাতে জেলেরা শুধু সম্ভাব্য আয় থেকেই সরে আসেননি, নিজেদের মাছ ধরার সরঞ্জামেরও ক্ষতি স্বীকার করেছেন। শেষ পর্যন্ত প্রাণীটি মুক্ত হয়ে আবার গভীর সমুদ্রে ফিরে যায়।

এ ঘটনা বাংলাদেশের সামুদ্রিক সংরক্ষণ কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে—জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শুধু আইন বা সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, সমুদ্রের সঙ্গে প্রতিদিন সরাসরি সম্পর্ক থাকা মানুষদের অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিমি হাঙর রক্ষার ঘটনা একমাত্র উদাহরণ নয়। বেশ কয়েক বছর আগে ডব্লিউসিএসের একই জেলে নেটওয়ার্কের সদস্য অধিনায়ক ইউনুস খলিফা ও তার সহযোগীরা জালে আটকে পড়া একটি প্যানট্রপিক্যাল স্পটেড ডলফিনকে উদ্ধার করেন।

ডলফিন মাছ নয়; এটি একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং শ্বাস নেয়ার জন্য নিয়মিত পানির ওপরে উঠতে হয়। ফলে জালে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকলে ডলফিনের মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হয়। প্রশিক্ষণের কারণে অধিনায়ক খলিফা ও তার সহযোগীরা বিষয়টি জানতেন এবং দ্রুত ডলফিনটিকে জাল থেকে মুক্ত করেন।

বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী অনিচ্ছাকৃতভাবে জালে আটকা পড়ে। মাছ ধরার ভাষায় এটিকে বলা হয় ‘বাইক্যাচ’—অর্থাৎ যে প্রাণী ধরার উদ্দেশ্য ছিল না, সেটিও জালে ধরা পড়া। সামুদ্রিক কচ্ছপ, ডলফিন, হাঙর ও রে প্রজাতির প্রাণীরা প্রায়ই এ ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়ে।

ডব্লিউসিএসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জেলেরা জীবিত অবস্থায় আটকা পড়া অলিভ রিডলি ও হকসবিল কচ্ছপসহ অন্যান্য বিপন্ন প্রাণীকে মুক্ত করার চেষ্টা করছেন। একই সঙ্গে মৃত অবস্থায় পাওয়া প্রাণীর ছবি ও তথ্যও গবেষকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের সমুদ্রের বিশাল অংশে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা পরিচালনা করা কঠিন ও ব্যয়বহুল। এ সীমাবদ্ধতার মধ্যে জেলেদের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে যুক্ত করার ধারণাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ‘সিটিজেন সায়েন্স ফিশারম্যান সেফটি নেটওয়ার্ক’-এর জেলে সদস্যরা তাদের মাছ ধরার অবস্থান, মাছ ধরার কার্যক্রম, ধরা পড়া প্রাণী এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে জালে আটকে যাওয়া বড় সামুদ্রিক প্রাণীর তথ্য সংগ্রহ করেন। জিপিএস বা ভৌগোলিক অবস্থানভিত্তিক তথ্য, ছবি ও অন্যান্য পর্যবেক্ষণ গবেষকদের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়। এর মাধ্যমে সমুদ্রে কোন এলাকায় কোন প্রজাতির প্রাণী পাওয়া যাচ্ছে, কোথায় তাদের জালে আটকা পড়ার ঝুঁকি বেশি এবং কোন সময় এসব প্রাণীর উপস্থিতি বেশি—সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়।

এ পদ্ধতির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, জেলেরা প্রতিদিন সমুদ্রে থাকেন। বিজ্ঞানীদের গবেষণা জাহাজ যেখানে বছরে কয়েকবার কোনো এলাকায় যেতে পারে, সেখানে জেলেরা প্রায় প্রতিদিনই সমুদ্রের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। ফলে তাদের অভিজ্ঞতা ও তথ্যকে বৈজ্ঞানিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা গেলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়।

তিমি, ডলফিন, হাঙর, রে ও সামুদ্রিক কচ্ছপকে অনেক সময় শুধু আকর্ষণীয় বা বিরল প্রাণী হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে এসব প্রাণী সমুদ্রের খাদ্যশৃঙ্খল ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বড় শিকারি মাছ ও হাঙর অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। কচ্ছপ ও অন্যান্য প্রজাতি সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। কোনো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজাতি দ্রুত কমে গেলে তার প্রভাব পুরো খাদ্যশৃঙ্খলে পড়তে পারে।

ডব্লিউসিএসের ভাষায়, ডলফিন, তিমি, হাঙর, রে ও সামুদ্রিক কচ্ছপের মতো বড় প্রাণীগুলো একটি সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ সমুদ্র বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসব প্রাণী রক্ষা করা শুধু বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বিষয় নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদে মৎস্যসম্পদ ও মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত। তবে সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে জেলেদের আর্থিক বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নিতে হবে। একটি বড় মাছ বা হাঙর জালে ধরা পড়লে সেটি বিক্রি করে একজন জেলে উল্লেখযোগ্য অর্থ পেতে পারেন। আবার প্রাণী মুক্ত করতে গিয়ে জাল কেটে ফেললে সরাসরি আর্থিক ক্ষতি হয়। এ কারণে শুধু ‘প্রাণী ছেড়ে দিন’—এমন আহ্বান দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর নাও হতে পারে।

জেলেদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা, নিরাপদ মাছ ধরার প্রযুক্তি, বিকল্প উপকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা। একই সঙ্গে জালে আটকে পড়া প্রাণী নিরাপদে মুক্ত করার কৌশল আরো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া জরুরি।

সংরক্ষণ কার্যক্রম সফল করতে হলে জেলেদের প্রতিপক্ষ হিসেবে নয়, অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। কারণ সমুদ্রের প্রাণীদের সবচেয়ে কাছ থেকে যারা দেখেন, তাদের অভিজ্ঞতা ও অংশগ্রহণ ছাড়া কার্যকর সামুদ্রিক সংরক্ষণ সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর একদিকে দেশের অর্থনীতি, মৎস্যসম্পদ ও উপকূলীয় মানুষের জীবিকার উৎস। অন্যদিকে এটি বিরল ও বিপন্ন অসংখ্য সামুদ্রিক প্রাণীর আবাস। তাই সমুদ্রকে শুধু আহরণের ক্ষেত্র হিসেবে দেখলে চলবে না; এটিকে একটি জীবন্ত বাস্তুতন্ত্র হিসেবেও দেখতে হবে।

একটি তিমি হাঙরকে জাল থেকে অবমুক্ত করছেন জেলেরা। ছবি: ওয়ার্ল্ড লাইফ ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া

জালে আটকে পড়া তিমি হাঙরকে মুক্ত করতে ক্ষতিগ্রস্ত জাল কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত কিংবা ডলফিনকে দ্রুত উদ্ধার করে সমুদ্রে ফিরিয়ে দেয়ার ঘটনা হয়তো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এসব ঘটনা একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। সমুদ্রের সম্পদ ব্যবহারকারী মানুষই যদি সমুদ্রের রক্ষক হয়ে ওঠেন, তাহলে বাংলাদেশের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ভবিষ্যৎ আরো আশাব্যঞ্জক হতে পারে।

বঙ্গোপসাগরের ‘সাগর দৈত্যদের’ বাঁচানোর লড়াই শেষ পর্যন্ত শুধু হাঙর, ডলফিন বা কচ্ছপের জন্য নয়। এটি দেশের সমুদ্র, মৎস্যসম্পদ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও জীবন্ত বঙ্গোপসাগর রক্ষার লড়াই।

আরও