১৮৫৬ সালে গভর্নর হিসেবে ভারতবর্ষের মাটিতে পা রাখেন চার্লস ক্যানিং ও তার স্ত্রী শালর্ট স্টুয়ার্ট। সিপাহী বিদ্রোহে প্রশংসনীয় ভূমিকার জন্য ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ ভারতের প্রথম ভাইসরয় হিসাবে দায়িত্বভার নেন ক্যানিং। তারপর থেকে তিনি পরিচিতি পান লর্ড ক্যানিং নামে আর তার স্ত্রী হন লেডি ক্যানিং।
লেডি ক্যানিং ভারতীয় সংস্কৃতির ওপর সহানুভূতিশীল ছিলেন। মানুষ, গাছপালা ও পশুপাখির প্রতি তার ছিল অগাধ দরদ। বাংলার মিষ্টি ছিল তার প্রিয় খাবার। আর তাকে মিষ্টি বানিয়ে খাওয়াতেন ভীমচন্দ্র নাগ ময়রা। ইতিহাসবিদদের মতে, ১৮৫৮ সালে লেডি ক্যানিং তার জন্মদিনে নতুন ধরনের মিষ্টি বানিয়ে খাওয়ানোর অনুরোধ করেছিলেন।
শিল্পীর আঁকা লেডি ক্যানিংয়ের একটি ছবি
ছানার মধ্যে অল্প ময়দা মিশিয়ে ভীমচন্দ্র নাগ লেডি ক্যানিংয়ের জন্য বানান নতুন একটি মিষ্টি। হালকা ভাজা লালচে বাদামী রঙের এ মিষ্টিকে রাতভর এলাচের গুড়ো মেশানো চিনির সিরায় ডুবিয়ে রাখার পর লেডি ক্যানিংয়ের সামনে পরিবেশন করা হয়। পান্তুয়া বা গোলাব জামুনের মতো মনে হলেও এর স্বতন্ত্র স্বাদ ও রসালো টেক্সচার একদমই ভিন্ন। নতুন এ মিষ্টিটির ভেতরটা ফাঁপা-যাতে থাকে একটা এলাচ আর কিছুটা রস। এলাচই এ মিষ্টির বিশেষত্ব। মিষ্টিটি লেডি ক্যানিংয়ের অনেক ভালো লেগে যায়। আর সেই থেকে লেডি ক্যানিংয়ের নাম অনুসারে বিশেষ এ মিষ্টির নাম হয় ‘লেডি ক্যানিং’।
পরবর্তীতে লোকমুখে লেডি ক্যানিং হয়ে যায় লেডিকেনি। সেসময় প্রায় সব সরকারি আয়োজনে বাধ্যতামূলকভাবে লেডিকেনি পরিবেশিত হতো। এমনকি ভোজবাড়ীতেও রসগোল্লার সঙ্গে লেডিকেনি পরিবেশন করা রীতিতে পরিণত হয়ে গিয়েছিল।
তবে লেডিকেনির জন্ম ইতিহাস নিয়ে মতভেদ আছে। ভিন্নমতে, লেডি ক্যানিংয়ের ভারতবর্ষে আগমন উপলক্ষে ভীমচন্দ্র নাগ যে মিষ্টিটি বানিয়েছিলেন সেটিই লেডিকেনি।
ইতিহাসবিদদের মতে, ভীমচন্দ্র নাগের মিষ্টি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে, সাহেব থেকে শুরু করে এদেশের বিখ্যাত মণীষীরা মিষ্টি খেতে যেতেন। জনশ্রুতি আছে, বিখ্যাত ঘড়ি কোম্পানি ‘কুক অ্যান্ড কেলভির’ বড় সাহেব ভীমচন্দ্র নাগের মিষ্টি খেয়ে তাকে একটা ঘড়ি উপহার দিতে চাইলেন। কর্মচারীরা ইংরেজি পড়তে না জানায় ভীমচন্দ্র নাগ বাংলা হরফে লেখা ঘড়ির আবদার করেন। সেই মতো বাংলা হরফে লেখা ডায়াল লন্ডন থেকে তৈরি হয়ে আসে।
তথ্যসূত্র: ঢাকার স্মৃতিকথা