আলোকপাত

পুরনো পথ ও পলিসিতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়

বাংলাদেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে আমাদের যেসব সুবিধা রয়েছে, আমরা সেগুলোর কতটুকু সদ্ব্যবহার করতে পারব, তার ওপর নির্ভর করছে কত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে বিগত দশকগুলোয় আমরা যেসব সুযোগ পেয়েছি, তার পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। তবে অনেকটা যে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি সেটিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এর ইতিবাচক-নেতিবাচক দুটো

বাংলাদেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে আমাদের যেসব সুবিধা রয়েছে, আমরা সেগুলোর কতটুকু সদ্ব্যবহার করতে পারব, তার ওপর নির্ভর করছে কত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে বিগত দশকগুলোয় আমরা যেসব সুযোগ  পেয়েছি, তার পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। তবে অনেকটা যে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি সেটিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এর ইতিবাচক-নেতিবাচক দুটো দিকই রয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে এটি পরিবর্তন হয়। বিভিন্ন দশকের দিকে লক্ষ করলে দেখা যাবে, কয়েক দশকে আমরা কিছু্টা ধীরভাবে এগিয়েছি, আবার কোনো দশকে দ্রুততার সঙ্গে এগিয়েছি। তবে কোনো দশকেই ঋণাত্মক কিছু হয়নি। এ পরিপ্রেক্ষিতে একটা বড় দিক হচ্ছে, আমরা শক্তি সঞ্চয় করতে পেরেছি। আমাদের অর্থনীতি বা উন্নয়নের বড় দিক হচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছি এবং এর ফলে স্বাধীনতার পর গত পাঁচ দশকের বেশি সময়ে অনেকটাই এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। 

স্বাধীনতার পর আমাদের যে প্রত্যাশা বা যে ধরনের পরিস্থিতি ছিল তার আলোকে যদি আমরা বিচার করি তাহলে সামগ্রিক উন্নয়ন যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গে এগিয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই এবং আমাদের সামনে উন্নয়নের যে ধারা আছে তা তুলনামূলকভাবে ভালো পর্যায়ে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের অবস্থান ভালো। আমাদের অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগিয়েছে। আমরা এরই মধ্যে একটা অবস্থান তৈরি করতে পেরেছি। এ অবস্থান থেকে কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে তা নির্ধারণ করাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনগুলোয় আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে স্মার্ট বা উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত করা। আমাদের এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে বিগত বছরগুলোয় যেভাবে এগিয়েছি, আগামী বছরগুলোয় সেভাবে এগোলে হবে না। আমরা এখন স্বল্প আয়ের দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি, ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চমধ্যম আয় এবং ২০৪১ সালে উচ্চ আয়ের দেশে উন্নীত হব, এটাই আমাদের লক্ষ্য। স্মার্ট বাংলাদেশ এসব লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমাদের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। 

গত ৫০ বছরে আমাদের উন্নয়নে বেশ কয়েকটি চালিকাশক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এর মধ্যে গ্রামীণ অর্থনীতি, বিশেষ করে কৃষি খাত বিকশিত হয়েছে। আমাদের প্রধান ফসল ধান বা চাল। কৃষিজমির পরিমাণ কমলেও ধান উৎপাদন প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। স্বাধীনতার পর মোট উৎপাদন ছিল ১০ মিলিয়ন টন, কিন্তু কৃষিজমির পরিমাণ কমলেও বর্তমানে উৎপাদন ৪৫ মিলিয়ন টনে দাঁড়িয়েছে। ফসলের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন হয়েছে। বর্তমানে কৃষি একটি গতিশীল খাতে রূপান্তরিত হচ্ছে। তবে কৃষি খাতে যেসব সমস্যা রয়েছে তা সমাধান করে কৃষিকে সামনে এগিয়ে নিতে পারলে গ্রামীণ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ও বড় খাত তৈরি পোশাক শিল্প, যা বলার অপেক্ষা রাখে না। এটি দেশের অন্যতম রফতানি খাত। নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক উন্নয়ন ও অন্যান্য খাতসহ গ্রামীণ উন্নয়নে যা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।  

আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে রেমিট্যান্সও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং এখনো করছে। কৃষি, তৈরি পোশাক শিল্প ও রেমিট্যান্সসহ আরো কিছু খাত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি, যা অর্থনীতিকে  গত পাঁচ দশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমানে আমাদের উন্নয়নের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বিশেষ করে উচ্চ আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া, এ চালিকাশক্তিগুলো ব্যবহার করেই কি আমরা তা অর্জন করতে পারব? এখানে একটি বড় প্রশ্ন হচ্ছে, এখানে আমাদের সক্ষমতা কতটুকু। এরই মধ্যে ২০১৫ সালে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি, ২০৩১ সালে আমাদের উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছি। অর্থাৎ এ ১৬ বছরে ট্রানজিশন করে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে চাই। গত শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশক থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিম্নমধ্যম, উচ্চমধ্যম বা উচ্চ আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পরিভ্রমণটা খেয়াল করতে পারি। আমরা দেখতে পাব, বিশ্বে চীন সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে নিম্নমধ্যম আয় থেকে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। এ চীনেরও কিন্তু সময় লেগেছে প্রায় ১৭ বছর। আর আমরা চাচ্ছি ১৬ বছরে এ পরিভ্রমণটা করতে। অর্থাৎ চীনের চেয়েও দ্রুত গতিতে আমরা পথটি অতিক্রম করতে চাই। আর আমরা যদি এ সময়ে তা করতে পারি তাহলে এটি বিশ্বে রেকর্ড হবে। 

চীন অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিস্ময় বলা চলে। ১৯৮০ সালের চীন এবং বর্তমান চীনের মধ্যে বিশাল তফাত রয়েছে। তারা এখন অর্থনীতিসহ সবক্ষেত্রে বিশ্বে অন্যতম পরাশক্তি। অর্থাৎ দেশটি নিজেদের পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের চীনের চেয়েও দ্রুতগতিতে যেতে হবে। আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ সেটা কি আমরা কৃষি, তৈরি পোশাক খাত বা রেমিট্যান্স দিয়ে পাড়ি দিতে পারব? যদি না পারি তাহলে আমাদের নতুন অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি লাগবে। বর্তমান সময়ে দেখা যায়, রেমিট্যান্সের যেসব সীমাবদ্ধতা রয়েছে তা আমরা ছাড়িয়ে যেতে পারব না। আবার এর ক্ষমতাও যে অসীম তা বলা যাবে না। তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। প্রথম দিকে ইউরোপিয়ান দেশগুলো এবং পরে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও জাপান একসময় তৈরি পোশাক রফতানি করত। চীন ও জাপান তৈরি পোশাক খাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। তৈরি পোশাক খাতকে আমরা ইংরেজিতে ফুটলুস ইন্ডাস্ট্রি অর্থাৎ অস্থায়ী শিল্প বলি। কারণ যেসব দেশে উৎপাদন খরচ কম হবে বা কম মজুরি বিদ্যমান সেই দেশে মূলত পোশাক শিল্প গড়ে ওঠে। পরে চীন উন্নত হওয়ার পর সেখান থেকে আমাদের দেশে শ্রমবাজার সহজলভ্য থাকার কারণে পোশাক শিল্প বিকশিত হয়। 

বর্তমানে আমাদের দেশে উন্নয়নের কারণে মজুরির হার বৃদ্ধি পাওয়া শুরু হয়েছে। যা স্বাভাবিক, এটি না হলে আমাদের দারিদ্র্য দূর হবে না বা উন্নয়নের দিকে যেতে পারব না। আবার আমাদের দেশে এই ট্রানজিশন শুরু হলে যেসব দেশে মজুরি বা উৎপাদন খরচ কম সেসব দেশে পোশাক শিল্প গড়ে উঠবে। আরেকটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, আমাদের উন্নয়ন যত হবে আমাদের দেশে পোশাক শিল্প তত কম হবে। এক্ষেত্রে আমাদের আরো বেশি মূল্য সংযোজিত পণ্য (ভ্যালু অ্যাডেড প্রডাক্টস) উৎপাদনের দিকে যেতে হবে। 

মোট কথা,  গত পাঁচ দশকে অর্থনীতির যেসব চালিকাশক্তি আমাদের উন্নয়ন ঘটিয়েছে বা এগিয়ে নিয়ে গেছে, সেসব শক্তি আগামী দিনগুলোয় একই ভূমিকা রাখতে পারবে না। সেই সঙ্গে গতিশীল ভূমিকা রাখার সম্ভাবনাও কম। তাই আমাদের  নতুন অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি নিয়ে চিন্তা করতে হবে। এ নতুন চালিকাশক্তি কী হতে পারে? বর্তমান বিশ্বায়নে নতুন চালিকাশক্তি হতে পারে প্রযুক্তিগত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন পণ্য অর্থাৎ সফিস্টিকেটেড পণ্য। এ ধরনের পণ্য উৎপাদনে মুনাফা বেশি হয়। কিন্তু তৈরি পোশাক শিল্পে তা কম। আমাদের আরো সফিস্টিকেটেড পণ্য রফতানি করতে হবে। এর ফলেই দ্রুততার সঙ্গে অগ্রগতি অর্জন করা সম্ভব হবে। মূল্য সংযোজন (ভ্যালু অ্যাডেড) পণ্য উৎপাদন করতে আমাদের আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। আমাদের রফতানি ও উৎপাদন গঠন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর করতে হবে। এতে আরো বেশি মূল্য সংযোজিত পণ্য (ভ্যালু অ্যাডেড) উৎপাদন ও রফতানি করতে পারব। এটাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা। আমরা বিশ্বায়নের যুগে বসবাস করছি, তাই নিজস্ব সক্ষমতা বা উদ্ভাবন করার ক্ষমতা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অর্থাৎ আমাদেরকে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে হবে। 

আমাদের মতো দেশে নিজস্ব সক্ষমতা খুব সীমিত। এর বড় কারণ হচ্ছে আমাদের দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে বা মানবসম্পদ উন্নয়নে আমরা অক্ষম, আমরা কম অর্থ ব্যয় করতে পারি। অর্থাৎ নিজস্বভাবে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আমাদের ক্ষমতা সীমিত। 

এ সীমিত পরিসরে এসব প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে হলে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে প্রযুক্তিগুলো নিতে পারি। আধুনিক প্রযুক্তি খুবই ব্যয়বহুল, ক্রয় করার ক্ষমতাও সীমিত, যা আমাদের মতো দেশের জন্য বড় বাধা। তাহলে এসব প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করতে পারি সেটা একটা বড় প্রশ্ন।   

বিশ্বায়নের যুগে গ্লোবাল ভ্যালু চেইনে প্রবেশ করে সহজেই এসব প্রযুক্তি আয়ত্তে আনা সম্ভব। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা জাপান থেকে টয়োটা গাড়ি আমদানি করি, আমরা সবাই জানি টয়োটা গাড়ি জাপানের তৈরি। তারা এ গাড়ি উৎপাদন করে। এ গাড়িতে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ খুব কমই জাপানে তৈরি হয়েছে, এর বেশির ভাগই চীন, তাইওয়ান, মালয়েশিয়ায় বা ভিয়েতনাম—এ ধরনের দেশগুলোয় তৈরি হয়েছে। জাপানের টয়োটা কোম্পানি এসব দেশকে তাদের প্রযুক্তি দেয়, তারা মানসম্মত যন্ত্রাংশ তৈরি করে এবং এসব দেশ থেকে যন্ত্রাংশগুলো নিয়ে এসে একত্র করে। আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কম্পিউটার বা যেকোনো জিনিসের কথা বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিন্তু একই প্রক্রিয়া। বর্তমানে উৎপাদন একটি দেশে সীমাবদ্ধ নেই, বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে গেছে। বিশ্বায়নের যুগে যা উৎপাদন প্রক্রিয়ার একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য। তাহলে টয়োটা কোম্পানির যন্ত্রাংশ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় জড়িত হতে পারলে, তারা সেই যন্ত্রাংশ তৈরির প্রযুক্তিটা আমাদের  দিলে, সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হতো বা মানুষের সক্ষমতা বৃদ্ধি পেত। 

এক প্রযুক্তি থেকে আরেকটি প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে অন্য পণ্য উৎপাদন করার প্রযুক্তি আমরা নিজেই তৈরি করে নিতে পারি। এই গ্লোবাল ভ্যালু চেইন, আঞ্চলিক ভ্যালু চেইন এগুলোয় দ্রুততার সঙ্গে প্রবেশ করাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রযুক্তি আমাদের কাছে আসবে, আমরা দ্রুততার সঙ্গে আয়ত্ত করে নতুন পণ্য উৎপাদনে এসব প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন নতুন পণ্য উৎপাদনে প্রযুক্তি উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করতে পারব। ধারাবাহিকভাবে আমরা সফিসটিকেটেড পণ্য উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যেতে সক্ষম হব। 

এ রকম বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন যদি আয়ত্ত করা যায়, তাহলেই কিন্তু উন্নয়ন বা প্রবৃদ্ধির পথ দ্রুততর হতে পারে, যা উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন।  গত ৫০ বছরে আমাদের উন্নয়ন থেমে ছিল না। আমরা যদি লক্ষ করি, স্বাধীনতার পর আমাদের বিনিয়োগ ছিল জিডিপির প্রায় ১০-১২ শতাংশ। বর্তমানে তা   ৩০-৩৫ শতাংশ, অর্থাৎ তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা যদি উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকাই, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের হার জিডিপির ৪০-৪৫ শতাংশ। আমরা যদি বাড়াতে পারি তাহলে তা ৪০ শতাংশে নিয়ে যেতে পারব, তার চেয়ে তো বাড়ানো সম্ভব নয়। অর্থাৎ ৪০-৪৫ শতাংশের বেশি কোনো দেশেই বাড়ানো যায় না। 

আমাদের বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিমাণ খুব কম। বিগত বছরগুলোয় উন্নয়নের গতি যেভাবে হয়েছিল, সেটা কিন্তু সীমিত হতে হবে। এখন আমাদের প্রযুক্তিগত দিকগুলোকে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী করতে হবে। এজন্য পরিমাণ না বাড়িয়ে গুণগত মান বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এখন আমরা যত প্রযুক্তি আয়ত্ত করব, উদ্ভাবন করতে পারব, এ বিনিয়োগেই আমাদের প্রবৃদ্ধির হারটা বেশি হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি খাতেই আমাদের গুণগত পরিবর্তনের দিকে বেশি নজর দিতে হবে। আমরা যদি আমাদের লক্ষ্যমাত্রা বা অভীষ্ট পূরণ করতে চাই তাহলে সেবাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে গুণমান বৃদ্ধির বিকল্প নেই। সামনের দশক হবে আমাদের গুণগত মানের দশক। গুণগত মানই হবে উন্নয়নের হাতিয়ার।

ড. মুস্তফা কে মুজেরী: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক

আরও