২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি, খাদ্য ও মৎস্য-প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ। দেশের কৃষি খাত ও বৈশ্বিক অস্থিরতার পরিপ্রক্ষিতে এটা যথেষ্ট কিনা?
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক ও মানবিক উন্নয়নের জন্য সব খাতেই বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আমাদের আকাঙ্ক্ষা উঁচু রাখতেই হবে, কিন্তু অর্থসংস্থান কঠিন। কৃষি খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হলে হয় অন্য খাতে টান পড়বে, নয় বাজেটের আকার ও ঘাটতি আরো বাড়বে। সেদিকে যাওয়ার ঝুঁকি অনেক। তাই আমার মনে হয় এখন মনোযোগ দেয়া দরকার বরাদ্দ যা আছে সেটার বাস্তবায়নের মান এবং পরিমাণ দুদিকেই। সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগে আর একটা বিষয় মনে রাখা দরকার। এ বাজেটে কিছু কৃষি উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে এবং আমাদের যেসব শিল্প কৃষি উপকরণ প্রস্তুত করে তার উপকরণে আমদানি শুল্ক ছাড় বা হ্রাস করেছে। তাতে কৃষি উপকরণের দাম কমে এ খাত উপকৃত হবে। তবে সেটা অবশ্যই নির্ভর করছে উপকরণের উৎপাদন খরচ হ্রাসের সুবিধা সেটার দাম কমাতে সাহায্য করছে নাকি পুরো সুবিধাটা শিল্প মালিক নিয়ে নিচ্ছে তার ওপর। উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়ে, দাম কম রেখেও এসব শিল্প তার লাভ বজায় রাখতে পারে।
এখানে একটা সাধারণভাবে প্রযোজ্য বিষয় হলো, শুল্ক নীতি বা যেকোনো নীতিতে এ ধরনের রদবদল উদ্দেশ্য সাধনে কার্যকর হবে কিনা সেখানে কিছু ঝুঁকি থাকবেই। সেদিকটায় চোখ রাখতে হবে।
গত কয়েক বছরে কৃষি খাতে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৯৩-৯৫ শতাংশ থেকে নেমে ৬০-৬২ শতাংশে চলে এসেছে। এর কারণ কী এবং আগামীতে যদি এ হার ঊর্ধ্বমুখী না হয় তাহলে কৃষি খাত কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে?
বাস্তবায়নের ব্যাখ্যায় প্রথম মন্তব্য হচ্ছে এডিপি বাস্তবায়নের হার সব ক্ষেত্রেই কম। কৃষি খাতেও এ হার কয়েক বছর ধরে কমছে। এ প্রবণতা চলতে থাকলে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি শুধু কমবে তা নয়, অনেক দিকেই বিপর্যয় আসবে। এ হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারতেন নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিরা, সর্বোচ্চ পর্যায়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা এবং অবশ্যই মন্ত্রী/উপদেষ্টারা। গত কয়েক বছর সেখানে আগ্রহের ঘাটতি এডিপি বাস্তবায়নের নিম্নমুখী প্রবণতায় ভূমিকা রেখেছে। উচ্চ পর্যায় থেকে সদিচ্ছা নিয়ে লেগে থাকলে বাস্তবায়ন হার বাড়ানো সম্ভব।
বাজেট বাস্তবায়ন কম হলে সেটা বেশি প্রভাব ফেলবে সেসব কাজের ব্যয়ে যেগুলো দু-চার বছর পর ফল দেবে। এসব ব্যয়ের মধ্যে থাকবে গবেষণা, তথ্যের প্রসার, উত্তম কার্যপ্রণালিতে উৎসাহ দেয়া, চিরায়ত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ইত্যাদি উৎসাহিত করা, উৎপাদন ঝুঁকি হ্রাসের কৌশল নেয়া ইত্যাদি।
আর এসব বিষয়ে ব্যয়কে মানসম্পন্ন বাস্তবায়ন হিসেবে ধরা উচিত। এবারের বাজেট বরাদ্দ যা আছে, সেটা যদি ৯০ শতাংশের বেশি বাস্তবায়ন হয় এবং মধ্যমেয়াদে ফায়দা দেবে তেমনভাবে ব্যয়ের ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয় তাহলে কৃষি ও কৃষক এবং পুরো অর্থনীতিই উপকৃত হবে।
কৃষি বাজেটে বরাদ্দ বাড়লেও ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের কাছে তার সুফল না পৌঁছার বহু নজির রয়েছে। এর প্রধান কারণ কী কী?
ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র কৃষকরা কম জমি, কম উৎপাদনের সীমায় আবদ্ধ বলেই অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। যেমন হাট-বাজার উন্নয়ন হলেও তাদের বিক্রয়যোগ্য উদ্বৃত্ত কম এবং তা নিয়ে যাওয়া-আসার ব্যয় পোষায় না।
এবারের বাজেটে কৃষির উন্নয়নের জন্য হিমাগার, হিমায়িত সরবরাহ শৃঙ্খল, এসব ব্যবস্থা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। কিন্তু এগুলোর পরিচালন যখন ব্যক্তি খাতের উদ্যোক্তার হাতে, সেখানে পণ্য সংরক্ষণ ব্যয়ের ভার এতটা হবে যে ক্ষুদ্র কৃষকের লাভ থাকবে সামান্যই। বড় কৃষিযন্ত্র যেমন ট্রাক্টর, মাড়াই-কর্তন যন্ত্র এগুলো কৃষকের ক্ষুদ্র ভূখণ্ডে চলতে-ফিরতে পারে না। সেখানে শুল্ক হ্রাসের সুবিধা থেকে তারা উপকৃত হন কম।
এসব সুবিধার অংশ পাওয়ার জন্য তাদেরকে কয়েকজনের জমির খণ্ড একত্রিত করার পথে যেতে হবে। সেটার মালিকানা আলাদা থাকলেও। পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা নিতেও যৌথভাবে কাজ করতে হবে। এসব বিষয়ে এবং আরো প্রাসঙ্গিক বিষয়ে তাদের লাগবে শুধু উপকরণ নয়, পরামর্শ ও মাঠে সক্রিয় সহায়তা।
কৃষক কার্ডে যেসব সুবিধা পাওয়ার কথা, তা থেকে তারা উপকৃত হবে অবশ্যই। তবে এ কার্ডের মাধ্যমে আগামীতে আরো সুবিধা ও পরামর্শ যোগ করার জন্য এ দেশের কৃষিতে ক্ষুদ্র কৃষকের অবস্থান আরেকটু খতিয়ে দেখতে হবে।
ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র কৃষক, কৃষি মজুর সব মিলিয়ে আমাদের দেশের কৃষি খাতের এখন এক রূপান্তর ঘটে যাচ্ছে। আগের বড় জমির মালিক-বর্গাদার-মজুর পরিস্থিতি বদল হয়েছে। এখন একদিকে প্রায় ৯০ শতাংশই ক্ষুদ্র বা অতি ক্ষুদ্র জমির মালিক। এ অংশ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। অন্যদিকে কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে গ্রামীণ পরিবারের মধ্যে আছে ২৫ শতাংশ, যারা কৃষি মজুরির আয়নির্ভর। আর তৃতীয়, যারা ক্রমশ গুরুত্ব পাচ্ছে তারা কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট অন্য পেশায় নিয়োজিত বড় বিনিয়োগকারী, যাদের মধ্যে আছে করপোরেট সংস্থা। ধীরে ধীরে এই তৃতীয় পক্ষ সবল হয়ে কৃষির ওপর বড় নিয়ন্ত্রণ রাখবে নাকি ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র কৃষক, কৃষি মজুরদের জন্য বড় সুযোগ তৈরির মধ্যমেয়াদি কৌশল নেয়া হবে সেটা এ বছরের বাজেটে ধার্য হবে না। কিন্তু এ বাজেটে কৃষি মজুরদের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে আনা দরকার।
তারা বছরের বড় একটা সময় কর্মহীন থাকে, আয় থাকে না। ভরা মৌসুম বা ফসল কাটার সময়ে তাদের মজুরি অনেক বাড়ে। উন্নত যন্ত্র যেমন ফসল কাটা-মাড়াই যন্ত্র আসায় সেসব কাজের পরিমাণও কমছে। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে নিয়ে আসার ব্যয় কোন মন্ত্রণালয় বা কোন খাতের বাজেট থেকে আসবে এ প্রশ্নটা সামনে রাখা দরকার।
শীর্ষ ২০ শতাংশ ভূমিমালিক সারের ভর্তুকির প্রায় অর্ধেক সুবিধা ভোগ করেন, যেখানে নিচের ৪০ শতাংশ কৃষক পান মাত্র ১৫ শতাংশ বলে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। আবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেটের ৮০ শতাংশই সারের ভর্তুকিতে ব্যয় হয়। কৃষি খাতে ভর্তুকি কাঠামোর এ কেন্দ্রীভবন ও বণ্টন বৈষম্যের কারণ কী?
সারের ভর্তুকি বড় কৃষকরা বেশি পাচ্ছে কারণ তাদের জমির পরিমাণ বেশি, কাজেই মোট সার ব্যবহার বেশি। তবে একই সঙ্গে এটাও দেখা গেছে যে নিজেদের আয়ের মধ্যে মোট ভর্তুকির অনুপাত ওপর দিকের জমির মালিকদের তুলনায় তলার দিকের ৪০ শতাংশ কৃষকের ক্ষেত্রে অনেক বেশি। অর্থাৎ তলার দিকের কৃষকদের জন্য এ ভর্তুকির বড় মাপের ভূমিকা রয়েছে।
এদিকে সরকারের কৃষি খাতে ব্যয়ের বড় অংশ ভর্তুকিতে দেয়ার আরেকটি সমস্যা আছে। তা হচ্ছে সারের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার। সবদিক মিলিয়ে সর্বোত্তম ফল পাওয়ার জন্য যা দরকার তার তুলনায় বেশি পরিমাণ সার দেয়া হচ্ছে প্রতি একরে। এ সমস্যা বেশি দেখা যায় সর্বনিম্ন ৪০ শতাংশ ভূমি-মালিকদের ক্ষেত্রে। তবে এটার কারণ শুধু সারের কম দাম নয়, তারা আসলে বেশি সার ও পারিবারিক শ্রম ব্যবহার করে তাদের ক্ষুদ্র জমিটুকু থেকে যতটা সম্ভব বাড়তি ফসল, বিশেষত ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে।
এটা দূর করা কতটা প্রয়োজনীয় এবং এক্ষেত্রে সরকারের কী পদক্ষেপ নেয়া উচিত?
এ সমস্যার প্রতিকারে হঠাৎ সারের ভর্তুকি কমিয়ে দিলে বিপর্যয় ঘটবে। এতে শুধু যে ক্ষুদ্র কৃষকের উৎপাদন ও আয় কমবে তা নয়। দেশের মোট খাদ্যশস্য উৎপাদন কমবে। বরং অতিমাত্রায় সার প্রয়োগের কুফল সম্পর্কে, বিশেষত পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব বিষয়ে কৃষির সঙ্গে জড়িত সবাইকে সচেতন করতে হবে। সেই সচেতনতা বাড়ানোর প্রচার, প্রশিক্ষণ, উদাহরণ সৃষ্টি কে বা কারা কীভাবে করবে সেক্ষেত্রে ভেবেচিন্তে এগোতে হবে। এখানে আরেকটি বিষয় হলো, সারের ভর্তুকি কমানোর আগে এ নিয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ধাপে ধাপে এগোতে হবে।
অন্যদিকে এটাও বলা যায় যে ক্ষুদ্র জমির মালিকদের জন্য কৃষির সঙ্গে সঙ্গে অন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করলে তারা ‘বেশি সার, বেশি শ্রম, বেশি-ধান’ এ চক্র থেকে বের হয়ে আসতে পারবে।
১০০টি উপজেলায় ৪২ দশমিক ৫ লাখ ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষককে বছরে আড়াই হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেয়ার ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি কৃষকের আর্থিক চাপ হ্রাসে কতটা কার্যকর হবে বলে মনে করেন?
আপনি বছরে আড়াই হাজার টাকার প্রসঙ্গে যে প্রশ্ন তুলেছেন, সেখানে বলতে হয় যে কার্ডের সুবিধা হিসেবে এ নগদ প্রাপ্তির সঙ্গে অন্যান্য সুবিধাগুলো মিলিয়ে দেখতে হবে। নগদ সুবিধা তাদের জন্য কার্যকর উপকার আনতে পারে যদি সেটা উপকরণ ব্যয় বহনের চাপ কমাতে পারে। যে সময়ে সেচ বা সার দেয়া জরুরি, সে সময়ে কৃষক এটা পেলে বিনিয়োগ বাড়াবে, অন্য সময়ে দিলে ভোগ ব্যয়ে যাবে।
দেশের ৪০ শতাংশ কৃষক পরিবার ভূমিহীন বর্গাচাষী। এমনকি দেশের আদালতে যত মামলা রয়েছে তার বড় অংশ ভূমি, বিশেষত ভূমিকার মালিকানা সংক্রান্ত। এরপরও কোনো সরকারই সেভাবে ভূমি ব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি। ভূমি ব্যবস্থাপনা ছাড়া দেশের কৃষি খাতের রূপান্তর কতটা বাস্তবসম্মত বলে মনে হয়?
কৃষককার্ড বাস্তবায়নের জন্য ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র কৃষকদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে হবে, এটা হচ্ছে এ কার্ডের প্রাথমিক শর্ত। সেটা করার পথে অনেক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। অনেক যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার হয়ে ক্ষুদ্র কৃষকে পরিণত হয়। কিন্তু জমির মালিকানার আইনসম্মত দলিল হয় না। একাধিক প্রজন্ম ধরে আইনি দলিল ছাড়াই জমি ভাগ হয়ে আলাদাভাবে চাষ হতে থাকে। আবার যারা ক্ষুদ্র বর্গাচাষী তাদের চিহ্নিত করা হবে কীসের ভিত্তিতে। আমাদের দেশে বর্গাচাষীর মেয়াদ বা স্থায়িত্বের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। উত্তরাধিকার আইন প্রয়োগ করে নতুন ক্ষুদ্র কৃষক যোগ হওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া। কার্ডের প্রাপক শনাক্ত করাটাও চলমান থাকতে হবে।
বাদ পড়ার সম্ভাবনা যেমন থাকে, আবার একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিজেদের পৃথক ক্ষুদ্র কৃষক এবং কার্ড প্রাপক হিসেবে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করবে, সেই আশঙ্কাও থাকে।
কাজেই ভূমি মালিকানার সঠিক আইনি দলিলের প্রক্রিয়ার দ্রুত ব্যবস্থা আর সেগুলোর ডিজিটালাইজড নথি তৈরির এখনই সময়। তাতে অন্তত দ্বিতীয় পর্যায়ে কার্ড-প্রাপক চিহ্নিত করতে সুবিধা হবে।
গ্রামীণ নারীদের বড় অংশ কৃষিতে নিয়োজিত। অনানুষ্ঠানিকভাবে শ্রম দিয়ে থাকে। প্রস্তাবিত বাজেটের মাধ্যমে তাদেরকে সহায়তা দেয়ার কোনো পথ আছে কি?
কৃষির যে রূপান্তরের কথা বললাম, তার মধ্যে এসব নারীর অংশগ্রহণ ও তাদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে দু-একটি তথ্য উল্লেখ করা দরকার। কৃষিতে যতজন কাজ করছে তার অর্ধেকের বেশি, ৫৬ শতাংশই নারী। গ্রামাঞ্চলে ১ কোটি ৪৪ লাখ নারী স্বনিয়োজিত, অর্থাৎ তারা শুধু যে পরিবারের কাজে সহায়তা করছে তা নয়। নারীদের কাজের উৎপাদনশীলতা বা আয় বাড়ানোর জন্য কীভাবে চেষ্টা করা হবে তা স্পষ্ট করা দরকার। আগে যে কৃষি-খাত পর্যালোচনার কথা বললাম, সেখানে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হিসেবে আসা দরকার। বাজেটে মনোযোগ পেতে হলে তাদের ভূমিকা সামনে আনতে হবে, জানতে হবে।
১৯৯০ সালের পর ৩৫ বছরে কৃষি খাতে কোনো জাতীয় পর্যালোচনা বা সংস্কার কমিশন গঠিত হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন হলেও কৃষি খাতকে বাইরে রাখা হয়েছিল। বর্তমান সরকারের কী উচিত এদিকে মনোযোগ দেয়া?
বাংলাদেশের কৃষি গত দুই-আড়াই দশকে এত বদলে গিয়েছে যে এ খাতকে এখন ভালোভাবে বোঝা দরকার। সেই উদ্দেশ্যে শুরুতেই কমিশন না করে, পুরো খাত পর্যালোচনা এবং তথ্যভিত্তিক গভীর বিশ্লেষণ দরকার। কী কী বিষয়ে পর্যালোচনা দরকার তা চিহ্নিত করতে হবে। গবেষক - নীতিনির্ধারক মাঠ পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মী—সব মিলিয়ে কমিটি গঠন করে দ্রুত এ তালিকা করা যায়। এ সংক্রান্ত কমিশন বা টাস্কফোর্স গঠন করেও এটি করা যেতে পারে।