রাঙামাটির পাহাড়ঘেরা বিস্তীর্ণ নীল জলরাশির কাপ্তাই হ্রদ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম এ জলধারাটি স্বাদুপানির আধার ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তৈরি হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি মৎস্যসম্পদ, কৃষি, নৌপরিবহন, পর্যটন এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। হ্রদের ওপরের দৃশ্যমান সৌন্দর্যের আড়ালে পানির নিচে রয়েছে এক বিস্ময়কর অদৃশ্য জগৎ। কোটি কোটি ক্ষুদ্র জীবের এ জগৎই মূলত কাপ্তাই হ্রদের জলজ খাদ্যশৃঙ্খল ও বাস্তুতন্ত্রের ভিত্তি।
বিশাল এ হ্রদের দৃশ্যমান পানির নিচে রয়েছে আরও একটি জটিল ও বৈচিত্র্যময় জগৎ—অসংখ্য ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবের বাস্তুতন্ত্র। এ জীবজগতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ প্ল্যাঙ্কটন। হ্রদের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র প্রাণের এ অদৃশ্য জগৎকে বোঝা খুবই জরুরি।
নতুন এক গবেষণায় কাপ্তাই হ্রদের অদৃশ্য প্রাণজগতের বিস্তৃতি, বৈচিত্র্য এবং বছরজুড়ে এর পরিবর্তনের একটি বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে। ‘অ্যাসেসমেন্ট অব প্ল্যাঙ্কটন ডায়নামিকস অব কাপ্তাই লেক, বাংলাদেশ: ইনসাইটস অন দ্য লার্জেস্ট ম্যানমেড লেক ইকোসিস্টেমস ইন সাউথইস্ট এশিয়া’ শীর্ষক গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘হেলিওন’-এ প্রকাশিত হয়েছে। আর এটি করেছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক।
গবেষণায় দেখা গেছে, হ্রদের সব জায়গায় প্ল্যাঙ্কটনের উপস্থিতি এক রকম নয়। কোনো এলাকায় এর ঘনত্ব বেশি, কোথাও কম। আবার মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিশেষ করে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের উপস্থিতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। গবেষকেরা বলছেন, এ পরিবর্তনগুলো কাপ্তাই হ্রদের সামগ্রিক বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য, মৎস্যসম্পদ এবং ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
প্ল্যাঙ্কটন বলতে পানিতে ভাসমান অতি ক্ষুদ্র জীবের একটি বিশাল ও বৈচিত্র্যময় জগৎকে বোঝায়। এদের চলাচলের ক্ষমতা খুব সীমিত। পানির স্রোত, তাপমাত্রা, পুষ্টি উপাদান এবং পরিবেশগত অবস্থার ওপর এদের অবস্থান ও বিস্তার অনেকাংশে নির্ভর করে।
গবেষণাপত্রে প্ল্যাঙ্কটনকে মূলত দুটি বড় ভাগে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও জুপ্ল্যাঙ্কটন। ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন সূর্যের আলো ও পানির পুষ্টি উপাদান ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি করে। অন্যদিকে জুপ্ল্যাঙ্কটন খাদ্য হিসেবে প্রধানত ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র জীব গ্রহণ করে এবং খাদ্যশৃঙ্খলের পরবর্তী স্তরের প্রাণীদের জন্য শক্তি সরবরাহে ভূমিকা রাখে। অর্থাৎ হ্রদের ক্ষুদ্র এ জীবগুলোর পরিবর্তন শুধু অণুজীবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পড়তে পারে জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরে। প্ল্যাঙ্কটনের প্রাচুর্য, গঠন ও পরিবর্তনকে তাই হ্রদের জীববৈচিত্র্য এবং বাস্তুতন্ত্রের অবস্থা মূল্যায়নের গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কাপ্তাই হ্রদের বিভিন্ন এলাকার মধ্যে পার্থক্য বোঝার জন্য গবেষকরা চারটি স্থান নির্বাচন করেন—জোলজান ঘাট, কান্দেমু, শুবলং ঝরনা ও শুবলং বাজার। স্থানগুলো নির্বাচন করা হয়েছিল ভিন্ন ধরনের পরিবেশ ও মানব কর্মকাণ্ডের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে। জোলজান ঘাট একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাট ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকা। কান্দেমু তুলনামূলক কম কার্যক্রমের একটি এলাকা। শুবলং ঝরনা পর্যটকদের কাছে পরিচিত, আর শুবলং বাজার স্থানীয় বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র।
এসব স্থান থেকে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতি মাসে সংগ্রহ করা হয় পানির নমুনা। পরে সেগুলো বিশেষ পদ্ধতিতে ছেঁকে গবেষণাগারে বিশ্লেষণ করা হয়। অণুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাঙ্কটন শনাক্ত এবং প্রতি লিটার পানিতে তাদের ঘনত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
গবেষণায় কাপ্তাই হ্রদে চারটি প্রধান শ্রেণির ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন পাওয়া গেছে। এগুলো হলো ক্লোরোফাইসিয়া, সায়ানোফাইসিয়া, ডাইনোফাইসিয়া ও ইউগ্লেনোফাইসিয়া। মোট ১৫টি গণ শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। এর মধ্যে ক্লোরোফাইসিয়া বা সবুজ শৈবাল শ্রেণির ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ছিল সবচেয়ে বেশি। মোট ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের ৬১ দশমিক ১ শতাংশই ছিল এ শ্রেণির। সায়ানোফাইসিয়া ছিল দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণি। অন্যদিকে ডাইনোফাইসিয়া ও ইউগ্লেনোফাইসিয়ার উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল।
গবেষণায় বিশেষভাবে কয়েকটি গণের উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলো কাপ্তাই হ্রদে তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে পেডিয়াস্ট্রাম, স্টোরাস্ট্রাম, অ্যানাবিনা, অ্যাফানোথেসি, সেরাটিয়াম ও ফ্যাকাস। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে বছরজুড়েই ক্লোরোফাইসিয়ার আধিপত্য দেখা গেছে। মার্চ, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বরে এর উপস্থিতি ছিল বিশেষভাবে লক্ষণীয়। একই সময়ের আশপাশে অন্যান্য কিছু ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন গোষ্ঠীরও তুলনামূলক বৃদ্ধি দেখা গেছে।
কাপ্তাই হ্রদের জুপ্ল্যাঙ্কটন সম্প্রদায়ের মধ্যেও একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আধিপত্য পাওয়া গেছে। গবেষণায় রোটিফেরা ছিল সবচেয়ে বেশি উপস্থিত জুপ্ল্যাঙ্কটন গোষ্ঠী। বিভিন্ন ধরনের জুপ্ল্যাঙ্কটনের মধ্যে রোটিফেরার পাঁচটি গণ শনাক্ত করা হয়েছে। এ গোষ্ঠী মোট জুপ্ল্যাঙ্কটনের সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে ছিল। গবেষণায় কেরাটেলা নামের একটি গণকে সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে, অন্যদিকে ইউক্ল্যানিসের উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে কম।
জুপ্ল্যাঙ্কটনের মধ্যে ক্রাস্টেশিয়া ও প্রোটোজোয়া গোষ্ঠীরও উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে এদের পরিমাণ রোটিফেরার তুলনায় অনেক কম ছিল। গবেষণার সময় দেখা গেছে, মার্চ ও অক্টোবরে জুপ্ল্যাঙ্কটনের বৈচিত্র্য তুলনামূলক বেশি। কিছু নির্দিষ্ট গণের উপস্থিতি এ সময় বেড়েছিল। তবে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের মতো জুপ্ল্যাঙ্কটনের মোট ঘনত্বে বছরজুড়ে পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পাওয়া যায়নি।
গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলের একটি হলো কাপ্তাই হ্রদের চারটি গবেষণা এলাকার মধ্যে শুবলং বাজারে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও জুপ্ল্যাঙ্কটন উভয়েরই উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি। হ্রদটি ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের গড় ঘনত্ব ছিল প্রতি লিটারে ১ হাজার ২৪২টি কোষ। তবে স্থানভেদে এ ঘনত্বের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য ছিল। শুবলং বাজারে সর্বোচ্চ এবং জোলজান ঘাটে সর্বনিম্ন ঘনত্ব পাওয়া গেছে। জুপ্ল্যাঙ্কটনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে। হ্রদে জুপ্ল্যাঙ্কটনের গড় উপস্থিতি ছিল প্রতি লিটারে ৪৯৩টি কোষ। শুবলং বাজারে এদের উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি ছিল।
কেন শুবলং বাজারে প্ল্যাঙ্কটন বেশি—এ প্রশ্নের উত্তরে গবেষকরা ওই এলাকার স্থানীয় পরিবেশ ও মানব কর্মকাণ্ডের সম্ভাব্য প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। বাজার এলাকার আশপাশ থেকে বৃষ্টির পানি ও বিভিন্ন উৎসের মাধ্যমে অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদান পানিতে মিশতে পারে। এসব পুষ্টি উপাদান ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে পারে।
তবে গবেষণায় এটিও বলা হয়েছে, পুষ্টি উপাদানের প্রকৃত উৎস ও পরিমাণ নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন। অর্থাৎ শুবলং বাজারের আশপাশের মানব কর্মকাণ্ড এবং প্ল্যাঙ্কটনের উচ্চ উপস্থিতির মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্কের কথা বলা হলেও এর কারণ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত তথ্য দরকার।
অন্যদিকে জোলজান ঘাট এলাকায় ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন ও জুপ্ল্যাঙ্কটনের উপস্থিতি সবচেয়ে কম পাওয়া গেছে। গবেষকেরা এর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নৌযানের চলাচল এবং পানির অস্থিরতার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। নৌকা ও অন্যান্য জলযানের চলাচলের কারণে পানিতে সৃষ্ট আলোড়ন বা অস্থিরতা প্ল্যাঙ্কটনের বৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, পানির অতিরিক্ত অস্থিরতা ও নৌযানের চলাচল ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের কোষের ওপর শারীরিক প্রভাব ফেলতে পারে এবং তাদের বৃদ্ধি ও মোট জীবভর কমিয়ে দিতে পারে। জোলজান ঘাটের মতো ব্যস্ত নৌকেন্দ্রিক এলাকায় এ বিষয়টি প্ল্যাঙ্কটনের কম উপস্থিতির একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।
কাপ্তাই হ্রদের মতো একটি বৃহৎ ও বহুমুখী জলাধারের ক্ষেত্রে পানির দৃশ্যমান অবস্থা দেখে বাস্তুতন্ত্রের প্রকৃত স্বাস্থ্য বোঝা সব সময় সম্ভব নয়। পানির নিচে ক্ষুদ্র জীবের সংখ্যা, বৈচিত্র্য ও পরিবর্তন অনেক সময় পরিবেশগত পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, পুষ্টি উপাদানের প্রাপ্যতা, পানির তাপমাত্রা, ঘোলাভাব এবং আশপাশের মানব কর্মকাণ্ড প্ল্যাঙ্কটন সম্প্রদায়ের গঠনকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে এ গবেষণাটি মূলত প্ল্যাঙ্কটনের স্থান ও সময়ভিত্তিক পরিবর্তনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ভবিষ্যৎ গবেষণায় পানির ভৌত ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য এবং আশপাশের ভূমি ব্যবহারের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হলে কাপ্তাই হ্রদের প্ল্যাঙ্কটন পরিবর্তনের প্রকৃত চালিকাশক্তি আরও স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব।
কাপ্তাই হ্রদের অর্থনৈতিক গুরুত্বের বড় একটি অংশ মৎস্যসম্পদ। গবেষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, এ হ্রদে বহু প্রজাতির মাছের বসবাস এবং স্থানীয় ক্ষুদ্র মৎস্যজীবীদের জীবিকার সঙ্গে এর সম্পর্ক রয়েছে। তবে জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের প্রাথমিক স্তরে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন এবং পরবর্তী স্তরে জুপ্ল্যাঙ্কটনের অবস্থান থাকায় এদের পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে জলজ প্রাণীদের খাদ্যপ্রাপ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই প্ল্যাঙ্কটনের গতিপ্রকৃতি বোঝা হ্রদের টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
গবেষকরা মনে করছেন, প্ল্যাঙ্কটনের উপস্থিতি ও পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে কাপ্তাই হ্রদের বাস্তুতন্ত্রে সময়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন সম্পর্কে আগাম ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ক্লোরোফাইসিয়ার আধিপত্য, রোটিফেরার উপস্থিতি, শুবলং বাজারে প্ল্যাঙ্কটনের বেশি ঘনত্ব এবং অক্টোবর মাসে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের সর্বোচ্চ উপস্থিতি—সব মিলিয়ে গবেষণাটি কাপ্তাই হ্রদের জলজ বাস্তুতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিচিত্র তুলে ধরেছে।
ভবিষ্যতে পানির তাপমাত্রা, দ্রবীভূত অক্সিজেন, পিএইচ, ঘোলাভাব, পুষ্টি উপাদানের মাত্রা এবং আশপাশের ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তনের সঙ্গে প্ল্যাঙ্কটনের সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা জরুরি। এ ছাড়া পর্যটন, নৌযান চলাচল, বাজার ও বসতির বর্জ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও দীর্ঘমেয়াদে কাপ্তাই হ্রদের বাস্তুতন্ত্রে কী ধরনের পরিবর্তন আনছে, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।
কাপ্তাই হ্রদকে আমরা সাধারণত দেখি বিস্তীর্ণ জলরাশি, পাহাড় ও পর্যটনের চোখে। কিন্তু এ জলরাশির প্রকৃত বাস্তুতন্ত্র বোঝার জন্য পানির নিচের অদৃশ্য জগতের দিকেও তাকাতে হবে। এক ফোঁটা পানির ভেতরে থাকা ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন কিংবা জুপ্ল্যাঙ্কটন হয়তো খালি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু এ ক্ষুদ্র জীবগুলোর ওপরই দাঁড়িয়ে আছে বিশাল জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের একটি অংশ। কাপ্তাই হ্রদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জলাধারের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনায় তাই শুধু পানি, মাছ বা বিদ্যুৎ উৎপাদনের হিসাব যথেষ্ট নয়। পানির নিচে থাকা অদৃশ্য প্রাণজগতকেও পরিবেশ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে। কারণ হ্রদের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে তবেই টেকসই থাকবে এর মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকা। আর সেই স্বাস্থ্য বোঝার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি হয়ে উঠতে পারে পানির নিচে নীরবে ভেসে থাকা এ ক্ষুদ্র প্রাণের জগৎ—প্ল্যাঙ্কটন। এর স্থান ও সময়ভিত্তিক গতিশীলতা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া গেলে এ হ্রদের সম্পদ ব্যবস্থাপনা, টেকসই মৎস্য উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে এ গুরুত্বপূর্ণ স্বাদুপানির বাস্তুতন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
ওবায়দুল্লাহ সনি: প্রধান সহসম্পাদক, বণিক বার্তা