সব বয়সের মানুষের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে

নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষা মানুষের স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে এবং সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

শিক্ষার সঙ্গে বয়সের কোনো সীমারেখা নেই। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হওয়ার পরও মানুষের শেখার প্রয়োজন শেষ হয়ে যায় না। বরং কর্মজীবন, প্রযুক্তির পরিবর্তন, পেশাগত রূপান্তর, স্বাস্থ্যগত পরিস্থিতি কিংবা ব্যক্তিগত আগ্রহ—বিভিন্ন কারণে জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন হয়। তাই শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য শেখার সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু বাস্তবে অনেক দেশেই খাতটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার।

প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার উদ্দেশ্যকে শুধু চাকরি পাওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সুযোগ নেই। নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি কিংবা সামাজিক সেবার মতো খাতে প্রশিক্ষণ নিয়ে একজন ব্যক্তি কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন কিনা সেটি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শিক্ষার সুফল আরো বিস্তৃত। নতুন কোনো দক্ষতা অর্জন একজন মানুষের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে। নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষা মানুষের স্বাস্থ্য ও মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে এবং সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে। শ্রেণীকক্ষ অনেক সময় এমন একটি পরিসর তৈরি করে, যেখানে মানুষ অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতার দক্ষতা অর্জন করে—যা কর্ম ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

এ কারণে শিক্ষানীতিতে শুধু তরুণদের অগ্রাধিকার দিলেই হবে না। কর্মজীবনের মাঝপথে চাকরি হারানো ব্যক্তি, সরকারি সুবিধা বা ভাতার ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে চাওয়া মানুষ কিংবা স্বাস্থ্যগত কারণে শারীরিক শ্রমনির্ভর পেশা পরিবর্তনে বাধ্য হওয়া কর্মীদের জন্যও পুনঃপ্রশিক্ষণের সুযোগ থাকা দরকার। প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে অনেক প্রচলিত কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মীদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ না থাকলে শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ কমে যেতে পারে।

[দ্য গার্ডিয়ানের এক সম্পাদকীয়তে]

আরও