ব্রেস্ট ক্যান্সার সতর্কতা এবং নারীর মনোজগতের টানাপোড়েন

‘ক্যান্সার’ এই চার অক্ষরের শব্দটিকে ভয়ের সমার্থক শব্দ বললে বোধ হয় খুব ভুল বলা হবে না। আর যে কেউ ক্যান্সারকে ভয় পান না এটা বোধ হয় বলতে পারবেন না। এই ভয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের মন। ব্রেস্ট ক্যান্সার এমন একটি ক্যান্সার যা মুলত নারীদেরই অসুখ। এই ক্যান্সারের সঙ্গে নারীর শুধু জীবন মৃত্যু নয় শারীরিক সৌন্দর্য এবং মানসিক বোঝাপড়ার বিষয়গুলো ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু নারীদের এই রোগ নিয়ে বাংলাদেশের পরিবার, সমাজ কতটা সহমর্মী কিম্বা সচেতন সেটি বলাই বাহুল্য।

‘ক্যান্সার’- কয়েকটি বর্ণের এই শব্দটিকে ভয়ের সমার্থক শব্দ বললে বোধ হয় খুব ভুল বলা হবে না। আর যে কেউ ক্যান্সারকে ভয় পান না এটা বোধ হয় বলতে পারবেন না। এই ভয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের মন। ব্রেস্ট ক্যান্সার এমন একটি ক্যান্সার যা মুলত নারীদেরই অসুখ। এই ক্যান্সারের সঙ্গে নারীর শুধু জীবন মৃত্যু নয় শারীরিক সৌন্দর্য এবং মানসিক বোঝাপড়ার বিষয়গুলো ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু নারীদের এই রোগ নিয়ে বাংলাদেশের পরিবার, সমাজ কতটা সহমর্মী কিম্বা সচেতন সেটি বলাই বাহুল্য।

আধুনিক চিকিৎসা চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়ন ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এনেছে নব নব উদ্ভাবন। ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসা হয়েছে আগের চেয়ে উন্নত। ব্রেস্ট ক্যান্সার হলেই ব্রেস্ট কেটে ফেলার যে শৈল্য চিকিৎসা সেখান থেকে বেরিয়ে এসে লাম্পেক্টমি বা শুধুমাত্র ব্রেস্ট টিউমারটি অপারেশনের মাধ্যমে সরিয়ে ফেলে নারীর সৌন্দর্য অক্ষুন্ন রাখা হয়। তাই আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের আঙ্গিকে ‘ক্যান্সার’ অসুখ হিসাবে এখন আর অতটা সাংঘাতিক কিছু নয়। আগে যেমন ভাবা হতো ক্যান্সার হওয়া মানে নিশ্চিত মৃত্যু। ব্রেস্ট ক্যান্সারের কথাই যদি বলা যায় এটি সারা পৃথিবীতে ক্যান্সারে মৃত্যুর দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে এবং এটি সারা বিশ্বের নারীদের অন্যতম কমন ক্যান্সার। ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রথম, দ্বিতীয় এমনকি তৃতীয় স্টেজে শনাক্ত হলেও চিকিৎসার মাধ্যমে পুরোপুরি নিরাময় করা সম্ভব যদি তা শরীরের অন্য কোন অংশে ছড়িয়ে না পড়ে। কিন্তু তা সত্ত্বেও ক্যান্সার শব্দটির সঙ্গে এতটাই ভয় জড়িয়ে আছে যে এই ধরনের অসুখ ধরা পড়লেই মানুষ আতংকিত হয়ে পড়ে এবং পরিবারের সবাই চিন্তিত হয়ে পড়ে।

যেমন ধরুন যদি কারো রাস্তায় হঠাৎ কোন দুর্ঘটনা ঘটে বা হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় সেক্ষেত্রে কিন্তু অনেক সময় চিকিৎসা করার সুযোগ মেলে না। কিন্তু ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে চিকিৎসার সুযোগ আছে। তা সত্ত্বেও মানুষের মনে এই ক্যান্সার ভীতি একইরকম রয়ে গেছে। শুধু অসুখের প্রতি ভীতিই নয়, কারণ এর সাথে জড়িয়ে আছে আরো অনেক বিষয়। শুধু শারীরিক নয় আর্থিক, সামাজিক মানসিক এবং ব্যক্তিগত নানা দিকও এর সঙ্গে জড়িত। তাই বলা হচ্ছে প্রাথমিক শনাক্তকরণ জরুরি। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে যে কোন ক্যান্সার ধরা পড়লে তা নিরাময়ের সম্ভাবনা বেশী, চিকিৎসা হয় সহজ এবং আর্থিক দিক থেকে সাশ্রয়ী হয়। রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিকভাবে ব্যপক প্রচারণা এবং বিভিন্ন সহমর্মী মানুষের হাত সম্প্রসারিত হলেই এটি সম্ভব। কিন্তু ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি যে সব পরিবারের কেউ আক্রান্ত হয়েছে তারা কিছুটা সহমর্মী হলেও অনেকেই এমন ভাব প্রকাশ করেন যেন তাদের পরিবারে কোনদিন এ ঘটনা ঘটবে না তাই তারা ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীর পাশে দাঁড়াতে উৎসাহ দেখান না। যা সত্যিই দুঃখজনক। তারা জানেন না বিশ্বে প্রতি মুহূর্তে আটজন নারীর মধ্যে একজন নারী ব্রেস্ট ক্যান্সার ঝুকির মধ্যে বসবাস করে এবং বাংলাদেশ এর ব্যতিক্রম নয়। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার কোন সুনির্দিষ্ট কারণ আবিষ্কৃত হয়নি। তাদের কাছের নারী যে কখনো আক্রান্ত হবে না এটি কি তারা নিশ্চিত। তাই বাংলাদেশের মানুষের সময় এসেছে সচেতনতার পাশাপাশি এই ক্যানসার চিকিৎসা সহজ করা বিশেষ করে স্ক্রিনিং। কারণ পরীক্ষা করলেই যে সবার হবে তা নয়। যাদের ম্যালিগন্যানসি থাকবে তারাই চিকিৎসা নেবে। কিন্তু এই দিকে সরকারিভাবে এখনো কোন কর্মসূচি বা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। নিজে নিজে স্তন পরীক্ষার উপরেই আমরা জোর দিচ্ছি। যদিও নিজের হাতে যখন এটি টের পাওয়া যায় তখন এটি দ্বিতীয় স্টেজে চলে যায়। এখানেই পাশ্চাত্যের সঙ্গে আমাদের তফাৎ। কারণ তাদের ৯৫ শতাংশ রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়ে আর আমাদের দেশের ৯৫ শতাংশ রোগী তৃতীয় ও চতুর্থ স্টেজে ধরা পড়ে। তাই পশ্চিমা বিশ্বে এই রোগে নারী মৃত্যুর হার ৬ জনে একজন আর আমাদের দেশে ২ জনে একজন। সচেতনতা এবং চিকিৎসার অভাব, আর্থিক টানাপোড়েনই এর মূল কারণ। কিন্তু এভাবে চলতে পারে না।

একমাত্র ক্যান্সার আক্রান্ত নারীই জানে তাকে এ পথ কতটা বেদনা নিয়ে অতিক্রম করতে হয়। ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসা অনেক উন্নত হয়েছে এবং এটি নিরাময়যোগ্য বলা হলেও এটাকে শুধুমাত্র বায়োলজিক্যাল দিক থেকে বিবেচনা করা যায় না। কোন বয়সে ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়েছে, ক্যান্সার কোন স্টেজে আছে, রোগীর পারিবারিক ও আর্থিক অবস্থা, রোগীর স্ট্রেসের সাথে মোকাবিলা করার ধরন বা কোপিং এবিলিটি, কঠিন সময়ে তার সাপোর্ট সিস্টেম কি , কাছের মানুষগুলোর মনোভাব ইত্যাদি সবকিছুই চিকিৎসা পদ্ধতির উপর প্রভাব ফেলে। তাছাড়া একমাত্র ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রেই বডি ইমেজ বা নারীর সৌন্দর্য সরাসরি যুক্ত। এমনিতেই সব ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসার পর কিছু না কিছু দৈহিক পরিবর্তন আসে। কিন্তু ব্রেস্ট ক্যান্সার যেহেতু নারীর সৌন্দর্যে প্রভাব ফেলে তাই অসুখ সংক্রান্ত ভয় এবং মানসিক দ্বন্দ্বের প্রবনতা  ও টানাপোড়্ন থাকে দ্বিগুন যা অন্যদের অনুধাবন করা সম্ভব নয়। ক্যান্সার চিকিৎসা কারণে কোন মহিলার চুল পড়ে গেলে বা ব্রেস্ট অপারেশনের মাধ্যমে অপারেশন বা ম্যাসটেক্টমি হলে তার শারিরীক কোন অসুবিধা হয়না কিন্তু তার চুলগুলো যখন বৃস্টির মত ঝরে পড়ে কিম্বা নিজের অঙ্গহানির ঘটনা ঘটে তখন তার নিজের ভিতরে যে কস্ট আর ভাঙ্গাচোরা শুরু হয় তা শুধু ভুক্তভোগীরাই বুঝতে পারে। বাইরের মানুষেরা তার বাহ্যিক চেহারা নিয়ে প্রশ্ন করে তাকে ক্ষতবিক্ষত করে আর অনেকে করুনার চোখে তাকায়। তার নারীত্ব যেমন প্রশ্নের মুখে পড়ে তেমনি তার নিজেরও মনে হতে পারে তিনি তার নারীত্ব হারিয়েছেন এবং ছোট চুলে তাকে পুরুষের মত লাগছে। অনেকেই বলেই ফেলে সেই রূপ আর থাকবে না - চেহারা ভচকাইয়া গেছে। চোখের নীচে কালি, কালো হয়ে যাওয়া , হাত নখ কালো হওয়া সহ অনেক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় শরীরে কেমোথেরাপির পর। যদিও অপারেশনের পর বাহ্যিক চেহারায় বা ত্বকে কোন পরিবর্তন আসে না। শারিরীক পরিবর্তনের কারনে সমাজের মূলস্রোত থেকে পিছিয়ে পড়ার ভয় কিম্বা স্বামীর সংগে অন্তরঙ্গ সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে এই ভয়ে চিকিৎসা পদ্ধতির উপর নারীরা নেতিবাচক ধারনা পোষন করে। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর চিকিৎসা করানোর ইচ্ছা কমে যায়। এই সময় রোগী মানসিক টানাপেড়েনের চরম সীমার মধ্যে অবস্থান করে। এক্ষেত্রে কাছের মানুষ বিশেষ করে স্বামী বা বন্ধু সবচেয়ে বড় নির্ভরতার আশ্রয় হিসাবে থাকতে পারে যা মনের কোনে জমে থাকা এই দ্বিধা বা ভয় কাটাতে সাহায্য করে। তাছাড়া বাবা মা ভাইবোন ছেলে মেয়ে বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় পরিজনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতে পারে যা রোগীকে চিকিৎসা নিতে দ্বিধা থেকে বের করে আনবে। যেহেতু ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সাইকোলজির ভূমিকা অন্যান্য ক্যান্সারের চেয়ে অনেক বেশী তাই তার মনোজগতের সাপোর্ট অনেক বেশী প্রয়োজন।

পরিবারে ব্রেস্ট ক্যান্সারের পূর্ব ইতিহাস থাকলে তাকে জেনেটিক ব্রেস্ট ক্যান্সার বলে যাদের BRCA1, BRCA2  PH54 পজিটিভ থাকে তাদের জেনেটিক মিউটেশনের কারনে এই রোগ অল্প বয়সেই দেখা দিতে পারে। এক্ষেত্রে হলিউডের নায়িকা এঞ্জেলিনা জোলি একটি যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ডবল ম্যাস্টেকটমি এবং ওভারেক্টমি করে এবং ব্রেস্ট রি-কন্সট্রাকশন করার মত সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে। এতে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্রেস্ট ক্যান্সার ঠেকিয়ে দেয়া সম্ভব। কিন্তু আমরা কি পেরেছি। পরিবারে ব্রেস্ট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও বডি ইমেজ নষ্ট হওয়ার ভয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা চিন্তা করিনি এবং খুব কম নারীই বডি ইমেজ নস্ট করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। পশ্চিমা নারীদের থেকে মন মানসিকতার দিক থেকে আমরা পিছিয়ে এবং আমরা কম সাহসী। সুস্থ থাকার চেয়ে বডি ইমেজের প্রতি গুরুত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে গিয়ে আমরা এই কঠিন অসুখ মোকাবিলা করি। তারপরও এই রোগের ফলে শারিরীক পরিবর্তনের কারণে যে মানসিক চাপ এবং চিকিৎসা পরবর্তী কালে পুনরায় রোগীকে সমাজের মুলস্রোতে নিয়ে আসা, তাকে আগের মত গুরুত্ব দেয়া এই সব কিছুর দায়িত্ব থাকে পরিবার এবং কাছের মানুষদের উপর। তাছাড়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ভূমিকা অপরিসীম। অসুখজনিত ভয় দূরে সরে গেলে রোগীর চিকিৎসার কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে ফলে তার সুস্থতা ত্বরান্বিত হবে। প্রতিটি ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীকে ভয় না পেয়ে ভাবতে হবে অন্যসব অসুখের মত এটিও একটি অসুখ। অতিরিক্ত চিন্তা বা স্ট্রেস ইমিউনিটিকে প্রভাবিত করে যার ফলে ওষুধ এর কার্যকারিতা কমতে পারে এবং অসুখ সারতে সময় বেশী লাগতে পারে। পরিবার বন্ধু বান্ধব যদি রোগীর ভরসা জোগাতে পারে তবে তার মনোবল বাড়তে পারে এবং এই রোগ এবং চিকিৎসাজনিত জটিলতা দ্রুত সারাতে পারে। সবচেয়ে সমস্যা হয় কম বয়সে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিলে। কমবয়সীদের মধ্যে বডি ডিসফিগারমেন্টের ভয় বেশী থাকে এবং এখানে সন্তান ধারনের বিষয়ও থাকে। বাহ্যিক পরিবর্তন সাময়িক হলেও রোগীর ইমেজে প্রভাব ফেলে এবং অনেক সময় অল্পতেই রেগে যায় কিম্বা ইমোশনাল হয়ে যায়। আত্ম বিশ্বাসের অভাব ঘটলে লোকেরা কি বলল কি ভাবল এটা নিয়ে নারীরা মাথা ঘামায় এবং রি এক্ট করতে থাকে যা তার ব্যক্তিত্বকে দুর্বল করে দেয়। অহেতুক বডি ইমেজ নিয়ে চিন্তা করার কোন মানে নাই । যাদের ছোট বাচ্চা থাকে তাদের আরেক ভয় কাজ করে সন্তানকে সময় না দিতে পারার ভয়, সন্তানের উপর মানসিক চাপ পড়ার ভয়। সন্তান বড় হলে মানসিক চাপে ভুগবেই কিন্তু ছোট হলে স্বামী কিংবা আত্মীয় পরিজন সময় দিলে এটি পেরিয়ে যাওয়া সম্ভব। অনেকসময় রোগী সন্তানকে বেশী সময় দিতে না পারার কারণে অপরাধবোধ করে এবং সন্তানকে বেশী এটেনশন দিতে শুরু করে যা অনেকসময় সন্তানের ভাবনা চিন্তায় প্রভাব ফেলে। রোগীকে এটি বোঝানো প্রয়োজন তার সুস্থতা তার সন্তানের জন্য আশীর্বাদ এবং এই সময় সন্তানের সংগে কোয়ালিটি কাটাতে পারছেন কিনা সেটি নিশ্চিত হলেই হয়। অনেক নারীরা স্বামীর সংগে কোয়ালিটি টাইম কাটাতে পছন্দ করে কিন্তু সেটি না পেলে মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। বেশী বয়সে ব্রেস্টক্যান্সার হলে অনেক নারী ভয়ে চিকিৎসা নিতে চায় না। চিকিৎসা না হলে তার রোগ আরো বেড়ে যেতে পারে তা রোগীকে পরিবারের সদস্যদের বোঝাতে হবে এবং তিনি যতদিন বেঁচে থাকেন যেন সুস্থভাবে বেঁচে থাকেন।

সাধারণত কোন ব্যক্তি যখন প্রথমবারের মত ক্যান্সার আক্রান্ত হয় তখন সে কোন রিপোর্ট বিশ্বাস করতে চায় না। একাধিক রিপোর্টে যদি একই রেজাল্ট আসে তখন কিন্তু তার মেনে নেয়া ছাড়া উপায় থাকে না। তখন রোগীর মনে একটি প্রশ্নই আসে- আমিই কেন? স্রষ্টা কি আর কাউকে পেলো না। আমি ব্যক্তিগতভাবে ভাল জীবনযাপন করি, ব্যয়াম করি, কোক পর্যন্ত খাই না তবে কেন এই রোগের শিকার হলাম। চারপাশে যারা অস্বাস্থ্যকর লাইফস্টাইল মেনে চলে তারা দিব্যি ভাল আছে। তখন স্রষ্টার উপর ভীষণ রাগ হয়। আবার অনেকে ঘন ঘন মসজিদ মন্দিরে যায়, দান করে দ্রুত সেরে ওঠার জন্য। আসলে এগুলি অস্বাভাবিক কিছু নয়। যদি ও কিছুদিন পর অনেকেই বুঝতে পারে তারা সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসছেন। কিন্তু অনেকে মানসিক অবসাদে ভুগতে পারেন যাদের জন্য মানসিক চিকিৎসা দরকার। একজন মানুষের যখন লাইফ থ্রেট থাকে তখন সে ডিপ্রেশনে যেতেই পারে কিন্তু কেমো চলাকালে অনেকসময় বোঝা যায় না। কারণ ডিপ্রেশনের মত কেমো রোগীর লক্ষণ দ্রুত খিদে, ওজন ও ঘুম কমে যাওয়া। সেক্ষেত্রে অন্যান্য লক্ষণ যেমন নিজেকে গুটিয়ে রাখা, এংজাইটি, হাইপার হয়ে রি-অ্যাক্ট করাতে এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অধীনে মানসিক চিকিৎসা দিতে হবে। ব্রেস্ট ক্যান্সার রোগীর মনোজগতের টানাপোড়েন চিকিৎসা এবং সুস্থ হওয়ার ক্ষেত্রে দারুনভাবে প্রভাব ফেলে। তাই ডাক্তার এবং প্রিয়জন সবাইকে বোঝাতে হবে চিকিৎসা ঠিকমতো হলে স্বাভাবিক জীবন এবং স্বাভাবিক আয়ু পেতে পারে। তার ভয় এবং এংজাইটি কমাতে হলে তার পাশে থাকতে হবে। ভয় বা ডিপ্রেশন যেন তার চিকিৎসা এবং সুস্থতার পথে বাঁধা না হয়। ভালবাসা, যত্ন আর সহানুভূতির মাঝে বেঁচে থাক ব্রেস্ট ক্যান্সার আক্রান্ত নারীরা। কারণ ব্রেস্ট ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য এবং সঠিক চিকিৎসা হলে সুস্থভাবে সমাজ, পরিবার এবং কর্মক্ষেত্রে তারা সমানভাবে অবদান রাখতে পারে। সকলে সহমর্মী হোন। নারীরা ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে মুক্ত হোক।

লেখক: অতিরিক্ত কর কমিশনার

আরও