এআই বিনিয়োগের উন্মাদনা ও আর্থিক বাজারের ঝুঁকি

চ্যাটজিপিটি চালুর পর এআই শুধু জনপ্রিয় বিনিয়োগের ক্ষেত্র নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারের বড় ভরসায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু এখানেই ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এআই খাতে বিপুল ব্যয় যথেষ্ট আয় সৃষ্টি করতে পারবে কিনা, সেটিই প্রধান অনিশ্চয়তা।

এআই ঘিরে বৈশ্বিক বিনিয়োগ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা অতীতের বড় অবকাঠামো বিনিয়োগের ঢেউগুলোকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক স্টেইন ভ্যান নিউয়ারবার্গের হিসাবে, ২০৩২ সাল পর্যন্ত এআই-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোয় মোট বিনিয়োগ ১০ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। শুধু চলতি বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি ও ক্লাউড সেবা কোম্পানিগুলো ৭৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধনি বিনিয়োগ করবে।

চ্যাটজিপিটি চালুর পর এআই শুধু জনপ্রিয় বিনিয়োগের ক্ষেত্র নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারের বড় ভরসায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু এখানেই ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এআই খাতে বিপুল ব্যয় যথেষ্ট আয় সৃষ্টি করতে পারবে কিনা, সেটিই প্রধান অনিশ্চয়তা।

আরো উদ্বেগের বিষয়, এআই বিনিয়োগ শেয়ারবাজার ছাড়িয়ে বন্ড ও ঋণবাজারেও ছড়িয়ে পড়ছে। হাইপারস্কেলারদের বিনিয়োগে ঋণের ভূমিকা দ্রুত বাড়ছে। ফলে বিভিন্ন সম্পদশ্রেণীর মধ্যে যোগসূত্রও গভীর হচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিও ক্রমে এআই-নির্ভর হয়ে পড়ছে।

এআই কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি শক্ত হলেও প্রযুক্তিটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার, আয় ও সম্পদের অবশিষ্ট মূল্য এখনো অনিশ্চিত। দক্ষিণ কোরিয়ার সাম্প্রতিক শেয়ারবাজার পতন দেখিয়েছে, অতিরিক্ত লিভারেজ কত দ্রুত পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে। সংকট আসন্ন—এমন নয়। তবে অনিশ্চিত ভিত্তির ওপর এত বড় আর্থিক বাজি বৈশ্বিক বাজারের জন্য নিঃসন্দেহে বড় সতর্কসংকেত।

[সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের নিবন্ধ থেকে অনূদিত]

নিকোলাস স্পাইরো: পার্টনার, লরেসা অ্যাডভাইজরি

আরও