অর্থনীতি

বাংলাদেশে আর্থিক খাত সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই

আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডারের কর্মদলটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই অবশেষে ঢাকা ছাড়লেন। না, বাংলাদেশকে দেয়া তাদের ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির টাকা অবমুক্তি বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডারের কর্মদলটি কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই অবশেষে ঢাকা ছাড়লেন। না, বাংলাদেশকে দেয়া তাদের ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির টাকা অবমুক্তি বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এ দুই কিস্তির মোট অর্থের পরিমাণ ছিল ১৩০ কোটি ডলার। দুই বছর আগে বাংলাদেশকে দেয় মোট ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের অংশ কিস্তি দুটি। মুদ্রাভাণ্ডারের সঙ্গে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পর ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম কিস্তিতে পাওয়া গিয়েছিল ৪৮ কোটি ডলারের মতো, সে বছরেরই ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তিতে এসেছিল ৬৮ কোটি ডলার এবং ২০২৪ সালের জুনের তৃতীয় কিস্তিতে ১০১ কোটি ডলার। কিন্তু চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির টাকা অবমুক্তির ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডার। আসলে এ অবমুক্তি অনুমোদিতও হয়নি, আবার এটাকে আটকেও দেয়া হয়নি। সত্যিকার অর্থে, পুরো ব্যাপারটি একটি অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।

এ পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকটি পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। প্রথমত, আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডারের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ অবমুক্তি মুদ্রাভাণ্ডারের সম্প্রসারিত ঋণ সুবিধা এবং সংনম্যতা ও বজায় ক্ষমতা সুবিধার অধীনে কতগুলো প্রত্যাশিত সংস্কারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। মুদ্রাভাণ্ডারের কর্মদল বলেছেন, যেহেতু আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডারের শর্তগুলো মেটানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে আছে, তাই চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ অবমুক্তি বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। আর্থিক খাতে যেসব অগ্রগতি হয়েছে তা স্বীকৃত হয়েছে, কিন্তু সেই সঙ্গে আরো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়া হয়েছে এবং সেই সঙ্গে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে যে সময় বয়ে যাচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডারের ঋণ কিস্তি অবমুক্তি তখনই অনুমোদিত হয়, যখন প্রতিষ্ঠানটির কর্মী-সদস্য পর্যায়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়। ঋণ কিস্তি অবমুক্তিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডার পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের জন্য এ জাতীয় ঐকমত্য অপরিহার্য। এর অনুপস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়াটিই আটকে যায়। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে যাতে অল্প সময়ের মধ্যেই কর্মী-সদস্যের মধ্যে সমঝোতা অর্জিত হয়। আশা করা হচ্ছে যে এপ্রিলে বিশ্বব্যাংক—আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডারের বসন্তকালীন সভার সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানো যাবে। তৃতীয়ত, যেসব সংস্কার-সম্পৃক্ত বিষয় আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডার ও বাংলাদেশ সরকারের আলোচনার বিষয়বস্তু, চতুর্থত, বৈদেশিক মুদ্রাহার ব্যবস্থাপনা, কর কাঠামোর সংস্কার, ভর্তুকির যৌক্তিকতা এবং ব্যাংক খাতের সংস্কার। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে নিঃসন্দেহে, কিন্তু তা এখনো আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডারের শর্ত পূরণ করতে পারেনি।

বৈদেশিক মু্দ্রাহার নীতির ক্ষেত্রে বিষয়টি হচ্ছে, কী জাতীয় মুদ্রাহার কাঠামো বেছে নেয়া হবে—সম্পূর্ণ নমনীয় একটি হার নাকি উরোগামীবদ্ধ একটি হার। বাংলাদেশ উরোগামীবদ্ধ একটি হার অনুসরণ করছে এবং দুই-তিন বছর ধরেই বিষয়টি আলোচনায় আসছে বারবার। বাংলাদেশে পরিপূর্ণ নমনীয় বৈদেশিক মুদ্রাহারের সপক্ষে তিনটি যুক্তি দেখানো হয়—রফতানি বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সুবিধা, বৈদেশিক মুদ্রা মজুদ পুনঃপূরণ করা এবং বৈশ্বিক ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ অর্থনীতির সংনম্যতা বাড়ানো। গত দুই বছরের ক্রমাগত হ্রাসের পর সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ স্থিতিশীল হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে সরকারি ও বেসরকারি হারের মধ্যের পার্থক্য ন্যূনতম। সুতরাং সম্পূর্ণ নমনীয় বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের পক্ষে দাবি জোরদার হবে।

নমনীয় বৈদেশিক মুদ্রাহারের সপক্ষে একটা জোরালো যুক্তি হচ্ছে যে এমন হার নিকটবর্তী সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু অন্যপক্ষে যুক্তি দেখানো হয় যে নমনীয় বৈদেশিক মুদ্রাহার বাংলাদেশের বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। বিগত দুই-তিন মাসে বাজারে শীতকালীন শাকসবজি ওঠায় খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি বেশকিছুটা কমে এসেছিল। কিন্তু খাদ্যদ্রব্য-বহির্ভূত জিনিসপত্রের দাম ছিল ক্রমাগতভাবে বাড়তির দিকে। অতিসম্প্রতি খাদ্যসামগ্রীর মূল্য আবারো বেড়ে যাচ্ছে বলে বাজারে এক ধরনের অস্বস্তি বিরাজমান। নিশ্চিতভাবে মূল্যস্ফীতি হ্রাস করার ব্যাপারে মুদ্রানীতির একটা ভূমিকা আছে এবং কিছুদিন ধরে বাংলাদেশ বেশ রক্ষণশীল মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। কিন্তু সেটাই পর্যাপ্ত নয়। মূল্যস্ফীতি কমানোর জন্য কাঠামোগত ও প্রতিষ্ঠানগত ব্যবস্থা গ্রহণও প্রয়োজন।

কর কাঠামোর সংস্কার বিষয়টি বেশ দীর্ঘদিন ধরেই সামষ্টিক অর্থনীতির আলোচনার বলয়ে আছে। ১০ বছর ধরে উন্নয়নশীল বিশ্বে কর-জাতীয় আয়ের অনুপাত ১৫ শতাংশে স্থিত আছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট অনুপাতটি হচ্ছে ৭-৮ শতাংশের মধ্যে। এ জাতীয় অনুপাত উন্নয়ন ব্যয়সহ সামগ্রিক সরকারি ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের পরিমাণকে সীমিত করে দেয়। বলা প্রয়োজন যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পরামর্শ নির্বিশেষে বাংলাদেশকে তার কর-জাতীয় আয়ের অনুপাত বাড়াতে হবে। এমনকি ভারত বা নেপালের মতো বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ দুটিতেও কর-জাতীয় আয়ের অনুপাত যথাক্রমে ১২ শতাংশ ও ১৮ শতাংশ। বাংলাদেশে করারোপযোগ্য মানুষের মধ্যে ৬৮ শতাংশই কোনো আয়কর দেন না। মূল্য সংযোজন কর এবং আবগারি শুল্কের মতো নানা অপ্রত্যক্ষ করের ওপরই বাংলাদেশের সম্পদ আহরণ প্রক্রিয়া বেশি নির্ভরশীল।

এসব কিছুর তিনটি মাত্রিকতা আছে। এক. বাংলাদেশ অর্থনীতিতে অসমতা কমিয়ে আনার জন্য প্রত্যক্ষ কর একটি সহায়ক উপকরণ হতে পারে। অপ্রত্যক্ষ কর দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর করচাপ বাড়িয়ে দিয়ে অসমতা বর্ধনে সাহায্য করে। সুতরাং প্রত্যক্ষ করারোপ না করার মানে হচ্ছে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য হ্রাস করার লক্ষ্যে একটি কার্যকর উপকরণ ব্যবহার না করা। দুই. অপ্রত্যক্ষ করের মাধ্যমে দেশজ সম্পদ আহরণের চেষ্টা বহির্বিশ্বের নাজুকতা ও ভঙ্গুরতার কারণে বিঘ্নিত হতে পারে। তিন. আয়কর বৃদ্ধির একটি রাজনৈতিক অর্থনীতির মাত্রিকতা আছে। দেশের ধনিক শ্রেণী এবং বিশেষ স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাদের ওপর আয়কর বাড়ানোর যেকোনো প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করার চেষ্টা করবে। যেহেতু অন্তর্বর্তী সরকার কোনো রাজনৈতিক সরকার নন। সুতরাং করবৃদ্ধির রাজনৈতিক অর্থনীতিকে সামাল দিয়ে কর কাঠামোর সংস্কার তারা করতে পারে। বাংলাদেশে কর কাঠামোর সংস্কার একটি প্রধান অগ্রাধিকার। একটি সমতাভত্তিক, দৃশ্যমান ও কার্যকর কর কাঠামো গড়ে তুললে তা বজায়ক্ষম সম্পদ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে, ব্যাপক করফাঁকি রোধ করবে, বিধিবদ্ধ নিয়ম-শৃঙ্খলা মান্য করাকে উৎসাহিত করবে এবং করনীতি ও কর প্রশাসনকে পৃথক করবে।

যদিও ভর্তুকি সহায়তা দরিদ্র এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তবু বিগত দিনগুলোয় বিদ্যমান নানা ভর্তুকি এসব জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ব্যয়িত হয়নি। বরং তা নানা সামাজিক গোষ্ঠী, স্বার্থান্বেষী মহলকে অন্যায্যভাবে সুবিধাদানের ব্যাপারে ব্যবহৃত হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে কোনো অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা ভিন্নই বিভিন্ন সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান নানা ধরনের ভর্তুকি ভোগ করেছে। অতীতে রাজনৈতিক কারণেও ভর্তুকি ব্যবহার করা হয়েছে, বহু গোষ্ঠীকে তুষ্ট রাখার জন্য ভর্তুকি সুবিধা দেয়া হয়েছে যাতে এসব গোষ্ঠী সরকারের অনুগত থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসন জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ভর্তুকিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।

আর্থিক খাতে, বিশেষত ব্যাংকিং উপখাতে, আইনগত এবং নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর সংস্কার অতীব জরুরি। এটা ঠিক যে এ খাতের কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছু কিছু সংস্কার হয়েছে। যেমন নতুন একটি ঋণ পুনর্বিন্যাস নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু সেক্ষেত্রেও মনে রাখা দরকার যে কুঋণের সমস্যাটি পুনর্বিন্যাসের সমস্যা নয়, এটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া দ্বারা সৃষ্ট। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য ক্রম-ধারাবাহিক সংস্কার বড় প্রয়োজন। ব্যাংক খাতে নেয়া সংস্কারগুলো বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া দরকার। নতুন কাঠামোকে এমনভাবে কার্যকর করতে হবে, যাতে ব্যাংক খাত ক্ষুদ্র সঞ্চয়ীর স্বার্থের নিরাপত্তা বিধান করে অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পুনর্গঠিত হয়। ব্যাংক খাতের সম্পদের গুণগত মানের কার্যকর মূল্যায়ন, উন্নত সুশাসন, দৃশ্যমানতা ও জবাবদিহিতা ব্যাংক খাতের কর্মকুশলতাকে যেমন বৃদ্ধি করবে, তেমনি ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থাও বাড়াবে। দেশের অভ্যন্তরের বেশকিছু খেলাপি ঋণ উদ্ধারে সরকার সফল হয়েছে। এখন লক্ষ্য হচ্ছে, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ ফিরিয়ে আনা। দেশজ ও আন্তর্জাতিক নানা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সমন্বয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এসব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা, উদ্ধার করা এবং ফিরিয়ে আনার প্রয়াসে কাজ করে যাচ্ছে। এসব প্রয়াসকে আরো জোরদার করতে হবে এবং সেই সঙ্গে পাচারকৃত সম্পদ উদ্ধার করার জন্য অন্য যেসব আইনগত এবং আর্থিক পন্থা রয়েছে, সেগুলোও পরীক্ষা করে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন এবং তার প্রশাসন কাঠামোর উন্নতিকল্পে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ভিন্ন বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সংস্কার পূর্ণ হবে না। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংস্কার যে শুধু বাংলাদেশ অর্থনীতির সামষ্টিক এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজন তা-ই নয়, বরং তা দেশের আর্থিক খাতের সামগ্রিক সংস্কারের জন্যও অপরিহার্য। বাংলাদেশ অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সমস্যাগুলোর সমাধানে এ জাতীয় সংস্কার একটি আবশ্যিক শর্ত। আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডারের ঋণ বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ ঋণের ভবিষ্যৎ কিস্তির অবমুক্তি যে শুধু বাংলাদেশের সম্পদভিত্তিকে জোরদার করবে তা-ই নয়, এটা বাংলাদেশের আর্থিক বিশ্বাসযোগ্যতাকেও একটি শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করবে। আন্তর্জাতিক মুদ্রাভাণ্ডারের ঋণের ভবিষ্যৎ কিস্তির প্রাপ্তি অন্যান্য বৈশ্বিক আর্থিক সংস্থাকে বাংলাদেশকে ঋণ প্রদানে উৎসাহিত করবে। সেই সঙ্গে প্রণোদিত হবে বিদেশীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে। এর ফলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধান সহজতর হবে।

সেলিম জাহান: ভূতপূর্ব পরিচালক, মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং দারিদ্র্য বিমোচন বিভাগ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

আরও