স্ত্রীর ‘সম্মতি’ নাকি সালিশি পরিষদের ‘অনুমতি’

বহুবিবাহ নিয়ে প্রচলিত আইনি ভুল ধারণার অবসান

সম্প্রতি মুসলিম পুরুষের বহুবিবাহ সম্পর্কিত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি মুসলিম পুরুষের বহুবিবাহ সম্পর্কিত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি রায় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা তৈরি হয়েছে। মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্বিতীয় বিয়ে করতে আর প্রথম স্ত্রীর অনুমতির প্রয়োজন পড়বে না: হাইকোর্টের রায় মর্মে ফটোকার্ড বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ফেসবুক পেজ থেকে শেয়ার করা হয়েছে এবং সেটি পরবর্তী সময়ে বিভিন্নজন দেদার শেয়ার করছে। ২০২১ সালে দায়েরকৃত একটি রিট পিটিশনের রায়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি প্রকাশিত রায়ে এটি উল্লেখ করেছেন বলে সংবাদে বলা হয়েছে, যদিও সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়ের কপি এখনো পাওয়া যায়নি।

আইন-আদালত নিয়ে আমাদের দেশের এমনকি অনেক উচ্চশিক্ষিত ও সচেতন মানুষের মধ্যেও বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। এর একটি কারণ হয়তো আইনে ব্যবহৃত শব্দ ও ভাষা এবং এর ব্যাখ্যা। আইনের ভাষা সবসময় প্রাঞ্জল হয় না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই খটমটে ও দ্ব্যর্থবোধক শব্দের অহরহ ব্যবহার আইনে হরহামেশা দেখা যায়। তাছাড়া উচ্চ আদালত আইনে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দের ব্যাখ্যা দিয়ে থাকেন। বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি আইনের ব্যাখ্যা দেয়াও আদালতের অন্যতম কাজের পরিধির মধ্যে পড়ে। তাই সমাজে আমরা সচরাচর কোনো শব্দের যে অর্থ জানি, আইনে ব্যাখ্যার মাধ্যমে সে শব্দের ভিন্ন অর্থ দেয়া যেতে পারে।

তবে দ্বিতীয় বিয়ে করতে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি লাগবে এমন বিধান আইনে কোনো কালেই ছিল না; ফলে হাইকোর্ট এক্ষেত্রে নতুন কিছু বলেনি। তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এ ভুলটি কীভাবে জেনে এল। সেটি হতে পারে অজ্ঞতা থেকে, আইন ঠিকমতো পড়তে না পারার কারণে বা আইন না জানার কারণে অথবা মুখে মুখে প্রচলিত একটি ভুল যাচাই না করে দীর্ঘদিন সমাজে চর্চা করার কারণে।

আমাদের দেশের পারিবারিক বিষয়াদি (যেমন বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ/তালাক, উত্তরাধিকার হিসেবে সম্পত্তি বণ্টন, ভরণপোষণ, দেনমোহর, দান/হেবা, অভিভাবকত্ব, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে সম্পত্তি দান প্রভৃতি) সাধারণত পরিচালিত হয় স্ব-স্ব ধর্মের বিধানানুসারে। যদিও এক্ষেত্রে দেশীয় আইনও রয়েছে (যেমন মুসলিম বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন আইন, ১৯৭৪) আবার কিছু ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিধানে সংস্কার বা পরিবর্তন করে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। ১৯৩৭ সালের তৎকালীন ব্রিটিশ শাসক কর্তৃক প্রণীত মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইনে বলা হয়েছে উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলো পক্ষদ্বয় মুসলিম হলে তাদের ক্ষেত্রে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ হবে।

১৯৬১ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সময়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে উল্লেখযোগ্য সংস্কার করে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ জারি করা হয়; যা এখনো এ ভূখণ্ডে কার্যকর। মূলত এ মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর ৬ ধারায় মুসলিম পুরুষের বহু বিবাহের বিধান সম্পর্কে বলা হয়েছে। তবে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধিতে কারো স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকতে কেউ পুনরায় বিয়ে করলে পরবর্তী বিয়েকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার জন্য সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। দণ্ডবিধির এ বিধান কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের অনুসারী নয়, বরং নারী-পুরুষ সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। তবে মুসলিম আইনানুসারে নারীদের বহুবিবাহের বিধান নেই।

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ একটি বিশেষ আইন এবং দণ্ডবিধি একটি সাধারণ আইন। ফলে আইনের সাধারণ নীতি ও মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৩ ধারানুসারে ১৯৬১ সালের এ আইনটি দেশে প্রচলিত অন্যান্য আইন ও রীতিনীতির ওপর প্রাধান্য পাবে। সুতরাং কোনো মুসলিম পুরুষ বহুবিবাহ করতে চাইলে তাকে ১৯৬১ সালের আইনের ৬ ধারার বিধান মানতে হবে; নতুবা শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

হাইকোর্টে রিটটি মূলত দায়ের করা হয়েছিল এ ৬ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে। ইসলামে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ত্রীদের সঙ্গে যোগ্যতা ও জীবনাচরণানুসারে ন্যায়পরায়ণ আচরণ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে। কিন্তু মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে বহুবিবাহের ক্ষেত্রে স্ত্রীদের প্রতি স্বামী কর্তৃক ন্যায়পরায়ণ আচরণ সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। ফলে পিটিশনকারী এটিকে ধর্মীয় বিধান ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক মনে করে ৬ ধারার বিধান বাতিল চেয়েছিলেন ও বহুবিবাহ করতে একটি আইনি গাইডলাইন চেয়ে রিট পিটিশনটি দায়ের করেছিলেন। আবেদনকারীর যুক্তি ছিল বহুবিবাহের মাধ্যমে বিদ্যমান স্ত্রীর অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পারিবারিক অন্যান্য বিষয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য আইনে পারিবারিক আদালতে যাওয়ার বিধান থাকলেও বহুবিবাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিতে আদালতের পরিবর্তে সালিশি পরিষদকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে; যা বিদ্যমান স্ত্রীর সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন পৃথিবীর অন্যান্য দেশে যেখানে বহুবিবাহের বিধান রয়েছে, সেখানে আদালতে বিদ্যমান স্ত্রী/স্ত্রীদের শুনানির সুযোগ দিয়ে এবং বহুবিবাহের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও অর্থ সম্পর্কিত সনদ যাচাই করে এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আদালত থেকে দেয়া হয়। অন্যদিকে আমাদের দেশে আইনে সালিশি পরিষদের সাক্ষী নেয়ার কোনো ক্ষমতা নেই, তাই তিনি ৬ ধারার পরিবর্তন প্রার্থনা করেছিলেন।

এখন দেখা যাক আলোচিত এ ৬ ধারায় আসলে কী বলা আছে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ৬ ধারায় পাঁচটি উপধারা রয়েছে। প্রথম উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো পুরুষ একটি বিবাহ বিদ্যমান থাকতে পুনরায় বিয়ে করতে পারবে না; যদি না তিনি এ-সংক্রান্ত ‘লিখিত অনুমতি’ আগেই সালিশি পরিষদের কাছ থেকে নিয়ে থাকেন। এবং কোনো পুরুষ সালিশি পরিষদের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত পুনরায় বিয়ে করে থাকলে সেই পরবর্তী বিয়ে ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইনানুযায়ী নিবন্ধন করা যাবে না।

অর্থাৎ কোনো পুরুষ একবার বিয়ে করে থাকলে এবং সে বিয়ে বিদ্যমান থাকাবস্থায় সালিশি পরিষদের কাছ থেকে লিখিতভাবে আগেই অনুমতি না নিয়ে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে না। বিয়ে বিদ্যমান থাকে বিবাহবিচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত অথবা স্বামী/স্ত্রী মারা না যাওয়া পর্যন্ত। সালিশি পরিষদ বলতে আইনের ২(এ) ধারায় বলা হয়েছে চেয়ারম্যান এবং স্বামী ও স্ত্রী উভয় কর্তৃক মনোনীত তাদের একজন করে প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত পরিষদ। এক্ষেত্রে কেউ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তার প্রতিনিধি মনোনয়ন দিতে ব্যর্থ হলে তার প্রতিনিধি ছাড়াই সালিশি পরিষদ গঠিত হবে।

এখানে চেয়ারম্যান অর্থ-সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন মেয়র অথবা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সরকার কর্তৃক এ দায়িত্ব পালনে নির্ধারিত ব্যক্তি অথবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকলে এ দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত সরকার কর্তৃক নিয়োগকৃত ব্যক্তি/প্রশাসক (যেমন এখন নির্বাচিত কোনো জনপ্রতিনিধি নেই)। তবে কোনো ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনে অমুসলিম ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা মেয়র থাকলে বা মুসলিম চেয়ারম্যান বা মেয়র কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে অথবা তিনি নিজে বহুবিবাহের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন সদস্য অথবা কমিশনারদের মধ্য থেকে মুসলিম একজনকে এ দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচন করবে।

এখন প্রশ্ন হলো সালিশি পরিষদের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া পুনরায় বিয়ে করলে সে বিয়ের আইনি পরিণতি কী হবে? আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট করা নেই। তাই বলা যায়, এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হলেও পরবর্তী বিয়ে শুধু এ কারণে অবৈধ হয়ে যাবে না। এক্ষেত্রে শাস্তি এক বছর পর্যন্ত (এক বছর নয়, সর্বোচ্চ এক বছর বা তার কম যেকোনো মেয়াদ) বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত (অর্থাৎ ১ টাকা থেকে ১০ হাজারের মধ্যে যেকোনো পরিমাণ) অথবা উভয় দণ্ড। সেই সঙ্গে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন ১৯৭৪-এর ৫(৪) ধারানুসারে বিবাহ নিবন্ধন না করার শাস্তি সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড।

৬(২) ধারায় চেয়ারম্যানের কাছে আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলা হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায়, নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে এবং কী কারণে পুনরায় বিয়ে করার প্রয়োজন (যেমন বিদ্যমান স্ত্রীর বন্ধ্যত্ব বা বৈবাহিক দায়িত্ব পালনে অক্ষম) সেটি উল্লেখ করে এবং পুনরায় বিয়ে করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ত্রী/স্ত্রীদের (আইনে প্রথম স্ত্রীর অনুমতির কথা বলেনি, বলেছে বিদ্যমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের) ‘সম্মতি’ (অনুমতি নয়) আছে কিনা (একাধিক স্ত্রী বিদ্যমান থাকলে সবার) সেটি উল্লেখ করে চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে হবে।

অর্থাৎ আইনানুসারে বিদ্যমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি নেয়া হয়েছে কিনা সেটি আবেদনে উল্লেখ করতে হবে এবং আবেদন যাচাই করে সন্তুষ্ট হলে সালিশি পরিষদ পুনরায় বিয়ের অনুমতি দিতে পারে। তবে আইনে এক্ষেত্রে আবেদনের সপক্ষে চিকিৎসা বা অন্য কোনো সনদ জমা দেয়ার বাধ্যবাধকতার উল্লেখ নেই।

কাজেই বলা যায়, আইনানুসারে ১৯৬১ সালের পর থেকে বহুবিবাহের জন্য কখনই স্ত্রীর অনুমতির কথা বলা ছিল না। মজার ব্যাপার হলো সম্মতির বিষয় আবেদনে উল্লেখ না থাকলে আবেদন বাতিল হবে কিনা বা অন্য কোনো পরিণতি হবে কিনা সে বিষয়ে আইনে কিছুই বলা নেই বা কোনো শাস্তির বিধান নেই। শাস্তি হবে কেবল সালিশি পরিষদের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত পুনরায় বিয়ে করে ফেললে।

৬(৩) উপধারায় বলা হয়েছে আবেদন পাওয়ার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারীর (এক্ষেত্রে স্বামীর একজন) প্রতিনিধি ও বিদ্যমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের প্রত্যেকে কর্তৃক মনোনীত একজন করে প্রতিনিধি নিয়ে সালিশি পরিষদ গঠন করবেন এবং পরিষদ ন্যায়ানুগ মনে করলে প্রয়োজনে শর্তসাপেক্ষে এবং কেন অনুমতি দেয়া হলো বা হলো না সে কারণ লিখিতভাবে রেকর্ড করে বহুবিবাহের অনুমতি দিতে বা প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

সালিশি পরিষদের সিদ্ধান্তে স্বামী বা স্ত্রী/স্ত্রীগণ সংক্ষুব্ধ হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং নির্ধারিত ফিস জমা দিয়ে সংশ্লিষ্ট সিভিল জজের কাছে রিভিশনের জন্য আবেদন দায়ের করতে পারবেন এবং এক্ষেত্রে সিভিল জজের রায় চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

এখন প্রশ্ন হলো সালিশি পরিষদের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত কোনো পুরুষ বহুবিবাহ করে ফেললে বিদ্যমান স্ত্রী/স্ত্রীদের প্রতিকার কী? সেক্ষেত্রে বিদ্যমান স্ত্রী/স্ত্রীরা তাদের বকেয়া দেনমোহর তাৎক্ষণিকভাবে পুরোটা (কাবিননামায় দেনমোহর পরিশোধের ধরন যা-ই উল্লেখ থাকুক না কেন) আদায় করার অধিকার পাবেন এবং স্বামী তা পরিশোধ না করলে তার কাছ থেকে ভূমির বকেয়া রাজস্ব যেভাবে আদায় করা যায়, সেভাবে আদায় করা যাবে।

তাছাড়া কাবিননামায় স্ত্রীকে বিবাহবিচ্ছেদের অনুমতি দেয়া না থাকলে স্ত্রী ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইনের ২(iiএ) ধারানুসারে শুধু সালিশি পরিষদের অনুমতি না নিয়ে পুনরায় বিয়ে করার কারণ দেখিয়ে ওই স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারবেন।

অতএব দেখা যাচ্ছে আইন ভালোভাবে না জানার কারণে অজ্ঞতাবশত আমরা অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের আইনি অধিকারবঞ্চিত থাকি। এজন্য প্রয়োজন তাই আইনি সচেতনতা ও সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং আইন শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে গণসচেতনতা তৈরি।

রাইসুল সৌরভ: আয়ারল্যান্ডের গলওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ক ডক্টরাল গবেষক, সমতা ও অধিকারকর্মী এবং আইন ও বিচার বিশ্লেষক

আরও