বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের রিপাবলিক হয়ে ওঠার স্বপ্ন এবং একজন অধ্যাপক ইউনূস

ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ তার আগের ঔপনিবেশিক এবং রাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় উন্নীত হলেও প্রজাতন্ত্র হিসেবে বিকশিত হয়ে উঠতে পারেনি। স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৩ বছরের রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা আবর্তিত হয়েছে তিনটি পরিবারের মধ্যে। মুজিব, জিয়া, এরশাদ পরিবারের শাসনামলে এ দেশে কোনো

ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান এবং ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয়া গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ তার আগের ঔপনিবেশিক এবং রাজতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় উন্নীত হলেও প্রজাতন্ত্র হিসেবে বিকশিত হয়ে উঠতে পারেনি। স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৩ বছরের রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা আবর্তিত হয়েছে তিনটি পরিবারের মধ্যে। মুজিব, জিয়া, এরশাদ পরিবারের শাসনামলে এ দেশে কোনো প্রজাতন্ত্র দিবস বা রিপাবলিক ডে ঘোষণা হয়নি, যদিও সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশকে গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত পাঁচ দশকে আমরা স্বাধীনতা দিবস এবং বিজয় দিবস উদযাপন করলেও প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। জনগণকে ক্ষমতাহীন করার নিরন্তর প্রচেষ্টায় সংবিধানের সপ্তম অনুচ্ছেদ থেকে গণভোটের বিধানটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণকে ক্ষমতাহীন করার এ ঘৃণ্য কাজটি করা হয়। শুরু থেকেই আমাদের সংবিধানে একটি অগণতান্ত্রিক, সংবিধানের মূলনীতি বিরোধী এবং মৌলিক অধিকারের বিরোধী একটি ধারা সংযোজিত ছিল, যা হলো ৭০ অনুচ্ছেদ। 

সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নির্বাচিত স্থানীয় সরকার দেশের সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক অঙ্গ তথা বিভাগীয় পর্যায়ে এবং অন্যান্য পর্যায়ে আজও প্রতিষ্ঠিত হয়নি, এটা স্পষ্টত দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর বাংলাদেশের জনগণকে বঞ্চিত করার একটি কৌশল মাত্র। আর এভাবেই বাংলাদেশের জনগণের রাষ্ট্রের মালিক হয়ে ওঠা এবং এ রাষ্ট্রের একটি গণপ্রজাতন্ত্রী রাষ্ট্র হয়ে ওঠা অধরাই থেকে গেল। 

অধ্যাপক ইউনূসকে এ-যাবৎ পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত বাংলাদেশী বলা যায়। দরিদ্রতার বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম শুরু ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে সংঘটিত দুর্ভিক্ষের সময়। যার ফলে ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশের মাটিতে জন্ম নিল এক অনন্য স্বপ্নের নাম গ্রামীণ ব্যাংক। ড. ইউনূসের হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা, সবটুকু আশা যেন ঢেলে দিয়েছিলেন এ ব্যাংকের ভিত গড়তে। আর্থিক নিরাপত্তা ছাড়াই দরিদ্র মানুষকে ঋণ দেয়ার অসম্ভব ধারণা মনে হয়েছিল। তিন দশক আগের বিনয়ী সূচনা থেকে অধ্যাপক ইউনূস প্রধানত গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণকে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে একটি ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ারে পরিণত করেছেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার কাজের মাধ্যমে সারা পৃথিবীতে নারীর ক্ষমতায়নে সাহায্য করেছেন। নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে প্রমাণ করেছেন যিনি লাখ লাখ মানুষের কল্যাণের জন্য দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবিক পদক্ষেপে রূপান্তর করতে সক্ষম হয়েছেন, শুধু বাংলাদেশেই নয় বরং অন্যান্য অনেক দেশেও। ঐতিহ্যগতভাবে ব্যবসায়িক অর্থায়ন থেকে বাদ দেয়া গোষ্ঠীগুলোকে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের মাধ্যমে ড. ইউনূস উদ্যোক্তা হওয়াকে সমর্থন করেছেন, বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের দারিদ্র্য দূর করেছেন এবং উন্নয়ন অর্থনীতি সম্পর্কে বিশ্বের চিন্তাভাবনার পরিবর্তন করেছেন। তিনিই প্রথম নন যিনি দরিদ্রদের ছোট ঋণের ধারণা নিয়ে এসেছিলেন, তবে তিনিই বিশ্বকে দেখিয়েছিলেন যে তারা বড় পরিসরে কাজ করতে পারে। তিনিই দেখিয়েছিলেন যে অর্থনৈতিক পিরামিডের নিচের মানুষকে আর্থিক পরিষেবার মূল স্রোতে নিয়ে আসা যেতে পারে। তিনি বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে কীভাবে একটি “থ্রি-জিরোস”কর্মপরিকল্পনা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বিশ্বকে বাঁচাবে। তার চিন্তা বরাবরের মতোই খুব সহজ; তিনি বলেছিলেন, বিশ্বকে অবশ্যই একটি নীতি গ্রহণ করতে হবে: ক) শূন্য দারিদ্র্য; খ) শূন্য বেকারত্ব; এবং, গ) শূন্য কার্বন নির্গমন। তবেই বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন হবে। 

ড. ইউনূসের সামাজিক ব্যবসা, তিন শূন্যসহ বিভিন্ন দার্শনিক ধারণা নিয়ে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন শহরে সেমিনার ও কনফারেন্সের আয়োজন হয়ে থাকে। তেমনি একটি সেমিনারের আয়োজন হয়েছিল গত বছর মালয়েশিয়ার লাংকাওয়ি দ্বীপে। সেখানে একান্ত আলাপচারিতায় জেনেছিলাম, ‘তিন শূন্য’ নিয়ে বিশ্বের প্রায় সব দেশের তরুণরা থ্রি-জিরো ক্লাব বানিয়ে শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব ও শূন্য কার্বন নিঃসরণ নিয়ে কাজ করছে, যা বিশ্বময় একটি নতুন অর্থনীতির গোড়াপত্তনে ভূমিকা রাখছে। এখন শূন্য বৈষম্য এবং শূন্য ভয় যোগ করে অলিম্পিক লোগোর পাচ শূন্যের মতো একটি নতুন ধারণা তৈরি হতে পারে, যা হবে নতুন সভ্যতার ধারণার ভিত্তি। যেখানে তরুণদের পাশাপাশি সব বয়সী মানুষ, পেশাজীবী, পৌঢ়, সমাজের সব স্তরের জনগণ মিলে বৃহত্তর সমাজ ও রাষ্ট্রে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। আমার প্রিয় অধ্যাপক ইউনূস পাঁচ শূন্যের মাধ্যমে নতুন সভ্যতার সম্ভাবনা নিয়ে পরবর্তী গবেষণাকর্মের জন্য উৎসাহিত করেন। প্রসঙ্গক্রমে বাংলাদেশের এবারের গণ-আন্দোলন এবং অভ্যুত্থানের বাইনারি বা দুই সূত্র হলো শূন্য বৈষম্য (জিরো ডিসক্রিমিনেশন), শূন্য ভয় (জিরো ফিয়ার), প্রথমটি আন্দোলনের সূচনাকারী পলিসি বা নীতি, দ্বিতীয়টি বিজয়ের কৌশল যা আবু সাঈদ দৃশ্যমান করেছে এবং অন্যরা তা অনুসরণ করে ভয়কে জয় করেছে। 

যে দেশের সংবিধান থেকে গণভোটের বিধান বিলুপ্ত করা হয়েছে, গণভোটের মাধ্যমে জনমত না নিয়েই স্বৈরশাসকের এমন ঘৃণ্যভাবে জনগণকে ক্ষমতাহীন করার চেষ্টাকে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দিতে ব্যর্থ হয়েছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা। কয়েকটি পরিবারকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল এভাবেই বাংলাদেশের রিপাবলিক হয়ে ওঠার জনগণের এ স্বপ্নকে শেষ করে দিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো জেগে উঠল বাংলাদেশের তরুণ সমাজ, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া যারা জেনারেশন-জি বা জেন-জি নামে পরিচিত। কোটা সংস্কার বা সমান অধিকারের জন্য বেশ কয়েক বছর আগে তারা মেধার মূল্যায়ন দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারপ্রধান তাদের বোকা বানানোর চেষ্টা করেন, কোটা বাতিল বা পুনর্বহালের নাটকে উচ্চ আদালতকে ব্যবহার করেন। ২০১৮-এর পর ২০২৪-এর বৈষম্যবিরোধী এবং অধিকার আদায়ের নয়-দফা আন্দোলন সারা দেশের সব উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদের ব্যাপক সমর্থন লাভ করে। গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের মতো এবারো ছাত্রদের গণতান্ত্রিক দাবিতে কর্ণপাত না করে লেলিয়ে দেয় একাধিক আইন-শৃঙ্খলা-নিরাপত্তা বাহিনী এবং ছাত্রলীগ। মহাকাব্যের মহানায়কদের মতো আবু সাঈদসহ অসংখ্য ছাত্র অকাতরে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে লাল কার্ড দেখিয়ে দিল নিপীড়ক সরকারকে। ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধ করেও শাসকগোষ্ঠী দমাতে পারেনি ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলন। অবশেষে সামরিক বাহিনী জানিয়ে দেয় আন্দোলনরত নিরস্ত্র ছাত্রদের গুলি করবে না, অবশেষে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যায় সরকারের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। অগণিত তরুণ-তরুণীর রক্তভেজা এ লাল বিপ্লবের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হলো আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ। তিন হাজার বছরের এ অঞ্চলের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দেশে তিনবার শাসক শূন্য অরাজক পরিস্থিতিতে নেতা নির্বাচনের প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে জনগণ প্রত্যক্ষভাবে অপ্রত্যাশিত কাউকে নেতা হিসেবে বেছে নিয়েছে। প্রথমত, মাৎস্যন্যায় কালের পর তৎকালীন কৃষক-জনতা গোপালকে রাজা বানায় যার মধ্য দিয়ে পাল রাজবংশের সূচনা হয়। দ্বিতীয়ত, স্বাধীন বাংলাদেশের ’৭৫-এর অরাজক সময়ে সিপাহি-জনতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে নেতা নির্বাচিত করে। তৃতীয়ত, ২০২৪-এর লাল বিপ্লবের পর ছাত্র- জনতা ইউনূসকে সর্বসম্মতভাবে নেতা হিসেবে বেছে নেয়। এবারের বিপ্লবের আরেকটি দিক হলো আমাদের ভূখণ্ডে দুবার ক্ষমতাচ্যুত শাসক পালিয়ে প্রাণ বাঁচালেন—গত সহস্রাব্দে লক্ষ্মণসেন এবং এ শতাব্দীতে শেখ হাসিনা। তবে এবারের গণ-অভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো, সর্বসম্মত ও সময়োপযোগী বিশ্ববরেণ্য জ্ঞানী মানুষকে নির্বাচন করতে পারা, এবারই একজন শিক্ষক, জ্ঞানী, দার্শনিক মাত্রার বিশ্বনন্দিত কাউকে বাংলাদেশের জনগণ নেতা হিসেবে পেল। সম্ভবত দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে রাজা রামচন্দ্র এবং সম্রাট অশোকের পর এত বড়মাপের কোনো ব্যক্তিত্বকে এখানকার জনগণ শাসক হিসেবে পায়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক সারজিস আলমের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দৃশ্যমান বক্তব্যে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার প্রত্যাশার একটি প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানে বলা হয়েছে—দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে জাতীয়তাবাদী চেতনা যেমন অর্থহীন, ঠিক তেমনি চাঁদাবাজি ও লুণ্ঠনে নিয়োজিত থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাও বাকসর্বস্ব। বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে চাই নতুন রাজনীতি যেখানে নাগরিকদের কথা শুনতে হবে এবং তাদের নিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। যদি জনগণের মতামত শুনতে কেউ রাজি না থাকে সম্ভবত গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বার স্বাধীন হওয়া নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি তার জন্য নয়। 

উল্লিখিত জনপ্রত্যাশার ভিত্তিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-উত্তর নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাব হলো—

১. পতিত স্বৈরাচারের দোসরদের বিচারের সম্মুখীন করা: পিলখানা, হেফাজত, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ গত ১৬ বছরের সব গণহত্যা মানবতাবিরোধী অপরাধ, দুর্নীতি, ব্যাংক লুণ্ঠনসহ অপরাধীদের বিচার করা। 

২. প্রজাতন্ত্র দিবস এবং রাষ্ট্রীয় উদযাপন: বাংলাদেশকে প্রজাতন্ত্র করে তোলার জন্য ৫ আগস্টকে রিপাবলিক ডে বা প্রজাতন্ত্র দিবস ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় ছুটি এবং সর্বস্তরের জনগণের উদযাপনের ব্যবস্থা করা। পরিবার বা গোষ্ঠীর বিপরীতে জনগণকে রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে দেয়া গণভোটের বিধান পুনঃস্থাপন করা যাতে রাষ্ট্রের সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জনমত যাচাইয়ের সুযোগ হয়। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করে গণতন্ত্রকে সমুন্নত করতে হবে। 

৩. শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা: সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদের আলোকে সব স্থানীয় সরকার সচল করা এবং দেশের বৃহত্তম প্রশাসনিক একাংশ বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা। 

৪. যুগোপযোগী সংবিধান সংকলন: প্রথমে গণপরিষদে নির্বাচন দিয়ে এবং বিশেষজ্ঞ ও জনমত নিয়ে আধুনিক বাংলাদেশের উপযুক্ত সংবিধান রচনা করা যেখানে দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সরকারের রাজনীতির পৃথকীকরণ, সিনেট বা সংসদের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক পেশাজীবী ও বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণ, একক দলের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে সংসদ নির্বাচন না করা, গণভোট বাধ্যতামূলক, ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল, বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণে সংবিধান সংকলন। 

৫. জাতীয় সংকট মোকাবেলা ও নিরাপত্তা কৌশল প্রতিষ্ঠা: জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা করে জাতীয় সংকট উত্তরণে কৌশল স্থাপন করা, জাতীয় মানবাধিকার আইন, সুশাসন আইন, জাতীয় স্বার্থ ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন করে সংবিধানের অংশ ঘোষণা করা, ব্লু-ইকোনমি, গ্রিন ইকোনমি, সোশ্যাল বিজনেস নীতিমালা প্রণয়ন, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অধিকার পুনরুদ্ধার করা। জনপ্রত্যাশার সব কাঙ্ক্ষিত সংস্কারের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করতে পারব একটি নতুন এবং আলোকিত বাংলাদেশ, সত্যিকারের এক রিপাবলিক। 

ড. রেজাউল করিম চৌধুরী: ক্যাপ্টেন, মেরিটাইম পরামর্শদাতা। ফ্যাকাল্টি অব মেরিটাইম স্টাডিজ, ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া টেরেংগানু

কাজী মো. আবু সাইদ: মেরিন ইঞ্জিনিয়ার, মেম্বার, ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন কমিটি, আইটিএফ, বাংলাদেশ

আরও