ঘটনাটি
চলতি
বছরের
২৬
আগস্ট।
আমি
ডাক্তার
দেখাতে
যাচ্ছিলাম।
সঙ্গে
আমার
স্ত্রী।
দুই
সপ্তাহ
আগে
আমি
কভিড
আক্রান্ত
হয়েছি।
ভাড়ায়
চালিত
একটি
সিএনজি
অটোরিকশায়
উঠলাম
আমরা
দুজন।
ভাড়া
ঠিক
হলো
২০০
টাকা।
ভেবেছিলাম
যাত্রাপথে
সিএনজিচালককে
অনুরোধ
করে
থেমে
এটিএম
বুথ
থেকে
টাকা
তুলে
নেব।
কিন্তু
বিধি
বাম।
সে
রকম
কোনো
কিছু
আসার
আগেই
সিএনজি
অটোরিকশাটির
ব্রেক
বা
ক্লাসের
(কোনো একটির
হবে)
তার
ছিঁড়ে
যায়।
সিএনজি
অটোরিকশা
চালক
ভাইটি
বললেন,
এখন
গাড়ির
ইঞ্জিন
গরম
কাজ
করা
যাবে
না।
সব
মিলিয়ে
দেড়
ঘণ্টার
বেশি
লাগবে।
আমরা
অপেক্ষা
করতে
রাজি
হলাম।
কিন্তু
তিনি
সেটি
গ্রহণ
করবেন
না।
তিনি
বললেন,
আপনারা
অসুস্থ
রোগী,
হাসপাতালে
যাচ্ছেন,
আপনাদের
দেরি
করানোটা
ঠিক
হবে
না।
তার
বিবেচনা
বোধ
দেখে
আমরা
দুজনেই
হতবাক।
তিনি
একই
রকম
অন্য
একটি
সিএনজি
অটোরিকশা
থামালেন।
কিন্তু
নতুন
চালকের
জন্য
৪০
শতাংশ
পথ
বাকি
থাকলেও
তিনি
ভাড়া
হাঁকলেন
১৫০
টাকা।
অতঃপর
নতুন
চালক
বললেন,
আমি
১২০
টাকা
হলে
যাব,
অন্যথায়
নয়।
এরপর
আমি
পুরনো
সদয়
চালকটির
দিকে
তাকালে
আমাকে
তিনি
বললেন,
আমাকে
১০০
টাকা
দিলেই
চলবে!
আমরা
বললাম
এটি
আপনার
জন্য
কম
হয়ে
যাচ্ছে।
কিন্তু
আমাদের
কাছে
নগদ
অর্থ
না
থাকায়
সে
টাকাটুকুও
নতুন
চালক
থেকে
আমাদের
ধার
করে
পুরনো
চালককে
দিতে
হয়।
এতে
আমার
স্ত্রী
ও
আমি
দুজনই
বেশ
খারাপ
বোধ
করছিলাম।
সংবেদনশীল
সেই
পুরনো
চালক
কষ্ট
পেলেও
মুখে
হাসি
নিয়েই
আমাদের
সঙ্গের
ব্যাগগুলো
নতুন
বাহনে
উঠিয়ে
আমাদের
বিদায়
দিলেন।
নতুন
বাহনে
চড়ে
আমাদের
বারবারই
আগের
চালকের
মায়াভরা
মুখটির
কথা
মনে
হচ্ছিল।
অবশেষে
এটিএম
থেকে
টাকা
উঠিয়ে
দ্বিতীয়
চালকের
ভাড়া
দেয়ার
সময়
১২০-এর
জায়গায়
২০০
টাকা
দিয়ে
দিলাম।
এবার
আমার
স্ত্রী
আগের
চেয়ে
বেশ
সরব
হলো।
বলল,
এটি
কোনোভাবেই
ন্যায্য
হয়নি।
আমারও
মনে
হলো
ও
তো
ঠিকই
বলছে,
এটি
ঠিক
হয়নি।
কিন্তু
কেন?
আজকের
লেখাটি
এটি
দিয়েই
শুরু।
কোনো কাজ
যখন
আমরা
করি
তার
মূল্যায়ন
আমরা
কীভাবে
করি?
কাজটি
করার
আগে
যেসব
বিবেচনা
করি
আর
কাজটি
করে
ফেলে
পেছনে
ফিরে
দেখে
যখন
সিদ্ধান্তের
মূল্যায়ন
করি
এ
দুই
বিবেচনার
ভিত্তিগুলোই
বা
কী?
অতীতের
নিরপেক্ষ
মূল্যায়ন
কি
আমরা
‘নিষ্পক্ষ
দর্শক’
হিসেবে
করতে
পারি?
বিশেষ
করে
এ
মুহূর্তের
প্রয়োজন
মেটানোর
প্রবল
উপযোগিতার
আকর্ষণ
থেকে
মনকে
নিষ্পক্ষ
দর্শকে
পরিণত
করে
সুস্থায়ী
সিদ্ধান্ত
নিতে
পারি?
আমাদের
যাত্রাপথের
ঘটে
যাওয়া
ঘটনায়
কি
আমরা
অতীত
সিএনজি
অটোরিকশা
চালক
ভাইটির
জন্য
কিছুটা
‘ইচ্ছাকৃত’
ও
অসংবেদনশীল
সিদ্ধান্ত
নিইনি?
দুুঃখের
সঙ্গে
স্বীকার
করতে
হচ্ছে,
হ্যাঁ
করেছি।
যেটি
আমার
স্ত্রীর
বোধে
ধরা
পড়েছে
এবং
এটি
নিয়ে
সে
কথা
বলতে
শুরু
করেছে।
যেটুকু
পথ
আমরা
পুরনো
চালকের
ঘাড়ে
চড়ে
এলাম
তার
অবদানের
কথা
বর্তমান
উপযোগিতা
বা
বাড়তি
তৃপ্তির
টানে
তা
‘উপেক্ষা’
করলাম।
উল্লিখিত ঘটনাটির
ভেতর
কী
কী
রয়েছে
তা
নিয়ে
আমি
চিন্তা
করতে
লাগলাম।
আমরা
দুজন
গাড়িচালকের
প্রতি
কোনো
রকম
বৈষম্যমূলক
দৃষ্টিভঙ্গি
গ্রহণ
করা
হয়েছিল
কিনা,
সমাজের
বিদ্যমান
অসম
শ্রেণী
অবস্থানের
ক্ষমতা
থেকে
কোনো
সিদ্ধান্তের
বিষয়ে
পরোক্ষ
কোনো
চাপ
ছিল
কিনা
তার
বিশ্লেষণ
করতে
পারি।
আমাদের
দেশে
বৈষম্য
ও
অন্যায্যতা
নিয়ে
আলোচনা
হলেও
এগুলো
বিচারের
ভিত্তিমূলীয়
চিন্তাভাবনা
নিয়ে
খুব
কেশি
আলোচনা
চোখ
পড়েনি।
বৈষম্যের
বিপরীতে
সমদৃষ্টির
আলোচনাটি
খুব
গুরুত্বপূর্ণ
হলেও
বাংলাদেশে
দ্বান্দ্বিক
বস্তুবাদী
দৃষ্টিভঙ্গিতে
সে
আলোচনা
জোরালোভাবে
আসেনি।
যখন
আমরা
বৈষম্যের
কথাটি
বলি
তখন
আমরা
আসলে
কী
বোঝাই?
বোঝাই
যে
কোনো
কিছু
মূল্যায়নের
মূল
ভিত্তি
হবে
সমদৃষ্টি।
সমদৃষ্টির
জায়গাটি
বাস্তবে
টিকে
থাকছে
না
বলেই
বৈষম্যের
সৃষ্টি
হচ্ছে।
যদিও
আবার
বৈষম্য
টিকিয়ে
রাখতে
ও
তার
ধারাবাহিকতা
রক্ষায়
বস্তুগত
আয়োজনও
চালু
রয়েছে।
আবার
সমদৃষ্টি
ফিরিয়ে
আনতে
বর্তমানে
ও
অতীতের
ক্ষেত্রেও
নানা
প্রচেষ্টা
ঘটার
জ্ঞানগত
ও
চর্চার
নানা
ক্ষেত্রও
রয়েছে।
আধুনিক সময়ে
সমদৃষ্টির
ভিত্তিতেই
ন্যায্যতার
দাবি
অত্যন্ত
শক্তিশালীভাবে
তোলা
যায়,
তার
ধারাটি
প্রায়
এককভাবে
প্রতিষ্ঠা
করেছেন
দার্শনিক
জন
রলস।
এ
বিষয়ে
তার
প্রথম
লেখা
‘জাস্টিস
অ্যাজ
ফেয়ারনেস।’
১৯৫৮
সালে
প্রবন্ধটি
প্রথম
প্রকাশিত
হয়।
তখনই
রলসের
চিন্তাটি
ব্যাপক
সাড়া
ফেলে
দেয়।
পরে
আমাদের
মুক্তিযুদ্ধের
সময়ে
একাত্তর
সালে
‘আ
থিওরি
অব
জাস্টিস’
গ্রন্থে
এ
তত্ত্ব
তিনি
আরো
পরিশীলিতভাবে
ও
উচ্চতর
পর্যায়ে
নিয়ে
যান।
রলসের
আসল
কথাটি
ছিল
ন্যায্যতাকে
বুঝতে
হবে
সমদৃষ্টির
দাবির
ভিত্তিতে।
অর্থাৎ
সমদর্শিতাই
হলো
ন্যায্যতা
নির্মাণের
মূল
ভিত্তি।
অর্থাৎ
কোনো
ব্যক্তি
বা
সমাজ
যদি
ন্যায্যতায়
পৌঁছতে
চায়
তবে
তাকে
সমদর্শিতার
ভিত্তিভূমিতেই
হাঁটতে
হবে।
এ
পথে
হেঁটেই
সেখানে
পৌঁছতে
হবে।
আমার
মতে,
রলসের
এ
ধারণার
সমান্তরালে
আমরা
অমর্ত্য
সেনের
‘ডেভেলপমেন্ট
অ্যাজ
ফ্রিডম’
গ্রন্থে
ব্যক্তি
বা
গোষ্ঠীর
ফ্রিডমের
(তার ভাষায়
যেটি
সক্ষমতা)
পরিধি
বাড়িয়ে
তুলতে
হলে
ক্যাপাবিলিটি
অ্যাপ্রোচ
(সক্ষমতার দৃষ্টিভঙ্গি)
গ্রহণ
করতে
হবে।
সক্ষমতার
দৃষ্টিভঙ্গি
বাংলাদেশের
জন্য
যে
কতটা
গুরুত্বপূর্ণ
তা
একটু
ভালোভাবে
লক্ষ
করলেই
বোঝা
যায়
যে
আমাদের
বিদ্যায়তনিক
পরিসরগুলো
থেকে
শুরু
করে
দৈনন্দিন
কাজের
সব
প্রতিষ্ঠান
ও
অপ্রতিষ্ঠানে
এ
অতিপ্রয়োজনীয়
মৌলিক
দৃষ্টিভঙ্গি
কতটা
উপেক্ষিত।
রলসের সমদর্শিতাই
ন্যায্যতা
ধারণাটি
কেবল
সাধারণ
কাণ্ডজ্ঞান
থেকে
বোঝাই
যথেষ্ট
নয়,
বরং
ন্যায্যতার
প্রায়
সব
তত্ত্বে
এটি
অত্যন্ত
প্রাসঙ্গিক।
এখানে
তত্ত্বকথা
আসবে
কেন?
কারণ
কোনো
একটি
নির্দিষ্ট
সময়ের
ও
স্থানের
ঘটনাকে
‘বদ্ধ
নিষ্পক্ষ’
গণ্ডির
বাইরে
প্রসারিত
দৃষ্টিভঙ্গি
থেকে
দেখা
অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি
ঘটে
যাওয়া
এক
ঘটনার
ভেতরের
সারবস্তু
মূল্যায়নের
অনুসন্ধানে
নেমেই
এ
ভ্রমণ
করতে
হচ্ছে।
কার্যত
বিশ্বব্যাপী
বিভিন্ন
চিন্তাভাবনা,
অভিপ্রায়
ও
সর্বজনীন
ভাবধারারও
সমন্বয়
ঘটানোর
চেষ্টা
করার
একটি
সুফল
পাওয়া
যেতে
পারে।
আর
যদি
সেটি
করা
সম্ভব
হয়,
তবে
সমদর্শিতার
পথে
হাঁটার
বাধাগুলো
কাটিয়ে
ন্যায্যতার
সদর
দরজায়
উপস্থিত
হওয়ার
সম্ভাবনা
সৃষ্টি
হয়।
এ জায়গায়
এসে
আমাদের
অর্থশাস্ত্রের
জনক
অ্যাডাম
স্মিথের
একটি
গুরুত্বপূর্ণ
ধারণার
সাহায্য
নিতে
হবে।
যদিও
সময়ের
ক্রমে
রলস
আমাদের
নিকটবর্তী
ও
অ্যাডাম
স্মিথের
সময়
আজ
থেকে
প্রায়
৩০০
বছর
আগের
এবং
তিনি
আমাদের
থেকে
বহুদূরের,
অন্য
গোলার্ধের
(স্কটিশ) বাসিন্দা
ছিলেন।
কিন্তু
রলসের
চিন্তাটি
পরিপূর্ণভাবে
বুঝতে
ও
এর
কিছু
সীমাবদ্ধতা
কাটাতে
স্মিথ
আমাদের
আরো
প্রশস্ত
রাস্তা
দেখান।
তাই
আমার
কাছে
মনে
হয়েছে,
বিভিন্ন
সামাজিক
অবস্থার
মূল্যায়নে
অ্যাডাম
স্মিথের
‘নিষ্পক্ষ
দর্শক’
ধারণাটি
অত্যন্ত
প্রাসঙ্গিক।
স্মিথের
বন্ধু
দার্শনিক
ডেভিড
হিউম
যুক্তিশীলতার
প্রয়োগে
মানব
সংবেদনশীলতার
গুরুত্ব
জোরালোভাবে
সামনে
আনলেও
স্মিথ
হিউমের
মতো
ভাবতেন
না।
কিন্তু
মানুষের
প্রত্যক্ষ
অভিজ্ঞতাভিত্তিক
ন্যায়-অন্যায়
সম্পর্কে
মানুষের
প্রাথমিক
উপলব্ধির
জোরালো
অনুভূতির
যে
কথা
হিউম
তার
দার্শনিক
প্রবন্ধাবলিতে
বলেছেন,
তার
সঙ্গে
স্মিথ
একমত
হলেও
বহু
ধরনের
পরিস্থিতি
ও
তার
পরিণামকে
কার্যকারণ
সম্পর্ককে
স্মিথ
যুক্তি
দিয়েই
বিচারের
কথা
বিপুলভাবে
আমাদের
সামনে
তুলে
ধরেছেন।
এ
দৃষ্টিভঙ্গিকেই
তিনি
অত্যন্ত
শক্তিশালী
দার্শনিক
প্রকল্প
হিসেবে
তুলে
ধরেছেন।
ধারণাটি
হলো
‘নিষ্পক্ষ
দর্শক’
(স্মিথের ‘দ্য
থিওরি
অব
মরাল
সেন্টিমেন্টস’
গ্রন্থে)।
নিজেদের জীবনযাপনের
ভেতর
দানা
বেঁধে
ওঠা
কায়েমি
স্বার্থ,
নিজেদের
সামনে
এগিয়ে
রাখার
ঝোঁক,
অযৌক্তিক
ভাবনা,
নানা
ধরনের
সংস্কার
ইত্যাদি
থেকে
প্রভাবমুক্ত
হয়ে
স্মিথের
নিষ্পক্ষতার
দাবিকে
প্রধানভাবে
সামনে
আনতে
হবে।
কারণ
রলস
প্রবর্তিত
‘সমদর্শিতাই
ন্যায্যতা’—এ
পথে
চলতে
গেলে
স্মিথের
নিষ্পক্ষতার
মৌলিক
দাবিকে
এড়িয়ে
যাওয়া
সম্ভব
নয়।
রলসের
চিন্তার
এ
সুতা
হাতে
তুলে
নেন
অমর্ত্য
সেন।
আমাদের
সময়ের
অন্যতম
গুরুত্বপূর্ণ
দার্শনিক
অমর্ত্য
সেন
রলস-উত্তর
ন্যায্যতা
তত্ত্বের
সমূহ
উন্নয়ন
ঘটান।
তিনি
রলসের
ধারণার
‘আদর্শবাদী
চিন্তা’
থেকে
বেরিয়ে
তুলনামূলক
দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন
অধিকতর
ন্যায্যতার
পথ-পদ্ধতির
তত্ত্ব
নির্মাণ
করেন।
অমর্ত্য
সেনের
মতে,
রলসের
ন্যায্যতা
চিন্তাটি
‘ট্রান্সেনডেন্টাল
থিওরি
অব
জাস্টিস’
বা
ন্যায্যতার
‘সর্বশ্রেষ্ঠান্বেষী
দৃষ্টিভঙ্গি’র
ভিত্তিতে
সৃষ্ট,
সে
কথাটি
আমাদের
সামনে
আনেন।
অমর্ত্য
সেনের
ঝোঁকটি
হল
এ
মুহূর্তের
বাস্তব
অবস্থার
গুণগত
পরিবর্তনের
জন্য
ন্যায্যতার
ধারণা
ও
প্রয়োগ
কীভাবে
কাম্য
সমাজের
দিকে
নিয়ে
যাবে
তার
ভিত্তি
নির্মাণ
করা।
মোদ্দা
কথা
হলো
আমরা
কীভাবে
এগোতে
পারি
তার
পথ-পদ্ধতি
অনুসন্ধানের
তাগিদ
তিনি
আমাদের
দিয়েছেন।
আমার
মতে,
অমর্ত্য
সেন
অত্যন্ত
বুদ্ধিদীপ্তভাবে
সময়
পরিবর্তনের
আঙ্গিকটি
তার
ন্যায্যতার
গতিশীল
ভাবনায়
সুস্থায়ীভাবে
ধারণ
করতে
পেরেছেন।
আমি
বিষয়টির
নাম
দিয়েছি
‘ইনক্রিমেন্টাল
জাস্টিস’
বা
‘ক্রমবর্ধমান
ন্যায্যতা’র
লক্ষ্যে
আমরা
কীভাবে
এগোব
তার
ধারণা
ও
চর্চার
পথে
সংগ্রাম
করা।
রলসের
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক
ন্যায্যতা
চিন্তার
সীমাবদ্ধতা
অমর্ত্য
সেন
আমাদের
সামনে
তার
ক্ষুরধার
বিশ্লেষণী
কাঠামোর
মাধ্যমে
তুলে
ধরেছেন।
কারণ
অমর্ত্য
সেন
মনে
করেন,
আমরা
যে
পৃথিবীটায়
বাস
করি
সেখানে
প্রতিষ্ঠানগুলো
ভুলত্রুটিমুক্ত
নয়
এবং
যথাযথ
আচরণও
করে
না।
অমর্ত্য
সেনের
লেখা
পড়ে
আমার
মনে
হয়েছে,
তিনি
মনে
করছেন
প্রাতিষ্ঠানিক
ন্যায্যতার
ওপর
আমাদের
একমাত্র
নির্ভরতা
থাকলে—যেটি
রলসের
ন্যায্যতা
চিন্তার
একটি
সীমাবদ্ধতা
বলে
তিনি
(সেন) ব্যাখ্যা
করেন—ব্যক্তির
ন্যায্যতা
পাওয়ার
বিষয়টি
উপেক্ষিতই
থেকে
যাবে।
অমর্ত্য
সেন
বর্তমান
সময়ের
মহান
এক
শিক্ষক।
তিনি
আমাদের
মনে
করিয়ে
দেন,
পরিস্থিতিনির্ভরতার
কথা
বলে
প্রতিষ্ঠানের
চয়নের
অন্যায্যতা
থেকে
ব্যক্তির
ন্যায্যতা
ও
যৌক্তিক
আচরণ
নিশ্চিত
করতে
না
পারলে
ন্যায্যতা
প্রাপ্তির
‘ক্রমবর্ধমান
ন্যায্যতা’র
পথে
হাঁটা
সম্ভব
হবে
না।
তার
মতে,
‘বর্তমানের
ও
ভবিষ্যতের
মানুষের
স্বক্ষমতা,
সক্ষমতা
ও
কল্যাণকে
প্রসারিত
করে
ন্যায্যতা
প্রতিষ্ঠার
পথ
সুগম
করতে’...প্রচলিত
‘নিয়মনীতি
ও
অভ্যাসকে
বাস্তবের
দৃষ্টিকোণ
থেকে’
মূল্যায়নের
প্রয়োজন
আছে।
অমর্ত্য
সেনের
মতে,
ন্যায্যতার
পথে
‘সামাজিক
বিভিন্ন
অবস্থার
মূল্যায়নে
শুধু
তৃপ্তিযোগের
ওপর
নির্ভর
করার
কোনো
আবশ্যকতা
নেই’...এমনকি
‘অন্তিম
অবস্থার
ওপর
নির্ভর
করারও
দরকার
নেই।
আমরা
যথাযথ
কাজ
করছি,
না
আরো
ভালো
করতে
পারতাম,
সেটা
বিচার
করার
ক্ষেত্রে
সর্বাঙ্গীণ
পরিণামের
খুবই
গুরুত্ব
রয়েছে।’
তিনি
বলেন,
‘ন্যায্যতার
লক্ষ্যে
যে
জরুরি
প্রশ্নটি
নিরবচ্ছিন্নভাবে
থেকেই
যায়
তা
হলো
সবকিছু
বাস্তবে
কেমন
চলছে
এবং
তাদের
আরো
ভালো
করে
তোলা
যায়
কিনা।’
(নীতি ও
ন্যায্যতা,
পৃ.
১১০)।
আমার কাছে
মনে
হয়,
ন্যায্যতার
প্রশ্নে
নারীর
সংবেদনশীলতা
ও
যুক্তি
প্রয়োগের
প্রখরতা
পুরুষের
তুলনায়
বেশি।
দার্শনিক
ডেভিড
হিউমের
চিন্তা
ও
অনুজ্ঞাগুলো
আমাদের
শেখায়,
‘মানব
সংবেদনের
(সেন্টিমেন্টস) জোরালো
ভূমিকাটাকে
অগ্রাহ্য
না
করেও
যুক্তির
গুরুত্বকে
মেনে
নেয়ার’—যদিও
প্রচলিত
চিন্তায়
সংবেদনের
ভূমিকাকে
কোনো
গুরুত্বই
দেয়া
হয়
না।
অমর্ত্য
সেনের
ভাষায়:
‘হিউমের
অন্তর্দৃষ্টি
আমাদের
শেখায়,
যারা
এ
পৃথিবীর
অন্যত্র,
আমাদের
থেকে
বহু
দূরে
বাস
করে,
এমনকি
যারা
এখনো
জন্মায়নি,
ভবিষ্যতে
এ
পৃথিবীর
বাসিন্দা
হবে,
তাদের
কথা
ভাবাও
আমাদের
দায়িত্ব।’
হিউম
যদিও
সংবেদনশীলতার
ক্ষেত্রে
নারীর
বিশেষ
বৈশিষ্ট্য
বা
অগ্রসরতার
কথা
সরাসরি
বলেননি,
তা
সত্ত্বেও
যুক্তি
প্রয়োগের
সঙ্গে
সংবেদনশীলতার
চমত্কার
সম্পর্কের
প্রতি
আমার
আকর্ষণ
তৈরি
হলো।
বাংলাদেশে যাপিত
জীবনের
অভিজ্ঞতা
থেকে
আমি
বলতে
পারি,
এ
দেশে
বসবাসের
কিছু
বিশেষ
আকর্ষণীয়
দিক
থাকলেও
কতগুলো
ঘাটতির
দিকও
রয়ে
গেছে।
আমাদের
যাপিত
জীবনে
দুটো
বড়
ধরনের
সমস্যা
জীবনের
গুণগত
মানকে
অবনমন
করছে
বলে
আমার
মনে
হয়,
যেগুলোর
সমাধান
আমাদের
হাতের
মধ্যেই
রয়েছে।
প্রথমটি
হলো
ক্রমাগতভাবে
বিচ্ছিন্ন
জীবনযাপন
করা।
আর
এ
বিচ্ছিন্নতা
চর্চার
ফলে
দ্বিতীয়
সমস্যাটির
সৃষ্টি।
সেটি
হলো
আমাদের
মনে
নিজেদের
যাপিত
জীবন
সম্পর্কে
হীনম্মন্যতার
বোধ
নিয়ে
এক
ধরনের
আত্মপ্রবঞ্চনার
মধ্যে
ডুবে
থাকা।
একটি
সমৃদ্ধ
জীবনের
জন্য
প্রয়োজনীয়
হলো
যেসব
সম্পর্ককে
আমরা
মূল্যবান
মনে
করি
সেগুলোর
প্রতি
আমাদের
অনুভূতির
বন্ধনকে
আরো
দৃঢ়
করে
তোলা।
চিন্তাশীল
সত্তা
হিসেবে
মানুষ
হলো
গঠনমূলক
অভিজ্ঞতার
বিশাল
এক
ভাণ্ডার।
আমাদের
প্রত্যেকের
পক্ষে
কম
বা
বেশি
যেটুকু
জ্ঞানার্জন
করা
সম্ভব
হোক
না
কেন,
সেটুকুই
বাস্তব
জীবনে
প্রয়োগ
করে
যাপিত
জীবনের
গুণগত
মান
বৃদ্ধি
থেকে
নিজেকে
কেন
বঞ্চিত
করছি
তা
কি
আমরা
কখনো
ভেবে
দেখেছি?
আহমেদ জাভেদ: দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি