বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনের ভিত্তি—বাংলার তুলার ইতিহাস বহু পুরনো। বিশেষ করে ঢাকার মসলিন তৈরিতে ব্যবহৃত ফুটি কার্পাস ছিল এক বিশেষ দেশীয় তুলা। উৎকৃষ্ট মসলিনের জন্য ব্যবহৃত এ তুলা ঢাকার আশপাশের নদীবিধৌত এলাকায় বিশেষভাবে উৎপাদিত হতো। এর আঁশ ও সুতা অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় উচ্চ কাউন্টের সুতা তৈরি করা সম্ভব ছিল।
ফুটি কার্পাস শুধু একটি তুলার জাত ছিল না; এটি ছিল বাংলার কৃষি, নদী, জলবায়ু, কৃষকের জ্ঞান, তাত ও শিল্পকলার সম্মিলিত ফল। মসলিনের পতন এবং দেশীয় তুলার সংকট—ঔপনিবেশিক যুগে বাংলার মসলিন ও তাঁতশিল্পের ওপর বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে। ধীরে ধীরে ঐতিহ্যবাহী তুলা ও মসলিনের উৎপাদন সংকুচিত হয় এবং দেশীয় তুলাচাষ অবক্ষয়ের দিকে যায়। বর্তমানে ফুটি কার্পাসের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার হয়েছে ও পুনঃচাষের বিভিন্ন উদ্যোগও রয়েছে।
জুম কৃষির ঐতিহ্য—বাংলাদেশের তুলার ইতিহাস শুধু ঢাকার ফুটি কার্পাসে সীমাবদ্ধ নয়। চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড়ি তুলা বহুদিন ধরে জুম কৃষির অংশ হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। পাহাড়ি তুলা সাধারণত জুম পদ্ধতিতে ধান, ভুট্টা, মরিচ, তিলসহ অন্যান্য ফসলের সঙ্গে মিশ্রভাবে চাষ করা হয়। বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি তুলার পাশাপাশি অনেক এলাকায় উন্নত হাইব্রিড কটন প্রযুক্তি সম্প্রসারিত হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তুলা উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিষ্ঠা তুলা উন্নয়নের ইতিহাসে একটি বড় মাইলফলক হলো ১৯৭২ সালে তুলা উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশে তুলাচাষ পুনঃপ্রবর্তন, গবেষণা, জাত উন্নয়ন, বীজ উৎপাদন, কৃষক প্রশিক্ষণ, সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া।
উচ্চফলনশীল আমেরিকান আপল্যান্ড কটনের যুগ: ১৯৭৪-৭৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডেল্টাপাইন-১৬ জাত প্রবর্তনের মাধ্যমে আমেরিকান আপল্যান্ড কটনের চাষ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে উন্নত জাত ও প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে তুলা উৎপাদন বাড়তে থাকে। ১৯৭৭ সালে নতুন জাতের বীজ আনার পর তুলাচাষ আরো জোরদার হয়, তুলা চাষের জন্য উন্নত বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) যশোরের চৌগাছার জগদীশপুরে প্রায় ১৫০ একরের তুলার বীজ উৎপাদন খামার উদ্বোধন করেন এবং ১৯৮৩-৮৪ সালে উৎপাদন প্রায় ৩০ হাজার বেলে পৌঁছে। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গাজীপুরের শ্রীপুর তুলা গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও বীজ খামার পরিদর্শন করে তুলার প্রযুক্তি উদ্ভাবনের জন্য গবেষণা জোরদারের জন্য নির্দেশনা দেন।
পরবর্তী সময়ে প্রচলিত জাতে রোগ ও পোকার আক্রমণ বৃদ্ধি, গুণগত মানের সমস্যা ও বিপণন দুর্বলতার মতো কারণে উৎপাদনে ওঠানামা দেখা দেয়। গবেষণা থেকে আধুনিক জাত প্রবর্তন/উন্নয়নের চাহিদা—১৯৯১ সালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট হতে তুলা গবেষণা তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সময়ের সঙ্গে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের গবেষণায় জাত উন্নয়ন ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন গুরুত্ব পেয়েছে। এ সময় কৃষকের মাঠে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক ফলনের উপযোগী জাত সম্প্রসারণ করা হয়।
কিন্তু কৃষক ও জিনারের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তুলা উন্নয়নের দর্শনও পরিবর্তিত হয়েছে: শুধু বেশি ফলন নয়—কম সময় বেশি ফলন, আঁশের ভালো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, রোগ-পোকা সহনশীলতা এবং বিভিন্ন কৃষি জলবায়ুতে অভিযোজন বিবেচনায় কৃষক ও বস্ত্র শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী হাইব্রিড তুলার নতুন যুগের সূচনা—বাংলাদেশের তুলা উৎপাদনের সাম্প্রতিক বিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো হাইব্রিড তুলা। পাবলিক-প্রাইভেট অংশীদারত্বের আওতায় সুপ্রিম সিড কোম্পানির ও চীনের হুবাই প্রভিনসিয়াল সিড কোম্পানির বিশেষজ্ঞের সহযোগিতায় বাংলাদেশে হাইব্রিড তুলা নিয়ে গবেষণা ও অভিযোজন পরীক্ষা পরিচালিত হয়ে ৩৩ শতকে বিঘাপ্রতি গড়ে ৪০ কেজির ১২ মণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। গণচীনের এ হাইব্রিডের গড় আঁশের পরিমাণ ৪০-৪২ শতাংশ এবং আঁশের বৈশিষ্ট্য আন্তর্জাতিক মানের।
মসলিন তৈরির কাঁচামাল ফুটি কার্পাস ও উৎপাদন প্রযুক্তি পুনরুদ্ধার: বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য ঢাকাই মসলিনের প্রযুক্তি পুনরুদ্ধার, ফুটি কার্পাস পুনরুজ্জীবন এবং ঢাকাই মসলিনের জিআই স্বীকৃতি অর্জন করা হয়েছে।
ফুটি কার্পাস পুনরুদ্ধার: মসলিনের মূল কাঁচামাল ছিল ফুটি কার্পাস। এটি প্রায় ২০০ বছর ধরে বিলুপ্তপ্রায় ছিল। গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার হাইলজোর গ্রামসহ বিভিন্ন স্থান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ডিএনএ মিলিয়ে নিশ্চিত হয় যে কাপাসিয়ার গাছটিই আসল ফুটি কার্পাস। পরে গাজীপুরের শ্রীপুর তুলা গবেষণা কেন্দ্রসহ অন্যান্য জায়গায় চাষ শুরু হয় এবং সফলভাবে ফুল ও তুলা উৎপাদন হয়।
এ যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের একটি সফল উদাহরণ। এটি শুধু ঐতিহ্য সংরক্ষণই নয়, বরং উচ্চমূল্যের টেক্সটাইল খাতে নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। বর্তমানে বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোর কাজ চলছে।
বীজ তুলার ফলনের পাশাপাশি জিনিং আউট টার্ন বৃদ্ধি ইত্যাদি। ক্লাইমেট স্মার্ট তুলা: খরা, লবণাক্ততা, উচ্চ তাপমাত্রা ও অনিয়মিত বৃষ্টির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে সক্ষম জাত ও প্রযুক্তি। শস্য বহুমুখী করন তথা আন্ত ফসল হিসেবে তুলার আবাদ বৃদ্ধি ও উপজাতের ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্য সংযোজন করা সম্ভব।
ফুটি কার্পাস ও হাইব্রিড প্রযুক্তি—দুটি ধারার সমন্বয়। বাংলাদেশের জন্য আকর্ষণীয় ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাগুলোর একটি হলো ঐতিহ্য ও আধুনিক জীবপ্রযুক্তির সমন্বয়। আভিজাত্যের তুলা এবং বাণিজ্যিক তুলাকে দুটি পৃথক মার্কেট সেগমেন্ট হিসেবে উন্নয়ন করা যেতে পারে।
আমাদের দেশে ফুটি কার্পাস ছিল ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত সূক্ষ্ম আঁশের স্থানীয় তুলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ফুটি কার্পাসের সবচেয়ে বড় ঐতিহ্য হলো ‘কম ফলন হলেও অসাধারণ আঁশের গুণমান’। আধুনিক হাইব্রিড তুলার মূল লক্ষ্য অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ ফলন ও অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতা। ভবিষ্যতের বাণিজ্যিক ফুটি কার্পাসের জাত উদ্ভাবন গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে। যেহেতু আধুনিক হাইব্রিড তুলা এসেছে পরিকল্পিত সংকরায়ণ ও প্রজনন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য—যেমন ফলন, আঁশের মান, রোগ-পোকা সহনশীলতা ও অভিযোজন—একত্র করার প্রচেষ্টায়।
কেন তুলা এত গুরুত্বপূর্ণ: তুলা শুধু একটি আঁশজাতীয় ফসল নয়—এটি কৃষি, বীজ উৎপাদন, জিনিং, সুতা, কাপড়, পোশাক ও রফতানিকে সংযুক্ত করা একটি বৃহৎ মূল্যশৃঙ্খলের ভিত্তি। বিশ্বে বিপুল সংখ্যক তুলা উৎপাদক ও পরিবার এ খাতের ওপর জীবিকা নির্বাহ করে। তুলার প্রধান অংশ পোশাক ও গৃহস্থালি টেক্সটাইল তৈরিতে ব্যবহৃত হলেও এর বীজ, তেল, খইল, লিন্টার ও অন্যান্য উপজাত থেকেও অর্থনৈতিক মূল্য সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশের জন্য তুলা ফসলের প্রাসঙ্গিকতা: বাংলাদেশের ৮০ শতাংশের বেশি রফতানি আয় তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে, যার প্রধান কাঁচামাল তুলা। বাংলাদেশের লিন্ট তুলার ব্যবহার প্রায় ৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন বেল। দেশে উৎপাদিত আঁশ তুলা পরিমাণ প্রায় দশমিক ২ মিলিয়ন বেল, স্থানীয় উৎপাদন বাড়লে আমদানিনির্ভরতা ও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এক কেজি আঁশ তুলা উৎপাদন হলে সংশ্লিষ্ট উপজাতের মূল্যসহ প্রায় ৩ ডলার বৈদেশিক মূদ্রা সাশ্রয় হয়। গ্রামীণ কর্মসংস্থান, অর্থকরী ফসল হিসেবে কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং মূল্যশৃঙ্খলে (জিনিং, স্পিনিং, গার্মেন্টস) লাখো মানুষের জীবিকা। টেক্সটাইল মূল্যশৃঙ্খলের দেশীয় ভিত্তি শক্তিশালী করার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজাত (তেল, খইল, গাছ) অতিরিক্ত আয়ের উৎস। ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটির তথ্যমতে এক টন তুলা আঁশ প্রায় পাঁচজন মানুষের সারা বছরের কর্মসংস্থান তৈরি করে।
বীজ তুলা, তেল, খইল ও অন্যান্য বহুমুখী ব্যবহার: তুলা শুধু আঁশের ফসল নয়—এর প্রতিটি অংশই ব্যবহারযোগ্য। বাংলাদেশে কুষ্টিয়ায় তুলা বীজের তেল পরিশোধনাগার রয়েছে এবং খইল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাছ চাষে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। খইল উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন জৈব সার হিসেবেও কাজ করে এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করে। শুকনো গাছ গ্রামীণ গৃহস্থালি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়।
দেশে তুলা উৎপাদনের সম্ভাবনা: খাদ্যশস্যের ভালো জমি দখল করে তুলা সম্প্রসারণের পরিবর্তে ‘সঠিক ভূমিতে সঠিক ফসলক্রম’ নীতি অনুসরণ করা বাংলাদেশের জন্য অধিক যুক্তিযুক্ত। তুলা খাতের উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজন উন্নত বীজ, স্বল্পমেয়াদি জাত, উচ্চফলনশীলতা, উপযুক্ত জমি নির্বাচন, আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও বাজার সংযোগ।
তুলা ফসল মাটিতে দীর্ঘ সময় জমে থাকা পানি সহ্য করতে পারে না, তাই উঁচু জমি তুলা উৎপাদনের জন্য উপযোগী। দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে অর্থকরী ফসল তুলা চাষের সম্ভাবনাময় এলাকা ও জমির ধরন: উঁচু চরাঞ্চল, বরেন্দ্র অঞ্চল, উপযুক্ত পাহাড়ি জমি, তুলনামূলক অনুর্বর বা কম খাদ্যশস্য উপযোগী জমি, লবণাক্ততা ও খরাপ্রবণ এলাকার উপযোগী জমি, বিভিন্ন উদ্যান (বাগান ও মসলা) ও মাঠ ফসলের সঙ্গে আন্তঃফসল হিসেবে আবাদের সম্ভাবনা, সরকারি পতিত জমি ব্যবহার করে তুলা চাষ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের জিন ব্যাংকে প্রায় ৫০০ তুলার জার্মপ্লাজম রয়েছে, যার মধ্যে কিছু মূল্যবান নেচারাল কালারড কটনও রয়েছে, বিশ্ববাজারে তার চাহিদা ভালো।
তুলার পরিবেশগত গুরুত্বও রয়েছে। তুলা গাছ বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে; অনেক ক্ষেত্রে এটি কার্বন-নেগেটিভ ফসল হিসেবে বিবেচিত। খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল; কম সেচেও চাষ সম্ভব। জৈব সার (খইল) ও মাটির আচ্ছাদন মাটির স্বাস্থ্য ও ক্ষয় রোধে সাহায্য করে। প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে সিন্থেটিক ফাইবারের বিকল্প যা মাটি ও পানির প্লাস্টিক দূষণ কমায়। টেকসই চাষাবাদ (ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট, জৈব সার) পরিবেশবান্ধব।
এছাড়া পরিবর্তনশীল জলবায়ুতে তুলা একটি সম্ভাবনাময় ফসল। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি): দারিদ্র্য বিমোচন, শালীন কর্মসংস্থান, জলবায়ু পদক্ষেপ এবং দায়িত্বশীল উৎপাদন-ভোগের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
সার কথা, বিশ্ব তুলা দিবস ২০২৬ ‘কল্যাণের জন্য তুলা’ প্রতিপাদ্যে তুলার বহুমাত্রিক উপকারিতা তুলে ধরার সুযোগ। বাংলাদেশে স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, উপজাতের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং টেকসই চাষাবাদ দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ ও গ্রামীণ জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মো. আখতারুজ্জামান: সাবেক নির্বাহী পরিচালক, তুলা উন্নয়ন বোর্ড