মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো কক্ষপথে মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেছে। যদিও ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করেছে, অন্যান্য মহাকাশ অস্ত্র নিয়ে এখনো সুস্পষ্ট আন্তর্জাতিক ঐকমত্য নেই। এ অস্পষ্টতার মধ্যেই বিভিন্ন দেশের সামরিক মহাকাশ সক্ষমতা বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ভারত পৃথিবীর কক্ষপথে স্যাটেলাইট বিধ্বংসী অস্ত্র পরীক্ষা করেছে। এসব পরীক্ষা ও সম্ভাব্য সংঘাত বিপুল মহাকাশ বর্জ্য তৈরি করতে পারে। এতে কেসলার সিনড্রোমের মতো ধারাবাহিক সংঘর্ষের ঝুঁকি রয়েছে, যা একপর্যায়ে পৃথিবীর কক্ষপথকে সব দেশের জন্যই অনুপযোগী করে তুলতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্পেও মহাকাশভিত্তিক ইন্টারসেপ্টর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই সব ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশভিত্তিক হুমকি মোকাবেলার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
আরো বড় বিপদ হলো মহাকাশের সংঘাত সেখানে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম। স্যাটেলাইটে হামলা পৃথিবীর যোগাযোগ, নেভিগেশন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বিপর্যস্ত করে পাল্টা হামলা এবং বৃহত্তর সংঘাত ডেকে আনতে পারে। এমন সংঘাত পারমাণবিক যুদ্ধের ঝুঁকিও বাড়াবে। তাই মহাকাশে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতার বদলে অস্ত্রায়ন ঠেকানো, স্যাটেলাইট বিধ্বংসী পরীক্ষা বন্ধ এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক বিধি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই এখন জরুরি।
চৌ বো: চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র কর্নেল