জ্বালানি তেলের নতুন সংকট সরবরাহ নয়, লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা

যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প পথে তেল পরিবহনের চেষ্টা করে। তবে পাইপলাইন ও অন্যান্য অবকাঠামোয় হামলা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে তেল পরিবহনের জন্য জটিল শাটল ব্যবস্থার কারণে বিপুলসংখ্যক ট্যাংকার আটকে যাচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট বর্তমানে কিছুটা কমলেও পণ্যটির দাম কমছে না। এর বড় কারণ সরবরাহ নয়, বরং তেল পরিবহন ও পরিশোধন ব্যবস্থার সংকট। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর হরমুজ প্রণালি দিয়ে অপরিশোধিত তেল পরিবহন দৈনিক ১ কোটি ৪২ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল, যা যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ। তবু ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প পথে তেল পরিবহনের চেষ্টা করে। তবে পাইপলাইন ও অন্যান্য অবকাঠামোয় হামলা এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে তেল পরিবহনের জন্য জটিল শাটল ব্যবস্থার কারণে বিপুলসংখ্যক ট্যাংকার আটকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আটলান্টিক অঞ্চল থেকে এশিয়ায় দীর্ঘপথে তেল পরিবহনের প্রবণতা বেড়েছে। ফলে ট্যাংকারের সংকট তৈরি হয়ে পরিবহন ব্যয় রেকর্ড পর্যায়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়ায় ভিএলসিসি জাহাজে জ্বালানি তেল পরিবহনের দৈনিক ভাড়া জানুয়ারির প্রায় ৩০ হাজার থেকে বেড়ে ১২ লাখ ডলারেরও বেশি হয়েছে। ফলে পণ্যটির সরবরাহমূল্যের পরিবহন ব্যয় একসময় ছিল প্রায় ৩ শতাংশ, যা এখন প্রায় ২৭ শতাংশ।

এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় পরিশোধন সক্ষমতা কমে যাওয়ায় ডিজেলের সংকট আরো তীব্র হয়েছে। ফলে পরিশোধন সক্ষমতার ঘাটতি ডিজেলের দাম বাড়াচ্ছে, যা আবার নির্দিষ্ট ধরনের অপরিশোধিত তেলের চাহিদা ও দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই তেলের দাম কমাতে লজিস্টিক ব্যবস্থাপনাগত সংকট কাটানোও জরুরি।

[রয়টার্সে প্রকাশিত অভিমত থেকে অনূদিত]

রন বুসো: রয়টার্সের কলামিস্ট

আরও