অভিমত

আইনপ্রণেতা হতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কেন বাড়ছে?

সম্ভবত এটাই সেই যুগ যে যুগে রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন অথবা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রাজনীতির খুঁটি এখন আমলা আর ব্যবসায়ীদের কব্জায়। ফলে রাজনীতিবিদরা চরম কোণঠাসা অথবা বিলুপ্তপ্রায়। তারই ফলস্বরূপ আশঙ্কাজনক হারে জাতীয় সংসদে উপস্থিতি বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। এর পরই সংখ্যাধিক্য দেখা যাচ্ছে আমলাদের। কিন্তু একজন ব্যবসায়ীও এ দেশের নাগরিক। তারও অধিকার

সম্ভবত এটাই সেই যুগ যে যুগে রাজনীতি রাজনীতিবিদদের জন্য কঠিন অথবা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রাজনীতির খুঁটি এখন আমলা আর ব্যবসায়ীদের কব্জায়। ফলে রাজনীতিবিদরা চরম কোণঠাসা অথবা বিলুপ্তপ্রায়। তারই ফলস্বরূপ আশঙ্কাজনক হারে জাতীয় সংসদে উপস্থিতি বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। এর পরই সংখ্যাধিক্য দেখা যাচ্ছে আমলাদের। কিন্তু একজন ব্যবসায়ীও এ দেশের নাগরিক। তারও অধিকার আছে সংসদ সদস্য হওয়ার, রাজনীতি করার। তাহলে অসুবিধা কোথায়? সেই আলোচনায় যেতে হলে আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি গবেষণায় একবার চোখ বোলানো যাক।

টিআইবির গবেষণা বলছে, একাদশ (বর্তমান) জাতীয় সংসদের প্রথম থেকে ২২তম অধিবেশনে (জানুয়ারি ২০১৯ থেকে এপ্রিল ২০২৩) আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করেছেন সরকারি ও বিরোধী দল মিলে ২৫ জন আইনপ্রণেতা, যা মোট সংখ্যার মাত্র ৭ দশমিক ১ শতাংশ। আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে ব্যয়িত সময় প্রায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ। এখানে উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ সালে যুক্তরাজ্যে এ হার ছিল প্রায় ৪৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং ২০১৮-১৯ সালে ভারতের ১৭তম লোকসভায় এ হার ছিল ৪৫ শতাংশ। একাদশ (বর্তমান) সংসদের প্রথম থেকে পঞ্চম অধিবেশনে (জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর ২০১৯) পাঁচটি অধিবেশনে আইন প্রণয়নে ব্যয় হয় আরো কম সময়, যা ছিল মোট সময়ের ৯ শতাংশ। সংসদীয় কার্যক্রমে বিষয়ভিত্তিক, প্রাসঙ্গিক ও গঠনমূলক আলোচনার পরিবর্তে সরকার ও দলীয় অর্জন ও প্রশংসা এবং প্রতিপক্ষ দলের প্রতি আক্রমণাত্মক সমালোচনা প্রাধান্য পেয়েছে। অর্থাৎ আইনপ্রণেতারা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে খুব বেশি ভূমিকা রাখছেন না অথবা রাখতে পারছেন না।

এখন দেখা যাক, একজন সংসদ সদস্যের প্রধান কাজ কী? মোটা দাগে সংসদ সদস্যদের কাজ চারটি। প্রথমত, আইন প্রণয়ন; দ্বিতীয়ত, জাতীয় এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিতর্ক অনুষ্ঠান; তৃতীয়ত, সরকারের আয়-ব্যয় ও বাজেট অনুমোদন; চতুর্থত, সংসদীয় কমিটিগুলোর মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ। একক আঞ্চলিক এলাকা থেকে বা সরাসরি নির্বাচিত সদস্যদের মতো সংরক্ষিত আসন থেকে ‘নির্বাচিত’ নারী সদস্যরাও একই ভূমিকা পালন করতে পারেন—যদি তারা আগ্রহী হন এবং সময় ও শ্রম বিনিয়োগ করতে চান। 

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের সম্পর্কে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বলছে, শপথ নেয়া সংসদ সদস্যদের ১৮২ জনই (৬১ দশমিক ৭ শতাংশ) পেশায় ব্যবসায়ী। এর মধ্যে মহাজোট থেকে নির্বাচিত পেশায় ব্যবসায়ী আছেন ১৭৪ জন (৬০ দশমিক ৪১ শতাংশ) এবং ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচিত আছেন পাঁচজন। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য হওয়া তিনজন পেশায় ব্যবসায়ী। এখন একটি আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বা নিজেদের প্রধান কাজের ক্ষেত্রে যদি সংসদ সদস্যরা ভূমিকা পালন করতে না পারেন তাহলে কেন তারা সংসদ সদস্য হতে চাচ্ছেন? আর প্রায় ৬২ শতাংশ সদস্যই ব্যবসায়ী কেন? আইন প্রণয়নই যদি না করবেন তাহলে ব্যবসায়ীদের মাঝে আইনপ্রণেতা হওয়ার প্রবণতা কেন বাড়ছে? এ পদের কোনো নির্বাহী ক্ষমতাও নেই। আইন প্রণয়নের বাইরে তাদের যে দায়িত্ব রয়েছে সেটাও সংসদসংশ্লিষ্ট। বিভিন্ন কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে সংসদ সদস্যরা নির্বাহী বিভাগকে উপদেশ বা পরামর্শই দিতে পারেন। সরকারের যেকোনো ধরনের সিদ্ধান্ত বা কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্ব তাদের নয়, এ দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের। আইন প্রণয়ন বা সংসদসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সংসদ সদস্যদের প্রধান দায়িত্ব হলেও সেই কাজটিতেই তাদের দৃষ্টি কম। অনেক গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে তাদের ভূমিকা রাখতে দেখা যায় না। যার কারণে মাত্র কয়েক মিনিটে বড় বড় আইন পাস হতে দেখা যায়।

প্রকৃত বাস্তবতা হচ্ছে, যেকোনো পেশার মানুষ রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারেন। জনপ্রতিনিধিও হতে পারেন। এটি তাদের অধিকারের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, কোনো নির্দিষ্ট পেশার মানুষের রাজনৈতিক অন্য ধাপগুলোয় উল্লেখযোগ্য অবদান না রেখে সরাসরি সংসদ সদস্য হওয়ার আগ্রহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া এবং সংসদ সদস্য হতে পারাটাও। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, ব্যবসায়ীরা স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ বা সংসদ সদস্য হচ্ছেন না। ব্যবসায়ীরা মোটামুটিভাবে সংসদসহ রাজনৈতিক অঙ্গনকে তাদের দখলীভূত করেছেন। তারা এখন রাজনীতিটাকে বিনিয়োগে পরিণত করেছেন। বিনিয়োগের মাধ্যমে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করলে নানা সুবিধা অর্জন করা যায়। যে বিনিয়োগ করা হয় তার তুলনায় অনেক বড় বড় সুবিধা পাওয়া যায় এবং এক ধরনের মুনাফা অর্জন হয়। এটি এক ধরনের সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার কারণে রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। তাদের (ব্যবসায়ী) রাজনীতি কতটুকু জনকল্যাণমূলক সেটি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের যেসব দায়িত্ব রয়েছে সেগুলো যথাযথভাবে পালন করার দৃষ্টান্ত খুবই কম।

সরকারের কাঠামোর দিক থেকে পর্যালোচনা করলে বলা যায়, আইন বিভাগের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্যদের নির্বাহী দায়িত্ব পালনের কোনো সুযোগ নেই। এ দায়িত্বটা কেবল নির্বাহী বিভাগেরই। তবে মন্ত্রিসভার সদস্যরা একই সঙ্গে আইন বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের সদস্য হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে দ্বৈত ভূমিকার সুযোগ থাকে।

এখন যারা সুস্থ ধারার রাজনীতির ধারক-বাহক তারা এসব ব্যবসায়ীর কারণে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন। তাদের অনেকেই নিজেদের বিলুপ্তপ্রায় হিসেবেই ভাবছেন। যেসব ব্যবসায়ী রাজনীতিতে আসছেন ক্রমেই তাদের প্রভাব বাড়ছে, মুনাফা বাড়ছে, রাজনীতিকে পুঁজি করে তারা স্বার্থ হাসিল করছেন। যেটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি তৈরি করবে। এছাড়া অনেক সময় রাষ্ট্রীয় স্বার্থের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পায়। ফলে এটি দেশ ও গণতন্ত্রের জন্য সুখকর নয়।

রাজনীতির ময়দানে সংসদ সদস্যদের প্রভাব কতটুকু? সেই আলোচনায় যদি যাই তাহলে দেখতে হবে তারা আসলে কী করছেন? সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে সংসদ সদস্যদের কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে সেই চিত্র। করোনা মহামারীর সময় ত্রাণকাজে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ সরকারিভাবে ছিল না। প্রতিটি জেলায় ত্রাণ বিতরণে সমন্বয় করছেন একজন করে সচিব। সরাসরি দায়িত্বে ছিলেন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা থেকে জেলায় জেলায় যেসব ভার্চুয়াল সভা করেছেন সেখানে জেলা প্রশাসকরাই মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন। সংসদ সদস্যরা পাশে বসে থাকেন মাত্র। এসব নিয়ে নানা সময় বিভিন্নভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্যরা। অন্যদিকে নিজ দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকলে সংসদ সদস্যরা দলের মধ্যেও মাঝে মাঝে থাকেন খানিকটা উপেক্ষিত। আর যারা স্বতন্ত্র অথবা ছোট কোনো দল থেকে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে নির্বাচিত হন, তাদের ভূমিকা রাজনীতির মাঠে বর্তমান সময়ে নাম মাত্রই বলা যায়।

এবার দেখা যাক বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে এবং গ্রাম বা শহরে পাকা সড়ক নির্মাণে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা সম্পর্কে। গেল বছর বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের আয়োজনে এক সভায় জাতীয় সংসদে শুধু হ্যাঁ-না ভোট দিয়ে আইন পাসে ভূমিকার মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্যদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়ে আছে বলে অভিযোগ করেন একজন মহিলা সংসদ সদস্য। সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্যরাও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে চান। কিন্তু বরাদ্দে বৈষম্যের কারণে তাদের সে সুযোগ হয়ে ওঠে না। প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উন্নয়নকাজের জন্য কিছু থোক বরাদ্দ পেয়ে থাকেন। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী উন্নয়নকাজ স্থানীয় সরকার ও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের৷দায়িত্ব। সংসদ সদস্যরা শুধু পরিকল্পনায় থাকেন, বাস্তবায়নে তাদের ভূমিকা নেই।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকারের বড় বড় প্রকল্পে তাদের সুপারিশ এবং হস্তক্ষেপ থাকে। কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোন কাজ পাবে, কে পাবে না, সেগুলো ওইসব প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার চেয়ে সংসদ সদস্যদের সুপারিশ কিছু ক্ষেত্রে বেশি গ্রহণযোগ্য। পণ্যের বাজারে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে যেসব ব্যবসায়ী বাজার অস্থিতিশীল করছেন তাদের রক্ষায় সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের এগিয়ে আসতে দেখা যায়। ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ভাঙা অসম্ভব বলেও মন্তব্য করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী থেকে সংসদ সদস্য হওয়া একজন মন্ত্রী।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিক কারণে নানা রকম ক্ষমতা ভোগ করেন সমাজ ও রাষ্ট্রে। ভিআইপি, সিআইপিসহ বেশকিছু ক্যাটাগরিতে তাদের সুবিধা ও সম্মান দেয় রাষ্ট্র। এত কিছুর পর যখন একজন ব্যবসায়ী সংসদে অধিষ্ঠ হন, তখন তার নির্বাচিত আসনের রাজনৈতিক নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। আর ওই ব্যবসায়ীর ক্ষমতা, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। ফলে কখনো কখনো এসব সংসদ সদস্য হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। ফলে তারা অনেক আইন-কানুন, বিধিবিধান ভঙ্গ করেন। একই সঙ্গে তারা প্রভাব খাটিয়ে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য নানা সুবিধা নিশ্চিত করেন। ফলে নিজ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবসায়ের নীতি ও কাঠামো মতো পরিচালনা না করেই সাফল্য পেতে চান। যেটি দীর্ঘমেয়াদে ওই প্রতিষ্ঠানের জন্যও ক্ষতি। কারণ এ প্রক্রিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠান বেশি দূর এগোতে পারে না। যেটুকু এগিয়ে যায় তার পেছনে থাকে অসৎ পথ।

রাজনীতিবিদ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে এদের যোগাযোগ থাকে সামান্যই। তাই যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে তারা রাষ্ট্র বা জনগণের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ক্ষমতা তখন এককেন্দ্রিক হয়ে ওঠে এবং রাজনীতিবিদরা হয়ে যান অসহায়। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের গণতন্ত্র এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় জাতীয় স্বার্থ। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম থাকায় ব্যবসায়ী থেকে সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী হয়ে যাওয়া এসব নেতার পক্ষে আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং কূটনীতির টেবিলে দেশের স্বার্থ নিয়ে কথা বলার যোগ্যতাও থাকে না খুব একটা। তখন আঞ্চলিক রাজনীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাষ্ট্র বড় ধরনের বিপদে পড়ার শঙ্কা দেখা দেয়। তখন রাজনীতিবিদ হিসেবেও এসব মানুষ বেশি দূর এগোতে পারেন না। এতে করে নানা অনিয়মে জড়িয়ে ব্যবসায়ী থেকে সংসদ সদস্য হওয়া এসব মানুষ ব্যবসায়ী হিসেবে এবং রাজনীতিবিদ হিসেবে কোনো জায়গাতেই সফলতার শীর্ষে অবস্থান করতে পারেন না। পক্ষান্তরে তাদের অনিয়মের কারণে প্রকৃত ব্যবসায়ী এবং প্রকৃত রাজনীতিবিদ দুই দিকের মানুষই চরম ক্ষতির মুখে পড়েন। যেটি একটি প্রজন্ম, একটি সমাজ এবং একটি দেশকে বিপদের মধ্যে ফেলে দেয়।

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা সংসদ সদস্য হবেন, একাদশ জাতীয় সংসদের মতো যেন ব্যবসায়ীর আধিক্য না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এখানে শুধু ভোটারদের নজর দিলে হবে না, রাজনৈতিক দলগুলোকেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে, তারা প্রকৃত রাজনীতিবিদ ছাড়া কাউকে দলীয় নমিনেশন দেবেন না। দলের ত্যাগী রাজনীতিবিদদের প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য নমিনেশন প্রদান করতে হবে। অন্যথায় দেশের গণতন্ত্র, রাজনীতি এবং সর্বোপরি জাতীয় স্বার্থ চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তোফাজ্জল হোসেন: সংবাদকর্মী

আরও