তরুণদের অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের সুযোগ বাংলাদেশে দ্রুত ফুরিয়ে আসছে

বাংলাদেশ আজ এক জটিল বাঁকের সামনে দাঁড়িয়ে। এতদিন জনমিতিক লভ্যাংশকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির প্রধান ভরসা হিসেবে দেখা হয়েছে। অথচ জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, সেই সুযোগের সময় এখন শেষ পর্যায়ে। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বাড়ার মাধ্যমে পাওয়া এ লভ্যাংশ ২০২০-এর দশকের শুরুতেই সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে বলে জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অনেকের মতে, ২০৩১-৩২ সাল নাগাদ এ সুযোগ আর থাকবে না। অর্থাৎ তরুণ জনশক্তিকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরের যে সুযোগ বাংলাদেশ পাচ্ছে তা আগে যতটা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়ে অনেক দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

জাতিসংঘের সংজ্ঞা অনুযায়ী ১৫-২৪ বছর বয়সীদের ‘তরুণ’ ধরা হয়। সে হিসাবে বিশ্বে এখন প্রায় ১২৮ কোটি তরুণ। ২০৩৪ সাল নাগাদ এ সংখ্যা প্রায় ১৩৬ কোটিতে পৌঁছাবে। বাংলাদেশে এ বয়সীদের সংখ্যা গত বছরও ছিল ৩ কোটি ৩৩ লাখ। এদিকে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলছে, এ সংখ্যা এখন থেকেই কমতে শুরু করেছে। ২০৫০ সালের মধ্যে তা নেমে দাঁড়াবে ৩ কোটি ১০ লাখে। তখন মোট জনসংখ্যায় তরুণদের অংশ ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে হবে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ।

জাতিসংঘ ও ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন প্রায় ১৭ কোটি ৭৮ লাখ, যার মধ্যে ১৫-৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী প্রায় ৬৫ শতাংশ। কিন্তু এ অনুপাতও দ্রুত বদলাচ্ছে। বর্তমানে দেশের প্রতি ১০ জনের একজনের বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি। জনসংখ্যাবিজ্ঞানে প্রচলিত মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো দেশের মোট জনসংখ্যার ১০-১২ শতাংশ প্রবীণ হয়ে গেলে ওই দেশকে বার্ধক্য জনসংখ্যার দেশ হিসেবে ধরা হয়। সেই হিসাবে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ এ তালিকায় ঢুকে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন জনসংখ্যাবিদরা।

২০৫০ সালের মধ্যে দেশের ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীর হার ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ইউএনএফপিএ। আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের হিসাবে সেই হার ৩০ শতাংশও ছাড়িয়ে যেতে পারে। জাপানের মতো ধনী দেশ আগে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হয়ে পরে বার্ধক্যের চাপ সামলেছে; বাংলাদেশের সামনে উল্টো পরিস্থিতি তৈরি হতে যাচ্ছে—কাঙ্ক্ষিত আয় ও প্রবৃদ্ধির পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই বার্ধক্যের চাপ চলে আসতে পারে।

দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের দ্বৈত সংকট

এ সংকুচিত হয়ে আসা সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের এক দ্বৈত সংকট। জাতিসংঘের এক হিসাবে দেশের একটি বড় অংশ তরুণ শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণ—কোনোটির সঙ্গেই যুক্ত নন। তরুণীদের ক্ষেত্রে এ হার আরো বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী দেশে বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখ ৩০ হাজার। বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, গত এক দশকে শ্রমবাজারে প্রবেশ করা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণের মধ্যে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৮৭ লাখের। বাকি প্রায় ৫৩ লাখ এখনো কাজের বাইরে রয়ে গেছেন।

শ্রমবাজার বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ হলো, শিল্প ও সেবা খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা থাকলেও শিক্ষা-প্রশিক্ষণের সঙ্গে শ্রমবাজারের বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের অমিল রয়ে গেছে। ফলে একদিকে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যেও বেকারত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে শিল্প খাতে দক্ষ জনবলের সংকটও কমছে না। জনসংখ্যাবিদদের সতর্কবার্তা হলো দেশের কর্মক্ষম মানুষকে এখনই কাজে লাগানো না গেলে জনমিতিক লভ্যাংশ উল্টো বোঝায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সম্ভাবনা এ সংকটকে আরো জরুরি করে তুলেছে। উত্তরণের পর বাণিজ্য সুবিধার একটি অংশ হারানোর ঝুঁকি থাকায় প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে তরুণ জনশক্তির উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ছাড়া উপায় নেই। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৪০ শতাংশ কর্মীর নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিকেন্দ্রিক দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বাড়বে। বাংলাদেশের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে না পারলে তরুণদের একটি বড় অংশ চিরতরে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা থেকেই যায়।

সম্ভাবনার অন্যদিক

এ কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও তরুণদের সম্ভাবনা উবে যায়নি। তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, নতুন উদ্যোগ, অনলাইন ব্যবসা, সামাজিক উদ্যোগ এবং কৃষিভিত্তিক উদ্ভাবনে বাংলাদেশের তরুণদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ফ্রিল্যান্সিং কর্মশক্তির একটি অংশ এখন বাংলাদেশেই গড়ে উঠেছে, যা সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে অবদান রাখছে। তৈরি পোশাক শিল্পে তরুণ, বিশেষত তরুণী শ্রমিকদের অংশগ্রহণ অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি; ব্যাংকিং, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতেও তরুণীদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা এখানে একটি বাড়তি সম্ভাবনার কথাও বলছেন। নারীদের শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে আরো পূর্ণাঙ্গভাবে যুক্ত করা গেলে অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে। কিন্তু বাল্যবিবাহ, কিশোরী মাতৃত্ব ও মজুরিবৈষম্য এখনো সেই সম্ভাবনার পথে বড় বাধা।

সরকারও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণ উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য কর-সুবিধা ও সহজ অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু বিচ্ছিন্ন প্রকল্প দিয়ে এ সংকুচিত সময়ে সুফল মিলবে না। দক্ষতা, অর্থায়ন, প্রযুক্তি, বাজার ও পরামর্শ—এ পাঁচ উপাদান একসঙ্গে নিশ্চিত করা গেলেই তরুণদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারে।

প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে শিক্ষণীয়

ভারত তরুণ জনগোষ্ঠীকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি নীতি নিয়েছে। দেশটির জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশির বয়স ৩০ বছরের নিচে, আর ২০১৫ সালে চালু হওয়া দক্ষতা উন্নয়নের জাতীয় কর্মসূচির মাধ্যমে কোটি কোটি তরুণকে শিল্পের চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষতা প্রতিযোগিতা আয়োজন করে বিজয়ীদের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করা হয়, ফলে দক্ষতা শুধু প্রশিক্ষণ নয়, জাতীয় মর্যাদার বিষয় হয়ে উঠেছে।

ভিয়েতনামও তথ্যপ্রযুক্তি রূপান্তর ও প্রযুক্তি শিক্ষায় তরুণদের অগ্রাধিকার দিয়েছে, স্থানীয় সরকার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত তরুণদের মতামতকে নীতিনির্ধারণের অংশ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরে আবার জীবনব্যাপী দক্ষতা উন্নয়নের একটি সফল কর্মসূচি চালু আছে, যেখানে শিক্ষার্থীর পাশাপাশি কর্মজীবীরাও নিয়মিত নতুন দক্ষতা অর্জনে আর্থিক সহায়তা পান। এসব দেশের অভিজ্ঞতা একটি বিষয় স্পষ্ট করে—তরুণ উন্নয়ন কোনো একক মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়; শিক্ষা, শিল্প, অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সমন্বিত জাতীয় কৌশলেই এখানে ফল মেলে।

বাংলাদেশেও এ দিকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) গঠনের মাধ্যমে, যা দেশী-বিদেশী শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও দক্ষতা সনদায়নের কাজ করছে। তবে জনসংখ্যা বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করেন, জনসংখ্যা নিয়ে সুস্পষ্ট ও সমন্বিত পরিকল্পনার জন্য পৃথক একটি কমিশন বা মন্ত্রণালয় গঠনের কথাও ভাবা দরকার। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তর করতে বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণও সমান জরুরি।

বেসরকারি খাতের সম্ভাবনাময় দৃষ্টান্ত

তরুণদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকেও আরো সক্রিয় হতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে প্রাইম ব্যাংকের একটি উদ্যোগ লক্ষণীয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক খাতের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরির লক্ষ্যে ব্যাংকটি ‘প্রাইম একাডেমিয়া’ নামে একটি প্লাটফর্ম গড়ে তুলেছে, যার আওতায় সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচালিত হচ্ছে ‘এমপাওয়ারিং ইয়ুথ’ কর্মসূচি। প্রতিটি আয়োজনে শিক্ষার্থীরা আর্থিক সাক্ষরতা, অর্থ ব্যবস্থাপনা, ক্যারিয়ার প্রস্তুতি ও নেতৃত্ব দক্ষতা নিয়ে ব্যাংক খাতের পেশাজীবীদের সরাসরি মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, কোথাও কোথাও মক ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে বাস্তব নিয়োগ প্রক্রিয়ারও পূর্বাভাস পাচ্ছেন। সব অংশগ্রহণকারীকে সনদ দেয়া হচ্ছে, আর যারা ব্যতিক্রমী প্রশ্ন তুলছেন বা নতুন আইডিয়া উপস্থাপন করছেন, তাদের আলাদাভাবে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগ প্রথাগত সেমিনারের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে।

এ আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ক্যাম্পাসে বসেই শিল্প খাতের বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, আর অনেক শিক্ষার্থীর মনে পেশাদার জগৎ নিয়ে যে সংকোচ বা অনিশ্চয়তা কাজ করে, তা কাটিয়ে ওঠার একটি বাস্তব ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। বিচ্ছিন্ন কোনো একটি আয়োজন নয়, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে একই কাঠামোয় এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার চর্চাটিই এখানে মূল কথা। এটি তরুণদের কর্মজীবনের প্রস্তুতিকে একবারের আয়োজন নয়, বরং একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় পরিণত করছে। এ ধারাবাহিকতাই প্রাইম ব্যাংকের এ উদ্যোগকে অন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুসরণযোগ্য একটি মডেল করে তুলতে পারে।

এখন কী করা জরুরি

বাংলাদেশের তরুণদের সম্ভাবনাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ দেয়ার সময় এখন আর বেশি নেই। কয়েকটি বিষয়ে দ্রুত অগ্রাধিকার দেয়া দরকার।

প্রথমত, বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক উদ্ভাবন কেন্দ্র ও নতুন উদ্যোগের জন্য তহবিল সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে উদ্ভাবনী ধারণা ব্যবসায় রূপ নিয়ে সরাসরি প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে।

দ্বিতীয়ত, শিক্ষা ও শিল্পের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে তুলতে হবে—বিশেষ করে পাঠ্যক্রম প্রণয়নে শিল্প খাতের অংশগ্রহণ, বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ ও যৌথ গবেষণা বাড়িয়ে।

তৃতীয়ত, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সাইবার নিরাপত্তা, ইংরেজি, যোগাযোগ দক্ষতা ও আর্থিক সাক্ষরতাকে মূলধারার শিক্ষার অংশ করতে হবে।

চতুর্থত, জাতীয় পর্যায়ে দক্ষতা প্রতিযোগিতা চালু করে মেধাবীদের চিহ্নিত ও পুরস্কৃত করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে, যা জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব।

পঞ্চমত, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শুধু ঋণদাতা নয়, দক্ষতা উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে আরো সক্রিয় হতে হবে, যাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরা মূলধনের অভাবে থমকে না যান।

সবচেয়ে জরুরি হলো নারীর পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ বাড়ানো, যাতে আগামী দিনের কর্মশক্তি সংখ্যায় নয়, সক্ষমতায়ও প্রস্তুত থাকে।

জনমিতিক লভ্যাংশ চিরস্থায়ী নয়, আর বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ সত্যটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পষ্ট। যে সময়টুকু হাতে আছে, তাতে যদি তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা না যায়, তাহলে আজকের সম্ভাবনাই আগামী দিনের অর্থনৈতিক চাপ হয়ে উঠতে পারে, পরিণত হতে পারে বার্ধক্যের অর্থনীতিতে। আর সময়মতো সঠিক নীতি ও সমন্বিত উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে এ তরুণ প্রজন্মই হয়ে উঠতে পারে অর্থনীতির প্রকৃত অংশীদার এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ভরসা।​​​​​​​​​​​​​​​​

এম এম মাহবুব হাসান: ব্যাংকার, উন্নয়ন গবেষক ও লেখক

আরও