প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া-চীন সফর এক ধরনের কূটনৈতিক পরিপক্বতা

এম হুমায়ুন কবীর, কূটনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর করেন। ১৯৮০ সালে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। এছাড়া বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের আদ্যোপান্ত নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমিরুল আবেদিন

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর মালয়েশিয়ায় প্রথম বিদেশ সফর করছেন তারেক রহমান। ওই সফর শেষে তিনি এখন চীনের পথে। প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় সফরকে ঘিরে কৌতূহল আছে, আবার অনেক প্রত্যাশাও আছে। এগুলোকে কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন?

সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের এ সফরটি নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তোলা। এ কাজের জন্য যেখানেই বাণিজ্যিক চুক্তি বা সমঝোতার সুযোগ পাওয়া যাবে ও নতুন বাজার আবিষ্কার করার কাজটিও সফল হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতি, ভূরাজনীতি এমনকি বৈদেশিক কর্মসংস্থান নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এ সফরের আলাদা তাৎপর্য আছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে দুইদিনের সফরে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতায় শ্রমবাজার ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোর পেয়েছে। আবার চীন আমাদের বড় উন্নয়ন অংশীদার হওয়ায় তাদের সঙ্গেও আমাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক বিষয় রয়েছে। যেমন অনেক মেগা প্রকল্পের অর্থায়ন ও নির্মাণ ব্যবস্থাপনায়ও রয়েছে চীন। নতুন সরকারের এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংযোগ বাড়বে। সেক্ষেত্রে কূটনৈতিক সক্ষমতাও বাড়বে।

এখন অনেকে বলতে পারেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সফর শুরুর ক্ষেত্রে ভারত, যুক্তরাষ্ট্রের মতো উদীয়মান বা পরাশক্তিগুলোকে কেন বাছাই করা হলো না? প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়াকেই প্রথম সফরের গন্তব্য হিসেবে বাছাই করলেন। এটি আসলে একধরনের বার্তাও। বাংলাদেশ যে এখন ভূরাজনৈতিক মেরুকরণের বদলে অর্থনৈতিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এটি ইতিবাচক দিক। কারণ বৈদেশিক নীতিতে কোনো একক দেশ বা শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করা যাবে। প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক বাণিজ্যে কূটনৈতিক কার্যকলাপকে বহুমুখী করতে হয়। সেখানে বাণিজ্যিক স্বার্থ ও স্থিতিশীল অবস্থাটিকে গুরুত্ব দিতে হয়। ক্ষমতা নেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম বিদেশ সফর করার ক্ষেত্রে বড় অর্থনীতির দেশে যাননি, বরং তিনি নিজেই মালয়েশিয়া ও চীনকে বাছাই করেছেন। এটি সুচিন্তিত কূটনৈতিক ভারসাম্য।

বিএনপি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল না। এবার নতুন সরকার গঠনের পর তারা ভঙ্গুর অর্থনীতি, তারল্য সংকট সামলাতে হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর আমাদের জন্য ইতিবাচক কীভাবে হতে পারে?

অনেকদিন পর শাসন ব্যবস্থায় ফিরেছে বলেই সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ বহুমুখী। কিন্তু কূটনৈতিক কার্যক্রম সরকার পালাবদলের কারণে থমকে যায় না। সেখানে শূন্যতা থাকতে পারে। আপাতত এ বিষয়টিকে ভেবে চুপ থাকার সুযোগ নেই। বৈদেশিক সহযোগীদের আস্থা গড়ার বিষয়টিকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রথমেই মালয়েশিয়ার কথা বলব। মালয়েশিয়া একটি উদীয়মান মুসলিমপ্রধান এশীয় দেশ। আবার দেশটি আসিয়ানেরও সদস্য। মালয়েশিয়ায় গেলে সহজেই আসিয়ান দেশগুলোতে যাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর এক ধরনের কূটনৈতিক পরিপক্বতা। বিশেষত দীর্ঘদিন ধরেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে অনেকের নানা অভিযোগ রয়েছে। সেগুলোর নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার প্রসারিত করা, বিনিয়োগ আকর্ষণ, যারা এখন ওখানে কাজ করছেন তাদের সব সুযোগ-সুবিধা দেয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। বিশেষত দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আমাদের অর্থনীতির জন্য একটি ভালো বার্তা। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য এক্সচেঞ্জ অব নোটস (এওএন) বিনিময় হয়েছে। এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও একটি ইতিবাচক বিষয়। নোট অব এক্সচেঞ্জ কাউন্টার টেররিজমের অংশ হিসেবেও কাজ করে। অর্থাৎ এ সমঝোতা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুর বিষয়েও এগোনোর সুযোগ তৈরি হবে।

মালয়েশিয়া সফরের পরই প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাবেন। বাংলাদেশ কী ধীরে ধীরে চীনের দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে? চীনের এ সফরের মাধ্যমে আমরা কী পেতে পারি?

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার এ সময়ে উন্নয়ন অংশীদারত্ব অটুট রাখার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক সার্বভৌমত্বের মাঝে নিখুঁত ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। চীনের সঙ্গে আমাদের বহুমুখী সম্পর্ক আছে। বিশেষত চীন থেকে বিগত সরকার বিভিন্ন সময়ে ঋণ নিয়েছে। চীন থেকে শতকোটি ডলারের বিনিয়োগ ও ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে প্রকল্প বাছাই ও সুদের হারের বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক দরকষাকষির প্রয়োজন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বা রেল নেটওয়ার্কের মতো মেগা প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা নেয়ার সময় বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা এবং জাতীয় স্বার্থকে সবার ওপরে রাখতে হবে।

আমাদের সম্পর্কে অনেকের কিছু নেতিবাচক ধারণা আছে। এ মালয়েশিয়ার কথাই ধরা যাক। অতীতে মালয়েশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তখন অনেক শ্রমিক বিপাকে পড়েন। মূলত প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মূল সাফল্য নির্ভর করবে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়ার ওপর। কেবল কোটা বাড়ানো নয়। চীনের ক্ষেত্রে সেমিকন্ডাক্টর বা আইটি খাতের উচ্চ প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ অংশীদার হতে পারছে কিনা, এটা নিশ্চিত করাই একটা বড় চ্যালেঞ্জ। মালয়েশিয়ার মাধ্যমে আসিয়ানের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার সহজ করা এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আসিয়ান ব্লক যেন মিয়ানমারের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করে, সেই কূটনৈতিক লিভারেজ তৈরি করা।

অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে কর্মী নিয়োগের সিন্ডিকেট প্রথা দূরীকরণ, বৈধকরণের প্রক্রিয়া সহজ করা এবং সেমিকন্ডাক্টর ও হালাল অর্থনীতির মতো নতুন ও উন্নত খাতে বাংলাদেশী দক্ষ জনশক্তির প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার এজেন্ডা প্রাধান্য পেয়েছে। একই সঙ্গে, আসিয়ানের আসন্ন চেয়ারম্যান হিসেবে মালয়েশিয়ার কাছ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুতে শক্তিশালী আঞ্চলিক ও রাজনৈতিক সমর্থন আদায় করা ছিল এ সফরের আরেকটি সফল কূটনৈতিক দিক।

আবার বেইজিংয়ের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়ালেই এমনটা ভাবার কারণ নেই যে বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট ব্লকে যোগ দিচ্ছে। চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি ওয়াশিংটন, ব্রাসেলস বা দিল্লির সাঙ্গেও সম্পর্কের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখাটাই হবে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তার পরও চীনের সঙ্গে আমার বাণিজ্য আছে, ঋণ পাওয়ার সুযোগের বিষয়টি আছে। আবার চীনের সঙ্গে যদি আমরা কয়েকটি ভালো চুক্তি করতে পারি তাহলে তার সুফলভোগী হবে দেশের মানুষ। চীনের সফরটিতে আসলে আমরা কী পাব তা সফরে বৈঠকের পর জানা যাবে। আপাতত এ ক’টি বিষয়টি অনুমান করা যায়।

দেশে বিদেশী বিনিয়োগের অবস্থা নাজুক। এমন অবস্থায় কূটনৈতিক পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সক্রিয়তা জরুরি। বিদেশী বিনিয়োগ সম্ভাবনা অনুধাবন করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কূটনৈতিক কার্যক্রম কেমন হওয়া উচিত?

আমরা তো বাণিজ্যিক কূটনীতির তাগাদা বহুদিন ধরেই দিয়ে আসছি। তবে এজন্য কাজ শুরু করতে হবে অভ্যন্তরে। দক্ষ শ্রমিক তৈরি করতে পারলে কূটনীতিকরা জোগানের বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারবেন। দেশের জনশক্তি রফতানির বড় বাজার মালয়েশিয়া। অথচ মালয়েশিয়ায়ই শ্রম রফতানি নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। এ বৈঠকে সেগুলোর নিরসন হয়েছে তা আশা করাই যায়। আবার মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের যে সমঝোতা হয়েছে সেগুলোও বাণিজ্যের জন্য উপযুক্ত। এবার চীনের ক্ষেত্রে আসা যাক। দেশের চলমান ও ভবিষ্যৎ বড় অবকাঠামো কিংবা যোগাযোগ প্রকল্পে চীনা বিনিয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। তবে এ অর্থ যেন দ্রুত তারা পান তা নিশ্চিত করার জন্যই দরকষাকষি করতে হবে। আমাকে তো আগে দেখাতে হবে আমি কাজ করছি। আমরা তো কাজ করছিই। এভাবেই চীনের প্রতি বিনিয়োগ ও ঋণ দেয়ার আস্থা বাড়াতে হবে।

এ সফরের মাধ্যমে কূটনৈতিক ভারসাম্য ঠিক কতটা রক্ষিত হয়েছে বলে করছেন?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। এ সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশ নেবেন। তারপর বেইজিং ফিরে আরেক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। বিশেষত চীনের এ সফরের গুরুত্ব বহুমাত্রিক। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালে চীনের সঙ্গে যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া যে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছিলেন, তারই ঐতিহাসিক পথরেখায় তারেক রহমানের এ সফর বেইজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

সফরে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো খাতে প্রায় ১৫-১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা হলো দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’। উত্তরবঙ্গের অর্থনীতি ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনতে এ প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা ও অর্থায়ন নিশ্চিত করা ঢাকার জন্য একটি বিশাল কৌশলগত বিজয় হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া দেশব্যাপী রেল নেটওয়ার্ক ও পরিবেশবান্ধব সবুজ অবকাঠামো বিনির্মাণে চীনের দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি আকর্ষণে এ সফর অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ কোনো একক বলয়ের ওপর অতি নির্ভরশীল না থেকে নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিচ্ছে। প্রথম সফরে দিল্লি বা বেইজিংয়ের সরাসরি প্রতিযোগিতায় না ঢুকে মালয়েশিয়াকে প্রথম স্টপ হিসেবে বেছে নেয়া এবং পর পরই বেইজিংয়ে মেগা অর্থনৈতিক এজেন্ডা নিয়ে হাজির হওয়া—প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ এখন ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ নীতির একটি বাস্তবসম্মত ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক সংস্করণ প্রয়োগ করছে। প্রধানমন্ত্রীর এ প্রথম বিদেশ সফর যদি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের বন্ধ দুয়ার পুরোপুরি খুলে দিতে পারে এবং বেইজিং থেকে তিস্তা প্রকল্পের মতো বড় অবকাঠামো তহবিলের সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি আনতে পারে, তবে তা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।

আমাদের কূটনীতিকদের বাণিজ্যিক অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে ঘাটতি কোথায়? বলা হয় যোগ্য ও দক্ষ লোকদেরই এ মন্ত্রণালয়ে নিযুক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে বাণিজ্যিক কূটনীতির জন্য কেমন কৌশল অবলম্বন করা যায়?

দেশের ভেতরেই তো বিনিয়োগ নেই। আপনাকে যখনই কূটনৈতিক বা বহিরাগত কিছু নিয়ে চিন্তা করত হবে তখন স্বভাবতই অভ্যন্তরীণ সক্ষমতাও দেখাতে হবে। তাই আমাদের সমাধান করতে হবে ভেতর থেকে। অর্থাৎ নিজ সক্ষমতা গড়তে হবে। আমরা এমন এক বৈশ্বিক অবস্থায় আছি যেখানে দরকষাকষির জন্য নিজ নিজ সক্ষমতাকেও জাহির করতে হয়। যেমন চীনের সেমিকন্ডাক্টর, টেক ইন্ডাস্ট্রি থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রেই তারা নিজেরাই উৎপাদনকারী। যখন অর্থনৈতিকভাবে আমাদের নিজস্ব দরকষাকষির সুযোগ থাকবে তখন আমাদের কূটনৈতিক চ্যানেলও বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে পারবে।

দ্বিতীয়ত, কূটনীতি পর্যায়ে নিয়মিত বাজার অনুসন্ধান ও সুযোগের বিষয়ে ভাবতে হবে। তবে অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ না থাকলে ভালো কূটনৈতিক কৌশলেও ফল মিলবে না। এজন্যই আমাদের ভেতর থেকে কাজটা শুরু করতে হবে। একদিকে অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বচ্ছ করতে হবে এবং অন্যদিকে তাকে ব্র্যান্ড হিসেবে উপস্থাপনের দায়িত্ব কূটনীতিকরা রাখবেন। এটা মনে রাখতে হবে, কূটনীতিকরা ব্যবসা করে দেন না। তারা সুযোগ গড়েন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরেও তাই কূটনীতিকদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শের বড় ভূমিকা থাকবে। সেগুলো আমরা সফর শেষে আরো ভালোভাবে বিশ্লেষণের সুযোগ পাব।

আরও