এখন আবার ক্ষণিকের জন্য একটু পেছনের দিকে ফিরে যেতে চাই। ১৯৭৪ সালের বন্যার সময় আমীন বাজারের উত্তর দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বেশকিছু জায়গা পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে রাস্তা বন্ধ ছিল মাস খানেক। আমরা জাবি ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা যাওয়া-আসা করতাম গাজীপুর ও টঙ্গী হয়ে। যেতে-আসতে ৪ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগত। তখন আশুলিয়া হয়ে সাভার-টঙ্গী রাস্তার নাম-নিশানাও ছিল না। ওই সময় আমি মাত্র একদিনই ঢাকা গিয়েছিলাম। সেদিন স্বচক্ষে দেখেছিলাম ডাস্টবিনে কঙ্কালসার ভোখা-নাঙ্গা মানুষের উচ্ছিষ্ট কুড়িয়ে খাওয়ার দৃশ্য! এ দুর্ভিক্ষই ছিল তত্কালীন সরকারের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব তৈরির অন্যতম নিয়ামক।
একই সময় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আরেকটা অঘটন ঘটেছিল। বিদ্যুৎ
সরবরাহ বন্ধ ছিল প্রায়
তিন সপ্তাহ।
বিদ্যুতের অভাবে
গভীর নলকূপ
সঙ্গে সঙ্গে
বন্ধ হয়ে গেল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে
সব পানির
ট্যাংক খালি, তারপর বাথরুমের
কোনো কলেই আর জল আসে না। টয়লেট-ফ্ল্যাশ
অকেজো হয়ে পড়ল। হলের মূল ভবন ও ডাইনিং
রুমের মাঝখানের
মাটির নিচের
পানির মজুদ খুলে দেয়া হলো। এতে নাওয়া-খাওয়া
চললেও টয়লেটগুলো
সব প্রায়
ব্যবহারের অনুপযোগী
রয়েই গেল। মেথরদের বাড়তি
কাজের আর সীমা রইল না। বালতি
দিয়ে ওপরে পানি টেনে তুলে তারা প্রতিদিন টয়লেট
পরিষ্কার করতেন,
তার পরও নাক-মুখ বন্ধ করেই ওই অঞ্চল
পাড়ি দিতে হতো। আমার জাবিজীবনের ছয় বছরে এমন ‘কারবালা’র মুসিবতে ওই একবারই পড়েছিলাম।
সুখে-দুঃখে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন কাটলেও দুঃখের চেয়ে সুখ যে বেশি ছিল, একথা বলতেই হয়। এবার বিবৃত করব সে সময়কার কিছু আনন্দের স্মৃতি। শুরু করছি জাকসুর দুই অনুষ্ঠানে দুই উপাচার্যের মজার কথামালা দিয়ে। আমরা ক্যাম্পাসে আসার কয়েক দিনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের তরফ থেকে আমাদের নবাগত সংবর্ধনা দেয়া হলো। ওই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান। অনুষ্ঠানের মূল বক্তা জাকসুর সাধারণ সম্পাদক শাহ্ বোরহান উদ্দিন রোকন। রোকন ভাই অত্যন্ত সাহসী এবং তেজোদীপ্ত এক টগবগে তরুণ। জাসদ ছাত্রলীগ করতেন। তিনি তার বক্তৃতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে এটা নেই, ওটা নেই বলে এক লম্বা ফিরিস্তি দিলেন। মুহুর্মুহু করতালির মাঝে উপাচার্যের সামনেই তাকে সরাসরি অভিযুক্ত করে উত্তপ্ত বক্তব্য রাখলেন। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হলো। আমি অধীর আগ্রহে বসে আছি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বেসর্বা অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসানের জবাব শোনার জন্য। স্যার তার সমাপনী বক্তব্য শুরু করলেন এভাবে, ‘আজকের এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত সহকর্মীবৃন্দ ও আমার প্রিয় ছেলেমেয়েরা।’ বুঝতে পারলাম, ‘আমার প্রিয় ছেলেমেয়েরা’ বলার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে উত্তেজনার আগুন অর্ধেক নিভে গেল। এরপর তিনি এক নতুন তত্ত্ব নিয়ে হাজির হলেন এবং বললেন, ‘ছাত্রছাত্রী-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলে মিলেই কর্তৃপক্ষ এবং কর্তৃপক্ষ যে সঠিক পথে আছে তার প্রমাণ আমরা পরস্পরের সমালোচনা করতে শিখেছি।’ এটুকু বলার সঙ্গে সঙ্গে ময়দানে যেটুকু অসন্তোষ অবিশিষ্ট ছিল তাও হাওয়া হয়ে গেল। প্রথম দিনই বুঝে গেলাম অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান একজন ঝানু প্রশাসক বটে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার গোটা জীবনে আমি অনেক জ্ঞানী ও গুণীজনের সংস্পর্শে এসেছি, তাদের বেশ কাছে থেকে দেখেছি, তাদের মূল্যবান সব কথা শুনেছি। কারো মজার মজার কথায় হেসেছি, কারো কথা শুনে শিখেছি, কারো কথা থেকে আবার একসঙ্গে জ্ঞান ও বিনোদন দুটোই পেয়েছি। তার মধ্যে যে কয়টা মনে আছে, আপনাদের উদ্দেশে এখন তাই নিবেদন করছি।
যে সময়ের কথা বলছি তখন আমি প্রথম বর্ষের ছাত্র। কোনো এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী। তিনি যখন বক্তব্য রাখেন তখন তার পাশে বসা ছিলেন আমাদের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান। বক্তৃতার এক পর্যায়ে প্রধান অতিথি মহোদয় বললেন, ‘তোমাদের ভাইস চ্যান্সেলর সাহেবকে দেখলেই আমার ঈর্ষা হয়, কারণ তার ছাত্র-ছাত্রী মাত্র সাড়ে ৫০০’, আর আমার ২০ হাজার। এখানেই শেষ নয়, আমার প্রতিটি ছাত্র একেকটি জ্বলজ্যান্ত সমস্যা।’ শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সবাই হেসে উঠলাম।
এর কিছুদিন পর একই রুমে আরেকটা সভা হচ্ছে। অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনিসুর রহমান। সংক্ষেপে বক্তৃতা শেষ করে তিনি বললেন, ‘কথা আর বাড়াতে চাই না, কারণ ইদানীং
স্কুল-কলেজে, মাঠে-ঘাটে প্রচুর বক্তৃতা হচ্ছে, ইতোমধ্যে এর প্রান্তিক উপযোগিতা শূন্যের কোটায় চলে এসেছে, আমি তাকে ঋণাত্মক জমিনে ঠেলে দিতে চাই না।’
আরেকবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির এক জমজমাট অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে এসেছেন বড় বড় সাংবাদিক। তাদের মধ্যে আলোচনায় অপ্রত্যাশিতভাবে তখনকার উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়ে গেল। ওই বিতর্কে অনেকে অনেক কথাই বলেছিলেন, তার কোনো কিছুই আমার মনে নেই, তবে তরুণ ও জনপ্রিয় সাংবাদিক হেদায়েত হোসেইন মোর্শেদের একটা কথা আমার এত ভালো লেগেছিল যে এখনো ভুলিনি। তিনি বলেছিলেন, ‘উদাহরণ কখনো যুক্তি হতে পারে না।’ আমার মতে, উদাহরণ যুক্তি নয়, তবে যুক্তিকে নিঃসন্দেহে জোরদার করে। একই অনুষ্ঠানে মোস্তাফা জামান আব্বাসীও উপস্থিত ছিলেন, সব শেষে তিনি গান গাইলেন, ‘...মঙ্গলার মা-ও আগুন জ্বালো, মশা মারি—পুঁই পুঁই করে...’
তার আরো পরে অন্য একটি নবাগত সংবর্ধনার
কথা। এবার প্রধান অতিথি
হয়ে এসেছেন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবুল ফজল। তিনি তার বক্তৃতায়
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে উপলক্ষ করে বলেছিলেন,
‘নতুনের যেমন অনেক সমস্যা
থাকে, তেমনি
তার আবার একটা বাড়তি
সুবিধাও আছে, কারণ নতুনকে
পুরাতনের জীর্ণতা
বয়ে বেড়াতে
হয় না।’ রাজনীতি প্রসঙ্গেও
তিনি একটা সুন্দর কথা বলেছিলেন, ‘সরকার
এবং বিরোধী
দল গণতন্ত্রের
দুই পা। এক পা ছাড়া যেমন শরীর বিকলাঙ্গ,
তেমনি বিরোধী
দল ছাড়া গণতন্ত্র অচল, কারণ গণতন্ত্রের
সূতিকাগার বিলেতে
সরকার ও বিরোধী দলকে যথাক্রমে বলা হয় Her Majesty’s Government and Her Majesty’s Opposition.’
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত অন্য এক সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কবি শামসুর রাহমান। সাংবাদিক সমিতির সদস্য হিসেবে আমাকে বলা হলো, অনুষ্ঠানের দিন ঢাকা গিয়ে কবিকে নিয়ে আসতে হবে। আমি খুশিমনে রাজি হয়ে গেলাম। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি লাল গাড়ি ছিল। যথাসময়ে ড্রাইভারসহ লাল গাড়ি নিয়ে আমি প্রধান অতিথিকে আনতে গেলাম তত্কালীন ‘দৈনিক বাংলা’ ভবনে। তিনি তখন ওই পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং আমি ছিলাম একই ভবনে অবস্থিত সে সময়ের ইংরেজি দৈনিক ‘মর্নিং নিউজ’ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। সেদিন ড্রাইভারচালিত মোটরগাড়িতে করে যাওয়া-আসাটা আমার জন্য দারুণ আনন্দদায়ক একটি ব্যাপার ছিল এবং এর ফলে আমার উপলব্ধিতে একটি নতুন অভিজ্ঞতাও যুক্ত হয়েছিল। জীবনে প্রথমবারের মতো অনুভব করেছিলাম, ‘মুড়ির টিন’ বাসে ‘কাঁঠালবোঝাই’ হয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে চলাফেরার সময় দুই চোখে যে ঢাকা শহর দেখা যায়, তার বর্ণ বড়জোর ধূলি-ধূসর, গন্ধ অনেকটাই শরীরের ঘামের মতো। কিন্তু পেছনের সিটে দুই পাশে কাচের জানালা নামিয়ে হাত-পা ছড়িয়ে আরাম করে চালক নিয়ন্ত্রিত মোটরকারে বসলে সম্পূর্ণরূপে ভিন্ন আরেক ঢাকা দেখা যায়। সে ঢাকা দেখতে যেমন মনোহর, তেমনি তরুণ মনে অনেক রঙ-বেরঙের স্বপ্নও জাগায়।
কবি শামসুর রাহমানকে
তুলে ক্যাম্পাসে
আসার সময় সারা পথ তার পাশে বসে এলাম, অন্তরঙ্গ পরিবেশে
কবির মুখে অনেক গল্পও
শুনলাম। কথায় কথায় তিনি একসময় তত্কালীন
সোভিয়েত ইউনিয়নের
রেজিমেন্টেড সোসাইটির
কথা বলেছিলেন।
এটুকু ছাড়া আজ আর কিছুই আমার মনে নেই। প্রসঙ্গটি আমার প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে উঠেছিল নাকি কবি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তার অভিজ্ঞতা
থেকে বলেছিলেন,
তাও বলতে পারব না। সেদিন রাতের
বেলা ঘুমানোর
আগে বিছানায়
শুয়ে শুয়ে আফসোস করছিলাম,
আজকের মেহমানকে
কেন এ প্রশ্ন করলাম
না, তিনি তার নামের
বানান ‘রহমান’
না লিখে ‘রাহমান’ লেখেন
কেন। এর প্রায় ২০ বছর পর এক গ্রীষ্মের
ছুটিতে আমি ঢাকা গিয়েছিলাম।
সেবার বাংলাদেশের
অন্যতম ওই আধুনিক কবির সঙ্গে আমার দ্বিতীয়বার দেখা হয়েছিল এক বিয়ের অনুষ্ঠানে,
খাবার টেবিলে।
তত দিনে পদ্মা-মেঘনায়
অনেক পানি গড়িয়ে গেছে এবং আমার কাছে প্রশ্নটির
গুরুত্বও আগের মতো আর ছিল না। তাই উত্তর
জানাটা জরুরি
মনে করিনি।
এর সামান্য আগে অথবা পরে আমাদের ক্যাম্পাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার আয়োজন করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত বাঙালি অধ্যাপক শিব নারায়ণ রায়কে কয়েকটি গণবক্তৃতা দেয়ার জন্য ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে নিয়ে আসা হয়। সেবার তিনি আমাদের উদ্দেশে ধারাবাহিকভাবে তিন কি চারটি চমকপ্রদ বয়ান রেখেছিলেন। বিষয়বস্তু ছিল ‘শিরদাঁড়া খাড়া মানুষ’ (Verticalindividual)। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলেন ড. মুহাম্মদ এনামুল হক। আমি সব কয়টা বক্তৃতাতেই উপস্থিত ছিলাম এবং এর প্রতিটি আমি ভীষণভাবে উপভোগও করেছিলাম। প্রথম দিনের কিছু কথা এখনো আমার মনে আছে। সেদিন অধ্যাপক রায় তার বক্তৃতার শুরুতে বলেছিলেন, তিনি ভারতে বেশি আসেন না, কারণ এলেই বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের হাতে তার পাসপোর্টখানা আটকা পড়ে যায়। সেই পাসপোর্ট উদ্ধার করতে তদবিরের জন্য তাকে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পর্যন্ত যেতে হয়।
অতিথির
কথা থেকে বোঝা যাচ্ছিল
এর বিপরীতে
ঢাকায় তার সফরের অভিজ্ঞতা
অনেকটাই স্বস্তিদায়ক এবং আরামের ছিল। নেমেই সবকিছুর
আগে তিনি শামসুর রাহমান
ও আল-মাহমুদের কবিতা
পড়েছেন। তাদের
মন ও মনন বোঝার
চেষ্টা করেছেন,
এ দুই কবির সমসাময়িক
চিন্তাধারার সঙ্গেও
পরিচিত হওয়ার
কোশেশ করেছেন।
সে সময়ে স্নাতক শ্রেণীর
একজন গড়পড়তা
ছাত্র হিসেবে
আমার কাছে একটু অবাক লেগেছিল অধ্যাপক
রায়ের মতো একজন মানুষের
জন্য ‘শামসুর-মাহমুদ’ পড়া কেন এত জরুরি। এখন বুঝি আধুনিক
জামানায় স্বল্প
সময়ে সবচেয়ে
সহজ উপায়ে
একটি জাতিকে
চেনা ও বোঝার জন্য তার প্রধান
প্রধান কবিকে
জানা এবং তাদের কবিতা
পড়া দরকার।
আরো বুঝলাম
এ জানা আমার পক্ষে
কোনো দিনই সম্ভব হবে না, কারণ আমি অন্য অনেক কিছুর
মতোই কবিতাও
পড়ি না, আর পড়লেও
বিলকুল বুঝি না।
অধ্যাপক শিব নারায়ণ রায় তার বক্তৃতায় বাংলাদেশের এ দুই কবিকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছিলেন। তারপর তিনি ‘শিরদাঁড়া খাড়া মানুষ’-এর বৈশিষ্ট্য ও চরিত্র নিয়ে একটি গভীর ও বিস্তারিত বিশ্লেষণ দর্শক-শ্রোতাদের সামনে চমত্কারভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। উদাহরণস্বরূপ তিনি রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেছিলেন। বক্তৃতা শেষে অধ্যাপক রায়কে আমাদের বিভাগের তত্কালীন তরুণ শিক্ষক শ্রদ্ধেয় এটিএম নুরুল আমীন একটি প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আপনি যেসব শিরদাঁড়া খাড়া মানুষের উদাহরণ টেনে এনেছেন, তাদের কারো সঙ্গেই তো রাষ্ট্রশক্তির কোনো বিবাদ-বিসংবাদ ছিল না; বরং বলা যায় এক প্রকারের প্রচ্ছন্ন আশীর্বাদই ছিল। অথচ যারা নিজেদের এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ের জন্য রাষ্ট্রশক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে ইতিহাসে অমর হয়ে রইলেন, তারাও তো শিরদাঁড়া খাড়া মানুষ, যেমন ক্ষুদিরাম, সূর্য সেন ও তিতুমীর। আপনার আলোচনায় এ ধরনের কোনো শিরদাঁড়া খাড়া মানুষের নাম উঠে এল না কেন? প্রশ্নটি শুনে আমাদের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ এনামুল হক এতই খুশি হয়েছিলেন যে পরে বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় একাধিকবার তিনি এ ঘটনা গর্বভরে উল্লেখ করেছেন। আমাদের প্রিয় স্যারের পক্ষ থেকে এ রকম একটি ধারালো প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ায় আর সবার মতো আমিও একটু নড়েচড়ে বসলাম এবং আরো কৌতূহল নিয়ে বক্তার উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম। সেদিনকার অতিথি বক্তা নিশ্চয়ই এর একটি উত্তর দিয়েছিলেন। কিন্তু কী ছিল তার মর্মার্থ, তা আমার স্মৃতি যদি ধরে রাখতে পারত তাহলে আজ আরো কিছু কথা লিখতে পারতাম।
আবু এন এম
ওয়াহিদ: অধ্যাপক অর্থনীতি,
টেনেসি স্টেট
ইউনিভার্সিটি
এডিটর, জার্নাল অব ডেভেলপিং এরিয়াজ