জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় শুধু অবকাঠামো নয়, জলবায়ু সহনশীল যত্নসেবা ব্যবস্থায়ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। বন্যা, দাবদাহ ও দাবানলের মতো দুর্যোগে পরিবার ও অনানুষ্ঠানিক যত্ন ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও শিশুদের ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে প্রধানত নারী ও কিশোরীদের ওপর অবৈতনিক যত্নের অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকটকে আরো তীব্র করতে পারে।
জাতীয় জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় যত্নসেবাকে সাধারণত আলাদা খাত হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। ফলে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগও উপেক্ষিত থাকে। বর্তমানে বৈশ্বিক অভিযোজন অর্থায়নের প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষি, বন, মৎস্য, পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন খাতে গেলেও স্বাস্থ্য খাতে যায় আনুমানিক ৪-৬ শতাংশ এবং শিক্ষায় প্রায় ২ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদি যত্ন ও প্রারম্ভিক শিশুযত্ন খাত প্রায় অনুপস্থিত। বাংলাদেশে জলবায়ু সহনশীল যত্ন অবকাঠামো গড়ে তুলতে জিডিপির প্রায় ৩-৫ শতাংশ বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে। এর মাধ্যমে শিশুযত্ন ও দীর্ঘমেয়াদি যত্ন খাতে ৩৬-৭০ লাখ সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্ভব।
যত্নসেবায় বিনিয়োগ একই সঙ্গে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষায় সরকারি ব্যয় কমাতে সহায়তা করবে। তাই জলবায়ু অভিযোজনের অর্থায়নে যত্ন ব্যবস্থাকে অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।
[প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে অনূদিত]
ক্যারেন গ্রোন: ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র ফেলো ও পরিচালক
কেন্ডাল ট্রেলেগান: একই কেন্দ্রের গবেষণা বিশ্লেষক