শিল্পের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রমে সংস্কার আনতে হবে

দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশেষ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল।

ড. তোফাজ্জল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। তিনি ২০০২ সালে জাপানের হোক্কাইডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাপ্লায়েড বায়োসায়েন্সে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। জেএসপিএস, হুমবোল্ড্ট, কমনওয়েলথ ও ফুলব্রাইট ফেলোশিপের আওতায় জাপান, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পোস্টডক গবেষণা করেছেন। আমেরিকান ফাইটোপ্যাথলজিক্যাল সোসাইটি, বিশ্ব বিজ্ঞান একাডেমি ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির নির্বাচিত ফেলো। সম্প্রতি দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রমসহ উচ্চ শিক্ষা ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক গবেষণার নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দিদারুল হক

খাদ্যনিরাপত্তাসহ একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে?

দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশেষ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। স্বাধীনতার সময় বাংলাদেশে প্রায় ২০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। বর্তমানে মঙ্গা ও দুর্ভিক্ষ দৃশ্যমান নেই। যদিও অদৃশ্য ক্ষুধা এখনো রয়েছে। কৃষিজমি কমছে, জনসংখ্যা বাড়ছে এবং জলবায়ুর অভিঘাত কৃষিতে বিরূপ প্রভাব রাখছে। কাজেই বর্তমান ও ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা অতীতের চেয়ে অনেক বেড়েছে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা অনেক বাড়িয়ে ফেলা হয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সামর্থ্যের ঘাটতি থাকায় নব্য প্রতিষ্ঠিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মানসম্পন্ন ও দক্ষ কৃষিবিদ তৈরিতে হিমশিম খাচ্ছে। নেই পর্যাপ্ত গবেষণার সুযোগ-সুবিধা। আগে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্নাতক শেষ করেই চাকরি পেতেন এবং কোনো ধরনের প্রতিযোগিতা ছিল না। এখন সহস্রাধিক স্নাতক ডিগ্রিধারী বের হলেও সরকার শতাধিক ডিগ্রিধারীকেও চাকরি দিতে পারছে না। ফলে তারা বিভিন্ন সরকারি ক্যাডার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও চাকরি করছে। যেহেতু তাদের সাধারণ সামগ্রিক জ্ঞান (জেনেরিক নলেজ) অনেক বেশি, তাই তারা চাকরির প্রতিযোগিতায় যেকোনো পদে ভালো করেন। কারণ কৃষিতে স্নাতক ডিগ্রি মাল্টিডিসিপ্লিনারি, যা কোনো বিভাগ নয়, অনুষদ থেকে প্রদান করা হয়। কিন্তু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা। সেখানে দুই ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা ও পাঠ্যক্রম রয়েছে। এর একটি নর্থ আমেরিকান শিক্ষা ব্যবস্থা ও পাঠ্যক্রম, যা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে। আরেকটি হচ্ছে, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএইউ) সিমেস্টারভিত্তিক পাঠ্যক্রম। নর্থ আমেরিকান পাঠ্যক্রমটি ট্রাইমিস্টার অর্থাৎ শিক্ষা বছর সামার, অটাম ও উইন্টার তিনটি টার্মে বিন্যস্ত। এ দুটো শিক্ষা ব্যবস্থা ও পাঠ্যক্রমের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। উভয় ক্ষেত্রেই পাঠ্যক্রম বর্তমানের বাস্তব চাহিদা অনুপাতে আধুনিকায়ন করা হয়নি। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা কী? শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো কোন পর্যায়ে রয়েছে, কোন প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার করছে এবং চ্যালেঞ্জ কী? সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে বড় ধরনের সংস্কার বা পরিমার্জন করা উচিত। এজন্য সরকার, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে কাজ করা দরকার। সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একই শিরোনামের বা মানের ডিগ্রির জন্য প্রয়োজনীয় কোর্সগুলো এবং ক্রেডিট সংখ্যায় একটি সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন বলে মনে করি। কৃষি মূলত প্রায়োগিক বিজ্ঞান। সুতরাং সব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা করতে হবে। কৃষকের ফার্ম, এসিআই গ্রুপ, লাল তীর, ব্র্যাক, আরএফএলসহ যেসব বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোয় ইন্টার্নশিপের সুযোগ তৈরি করতে হবে। ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্চ সিস্টেমের কৃষি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানগুলো, কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) কৃষিসংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি প্রকল্পে কৃষিতে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা বা ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা গ্রহণ করা সময়ের দাবি। ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার সুযোগ দিয়ে চাকরিতে নিয়োগের জন্য যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাছাড়া তরুণ উদ্ভাবক তৈরিকল্পে প্রতিটি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইনকিউবেশন হাব তৈরিসহ উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করতে হবে। কৃষি স্নাতকদের শুধু চাকরির জন্য তৈরি করা হচ্ছে, সে মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রমে এমনভাবে পরিবর্তন আনতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে ওঠারও অপার সুযোগ থাকে। শিক্ষার্থীদের এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যেন তারা পাস করে বের হওয়ার আগেই চাকরির বাজারে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলো টেনে নেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে।

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে করণীয় কী?

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে দরকার শিক্ষা প্রোগ্রাম ও পাঠ্যক্রমে সুষ্ঠু পরিকল্পনা। প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের পাশাপাশি অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। তবে এসবের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রোগ্রামের লক্ষ্য স্থির করা এবং তা অর্জনে মনঃসংযোগ। বিশ্বে জ্ঞানের দ্রুত বিবর্তন ঘটছে। আমরা আগে কখনই কৃষিতে জিনোমিকস, বায়োইনফরমেটিকস, জিন প্রকৌশল, জিনোম এডিটিং, ন্যানোটেকনোলজি, মৃত্তিকাবিহীন উল্লম্ব কৃষি, ইমেজ প্রযুক্তি (ড্রোন, স্যাটেলাইট ইত্যাদি), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা মেশিন লার্নিংয়ের কথা চিন্তা করিনি। কিন্তু লাভজনক ও প্রিসিশন কৃষির জন্য কৃষিতে এসব প্রযুক্তির প্রয়োগ দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন নতুন প্রযুক্তির প্রভাবে কৃষিতে জিনোম এডিটেড, জিন প্রকৌশলকৃত ও হাইব্রিড নতুন জাতের ফসল চাষাবাদ হচ্ছে। জীবপ্রযুক্তি ও জিন প্রকৌশলের মতো নতুন নতুন বিষয় সামনে আসছে। কৃষির অনেক পুরনো শাখা বা বিভাগ আছে, সেগুলোকে সংকুচিত করে নতুন বিজ্ঞানকে প্রসারিত করতে হবে। নতুন শাখা বা বিভাগগুলোয় প্রযুক্তির যে স্ফুরণ ঘটছে, এদের জন্য জায়গা করে দিতে হবে। বিশ্বমানের কৃষি শিক্ষা এবং গবেষণা নিশ্চিতকরণে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং মনঃসংযোগ করতে হবে।

কৃষির স্নাতকরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে মূল্যায়িত হচ্ছেন না। ফলে তারা বিসিএসসহ অন্য সরকারি চাকরির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন না। এটাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

এটা ঠিকই বলেছেন। পৃথিবীর কোনো দেশেই বাংলাদেশের মতো নয়। আমলাতন্ত্র তৈরির জন্য এ দেশে যেকোনো বিষয়ের স্নাতক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসনসহ সরকারি নানা ক্যাডারে যোগ দিতে পারেন। সারা পৃথিবীতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের টারশিয়ারি পর্যায়ের শিক্ষায় দুটো বিষয় শিক্ষা দেয়া হয়। এক. জেনেরিক নলেজ (সাধারণ সামগ্রিক জ্ঞান)। যেমন উত্তর আমেরিকায় স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষায় ১২০-১৪০-এর মধ্যে ৩০-৪০ ক্রেডিট ঘণ্টাই জেনেরিক নলেজ। সেখানে পদার্থ, রসায়ন, ইতিহাস, গণিত, ভাষাসহ বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হয়ে থাকে। আর এই জেনেরিক নলেজই স্নাতকদের সাধারণ সামগ্রিক জ্ঞানের শক্ত ভিত তৈরির পাশাপাশি চিন্তাশীল মানুষ (critical thinker) হিসেবে তৈরি করছে। ফলে একজন স্নাতক যেকোনো ধরনের কর্মক্ষেত্রে যেতে পারছে। দুই. স্পেশালাইজড নলেজ (বিশেষায়িত জ্ঞান)। কেউ কৃষিতে যাবেন কিংবা কেউ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হবে। এখানে থিওরির পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞানের সম্মিলন ঘটাতে হবে। কাজেই কোনো কিছু সীমাবদ্ধ করে দেয়া যাবে না। যেমন কৃষি কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকরা প্রশাসনে বা অন্য চাকরিতে যেতে পারবে না, এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা ঠিক হবে না। বরং এটি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশে আন্তঃক্যাডারে সামাজিক মর্যাদার বৈষম্য প্রকট। প্রশাসনকে শ্রেষ্ঠত্ব বানিয়ে ফেলা হয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশ ক্যাডাররা সমাজে যেভাবে সম্মানিত হন অন্যরা সেভাবে হন না। ফলে শিক্ষার্থীরা অন্য পেশার চেয়ে প্রশাসনে যাওয়ার জন্য বেশি মনোযোগী এবং বিসিএসমুখী হচ্ছেন। এখানে রাষ্ট্রের নীতির বিষয় আছে। লক্ষ করলে দেখা যাবে, বিসিএস কিংবা অন্য চাকরির পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে সুরিনামের মুদ্রা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। অথচ এ ধরনের বিষয় কোনো কোর্সেই পড়ানো হয় না। বিসিএস কিংবা অন্য চাকরির পরীক্ষায় কী ধরনের প্রশ্ন করা হবে, তা নিয়ে আবার নতুন করে ভাবা দরকার। শিক্ষার্থীরা ইসলামের ইতিহাস কিংবা কৃষি প্রকৌশল, যে বিষয়েই পড়ুক না কেন তাকে জেনেরিক নলেজ পড়তে হবে। এজন্য পাঠ্যক্রমে অন্তত ৩০-৪০ শতাংশ জেনেরিক কোর্স থাকতে হবে। তাহলে ওই স্নাতকও বিশ্বের জন্য বড় সম্পদ হিসেবে গড়ে উঠবে। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার যে অভ্যুত্থান হয়েছে, সেখানে দুটি প্রধান শব্দ, একটি মেধা ও অন্যটি বৈষম্যহীনতা, যা খুবই সেকুলার। বাংলাদেশ যদি উন্নত রাষ্ট্র হতে চায় তাহলে মেধাকে মূল্যায়ন করতে হবে এবং বৈষম্য দূর করতে হবে। দেশে আন্তঃক্যাডারে যে ভয়ংকর বৈষম্য রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে হবে। বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের মতো হতে পারবে যদি মেধার মূল্যায়ন ও বৈষম্য হ্রাস করা যায়। বাংলাদেশে সব ক্যাডার পদে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা প্রায় সমান রয়েছে, কিন্তু সামাজিক মর্যাদার দিক থেকে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এখানে মর্যাদাগত যে ব্যবধানগুলো রয়েছে, সেগুলো শনাক্ত করে রাষ্ট্রকে তা সংশোধন করতে হবে। কারণ একজন স্নাতক ডিগ্রিধারী যে ক্যাডারের সামাজিক মর্যাদা বেশি তিনি সেটাই নির্বাচন করবেন। তার ব্যক্তিগত নির্বাচনের অধিকার আছে। নির্বাচন করার অধিকার পৃথিবীর কোনো আইন দ্বারা আটকে রাখা যাবে না। তাই বৈষম্য দূর করতে হবে।

কৃষি ও শিল্পের সম্পর্ক জোরদারে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের করণীয় কী?

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনেক করণীয় আছে। জাতীয় কৃষি নীতি-২০১৮ সালে পাস হয়। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে এটি একটি জাতীয় শস্যনীতি। প্রথমত, কৃষির সংজ্ঞায় শস্য, পশু-পাখি পালন, মৎস্য, বন ও পরিবেশ অন্তর্ভুক্ত এবং এরা আন্তঃসম্পর্কিত। এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেই একটি জাতীয় কৃষিনীতি প্রণয়ন করা উচিত ছিল। ভবিষ্যৎ খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তার জন্য জাতীয় কৃষিনীতিসহ কৃষি খাতে বড় একটি সংস্কার করা দরকার। কারণ কৃষিতে একটি বিষয়ের সঙ্গে অন্যটি আন্তঃসম্পর্কিত। দ্বিতীয়ত, শিল্পের চাহিদা কী? কৃষি শিল্প বিকশিত হচ্ছে। কৃষি দিন দিন একটি শিল্প হিসেবে পরিণত হচ্ছে। কৃষি এখন খোরপোশের কৃষি নেই। এটা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনুধাবন করতে হবে। কৃষি এখন একটি লাভজনক শিল্পের আকারে দাঁড়াচ্ছে। সেজন্য শিল্পের চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রমে সংস্কার আনতে হবে। এ সংস্কার এমনভাবে করতে হবে, যেন কৃষিতে স্নাতক ডিগ্রিধারী শিল্পের কাছেও সমানভাবে আকৃষ্ট হয়। বাংলাদেশ একসময় মঙ্গা ও দুর্ভিক্ষে অনেক ভুগেছে। মানুষ না খেয়ে মারা যেতে দেখেছি। তখন থেকেই বাংলাদেশের একটিই লক্ষ্য ছিল খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো। কিন্তু খাদ্যনিরাপদ কিনা সেদিকে গুরুত্ব কম দেয়া হয়েছে। আবার আমরা পরিবেশকে কি নিরাপদ রাখতে পারছি? খাদ্য উৎপাদনের পর কীভাবে তা ভোক্তার কাছে পৌঁছবে, সেই সরবরাহ চেইন ও প্রক্রিয়াকরণের বিষয়ে গবেষণা সেভাবে অগ্রাধিকার পায়নি। উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে অগ্রাধিকারভিত্তিক গবেষণা হয়েছে। কৃষি বর্তমানে শিল্পের আকার ধারণ করেছে। কৃষিক্ষেত্রে গত পাঁচ দশকে কয়েক গুণ উৎপাদন বেড়েছে। ভালো সরবরাহ চেইনের অভাবে কৃষকের কাছে কৃষিপণ্যের দাম অনেক কম। অন্যদিকে ভোক্তার কাছে দাম অনেক বেশি। এখানে অনেকগুলো ‘পাথওয়ে’ (pathway) আছে। এ পাথওয়েগুলো সারা পৃথিবী যেভাবে করছে, সেগুলো নিয়ে আমাদের গবেষণা করতে হবে যাতে কৃষক তাদের কৃষিপণ্য উৎপাদনকে লাভজনক করতে পারে। এছাড়া প্রয়োজনে অন্য দেশ থেকে খাদ্য আমদানি না করে সে অর্থ কৃষককে ভর্তুকি হিসেবে বিনিয়োগ করা যেতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রেই ভর্তুকি প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছে না। এ দেশে মধ্যস্বত্বভোগী একটি বড় সমস্যা। ফলে কৃষক তার ন্যায্য দাম পান না। কৃষক যাতে তার পণ্যের ন্যায্য দাম পান, সেজন্য গবেষণা করে সমাধান বের করতে হবে। আরেকটি বিষয় মূল্য সংযোজন (value addition)। কৃষিপণ্যগুলো প্রক্রিয়াজাত করে মূল্যসংযোজন করা যেতে পারে। বারমাসি কাঁঠাল নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে দেখেছি, বর্ষাকালে অনেক কাঁঠাল নষ্ট হয়। কিন্তু কাঁঠাল যদি সারা বছর উৎপাদন হতো ও বাণিজ্যিকীকরণ করা যেত তাহলে এ শিল্প দাঁড়িয়ে যেত। তখন জাতীয় ফল কাঁঠালের বাণিজ্যিক চাষাবাদ হতো। খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তায় তা বিশেষ অবদান রাখত। অর্থাৎ উৎপাদনের পরের স্তরের যেসব চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলোয় মনোযোগ দেয়া দরকার। পর্যাপ্ত গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি তৈরি করতে হবে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য কৃষিতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন করতে হবে।

বাংলাদেশে অনেক ফসলের নতুন নতুন জাতের উদ্ভাবন হচ্ছে। এগুলোর মাঠপর্যায়ে ব্যবহার কেমন?

গবেষণায় দেখা গেছে, যেভাবে প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হচ্ছে, তার একটি বড় অংশই শুধু ‘প্রযুক্তি খাতার’ মধ্যে বন্দি রয়েছে। বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ১০৫টির বেশি ধান ফসলের জাত উদ্ভাবন করেছে। দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় প্রতিষ্ঠানটির অবদান অনেক। কিন্তু কৃষকের মাঠে গেলে দেখা যাবে উৎপাদন হচ্ছে শুধু পাঁচ-ছয়টি জাতের। উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মাত্র ২০ শতাংশ মাঠে ব্যবহার হচ্ছে। দেশের বৃহত্তম গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও এ পরিসংখ্যান প্রযোজ্য। বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের ক্ষেত্রে এ পরিসংখ্যান আরো হতাশাব্যঞ্জক। প্রযুক্তি কেন মাঠে যাচ্ছে না? এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, যা গবেষণার মাধ্যমে উদ্ঘাটন জরুরি। এর দুটি কারণ থাকতে পারে—১. প্রযুক্তিটি মাঠে বিদ্যমান প্রযুক্তির চেয়ে শক্তিশালী নয়; ২. প্রযুক্তি সম্প্রসারণের কৌশলে দুর্বলতা। আমাদের প্রচলিত কৃষি সম্প্রসারণ খুবই বড় একটি বিভাগ হলেও প্রযুক্তি সম্প্রসারণে দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এর কৌশলগত সংস্কার প্রয়োজন। এ সরকারি প্রতিষ্ঠানটি মাঠ পর্যায়ের কৃষির যে ডাটা জাতীয়ভাবে প্রদান করে এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও ডাটা সংগ্রহে আধুনিক কলাকৌশল ও প্রযুক্তির আরো সন্নিবেশ করে এ সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে। এখন এমন এক সময় এসেছে, যেখানে প্রতিটি গবেষণা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে হতে হবে। বাংলাদেশে এতদিন যত গবেষণা ছিল, তা হয়েছে শুধু সরকারি অর্থায়নে। বিষয়টি এমন দাঁড়িয়েছে যে উদ্ভাবন হয়ে গেলেই কাজ শেষ। আর কিছুই করার নেই। কিন্তু শিল্পগতভাবে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে উদ্ভাবনের মূল্য সংযোজন করে তা কৃষকের কাছে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রযুক্তি বিস্তারে দেশে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু এরা প্রযুক্তি বিস্তারে অদক্ষ। ব্রি উদ্ভাবিত ১০৫টি জাতের মধ্যে মাঠে কেন পাঁচ-ছয়টি থাকবে! তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে আমরা কি প্রয়োজনের নিরিখে গবেষণা করছি এবং আমাদের প্রযুক্তি মাঠের চাহিদা পূরণে কতটা সামর্থ্য রাখে? বাংলাদেশের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞানীরা আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকাশনায় খুবই পিছিয়ে আছে। উদ্ভাবনে বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ তলানিতে। এ দুরবস্থার উত্তরণে বিজ্ঞানী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশের তাগিদ থাকা আবশ্যক। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জাতীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণায় ফান্ডিং ব্যবস্থার প্রচলন করতে হবে।

কৃষি পরিসংখ্যান নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?

কৃষির আরেকটি বড় সমস্যা কৃষি পরিসংখ্যানে বিশ্বাসযোগ্যতায় ঘাটতি। এক্ষেত্রে বিশেষ দৃষ্টি দেয়া দরকার। কারণ কৃষি পরিসংখ্যান ত্রুটিপূর্ণ। দেশে কী পরিমাণ কৃষিজমি আছে, জমি কীভাবে অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে—জাতীয় কৃষি পরিকল্পনা গ্রহণে এ বিষয়ে সঠিক পরিসংখ্যান প্রয়োজন। বলা হচ্ছে, দেশে দশমিক ৭ শতাংশ হারে জমি অকৃষি খাতে চলে যাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্যাটেলাইট ইমেজ ব্যবহার করে আমার ইউনিয়নে দেখেছি ইটের ভাটাসহ অন্যান্য উন্নয়নকাজে গত ১০ বছরে প্রায় ২০ শতাংশ কৃষিজমি ও জলাভূমি হারিয়ে গেছে। দেশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় চার কোটি টন ধান উৎপাদন হচ্ছে। চাহিদার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হলেও প্রতি বছর চাল আমদানি করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম চাল আমদানিকারক দেশ! অর্থাৎ আমাদের যে পরিসংখ্যান দেখছি বা তৈরি করছি, তার কোথাও গণ্ডগোল আছে। এজন্য কৃষির যত পরিসংখ্যান আছে, তা অনলাইনে হালনাগাদের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে আমরা সব দিক দিয়েই পিছিয়ে যাব। অনেকে বলেন, সরকারকে খুশি করতে উৎপাদনের প্রতিটি খাতের সূচককে প্রতি বছর ৫-১০ শতাংশ বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে। কেননা চার কোটি টন উৎপাদিত ধান দিয়ে ২৫ কোটি মানুষের খাদ্যের ব্যবস্থা করা সম্ভব। এর পরও কেন চাল আমদানি করতে হচ্ছে, তা বোধগম্য নয়। বন্যাসহ নানা দুর্যোগ হলেও কোনো বছরই উৎপাদনের পরিসংখ্যান কমেনি। এছাড়া দেশে প্রকৃত জনসংখ্যা কত এ পরিসংখ্যানও অস্পষ্ট। ফলে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। বানোয়াট পরিসংখ্যানের কারণে জিনিসপত্রের দাম কমানো যাচ্ছে না। তাই সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সঠিক পরিসংখ্যানের বিকল্প নেই। অনলাইনে তথ্য হালনাগাদ করার পদ্ধতিতে যেতে হবে। স্যাটেলাইটের মাধ্যমে মোট কৃষিজমির পরিমাণ জানা এখন খুবই সহজ। এমনকি ল্যান্ড কাভারেজের মাধ্যমে ধান কতটুকু জমিতে চাষ হচ্ছে, তাও জানা সম্ভব। কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া উচিত। নানা কারণে আমাদের কৃষি অনেক চ্যালেঞ্জের মধ্যেই অগ্রসর হচ্ছে। দিন দিন কৃষিতে সংকট বাড়ছে। কৃষিখাদ্য উৎপাদনে সাময়িক মনোযোগের অভাবে দেখা দেবে খাদ্য ঘাটতি। খাদ্য ঘাটতি সৃষ্টি হলে কিংবা দুর্ভিক্ষ ফিরে এলে অসম্ভব রকমের জটিল পরিস্থিতির তৈরি হবে। কারণ ‘নো ফুড, নো লাইফ’। কৃষক ও পরিবেশবান্ধব টেকসই কৃষির জন্য আমাদের নীতিগত এবং কার্যকরী সংস্কার/পদক্ষেপ জরুরি।

খাদ্যনিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে ন্যানো প্রযুক্তি কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারে?

ন্যানো প্রযুক্তিকে চলমান শিল্প বিপ্লবের সবচেয়ে শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ প্রযুক্তি গত অর্ধ শতাব্দীব্যাপী বিশ্বে ইলেকট্রনিকস এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির (আইটি) বিকাশে বিশাল অবদান রেখে আসছে। শুধু কি ইলেকট্রনিকস ও আইটি, ন্যানো প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষি ও জীববিজ্ঞানের প্রসারে এক শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। প্রয়োজন মাফিক নির্দিষ্ট আকার-আকৃতিবিশিষ্ট ন্যানো কণাগুলো তৈরির সুদক্ষ পরিচালনা ও এর ব্যবহারকে একত্রে ন্যানো প্রযুক্তি বলা হয়। ন্যানো কণা হলো ১ হতে ১০০ ন্যানো মিটার আকারের অতিসূক্ষ বস্তু যা, অণু ও পরমাণুর সমন্বয়ে গঠিত। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এ ন্যানো ম্যাটেরিয়ালসগুলো অর্থাৎ যেকোনো ম্যাটেরিয়ালসকে যখন ১-১০০ ন্যানোমিটার আকারে এনে ন্যানো কণা তৈরি করা হয়, তখন এর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়। ২০১২ সালে আমরা দেশে প্রথম ন্যানো প্রযুক্তিবিষয়ক আন্তর্জাতিক কর্মশালার আয়োজন করি। এতে সব বিভাগের গবেষকরা অংশ নেন। ২০১৮ সালের জাতীয় কৃষিনীতির ৩ নং অনুচ্ছেদে কৃষিতে ন্যানো প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। কৃষিতে সিনথেটিক রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কীটনাশকের ৯৯ শতাংশ লক্ষ্যহীনভাবে (non-targeted) ব্যবহার হচ্ছে। অর্থাৎ সিনথেটিক রাসায়নিক কীটনাশকের কার্যকারিতার দক্ষতা মাত্র ১ শতাংশ। ৯৯ শতাংশই জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশকে বিপন্ন করছে। পোকা মারার ক্ষেত্রে কাজ দিচ্ছে মাত্র ১ শতাংশ। আর রাসায়নিক সারের ৫০-৬০ শতাংশই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন ন্যানো কীটনাশক ও ন্যানো সার দিয়ে বর্তমান পরিসংখ্যানকে বিপরীতমুখী করা যাবে। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে এর প্রচলন শুরু হয়েছে। ফসলের খেতে সার দিতে হবে কিনা, পুষ্টির অভাব আছে কিনা, গাছে কোনো রোগ হয়েছে কিনা তা ন্যানো সেন্সর দিয়ে জানা সম্ভব। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রমের একটি কোর্সও পাওয়া যাবে না ন্যানো প্রযুক্তি সম্পর্কে। দেশে আণবিক শক্তি কমিশনকে ন্যানো প্রযুক্তি ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার প্রকল্প বরাদ্দ দিয়েছে। আমি মনে করি, এ প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়ভাবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ন্যানোটেকনোলজি (BINTech) হওয়া বাঞ্ছনীয়। ন্যানো প্রযুক্তির গবেষণার জন্য যেসব যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, সেগুলো অনেক দামি। এগুলো কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে করতে হয়। আর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি পাঠ্যক্রমে ন্যানো প্রযুক্তি বিষয়ে কোনো কোর্স অন্তর্ভুক্ত করে, তাহলে বড় ধরনের বিপ্লব সাধিত হবে। কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ কৃষি কর্মকর্তাদের ন্যানো প্রযুক্তি কী ও তার ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ শুধু ওপরের স্তরে না দিয়ে নিচের স্তর থেকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গ্র্যাজুয়েটরা ন্যানো প্রযুক্তি ও জিন এডিটিং বিষয়ে না শেখে বা ব্যবহারিক জ্ঞান যদি না থাকে তাহলে পেশাগত জীবনে তাদের পক্ষে অগ্রসরমাণ বিজ্ঞানের প্রয়োগে বিশ্বমানের গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে লাভজনক ও টেকসই কৃষিখাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা দুরূহ হবে। শুধু পলিসিতে লেখা থাকলে তা কোনো কাজে আসবে না। অথচ ২০১৮ সাল থেকে ন্যানো প্রযুক্তি আমাদের কৃষিনীতিতে আছে। কৃষিতে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত ও মোড়কীকরণ শিল্পে এ প্রযুক্তি বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ন্যানো প্রযুক্তি চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এমনকি পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের ক্ষেত্রেও চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। এটি চতুর্থ কৃষি বিপ্লবেরও অন্যতম চালিকাশক্তি। এক্ষেত্রে শুধু ব্যবহারকারী হলে হবে না, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে, যেন আমরা নিজেদের সমস্যাভিত্তিক সমাধানে প্রযুক্তি তৈরি করতে পারি। সেজন্য আমাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের এখনই সময়।

আরও