‘মগের মুল্লুক’ কথাটির উৎপত্তি নিয়ে কারো ব্যাপক আগ্রহ না থাকলেও যাপিত জীবনে এর মুখোমুখি হতে হয়নি এমন লোকের সংখ্যা এ বাঙ্গাল মুল্লুকে কম। রাগের মাথায় আমরা অনিয়মকারীকে বলে থাকি ‘মগের মুল্লুক পেয়েছ?’ মগ জাতি সেই কবে তার মুল্লুকের রাজত্বহারা হয়েছে তার হিসাব নাই, তবে সেই মুল্লুকে তাদের যে সংস্কৃতি ছিল সেটাকে এ জাতি স্মরণে রেখে ধারণ করেছে।
প্রচলিত আছে, ষোল শতকে বর্তমান বাংলাদেশ যখন মোগল শাসনের আওতাধীন ছিল তখন এ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলে পর্তুগিজ জলদস্যু এবং মগরা নৌপথে এসে লুটপাট চালায়, একদিকে মোগল সুবেদাররা নৌপথের সঙ্গে তেমন পরিচিত ছিল না, অন্যদিকে মগ ও পর্তুগিজ দস্যুরা ছিল নৌপথের যুদ্ধে পটু। ফলে মোগলদের পক্ষে মগদের সঙ্গে যুদ্ধে পেরে ওঠা ছিল অসাধ্য। ঢাকার সুবেদার খান-ই-দুরান নাকি মগদের ভয়ে রাজমহল ছেড়ে পালিয়েছিলেন। মগদের লুটপাট, অত্যাচার এতটাই ভয়ংকর ছিল যে তারা এ দেশের লোকজন পর্যন্ত ধরে নিয়ে গিয়ে অন্য দেশে বিক্রি করত এবং মোগল আমল, সুলতানি আমল পেরিয়ে মগদের অত্যাচার আঠারো শতক পর্যন্ত জারি ছিল বলে জানা যায়।
যদিও একসময় ঠিকই আমরা মগদের অত্যাচার থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পেরেছি, তবুও প্রায় দুইশ বছর তারা আমাদের যারপরনাই অত্যাচার করেছে। এ অঞ্চলের লোকজন কখনো এ অত্যাচারের উপযুক্ত প্রতিকার বা বিচারও পায়নি। তাই এখনো যখন আমাদের সমাজে কেউ যেমন-তেমনভাবে অন্যের ওপর প্রভাব খাটায়, অত্যাচার করে, দুর্বল মানুষকে কষ্ট দেয় তখন মগদের সময়ের কথার সঙ্গে সেটা তুলনা করা হয় আর বলা হয়, মগের মুল্লুক এবং এটাও প্রমাণ করে মগরা মুল্লুকের অধিপতি হিসেবে না থাকলেও যারা থাকে তাদের মাঝে মগদের কর্মকাণ্ড চলমান।
এ মগ সংস্কৃতি থেকে মোগল আমল, সুলতানি আমল, ইংরেজ শাসনকাল, পাকিস্তানি শোষণকাল এমনকি এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশও মুক্তি পায়নি। বাংলাদেশ নামক দেশটির জন্মের আগে যেমন মগের মুল্লুকের সংস্কৃতি চালু ছিল, পরবর্তী সময়েও সেটি বিলুপ্ত হয়নি। শুধু ক্ষেত্রবিশেষে এর রূপের পরিবর্তন হয়েছে মাত্র। আধুনিক মগ রাজ্যে রাষ্ট্রের ক্ষমতাশালী ব্যক্তি, নেতা, পাতিনেতা যার ইচ্ছা হলো দেশের টাকা নির্দ্বিধায় পাচার করে দিতে পারে অন্য রাষ্ট্রে, ইচ্ছে হলো ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে নিজের সম্পদ মনে করে ফেরত দেয়ার কথা ভুলে যেতে পারে অবলীলায়। এ মুল্লুকে যে মাসে হাজার টাকা বেতন পায় তার মাসিক খরচ লাখ টাকা, সম্পদ কোটি কোটি টাকায়। মগ জলদস্যুরা যেমন লুট করত এ দেশের মানুষের সম্পদ, ঠিক ভিন্ন কায়দায় নব্য দস্যুরা জলপথ নয় ভূমিপথেই চালিয়ে যাচ্ছে লুটতরাজ। এজন্য জলদস্যু থেকে ‘ভূমিদস্যু’র উদ্ভব হয়েছে অনেক। বনখেকো, ভূমিখেকো, নদীখেকো অনেকের কাহিনী আমরা জানি, সময়ের চক্রে তারা অনেকে দেশের নীতিনির্ধারকের কাতারে জায়গা করে নিয়েছেন। আমরা তাদের উচ্চকণ্ঠ বন্দনাও করেছি এবং করছি।
যেমন ধরুন ক-এর গাড়ির চালক শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক, খ-এর অফিসের ফুটফরমাশ খাটা লোকটি হাজার কোটি টাকার মালিক—এসব যখন সংবাদমাধ্যমের খবর হয় তখন স্বীকার করতেই হয় মগের মুল্লুক নামে কোনো মুল্লুকের অস্তিত্ব না থাকলেও সমাজে মগদের সংস্কৃতি যেমন রয়ে গেছে তেমনি তাদের মুল্লুকও রয়ে গেছে। শুধু চেহারায় কিছু পরিবর্তন এসেছে। এ রাষ্ট্রের চালকের সিটে যাদেরই আমরা পেয়েছি সবাইকে দেখেছি আমজনতাকে বিভিন্ন স্লোগানে বুঝিয়েছে দেশটি সাধারণ মানুষের, আর মুখরোচক ও মনভোলানো স্লোগানের ডামাডোলের ফাঁকে দেশের সম্পদ লুট করেছে ইচ্ছামতো। মগ জলদস্যুরা চোখের সামনে জোরজবরদস্তি করেছে আর অধুনা লুটেরারা মনভোলানো কথা দিয়ে জনগণকে বোকা বানিয়ে জনগণের সম্পদ নিজের মতো করে নিচ্ছে, পাচার করছে। আমরা নব্বই, এক-এগারো, চব্বিশ—সব পরিস্থিতিতে দেখেছি যারাই ক্ষমতায় থেকেছে তাদের পতনের পর লুটতরাজের লম্বা ফিরিস্তি প্রকাশিত হয়েছে এবং কালের চক্রে আমরা তা ভুলেও গেছি। পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের মগজে শত শত বছর আগের মগদের অত্যাচার সক্রিয়ভাবে অবস্থান করলেও অধুনাকালে যে মগের নতুন সংস্করণের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা যে ভিন্ন কায়দায় তাদের রাজত্ব কায়েম করেছে তা মাথা থেকে মুছে যাচ্ছে সহজে। এ মুছে যাওয়ার কারণে আমরা বারবার প্রতারিত হই। আমরা দেখেছি একুশ শতকের শুরুতে যখন সারা বিশ্ব নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু করল উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মাধ্যমে এগিয়ে যাবে, বাংলাদেশের মানুষও একই স্বপ্নের কথা শুনল এবং দেখা শুরু করল। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান জানাল, ঘুস, রাষ্ট্রীয় তহবিলের অপব্যবহার, তদবির এবং ঘুসের বিস্তার, পরিষেবার নামে চুরি, জবরদখল, কাজে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করেছে এ মুল্লুকে। রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ যেমন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, শুল্ক, কর কর্তৃপক্ষ, ব্যাংকিং, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, বিচার বিভাগ ও ইউটিলিটি সেবা এসব অনিয়ম-দুর্নীতিতে পুরোভাগে অবস্থান পেল। ফলে অধুনা দেশটি সারা বিশ্বে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের সূচকে প্রথম স্থান অর্জন করল এবং এর ধারাবাহিকতা চলল বহুদিন।
এ মুল্লুকে কোনো কাজ স্বাভাবিকভাবে তখনই হবে যখন কাজের জন্য ঘুস দেয়া হবে, যার আবার বাহারি নাম আছে ‘স্পিড মানি’। জনগণের নিরাপত্তা দেয়া যাদের দায়িত্ব, তাদেরই দেখা যায় নিরাপত্তার হুমকি হতে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নিয়োজিত রাষ্ট্রের কর্মচারীর টাইটেল হয়ে যায় শাসক-প্রশাসক, যারা একে কান ধরে উঠবস করান তো ওকে গলা ধাক্কা দেন। ভূমির উন্নয়ন এবং তা রাষ্ট্রের নাগরিকের কল্যাণে ব্যবহারোপযোগী করা যাদের কাজ তারা হয়ে যান ভূমির মালিক। পর্তুগিজ জলদস্যু এবং মগ জলদস্যুরাও এমন সুবিধা পেত কিনা জানা নেই।
একটি রাষ্ট্র পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি যখন এভাবে মগ সংস্কৃতির দখলে গিয়ে বিপর্যস্ত হয় তখন পুরো মুল্লুক তথা রাষ্ট্রকে মগের মুল্লুক না বলে উপায় কি? মগ জলদস্যুরা উপকূলীয় অঞ্চলের লোকজনের সম্পদ কেড়ে নিত, এখন এ দেশের আধুনিক দস্যুরা দেখি দিনে-দুপুরে গাড়িতে, বাসে, রাস্তায়, বাসায় সাধারণ মানুষের জানমাল কেড়ে নিচ্ছে, যা মগ কিংবা পর্তুগিজ জলদস্যুদেরও হার মানিয়েছে। আগে যেখানে ঢাল-তলোয়ার, টেঁটা, বল্লম নিয়ে গোত্রে, গোষ্ঠীতে সংঘর্ষ হতো এখন দেখা যাচ্ছে সেখানে মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে হামলা, আহা! এ যেন আধুনিক মগ সংস্করণ। আমাদের নতুন মগ সংস্কৃতিতে সহজেই কেড়ে নেয়া হচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অস্ত্র, যা কিনা সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষার জন্য। কে জানে কালক্রমে সেগুলোই একালের মগ দস্যুদের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে কিনা। ‘সব ধ্বংস হওয়ার পরে কপ হাজির’ নীতি মগ নীতির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিবর্তন একটি চলমান প্রক্রিয়া—বিজ্ঞানী ডারউইনের সে কথা যেন সত্য প্রমাণ করতে মগ সংস্কৃতির বিবর্তনে এখন চালু হয়েছে ‘মব’ সংস্কৃতি। মব সংস্কৃতি আবার ইতিহাসের কুখ্যাত ‘আইয়ামে জাহেলিয়া’ সংস্কৃতির সঙ্গে মিলে যায়। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের পরে ‘মব’ সংস্কৃতি যারপরনাই দুর্বার গতি লাভ করে, একে ধর তো ওকে মার। শিক্ষার্থীরা মনে করল কী দরকার পরীক্ষায় বসার, তাদের তো সরকার পাস দিয়ে দিতে পারে, অতএব গড়ে তোলা হোক মব আন্দোলন, যার স্লোগান হয়ে যায় পরীক্ষা নয় পাস চাই। মবের চাপে মগের মুল্লুকও সন্ত্রস্ত হয়ে যায়, অতঃপর পাস। এই যারা পরীক্ষা ছাড়া পাস করার দাবি আদায় করল, তারা এক সময় পরীক্ষা ছাড়া চাকরি চাইলে তা ‘মগের মুল্লুকে’ অশোভন মনে হবে না। আর যদি কেউ অশোভন মনে করে এবং এর বিরোধিতা করে, তাকে যে মবের চাপে ধরাশায়ী হতে হবে না তার নিশ্চয়তা কোথায়? এই মবের মুল্লুকের ঘূর্ণিবাতে যদি কেউ পড়ে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকারও করে সেক্ষেত্রে ‘সব ধ্বংস হওয়ার পরে কপ হাজির’ এ নীতির যে পুনরাবৃত্তি হবে না তা হলফ করে কে বলবে? করিম সাহেব অনেক আশাবাদী লোক এবং তা সবসময় সব আমলেই। তিনি নানা স্বপ্ন দেখেন,এ বারের পরে সেবারে এ মুল্লুকের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে, আকাশে কেবলই শান্তির রোদ, মেঘ, পানি থাকবে কোনো ঘূর্ণিবাত থাকবে না। তিনি মগের মুল্লুকে মানিয়ে চলে বেকায়দায় ছিলেন না, তাই মবের মুল্লুকেও আকাশময় স্বপ্ন দেখেন।
অধুনা মুল্লুকে মগদস্যুদের মনে হলো কারো বাড়ি লুট করে সে সম্পদ নিজের করে নিতে হবে, যা চিন্তা তাই, প্রয়োজনে মাইকে ঘোষণা দিয়ে কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে দিনক্ষণ-তারিখ ঠিক করে মব তৈরি করে লুট করা হবে। তারপর নিজের মনে করে অন্যের সম্পদ নিজের ঘরে তোলা হবে। এর সঙ্গে আছে শিশু গ্যাং, কিশোর গ্যাং, তরুণ গ্যাং আরো নানা পদের গ্যাংস্টার, যা নিকট অতীতে ব্যাপক আকার ধারণ করে। বাহারি তাদের নাম, কারো নাম ‘ঠোঁট কাটা’, কারো বা ‘মাথা ফাটা’, একটার নাম ‘কাইল্যা’ তো আরেকটার নাম ‘ধইল্যা’। এরা রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে কারো সঙ্গে ধাক্কা লাগল তো হাজির হয়ে গেল তাদের গ্যাং সদস্যারা, তৈরি হলো মব। অনেকে আবার এর নাম দিয়েছে ‘মব জাস্টিস’, করিম সাহেবও বরাবরের মতো তাল মেলাতে গিয়ে তাই বলে থাকেন। আচ্ছা লুট, হত্যা, রাহাজানি কীভাবে জাস্টিস হয় তা মাথায় আসে না। অবশ্য অমাবস্যা রাতে যারা আকাশে চাঁদ দেখেন কিংবা পাহাড়ে নৌকা চলতে দেখেন তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এমন হতে পারে। একটি জাতীয় দৈনিকের খবরে দেখলাম সম্প্রতি সাত মাসে শতাধিক নিহত হয়েছে এই মহৎ ‘মব বিচারে’। তবে কি মগের মুল্লুকের পরবর্তী এই ‘মবের মুল্লুক’ হত্যাকে বিচারের মানদণ্ড হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে? ‘মব’ কি ‘ভায়োলেন্স’ বৈ আর কিছু হতে পারে? আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘মব’কে ‘ভায়োলেন্স’ হিসেবেই আখ্যা দিয়ে আসছে। ‘মব ভায়োলেন্স’ ছিল আফ্রিকার সংস্কৃতি, বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে দেখা যায় এ সংস্কৃতি পরে দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে ভারতে বিস্তার লাভ করে। তথ্য বলছে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ায় ৫ হাজার ৫ শতাধিক ‘মব ভায়োলেন্স’ সংঘটিত হয়, যার বেশির ভাগই ছিল ভারতে। বিশ্লেষকরা বলছেন আফ্রিকার পুরো মহাদেশজুড়ে এই ‘মব ভায়োলেন্স’ ঘটে থাকে। তবে দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে ভারতে ঘটা এ ঘটনায় তিনটি গোষ্ঠী টার্গেটে পরিণত হয়, যার মধ্যে রয়েছে বেসামরিক নাগরিক, প্রতিপক্ষ দাঙ্গাবাজ, রাষ্ট্রীয় বাহিনী। দক্ষিণ এশিয়ায় ‘মব ভায়োলেন্স’ ঘটনার এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়। এটা মূলত কোনো প্রকার বিচার ছাড়া আক্রমণ, যেটি হত্যা ছাড়া আর কিছুই না এবং কোনো রাষ্ট্র, সম্প্রদায় কিংবা গোষ্ঠীর ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। অনেকে বলে থাকেন বিচারহীনতা মব ভায়োলেন্সের জন্ম দেয়, সেক্ষেত্রে বিচারহীনতা তো মগ সংস্কৃতির ছায়া। মগের মুল্লুকে যখন মবের যাত্রা শুরু হলো দেখা গেল ‘ক’ কে পছন্দ নয় তো মব তৈরি করে ‘ক’ কে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে পছন্দের ‘খ’ কে বসিয়ে দেয়া হলো সে জায়গায়। পরবর্তী সময়ে ‘খ’ হয়ে গেল মব বাহিনীর হাতের পুতুল, যেমনি নাচায় তেমনি নাচতে হয়। করিম সাহেব হয়তো মনে মনে হলেও উপলব্ধি করেন ‘এ জ্বালাতন আর কাঁহাতক ভালো লাগে’ কিন্তু তার এখন করার কিছু নেই, তিনিও সেই নাচে ঢুকে পড়েছেন।
এ মবের যাত্রা যখন শুরু হলো তখন রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিনির্ধারকরাও মনে হয় সানন্দে উপভোগ করছিল। দিনে দিনে এ ‘মব ভায়োলেন্স’ রাষ্ট্র পরিচালকদের নিয়ন্ত্রণকক্ষকেও নিশানা করা শুরু করে এবং তখন কিছুটা হলেও রাষ্ট্রযন্ত্র নড়েচড়ে বসে এবং তা অনেকটা তাদের নিরাপত্তার জন্যই বলা চলে। আমজনতা, যারা মগের মুল্লুক থেকে বাঁচার জন্য হাপিত্যেশ করত এবং মনেপ্রাণে চাইত আর মগের মুল্লুক নয় সভ্যদের মুল্লুক হোক তাদের এখন তেলের কড়াই থেকে ফুটন্ত তেলের কড়াইয়ে পড়ার অবস্থা। তবে এমন পরিস্থিতিতেও করিম সাহেব আশপাশের লোকজনকে বোঝাতে শুরু করলেন যে আমরা এখন আর কোনো মগের মুল্লুকের বাসিন্দা না। তার এই প্রশান্তির গল্প শুনে আমজনতার মাঝে কেউ বলে বসলেন, চাইলাম মগের মুল্লুক থেকে মুক্তি এখন দেখি ‘টু ইন ওয়ান’। করিম সাহেব একটু না বোঝার ভঙ্গিতে ভুরু কুঁচকালেন, বেরসিক জনতা খোলাসা করে বলল, মগ ও মব মিলেমিশে তৈরি হয়েছে ‘মগ ও মবের মুল্লুক’, মুক্তি কতদূর?
এএসএম সাইফুল্লাহ: অধ্যাপক, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়