ঢাকার আকাশ ধীরে ধীরে মানুষের শ্বাস নেয়ার অযোগ্য হয়ে উঠছে। প্রতিদিন ভোরে মানুষ যখন দিনের কাজ শুরু করে তখনই তারা বুঝতে পারে চারপাশের বাতাস স্বচ্ছ নয়, বরং ধোঁয়াটে ও ভারী। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এ দূষিত বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে এবং অজান্তেই শরীরে বিষাক্ত পদার্থ প্রবেশ করাচ্ছে। বাতাসের এ অবনতি কেবল চোখে দেখা অস্বস্তি বা অস্থায়ী কাশির কারণ নয়, বরং এটি মানুষের জীবন প্রত্যাশা কমিয়ে দিচ্ছে, দীর্ঘস্থায়ী রোগের বোঝা বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করছে। ঢাকার এয়ারশেড অর্থাৎ শহরের উপরিভাগের বায়ুমণ্ডল বর্তমানে এমনভাবে দূষিত যে তা বিশ্বের অন্যতম খারাপ অবস্থার মধ্যে পড়ে। এ এয়ারশেডের অবনতি বহু উৎসের কারণে ঘটছে এবং এর স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুমাত্রিক। ঢাকার ইতিহাসে জনসংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ঢাকার শহরতলির অপরিকল্পিত নগরায়ণ বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশাল জনসংখ্যার চাপে শহরজুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য শিল্প-কারখানা, রাস্তাঘাটে নেমেছে হাজার হাজার যানবাহন, সর্বত্র চলছে নির্মাণকাজ। এসব কার্যক্রম থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে দূষণ নির্গত হচ্ছে, যা ধীরে ধীরে পুরো শহরের আকাশকে ঢেকে ফেলছে। শীতকালে এ অবস্থা আরো ভয়াবহ হয় কারণ তখন বাতাসের গতি কম থাকে, বায়ুমণ্ডলের মিশ্রণ হ্রাস পায় এবং দূষক পদার্থ মাটির কাছাকাছি জমে থাকে। এর সঙ্গে ইটভাটার ধোঁয়া ও গৃহস্থালি জ্বালানি পোড়ানোর প্রভাব যোগ হয়ে পরিস্থিতিকে চরমে পৌঁছে দেয়। বর্ষাকালে বৃষ্টি সাময়িকভাবে ধুলো ধুয়ে দিলেও কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাতাস আবার একই অবস্থায় ফিরে আসে।
ঢাকার চারপাশের শহরতলির অঞ্চলগুলো গত কয়েক দশকে দ্রুত পরিবর্তন হয়েছে। আগে এসব এলাকা ছিল গ্রামীণ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, যেখানে ছিল কৃষিজমি, খোলা মাঠ, নদী ও সবুজ প্রকৃতি। কিন্তু এখন এ এলাকাগুলোয় শিল্পায়ন, নগরায়ণ এবং জনসংখ্যার চাপ বেড়ে যাওয়ায় পরিবেশের অবস্থা একেবারেই পাল্টে গেছে। ঢাকার শহরতলি যেমন গাজীপুর, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, কেরানীগঞ্জ ও আশুলিয়া এখন আর নিছক আবাসিক বা কৃষি অঞ্চল নয়; বরং সেগুলো পরিণত হয়েছে শিল্পনগরীতে। এসব এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশের প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও এটির একটি ভয়াবহ দিক হলো এয়ারশেড অবনতি। অর্থাৎ এখানকার বাতাস এখন ধীরে ধীরে মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠছে। এ অবনতির কারণ বহুমুখী এবং এর ফলাফল গভীরভাবে মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনের সঙ্গে জড়িত।
শহরতলির এলাকাগুলোয় শিল্পের বিস্তার মারাত্মক মাত্রায় হয়েছে। গাজীপুর ও টঙ্গী শিল্প এলাকা দেশের প্রধান তৈরি পোশাক রফতানিকারক অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম। এখানে হাজার হাজার গার্মেন্টস, রঙ-রাসায়নিক, চামড়া প্রক্রিয়াকরণ, প্লাস্টিক, ধাতু প্রক্রিয়াকরণ এবং খাদ্য শিল্প গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন এসব শিল্প থেকে ধোঁয়া, রাসায়নিক বাষ্প, গ্যাস এবং ক্ষুদ্র কণিকা নির্গত হয়। অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান যথাযথ দূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে না। ফলে বিপুল পরিমাণ সালফার ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড, ভোলাটাইল অর্গানিক কম্পাউন্ডস, ব্ল্যাক কার্বন এবং সূক্ষ্ম ধুলোকণা বায়ুমণ্ডলে জমা হয়। এসব দূষণকারী উপাদান একত্র হয়ে শহরতলির এয়ারশেডকে দ্রুত অবনতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। শিল্প এলাকা হওয়ায় এসব স্থানে মানুষের কাজের সময় দীর্ঘ এবং তারা ঘন ঘন সরাসরি ধোঁয়া শ্বাস নেয়, যার ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরো বাড়ে।
নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও কেরানীগঞ্জ এলাকায় ইটভাটার সংখ্যা বেশি। এখানে শত শত ভাটা পুরনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখনো চালু রয়েছে। এসব ভাটায় নিম্নমানের কয়লা, কাঠ, এমনকি টায়ার ও প্লাস্টিকও পোড়ানো হয়। ফলে বাতাসে বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। শীতকালে ভাটার কার্যক্রম তীব্র আকার ধারণ করলে বায়ুমণ্ডল ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। বাতাসের প্রবাহে এ ধোঁয়া ঢাকার ভেতরেও প্রবেশ করে এবং রাজধানীর এয়ারশেডকে আরো নাজুক করে তোলে। শহরতলির ইটভাটাগুলো সাধারণত গ্রামীণ জনবসতির কাছেই থাকে, তাই স্থানীয় মানুষ সরাসরি এ দূষণের শিকার হয়। স্কুলগামী শিশু, গৃহিণী ও বৃদ্ধরা এ ধোঁয়ায় প্রতিদিন আক্রান্ত হয়। ইটভাটা শ্রমিকরা সারা দিন কাজের সময় ধোঁয়া শ্বাস নেয়। ফলে তাদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী ব্রঙ্কাইটিস, যক্ষ্মা এবং ফুসফুস ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি।
সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় শিল্পের পাশাপাশি নির্মাণকাজও দ্রুত চলছে। নতুন শিল্পনগরী, আবাসিক এলাকা, মহাসড়ক ও ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে সর্বত্র ধুলো ছড়িয়ে রয়েছে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, ইট ভাঙা, সিমেন্ট মেশানো, বালির স্তূপ সবকিছু বাতাসে ভাসমান ধুলোর পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে। বৃষ্টির মৌসুম ছাড়া সারা বছরই এসব এলাকায় ধুলোবালির আধিক্য দেখা যায়। যেহেতু নির্মাণকাজে ধুলো দমনের ব্যবস্থা, যেমন পানি ছিটানো বা ঢেকে রাখার অভ্যাস নেই, তাই বাতাসে স্থায়ীভাবে সূক্ষ্ম কণিকার ঘনত্ব বাড়তেই থাকে। এ কারণে স্থানীয় মানুষের ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্রের রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। শহরতলির আরেকটি বড় সমস্যা হলো যানবাহন থেকে নির্গত দূষণ। শিল্পাঞ্চল ও উপশহরে প্রতিদিন হাজার হাজার ট্রাক, পিকআপ, বাস ও পণ্যবাহী যান চলাচল করে। এ যানবাহনের অনেকগুলোই পুরনো, জ্বালানি হিসেবে নিম্নমানের ডিজেল ব্যবহার করে এবং নির্গমন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি নেই। ফলে যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া বাতাসে নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং ব্ল্যাক কার্বনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। শিল্প এলাকা ও ইটভাটার সঙ্গে মিলে এ দূষণ একত্রে এয়ারশেডকে আরো মারাত্মক করে তোলে।
শহরতলির গৃহস্থালি পর্যায়েও দূষণ একটি বড় সমস্যা। নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো রান্নার জন্য কাঠ, কয়লা, খড় বা কৃষিজ বর্জ্য ব্যবহার করে। ফলে ঘরের ভেতর ধোঁয়ায় ভরে যায় এবং ঘরের ভেতরের এয়ারশেড মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে। নারীরা, বিশেষত যারা রান্নার দায়িত্বে থাকে, এ দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার। শিশুরাও মায়ের কাছাকাছি থাকার কারণে ধোঁয়া শ্বাস নেয়। দীর্ঘমেয়াদে এ দূষণ নারীদের ফুসফুস ও চোখের ক্ষতি করে এবং শিশুদের শ্বাসযন্ত্র দুর্বল করে দেয়। স্বাস্থ্যঝুঁকি শহরতলিতে বহুমাত্রিক। প্রথমত, স্বল্পমেয়াদে মানুষ প্রায়ই কাশি, হাঁচি, শ্বাসকষ্ট, চোখ ও গলার জ্বালা, মাথাব্যথা, ত্বকের অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগে। দ্বিতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে এসব এলাকায় মানুষের ফুসফুস স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শ্বাসযন্ত্রের দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেমন হাঁপানি, ফুসফুস ক্যান্সার দেখা দেয়। তৃতীয়ত, শিল্প থেকে নির্গত ভারী ধাতু ও রাসায়নিক বাতাসে মিশে গিয়ে মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি ও লিভারের সমস্যা দেখা দেয়। চতুর্থত, দূষিত বাতাসে হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। শহরতলির বয়স্ক মানুষের মধ্যে এসব রোগ বেশি দেখা যায়।
শিশুদের ওপর এ দূষণের প্রভাব বিশেষভাবে ক্ষতিকর। তাদের ফুসফুস এখনো বিকাশমান এবং তারা প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় দ্রুত শ্বাস নেয়। ফলে তারা তুলনামূলক বেশি দূষণ শ্বাস নেয় এবং তাদের ফুসফুস সহজে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দূষিত বাতাসে বেড়ে ওঠা শিশুদের উচ্চতা ও ওজন বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়, তারা বারবার অসুস্থ হয় এবং তাদের মানসিক বিকাশ ধীর হয়ে যায়। অনেক সময় স্কুলে অনুপস্থিতি বাড়ে এবং পড়াশোনার ফলাফল খারাপ হয়। নারীরাও দূষণের শিকার হয় ভিন্নভাবে। তারা গৃহস্থালি রান্নাঘরের ধোঁয়ায় বেশি আক্রান্ত হয়। এছাড়া গর্ভবতী মায়েদের জন্য দূষণ মারাত্মক, কারণ এতে গর্ভস্থ শিশুর বিকাশ ব্যাহত হয়। অকাল প্রসব, কম ওজনের শিশু জন্ম, এমনকি নবজাতকের মৃত্যুঝুঁকি পর্যন্ত বাড়ে। শহরতলিতে চিকিৎসা সুবিধা সীমিত হওয়ায় এসব সমস্যা আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শহরতলির এয়ারশেড অবনতির ফলে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব পড়ছে। দূষিত বাতাসে দীর্ঘদিন বসবাস করলে মানুষ প্রায়ই মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও অনিদ্রায় ভোগে। গবেষণায় প্রমাণ পাওয়া গেছে যে বায়ুদূষণ স্নায়ুতন্ত্রে প্রভাব ফেলে, স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে এবং বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়ায়। শিশু ও কিশোররা এ প্রভাবের প্রতি আরো সংবেদনশীল।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও শহরতলির বায়ুদূষণ মারাত্মক ক্ষতির কারণ হচ্ছে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশ প্রতি বছর জিডিপির প্রায় ৩-৪ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকরা বারবার অসুস্থ হলে উৎপাদনশীলতা কমে যায়। তাদের চিকিৎসার খরচ বাড়ে, অনুপস্থিতি বাড়ে, ফলে শিল্পের ক্ষতি হয়। জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার ওপরও চাপ বাড়ে। একই সঙ্গে পরিবেশের ক্ষতির কারণে কৃষি উৎপাদনও প্রভাবিত হয়।
এ সমস্যার সমাধান বহুমুখী উদ্যোগ ছাড়া সম্ভব নয়। ঢাকার এয়ারশেড পুনরুদ্ধার করতে হলে প্রথমে দূষণ মনিটরিং বাড়াতে হবে। শহরের সর্বত্র আধুনিক এয়ার কোয়ালিটি মনিটর বসাতে হবে এবং তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। পুরনো যানবাহন পর্যায়ক্রমে সরিয়ে ফেলতে হবে এবং পরিষ্কার জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। গণপরিবহন উন্নয়নের মাধ্যমে রাস্তায় যানবাহনের চাপ কমাতে হবে। ইটভাটাকে আধুনিক প্রযুক্তিতে রূপান্তর করতে হবে এবং অননুমোদিত ভাটা বন্ধ করতে হবে। কিলন প্রযুক্তি পরিবর্তন করে জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে হবে এবং কয়লা বা টায়ার পোড়ানো বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিল্পাঞ্চলে নির্গমন নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি যেমন ফিল্টার, স্ক্রাবার ও ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে। তৃতীয়ত, গৃহস্থালি পর্যায়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ বা উন্নত চুলার ব্যবহার বাড়াতে হবে। শহরে সবুজবেষ্টনী তৈরি করতে হবে এবং শিল্প ও আবাসিক এলাকা আলাদা রাখতে হবে। চতুর্থত, নির্মাণস্থলে ধুলো দমনে পানি ছিটানো ও সামগ্রী ঢেকে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে যাতে তারা নিজেরাও দূষণ কমাতে পদক্ষেপ নেয়, যেমন আবর্জনা না পোড়ানো, বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি। স্বাস্থ্য খাতে প্রস্তুতি নিতে হবে যাতে হাসপাতালগুলোয় শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগ চিকিৎসার সুবিধা থাকে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী জেলা ও দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে যাতে সীমান্তবর্তী দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে যাতে সীমান্তবর্তী দূষণও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ঢাকার চারপাশের শহরতলির অঞ্চলগুলো স্বাস্থ্য খাতে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে যাতে শহরতলির মানুষ সহজে শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগের চিকিৎসা পায়। স্কুল ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি চালাতে হবে যাতে সবাই পরিষ্কার বাতাসের গুরুত্ব বোঝে এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ২০২২ সালে ‘বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা’ চালু হয়েছে, যেখানে ইটভাটা আধুনিকায়ন, শিল্প নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহনের মান উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। কিছু মনিটরিং স্টেশন বসানো হয়েছে এবং কিছু অবৈধ ভাটা বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। আইন প্রয়োগ দুর্বল, অনেক শিল্প এখনো ফিল্টার ব্যবহার করে না, নির্মাণকাজে নিয়ম মানা হয় না, যানবাহনের মান পরীক্ষা কঠোর নয়। ফলে নিয়ম থাকলেও তার সুফল জনগণ পাচ্ছে না।
সবশেষে বলা যায়, ঢাকার শহরতলির এয়ারশেড অবনতি একটি অস্বীকারযোগ্য বাস্তবতা ও একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট। প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষ দূষিত বাতাস শ্বাস নিচ্ছে, যা তাদের জীবন প্রত্যাশা কমিয়ে দিচ্ছে এবং অসংখ্য রোগ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে মৃত্যু ও রোগব্যাধির হার আরো বাড়বে, দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং সামাজিক বৈষম্য গভীর হবে। কিন্তু যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যায়, তাহলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। সঠিক নীতি, কঠোর বাস্তবায়ন, আধুনিক প্রযুক্তি, জনসচেতনতা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে ঢাকার আকাশকে আবারো স্বচ্ছ করা যেতে পারে। পরিষ্কার বাতাস মানুষের মৌলিক অধিকার, আর এ অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, নাগরিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
ড. শফি মুহাম্মদ তারেক: অধ্যাপক, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ফেলো, রয়্যাল কেমিক্যাল সোসাইটি এবং চার্টার্ড পরিবেশবিদ, যুক্তরাজ্য