আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কর বা ট্যাক্স কেবল সরকারের রাজস্ব আয়ের হাতিয়ার নয়; এটি সমাজে আয় ও সম্পদের বৈষম্য দূর করার এবং একটি পুনর্বণ্টনমূলক রাজস্ব কাঠামো প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উপায়। একটি ন্যায়ভিত্তিক কর ব্যবস্থার অন্যতম মৌলিক শর্ত হলো ‘হরাইজন্টাল ইকুইটি’ বা আনুভূমিক সমতার নীতি। অর্থনীতির পরিভাষায় এ নীতির সরল অর্থ হলো সমপরিমাণ আয়কারী দুজন নাগরিককে রাষ্ট্র সমপরিমাণ করের আওতায় আনবে। আয়ের উৎস সরকারি চাকরি, বেসরকারি চাকরি নাকি কোনো উৎপাদনমুখী ব্যবসা, সেটি কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
কিন্তু বাংলাদেশের আয়কর কাঠামোর, বিশেষ করে আয়কর আইন ২০২৩-এর বাস্তব প্রয়োগের দিকে গভীরভাবে তাকালে আমরা এক বৈপরীত্য দেখতে পাই। আমাদের কর কাঠামোতে একই পরিমাণ মোট আয় হওয়া সত্ত্বেও একজন ব্যবসায়ী, একজন বেসরকারি চাকরিজীবী এবং একজন সরকারি চাকরিজীবীর করের বোঝায় বিপুল ফারাক লক্ষ করা যায়। একটি উদীয়মান অর্থনীতি হিসেবে আমরা কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমান ৭ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। সেই বিবেচনায় আমাদের করনীতির এমন কাঠামোগত বৈষম্য কেবল অন্যায্যই নয়, বরং তা টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে বড় বাধাও বটে।
কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতার তাত্ত্বিক ভিত্তি: পঞ্চাশ দশকে বিখ্যাত জার্মান-আমেরিকান অর্থনীতিবিদ রিচার্ড এ. মাসগ্রেভ আধুনিক কর ব্যবস্থায় ‘ন্যায্যতা’ বা ‘ন্যায়পরায়ণতা’র তাত্ত্বিক কাঠামোটি দাঁড় করান। মাসগ্রেভ আধুনিক সরকারি অর্থ ব্যবস্থার জনক হিসেবেও পরিচিত। তিনি করনীতির মূল্যায়নে ‘হরাইজন্টাল ইকুইটি’ ও ‘ভার্টিক্যাল ইকুইটি’—এ দুই ধারণাকে একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কাঠামোতে রূপ দেন। ‘হরাইজন্টাল ইকুইটি’র মূল কথা হলো ‘সমান আয়, সমান কর।’ অর্থাৎ যাদের আয় বা কর দেয়ার সক্ষমতা সমান, তাদের ওপর সমপরিমাণ কর ধার্য করতে হবে। আয়ের উৎস কী, অর্থাৎ কে কোন পেশায় নিয়োজিত, তা এখানে বিবেচ্য বিষয় নয়। অন্যদিকে ‘ভার্টিক্যাল ইকুইটি’ বলতে বোঝানো হয়েছে ‘অসমান আয়, অসমান কর।’ অর্থাৎ সমাজে যার আয় ও সামর্থ্য যত বেশি, রাষ্ট্র তার কাছ থেকে তত বেশি অনুপাতে কর আদায় করবে। এটি মূলত প্রগতিশীল কর ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। তবে মাসগ্রেভেরও অনেক আগে কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতার ধারণা নিয়ে ১৭৭৬ সালে প্রকাশিত তার যুগান্তকারী গ্রন্থ ‘দ্য ওয়েলথ অব ন্যাশনস’-এ অ্যাডাম স্মিথ যে চার মূল নীতির (ক্যাননস্ অব ট্যাক্সেশন) কথা বলেছিলেন, তার প্রথমটিই ছিল ‘অ্যাবিলিটি টু পে’ বা সামর্থ্যের নীতি। মাসগ্রেভের ‘ভার্টিক্যাল ইকুইটি’ মূলত অ্যাডাম স্মিথের সেই বিখ্যাত সামর্থ্য অনুযায়ী কর প্রদান নীতিরই আধুনিক ও কাঠামোগত রূপ। অন্যদিকে একটু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, অ্যাডাম স্মিথের এই ‘অ্যাবিলিটি টু পে’ ধারণার ভেতরেই কিন্তু হরাইজন্টাল এবং ভার্টিক্যাল—উভয় ইকুইটির বীজ লুকিয়ে আছে। সামর্থ্য বা আয় সমান হলে কর সমান হবে (যা হরাইজন্টাল ইকুইটি), আর সামর্থ্য বা আয় ভিন্ন হলে করও ভিন্ন হবে (যা ভার্টিক্যাল ইকুইটি)। তবে সামষ্টিক অর্থনীতির আলোচনায় ‘অ্যাবিলিটি টু পে’ নীতিটিকে প্রধানত ভার্টিক্যাল ইকুইটির তাত্ত্বিক ভিত্তি বা সমার্থক হিসেবেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়।
কর প্রদানের একই রকম সক্ষমতা বা সমপরিমাণ আয় থাকা সত্ত্বেও যখন নাগরিকদের পেশা, কর্মক্ষেত্র বা আয়ের উৎসের ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন করভার চাপিয়ে দেয়া হয়, তখন সেটা স্পষ্টতই ‘হরাইজন্টাল ইকুইটি’র পরিপন্থী কাজ হয়। বাংলাদেশে বিদ্যমান কর ব্যবস্থায় ঠিক এটাই হচ্ছে।
একটি ন্যায়ভিত্তিক ও আদর্শ কর ব্যবস্থায় ‘হরাইজন্টাল ইকুইটি’ ও ‘ভার্টিক্যাল ইকুইটি’র চমৎকার ভারসাম্য থাকতে হয়। ‘হরাইজন্টাল ইকুইটি’ পেশা ও খাতের মধ্যকার বৈষম্য দূর করে, আর ‘ভার্টিক্যাল ইকুইটি’ সমাজের ধনী-গরিবের মধ্যকার আয়বৈষম্য কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
হরাইজন্টাল ইকুইটি: বৈশ্বিক মানদণ্ড বনাম দেশীয় বাস্তবতা
উন্নত ও উন্নয়নশীল প্রায় সব দেশে (যেমন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এমনকি পার্শ্ববর্তী ভারত) সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের কর নির্ধারণের নিয়ম এক ও অভিন্ন। সমতার নীতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সেখানে সরকারি কর্মকর্তাদের বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত বা অন্যান্য ভাতাও সাধারণ নাগরিকদের মতোই করযোগ্য আয় হিসেবে বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিক করনীতির মূল কথাই হলো, রাষ্ট্র তার নাগরিকদের আয়ের খাতের ভিত্তিতে বিভাজন করবে না।
অথচ বাংলাদেশে আয়কর আইনের প্রয়োগ যেন ‘এক দেশে তিন নীতি’র বাস্তব উদাহরণ। এখানে পেশা বা খাতের ভিত্তিতে করের দায় নির্ধারিত হচ্ছে, যা সাংবিধানিক সমতার নীতিরও এক ধরনের প্রচ্ছন্ন লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে এ সুবিধাগুলো যৌক্তিকীকরণ করে সমতার নীতি কার্যকরের পরামর্শ দিয়ে এলেও প্রশাসনিক ও কাঠামোগত কারণে তা আজও উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
সরকারি বনাম বেসরকারি: একই আয়ে ভিন্ন করের বোঝা
আয়কর আইনে সবচেয়ে বড় বৈষম্যটি দৃশ্যমান হয় সরকারি ও বেসরকারি খাতের চাকরিজীবীদের কর নির্ধারণের ক্ষেত্রে। একজন সরকারি চাকরিজীবীর আয়ের কেবল দুটি অংশ—মূল বেতন এবং উৎসব ভাতা করযোগ্য। এর বাইরে তারা যে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, যাতায়াত ভাতা বা বৈশাখী ভাতা পান, তার পুরোটাই সম্পূর্ণ করমুক্ত।
অন্যদিকে একজন বেসরকারি চাকরিজীবীর বেলায় চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার নিয়োগপত্রে বেসিক, বাড়ি ভাড়া বা চিকিৎসা ভাতা আলাদা করে লেখা থাকলেও কর হিসাব করার সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এসব বিবেচনায় নেয় না। বেসরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো বার্ষিক মোট আয়ের এক-তৃতীয়াংশ অথবা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা—এর মধ্যে যেটি কম, কেবল সেটিই করমুক্ত থাকবে।
ধরা যাক, বছরে ১০ লাখ ৪০ হাজার টাকা মোট আয় করেন এমন একজন বেসরকারি ব্যাংক বা করপোরেট কর্মকর্তার কথা। করমুক্ত অংশ বাদ দেয়ার পর তার যে করযোগ্য আয় দাঁড়াবে, তার ওপর তাকে হয়তো বছরে প্রায় ৩০ হাজার টাকার কাছাকাছি আয়কর দিতে হবে (বিনিয়োগ ভাতা বা রিবেট বাদে)। অথচ ঠিক সমপরিমাণ অর্থ আয় করা একজন সরকারি কর্মকর্তাকে তার অর্ধেকেরও কম কর দিতে হবে। কারণ তার আয়ের সিংহভাগই ভাতাগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা সম্পূর্ণ করমুক্ত। এ নীতি বেসরকারি খাতের কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের মানসিক ও আর্থিক বঞ্চনার জন্ম দেয়।
উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের গলার কাঁটা: ‘ন্যূনতম কর’ ও উৎসে করের ফাঁদ
চাকরিজীবীদের এ বৈষম্যের চেয়েও আরো ভয়াবহ চিত্র দেখা যায় উৎপাদন ও ব্যবসা খাতে। বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত অর্থনীতির দিকে তাকালে দেখা যায়, সাধারণ চাকরিজীবীদের তুলনায় ব্যবসায়ীদের কার্যকর করহার বেশ কম। প্রখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের সেই বিখ্যাত উক্তি—‘আমি আমার সেক্রেটারির চেয়েও কার্যকর হারে কম কর দিই’—এর বড় প্রমাণ। বৈশ্বিক নিয়মে ব্যবসায়ীরা তাদের আয় থেকে পরিচালন ব্যয়, পণ্যের অবচয়, গবেষণা ও উন্নয়ন খরচ, মূলধনি বিনিয়োগ ইত্যাদি বাদ দিয়ে কেবল ‘নিট মুনাফা’র ওপর কর দেন।
কিন্তু বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিক খাতে শিল্প স্থাপন বা ব্যবসা পরিচালনা করা যেন এক ধরনের অন্তহীন সংগ্রাম। আমাদের আয়কর আইন মূলত ‘প্রকৃত মুনাফা’র চেয়ে ‘লেনদেনের পরিমাণ’-এর ওপর বেশি নির্ভরশীল। দেশে তৈরি পোশাক (আরএমজি), সিমেন্ট কিংবা অন্য যেকোনো ভারী শিল্পের কথা ভাবুন। উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে—কাঁচামাল আমদানি, সাপ্লাই চেইন, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ বা ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে উৎসে কর (টিডিএস) ও অগ্রিম আয়কর (এআইটি) কেটে রাখা হয়।
সবচেয়ে বড় অসামঞ্জস্য হলো ‘ন্যূনতম কর’-এর বিধান। বছর শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে মন্দা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি বা অন্য কোনো কারণে ব্যবসায় যদি লোকসানও হয়, তবুও বিভিন্ন ধাপে কেটে রাখা এ অগ্রিম কর আর ফেরত পাওয়া যায় না। অর্থাৎ পকেটে লাভ না এলেও কর ঠিকই দিতে হচ্ছে। বর্তমান সময়ে যখন আমাদের শিল্প খাতগুলোকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিংবা কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে সবুজ শিল্পায়নের দিকে যেতে বিপুল পরিমাণ নতুন বিনিয়োগের প্রয়োজন, তখন লাভের আগেই এ নগদ অর্থ (ক্যাশ ফ্লো) কর হিসেবে কেটে রাখায় শিল্পের স্বাভাবিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রাষ্ট্র কেন এমন বৈষম্যমূলক কাঠামো জিইয়ে রেখেছে?
আপাতদৃষ্টিতে এ ব্যবস্থাকে অযৌক্তিক মনে হলেও এর পেছনে রাষ্ট্রের রাজনৈতিক অর্থনীতি ও রাজস্ব প্রশাসনের কাঠামোগত দুর্বলতা দায়ী।
প্রথমত, সরকারি চাকরিজীবীদের বেশি কর আরোপ করার অর্থ হলো সরকারের এক পকেট থেকে টাকা বের করে আরেক পকেটে ঢোকানো। এতে রাষ্ট্রের নিট রাজস্ব বাড়ে না। তাই রাষ্ট্র এ খাতকে করমুক্ত রেখে এক ধরনের হিসাবের সুবিধা নেয়।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বিশাল অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক। অনেকেই বিপুল পরিমাণ নগদ লেনদেন করেন কিন্তু কর জালের বাইরে রয়ে গেছেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দুর্বল নিরীক্ষা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে এ বিশাল অনানুষ্ঠানিক খাত থেকে কর আদায় করা কঠিন। ফলে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য এনবিআরের সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন বেসরকারি চাকরিজীবী এবং নিয়ম মেনে চলা আনুষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তারা। কর ফাঁকি রোধের নামে এবং ব্যবসায়ীদের প্রকৃত আয় গোপনের অজুহাতে রাষ্ট্র মূলত টার্নওভারভিত্তিক অগ্রিম করের খড়্গ চাপিয়ে দিয়েছে। এটি অনেকটা ‘যে কর দেয়, তাকেই আরো বেশি চেপে ধরার’ নীতির মতো।
সামষ্টিক অর্থনীতিতে এ বৈষম্যের সুদূরপ্রসারী প্রভাব
দীর্ঘমেয়াদে কর কাঠামোর এ ত্রুটি সামষ্টিক অর্থনীতিতে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। প্রথমত, এটি সমাজে মেধা ও পুঁজির স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করছে। একজন তরুণ উদ্যোক্তা যখন দেখেন যে উৎপাদনমুখী ব্যবসায় ঝুঁকি ও করের বোঝা দুটোই বেশি, তখন তিনি উদ্যোক্তা হওয়ার বদলে একটি নিরাপদ সরকারি চাকরির দিকেই বেশি ঝুঁকবেন। এটি একটি জাতির উদ্ভাবন ও উৎপাদন-বাণিজ্যের জন্য অশনিসংকেত।
দ্বিতীয়ত, আনুষ্ঠানিক খাতে করের বোঝা বেশি হওয়ার কারণে অনেক ব্যবসাই অনানুষ্ঠানিক বা ‘কালো’ অর্থনীতিতে ঢুকে পড়ে। এটি দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের রাজস্ব ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। আমরা যদি সত্যিই একটি টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও প্রতিযোগিতামূলক শিল্প ও বাণিজ্য খাত গড়ে তুলতে চাই, তবে ব্যবসার ওপর থেকে এ অযৌক্তিক নগদপ্রবাহের চাপ কমাতেই হবে।
সমতাভিত্তিক কর ব্যবস্থার জন্য করণীয়
একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করতে হলে বিদ্যমান কর কাঠামোর এ ত্রুটিগুলো সংস্কার করতে হবে। এমন একটি প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা সৃষ্টি করতে হবে, যা সম্পদশালীদের কাছ থেকে যৌক্তিক হারে কর আদায় করে তা সামাজিক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় করবে।
আমাদের অবিলম্বে ‘হরাইজন্টাল ইকুইটি’র আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ফিরে যেতে হবে। আয়ের উৎস বা খাতের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং প্রকৃত আয়ের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে কর নির্ধারিত হতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীদের কর নির্ধারণ পদ্ধতি একীভূত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সৎ উৎপাদকদের ওপর থেকে অগ্রিম আয়কর ও ন্যূনতম করের বোঝা কমিয়ে প্রকৃত নিট মুনাফার ওপর কর আরোপের বৈশ্বিক নীতিতে ফেরা জরুরি।
রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মনে রাখা উচিত, কর ব্যবস্থার উদ্দেশ্য কেবল রাষ্ট্রের দৈনন্দিন খরচ মেটানো নয়। এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক দর্শনেরও প্রতিফলন। আমরা উৎপাদনমুখী অর্থনীতির কথা বলছি, কিন্তু এমন এক কর ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখছি, যা চাকরিজীবীদের মাঝে বৈষম্য তৈরি এবং উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। এই যদি হয় বাস্তবতা, তাহলে উন্নত অর্থনীতির স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। আমাদের আয়কর কাঠামোকে একটি সত্যিকারের সমতাভিত্তিক ও ব্যবসা-বাণিজ্য-শিল্পবান্ধব মডেলে রূপান্তর ঘটাতে হবে।
মনোয়ার মোস্তফা: সাধারণ সম্পাদক, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলন (ডিবিএম)