যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য আর্থিক খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঐতিহাসিক-ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে আমরা দেখি কেন্দ্রীয় ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো সম্মিলিতভাবে দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখেছে। ক্রমে অন্যান্য আর্থিক খাতের উদ্ভব ঘটেছে এবং ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসেছে।
আর্থিক খাতের তিনটি দিক—ব্যাংক খাত, পুঁজিবাজার ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এর বাইরে অবশ্য আছে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। সাম্প্রতিককালে আমরা দেখছি যে, তিনটা খাতেই কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। ব্যাংক এবং ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কিছু সমস্যা আগে থেকেই বিদ্যমান। তৃতীয়ত, পুঁজিবাজারেও বেশকিছু সমস্যা রয়েছে। তবে পুঁজিবাজারের শুরুটা হয়েছে খানিকটা দেরি করে। এ নিবন্ধে ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের সমস্যাগুলোর দিকে আলোকপাত করব।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক হোক কিংবা বিশেষায়িত ব্যাংক—এরা সাধারণত ছোট-বড় বিভিন্ন প্রকল্পে ঋণ প্রদান করে। এর মাধ্যামে ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়। পুঁজিবাজারের দায়িত্বটা হলো বাজার থেকে পুঁজি সংগ্রহ করা। তবে আমাদের দেশের বেশির ভাগ শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাংকনির্ভর অর্থাৎ ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরশীল। ব্যাংকের ঋণের টাকাটা মূলত আমানতকারীর অর্থ। অথচ দেখা যাচ্ছে, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা ফেরত দেয়া হচ্ছে না। বরং আমাদের খেলাপি ঋণ ক্রমে বাড়ছে।
এদিকে পুঁজিবাজারে দুটো কম্পোনেন্ট আছে। একটা শেয়ার মার্কেট, অন্যটা বন্ড মার্কেট। বাংলাদেশের বর্তমান যে অবস্থা, সেখানে আমাদের ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে পুঁজিবাজারের দিকে যেতে হবে। উন্নয়নশীল কোনো দেশেই ব্যাংক থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেয়া যায় না। তাদের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে, সুনির্দিষ্ট মেয়াদ আছে। ব্যাংকিং আইন ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে ব্যাংক থেকে বড় অংকের ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে পুঁজিবাজারের সুবিধা হচ্ছে, তারা শেয়ার ইস্যু করবে। লাভ হলে শেয়ারহোল্ডাররা লাভের টাকা পাবেন। ক্ষতি হলেও তারা তা বহন করবেন।
ব্যাংকের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ক্ষতির অংকটা ব্যাংকের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়। এক্ষেত্রে পুঁজিবাজারে যাওয়া মানে হচ্ছে ঝুঁকি ভাগাভাগি করা। তাছাড়া পুঁজিবাজারে একটা কোম্পানির আর্থিক ব্যবস্থাপনা অনেক ভালো হয়। কারণ কোনো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে যেতে হলে অডিট, আর্থিক প্রতিবেদন ইত্যাদি বিষয়গুলো ঠিকঠাক করে যেতে হয়। তবে আমাদের দেশে পুঁজিবাজারে এ বিষয়গুলো এখনো সম্পূর্ণভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আবার আমাদের দেশের পুঁজিবাজারে শেয়ার মার্কেট যতটা উজ্জীবিত, বন্ড মার্কেট ততটা নয়। বন্ড মার্কেটে প্রায় শতভাগের কাছাকাছি সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্রেজারি বন্ড রয়েছে। এখানে করপোরেট বন্ড খুবই কম। এটা উন্নত পুঁজিবাজারের নিদর্শন নয়।
সম্প্রতি পুঁজিবাজারের তদারকি ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন ব্যবস্থা আলাদা করা হয়েছে। কিন্তু সেটা খুব বেশি উন্নত হয়েছে বলে মনে হয় না। পুঁজিবাজারের প্রধান সমস্যা হলো স্পর্শকাতর তথ্যগুলো ফাঁস বা এটা কাজে লাগিয়ে সুবিধা নেয়া। যারা তথ্যগুলো জানেন তারা এটা ব্যবহার করেন। পুঁজিবাজার কিন্তু ব্যাংকিং খাত কিংবা নন-ব্যাংকিং খাত থেকে আলাদা।
পুঁজিবাজারের দুটি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা—বাংলাদেশ ব্যাংক এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পুঁজিবাজার উন্নয়নে সংস্থা দুটির আরো গভীরভাবে কাজ করা উচিত। প্রথমত, ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যেসব নিয়ম-নীতি অনুসরণ করে, যেমন পুঁজিবাজারে ব্যাংকের এক্সপোজার লিমিট, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য সাবসিডিয়ারি কোম্পানি গঠন-পরিচালনা ও তাদের লভ্যাংশ কীভাবে প্রত্যাবাসন করে এগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের আলাদা নীতি রয়েছে।
অন্যদিকে বিএসইসি চায় পুঁজিবাজারে যত বেশি বিনিয়োগ আসবে তত ভালো। বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী কম। ব্যাংক এখানে অন্যতম প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। বিএসইসি তাদের উৎসাহিত করতে চায়। ব্যাংকের এক্সপোজার যখন বেড়ে যায়, তখন ব্যাংকের লভ্যাংশের একটি অংশ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে দেয়ার কথা। এক্ষেত্রে পৃথিবীর সব দেশই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গাইডলাইন অনুসরণ করে। তা যদি অনুসরণ করা না হয় তাহলে দেশের মুদ্রাবাজার, ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আর্থিক বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংককেও তাই আমানতকারীর স্বার্থ রক্ষায় বিদ্যমান নীতিমালার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বলব, ব্যাংকগুলো যখন স্বাভাবিক ব্যাংকিং থেকে পুঁজিবাজারে ওভার এক্সপোজার করে তখন জট পাকিয়ে যায়। ২০০৭-০৮ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দায় আমরা এর কিছু ধ্রুপদি উদাহরণ দেখেছি। আবাসন খাতে লাগামহীন ঋণ দেয়ায় বাবল তৈরি হলো। ক্রমে সুদের হার কমানোর কারণে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ল।
সবচেয়ে মারাত্মক হয়েছে গ্লাস-স্টিগাল আইন, যেটা ১৯৩৩ সালে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট করেছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল বিনিয়োগ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ফায়ারওয়াল রাখা। কিন্তু ১৯৯৯ সালে আইনটি উঠিয়ে দেয়া হলো। রিপাবলিকানরা প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে এটা করতে বাধ্য করে। কারণ রিপাবলিকানরা চায় সবকিছু খোলা থাকুক। কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে এ বিষয়টা মনে রাখা দরকার। ফায়ারওয়ালটা উঠে যদি যায়, ব্যাংকাররা যদি মার্কেটকে ওভারএক্সপোজ করেন, আমেরিকা যেমনটা করেছে বাংলাদেশে তেমনটি করলে তা মারাত্মক হবে। আমেরিকায় সোলেমনস ব্রাদারস, ব্যাংক অব আমেরিকা, মেরিন লিচ, বেলজিয়ামের লেক্সিয়া ব্যাংক—বড় বড় ব্যাংক ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত হলো। সেদিক থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকা এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে এর সমাধান করতে হবে। আর একটা বিষয় হচ্ছে, অনেক ব্যক্তি ও শিল্পপতি ব্যাংকের ঋণ নেন, কিন্তু তারা ঋণটা শিল্পে বিনিয়োগ না করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন। এতে তারা নিজেরা লাভ করছেন কিন্তু যে উদ্দেশ্যে তাদের ব্যাংকঋণ দেয়া হয়েছে তা ব্যাহত হয়। বিষয়টি তখন ঝুঁকি হিসেবে চলে আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসিকে যৌথভাবে বিষয়টির সমাধান করতে হবে। আমি মনে করি, দুটি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। পুঁজিবাজার কিন্তু জানে না, বিনিয়োগকৃত অর্থটা কোথা থেকে এসেছে। আবার পুঁজিবাজারের বিষয়গুলো অনিশ্চিত। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বিএসইসির মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারের সমস্যা সমাধানে সিদ্ধান্ত নেয়া হতো। এখনও তাই করতে হবে।
আজ থেকে আট কিংবা ১০ বছর আগে, এমনকি আমি যখন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক ও পুঁজিবাজারের সঙ্গে নিয়মিত সভা-আলোচনা হতো। সভাগুলো ছিল এজেন্ডাভিত্তিক। আমি গভর্নর হিসেবে সবার সঙ্গে বসতাম, তারা এজেন্ডা নিয়ে কথা বলত। এতে ভুল বোঝাবুঝিগুলো দূর হয়।
আমরা দেখছি, পুিঁজবাজারের সূচক বেড়ে যাচ্ছে। কিন্তু সূচক বাড়লেই যে পুঁজিবাজার ভালো অবস্থায় রয়েছে—তা নয়। যেমন ১৯৯৬ সালের দিকে সূচক অনেক বেড়েছে, তারপর ২০১০ সালে আগের ৬ হাজার সূচক বেড়ে ৯ হাজার হয়ে যায়। আমরা দেখেছি, তখন জেড ক্যাটাগরির শেয়ার অনেক দামে বিক্রি হয়েছে। মৌলিক কোনো কারণ ছাড়া যদি শেয়ারের দাম বাড়ে, তাহলে ওই শেয়ার মার্কেট লভ্যাংশ, বোনাস শেয়ার বা অন্য কোনো প্রণোদনাও দিতে পারবে না। এর জন্যই বাংলাদেশ ব্যাংককে পুঁজিবাজারের তহবিল কোথা থেকে আসছে ইত্যাদি বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
আবার ২০১০ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক চট করে এক্সপোজার কমাতে বলেছিল। সেটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না। এজন্য কয়েক মাস সময় দেয়া দরকার ছিল। ফলে শেয়ারবাজার সমস্যার মুখে পড়ে।
মডারেটিং প্রো-সাইক্লিক্যাল সূচক দ্রুত উপরে ওঠা ও নিচে নামার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি আর্থিক তত্ত্ব রয়েছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সাধারণত অনুসরণ করে। কারণ সূচক যখন বাড়তে থাকে, তখন তা নিয়ন্ত্রণ করা হয় যেন চূড়ায় উঠতে না পারে।
আমাদের দেশে যেমন সরকার সভা ডাকলে সঙ্গে সঙ্গে শেয়ারের মূল্য বেড়ে যায়। আবার সভা ফলপ্রসূ হয়নি, সঙ্গে সঙ্গে শেয়ার মূল্য কমে গেল। আবার হঠাৎ করে নির্দিষ্ট কোনো কোম্পানি ব্র্যান্ডিংয়ে খুব নাম করল, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় তাদের খবর ছাপা হলো—তাদের শেয়ারের দাম বেড়ে গেল। কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিকের নামে বদনাম উঠল, তাদের শেয়ারের দাম পড়ে গেল। এসব ভালো কোনো প্রবণতা নয়।
শেয়ারের দাম বাড়লে পাকা বিনিয়োগকারীরা চট করে শেয়ারগুলো বিক্রি করে দেন। কিন্তু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা বের হতে পারেন না। আগে শেয়ারবাজারের ধসে প্রায় ৩০ লাখ লোককে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেখেছি। এ দৃষ্টিকোণ থেকে যদি আমরা সমন্বয়টা না করি, তবে অর্থায়ন-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমাদের শিল্প ভুগতে থাকবে।
সরকারি বা আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে হবে। এটা সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও তথ্যভিত্তিক কাজ। তাই অনেক কিছু বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারো বক্তব্য শুনে বা কারো বক্তব্য প্রাধান্য দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে না। এটা করলে শিল্প ও বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাছাড়া এসবের মাধ্যমে মুষ্টিমেয় লোকের ধনসম্পদ বাড়ে শুধু। ফলে নানা ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হয়। সমন্বয়ের অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগের বৈষম্য ও আয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি হয়।
ভারতে স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড রয়েছে, কিন্তু বেশির ভাগ দেশের পুঁজিবাজারে এটা নেই। আমেরিকায় পুঁজিবাজারের বিষয়গুলো দেখে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক কোনো হন্তক্ষেপ করে না কিন্তু অর্থের প্রবাহ, সুদহার ইত্যাদি বিষয়গুলো দেখার দায়িত্ব তাদের। সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন দেখে যে, অর্থটা কোথা থেকে এল বা কোনো কোম্পানি একীভূত হয়ে মার্কেট থেকে অধিকাংশ শেয়ার কিনল কিনা ইত্যাদি।
এর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রয়েছে ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স করপোরেশনের। মানে আমানতকারীর অর্থটা সুরক্ষিত করা। ব্যাংকিং, মানি সাপ্লাই, পুঁজিবাজার উন্নয়ন এবং আমানতকারীর সুরক্ষা— গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ডিপোজিট স্কিমের আওতাধীন বীমা কাভারেজ আড়াই লাখ ডলার নির্ধারণ করেছে।
আমানতকারীদের হয়ে কথা বলার জন্য সমন্বয় দরকার। আমাদের ব্যাংকগুলোর তারল্য সমস্যা রয়েছে। পুঁজিবাজারে যদি ব্যাংকের অর্থ বিনিয়োগ করে তা খোয়া যায়, তাহলে সমস্যা। তাছাড়া পুঁজিবাজার থেকে বের হওয়াও এতটা সহজ নয়।
২০১০ সালে যখন পুঁজিবাজারে ধস নামে তখন ব্যাংকগুলোই সবচেয়ে বেশি টাকা হারায়। ভারতীয় অর্থনীতিবিদ রঘুরাম রাজন একটি নিবন্ধ লিখেছেন। তিনি বলেছেন যে আমাদের পুঁজিবাজারে নতুন যত অ্যাসেট তৈরি হচ্ছে, আর্থিক খাতের ঝুঁকি তত বেড়ে যাচ্ছে। শেয়ারের আসল মূল্য নির্ভর করে কোম্পানিগুলোর ওপর। এক্ষেত্রে করপোরেট গভর্ন্যান্স খারাপ হলে সমস্যা। যে প্রতিষ্ঠানগুলো শেয়ার মার্কেটের তালিকাভুক্ত হচ্ছে তাদের মৌলিক সুশাসনের অবস্থা কী বা প্রতিষ্ঠানগুলোতে করপোরেট সুশাসন রয়েছে কিনা তা দেখা জরুরি।
বিএসইসিকে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির বিষয়গুলো নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনায় বসতে হবে। বিএসইসি যদি নিজেদের নজরদারি, তদারকির বিষয়গুলো ঠিক না করে স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ইনভেস্টেবল ফান্ড বাড়াতে চায়, তাহলে যথেষ্ট সতর্কতার সঙ্গে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।
ব্যবসা যদি দ্রুত বৃদ্ধি পায়, তাহলে তা পর্যবেক্ষণ করতে হয়—কেন বাড়ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বিএসইসি—দুটি সংস্থারই দায়িত্ব তা পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা। দুটি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে আর্থিক খাত ও পুঁজিবাজারের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা কঠিন নয়।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক