জাতীয় বাজেটের প্রতি এবারের আকর্ষণ একটু ভিন্ন। কারণ এবারের বাজেটে সংসদের ভূমিকা নেই, নেই কোনো মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা। তবে প্রায় এক মাস ধরে আলোচনার সুযোগ থাকছে বলে জানা যায়, যেখানে সাধারণ মানুষ এবং উদ্যোক্তা হয়তো তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরবে, তবে পরিবর্তন কতটা হবে তার নিশ্চয়তা নেই।
প্রতিবারের মতো এবারের বাজেটেও রাজস্ব আহরণের বড় লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, সে সঙ্গে কমবে অব্যাহতির পরিমাণ, বাড়বে মিনিমাম ট্যাক্স, উৎসে কর্তনকৃত কর সহজেই রিফান্ড পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই, এমনকি টেক্সটাইল খাতে। করপোরেট করহার বাড়ছে বলে জানা গেছে। অনেকটা হতাশার মাঝে দিন গুজরান করছেন উদ্যোক্তারা। তাদের নিজস্ব খাতে সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের প্রভাব পড়বে সেটার আগাম হিসাব-নিকাশ করছেন তারা। বিশেষ করে স্থানীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ, যারা দেশের বাজারে তাদের পণ্য বিক্রি করেন এবং কাঁচামাল প্রায় সবটাই আমদানীকৃত। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, ইউটিলিটির খরচ, পোর্টের হ্যান্ডলিং ও লজিস্টিকসের সীমিত সহায়তা তাদের সবসময় ব্যতিব্যস্ত রাখে। আবার খরচও বাড়ে বিভিন্ন সেবা পেতে দেরির কারণে। এর মধ্যে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে। বেসরকারি খাত এলডিসি উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল। তবে তা গ্রাহ্য করা হয়নি, ট্রেড ফেসিলিটেশন কার্যক্রমের কোনো উন্নতি এ যাবৎ চোখে পড়ার মতো নয়।
অন্যদিকে যারা রফতানি বাজারের জন্য পণ্য তৈরি করেন তাদের সমস্যাও আছে, তবে তার ধরন ভিন্ন। কারণ আমরা এখন একটি জটিল আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, রয়েছে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা; যা অবশ্য সবার জন্য প্রায় একই রকম, তবে অভ্যন্তরীণ অনিশ্চয়তা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার গভীরতা বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব দিক বিবেচনায় এবারের বাজেটকে কিছুটা নিরাশার বাজেটই বলা যায়। যাই হোক বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য দেশের শিল্পায়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, জনস্বাস্থ্য, দারিদ্র্য বৈষম্য নিরসন, পরিবেশ, শিক্ষা ইত্যাদিকে সহায়তা দেয়া। এসব ব্যাপারে এরই মধ্যে বাজেটের বরাদ্দ কেমন হবে তার কিছুটা আভাস আমরা পেয়েছি।
এবারের বাজেট (৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি) কিছুটা সংকুচিত (৭ হাজার কোটি টাকা কম), এডিপি ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। ৫ লাখ ১৮ হাজার কোটি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য। বাজেট তৈরির আগে খরচের হিসাবটি করে সে অনুযায়ী রাজস্ব আয় কতটা দরকার হবে সেটা নির্ধারণ হলে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সম্পূরক খুঁজে পাওয়া যেত, কিন্তু এখানে তা নয়। তাই বাস্তবায়ন একটু কঠিন ও কতটুকু খরচ করে কী পাওয়া গেল এবং দক্ষ খরচের বা সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আরো বেশি উপকৃত হতে পারতাম কিনা এ ব্যাপারে সঠিক তথ্য সময়মতো আমরা জানতে পারি না। আয়ের একটা বড় অংশ বা প্রায় পুরোটাই প্রশাসনের খরচ, তাই উন্নয়ন বাজেট প্রায় সবটাই বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর। কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতি কমানো বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য হলেও মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা আছে। তবে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা জানা যায়নি। এর সঙ্গে বিনিয়োগের একটি গভীর সম্পর্ক আছে। এবারের বাজেটে শ্বেতপত্রের সুপারিশ এবং টাস্কফোর্সের সুপারিশ ধর্তব্যে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এর সঠিক প্রতিফলন আমরা জানতে পারিনি।
বিগত বাজেটগুলোর অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রায়ই অর্জন হয় না। এ ব্যাপারে সংস্কারের কোনো নীতিমালা দেখা যায়নি। এছাড়া বিভিন্ন নীতিমালাই করদাতাদের হয়রানি করে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোগ নিরুৎসাহিত করে। সর্বোপরি কর্মসংস্থান তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সম্প্রতি আমাকে জানালেন, তার প্রায় ৮ কোটি টাকা আটকে আছে, যা আগাম কেটে নেয়া হয়েছে, এগুলো ফেরত পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। বলা হয় আগামী বছরগুলোয় দেয় করের সঙ্গে এগুলো সমন্বয় করা হবে। এ নিয়ম অত্যন্ত অযৌক্তিক। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার জন্য ক্ষতিকর। বাংলাদেশের কর ব্যবস্থা রিগ্রেসিভ। স্বল্প আয়ের উদ্যোক্তার ওপর কর ভার তুলনামূলকভাবে বেশি। এর কোনো পরিবর্তন এবারের বাজেটে দেখা যাবে বলে মনে হয় না বা আমরা জানতে পারিনি।
এ বছর কোনো ভর্তুকি দেয়া হবে না বলে বলা হয়েছে। তবে কর দিতে হবে না এমন আয়ের পরিমাণ বাড়ানো হবে বলে জানা গেছে। যেমন এ পরিমাণ ৩ লাখ ৭৫ হাজার হবে। যা বর্তমানে রয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে বয়স্ক ও মহিলাদের জন্য কিছুটা ছাড় রয়েছে, যা একটা ভালো উদ্যোগ।
আমরা দেখেছি কর্মসংস্থানের ব্যাপারে কোনো উন্নতি হয়নি। জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে কর্মসংস্থান ২১ লাখ যা বিগত বছরের এ সময়ের তুলনায় অনেক কম। এরই মধ্যে বড় বিনিয়োগে স্থবিরতা এসেছে। কারণ তাদের মালিকরা দেশে নেই। এসব জায়গায় কর্মসংস্থান কীভাবে হচ্ছে, বাজেটে এর দিকনির্দেশনা থাকা দরকার। আমরা একটি প্রাথমিক হিসাবে দেখেছিলাম গত আট মাসে ১১৩টি কারখানা বন্ধ হওয়ায় প্রায় এক লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের ক্ষতি হয়েছে। অনেক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাদের পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করতে পারছে না। কারণ মূল্য বাড়ার কারণে ভোগ হ্রাস পেয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বেশির ভাগ বেসরকারি খাত ঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক এককভাবে আরোপিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা কাউন্টারভেইলিং ট্যারিফ বা ব্যালান্সিং ট্যারিফ বা টক্সিক ট্যারিফ মোকাবেলায় বেসরকারি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে সমষ্টিগত মতামত প্রদানে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ভিত্তিতে একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে, যার উদ্যোগ সরকারি বা বেসরকারি খাতের মধ্যে দেখা যায়নি।
দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ভালো নয়। যেমন বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ভালো নয়, মূলধন যন্ত্রপাতির আমদানি কমেছে, কৃষি এবং অকৃষি ঋণ, এসএমই ঋণ কমেছে। অর্থাৎ অর্থনৈতিক অবস্থা স্বস্তির জায়গায় নেই। মূল্যস্ফীতি থেকে মজুরি কম (অয়েজ রেট ইনডেক্স ৮ দশমিক ২ শতাংশ, যেখানে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশ), অক্টোবর-ডিসেম্বরে বেকারত্ব বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ।
বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের গতি শ্লথ। বিডার বিনিয়োগ নিবন্ধন তথ্যে দেখা যায়, ২০১১-১২ সালে ২২১টি বিদেশী বিনিয়োগ নিবন্ধন হয়েছিল, ২০২২-২৩ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১১৬টিতে। স্থানীয় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ২০১১-১২ সালের ১ হাজার ৭৩৫টি নিবন্ধন থেকে হ্রাস পেয়ে ২০২২-২৩-এ ৯০০টিতে দাঁড়িয়েছে, তাই কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রাও কমেছে। তবে বিডার সঙ্গে নিবন্ধন ছাড়াও আরো অনেক বিনিয়োগ উন্নয়ন এজেন্সি রয়েছে, যার মাধ্যমে বিনিয়োগ নিবন্ধন ও অনুমোদন দেয়া হয়। একটি সেন্ট্রাল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার কথা আমরা বলেছিলাম। তাহলে বিনিয়োগের প্রকৃত পরিসংখ্যান পাওয়া যেত। বিনিয়োগ কমার কারণগুলো এরই মধ্যে প্রায় চিহ্নিত এবং সে অনুযায়ী করণীয় নির্ধারিত হয়েছে কিন্তু তার বাস্তবায়ন হয়নি। যে কারণে বিনিয়োগকারী বিনিয়োগে উৎসাহী হয়ে নিবন্ধন নেন কিন্তু তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাস্তবায়ন হয় অর্থাৎ তারা যে প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিলেন বাস্তবে তার প্রতিফলন খুঁজে পান না। তাই তারা সরে যান। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের বর্তমান অগ্রগতি সবার সামনে আসা উচিত।
সাম্প্রতিক এক সেমিনারে জানা গেল জাপানের ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেছেন কিন্তু তার মধ্যে ৩৮ শতাংশ বাংলাদেশে আর ব্যবসা করতে চান না। এর মধ্যে তিনটি বিষয়কে কারণ হিসেবে বলেছেন। নীতিগত অসংগতি, জটিল কর কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের অভাব।
এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বেসরকারি খাতের আস্থা বাড়াতে হবে। এর জন্য কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ:
১. বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে শক্ত রাজনৈতিক অঙ্গীকার দরকার, যাতে বিনিয়োগ সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রদানের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের পর্যায়ে নিয়ে আসা যায়, বেসরকারি খাত যাতে তাৎক্ষণিকভাবে লাইসেন্স, পারমিট, সার্টিফিকেট, এনওসি, অনুমোদন ও অন্যান্য সেবা পেতে পারে এবং এ ব্যাপারে কালক্ষেপণ না হয়।
২. ইউটিলিটির ব্যাপারে বেসরকারি খাতকে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তার বাস্তবায়ন কেন করা সম্ভব হচ্ছে না তা বেসরকারি খাতকে জানানো দরকার। গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে। কেননা উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে (যেমন বিটিএমের মতে প্রায় ৪০০ কারখানা গ্যাসের অভাবে পূর্ণ উৎপাদনে যেতে পারছে না)। অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি করে এ চাহিদা মেটানো হবে বলা হয়েছিল। আরো বলা হয়েছিল যে বিদ্যুৎ খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে তা শিল্পগুলোকে দেয়া হবে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। পাওয়ার সেলের মতে, ২০২৪-এ সিস্টেম লস প্রায় ১০ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, বিতরণের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ। এটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন ট্রান্সমিশনে টেকনিক্যাল সমস্যা, বিতরণের সমস্যা, চুরির কারণেও হতে পারে।
এনার্জি খাত এখন ঠিক কী অবস্থায় আছে তার উন্নয়নে সরকারের রোডম্যাপ কী—তা বেসরকারি খাতকে পরিষ্কারভাবে জানানো দরকার। যাতে তারা সেভাবে তৈরি হতে পারে এবং বিকল্প চিন্তা শুরু করতে পারে।
৩. অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রায় পুরোপুরি ব্যাংকনির্ভর। দীর্ঘদিনেও মূলধন বাজারের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসেনি। আসন্ন বাজেটে এ ব্যাপারে পরিষ্কার নির্দেশনা থাকবে বলে মনে করি। ব্যাংক ঋণের সুদের হার বেশি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সমস্যা আরো বেশি। আসন্ন বাজেটে এ ব্যাপারে কিছু নির্দেশনা থাকবে বলে আশা করি।
৪. লিডারশিপ ইস্যু: বেসরকারি খাতের শীর্ষস্থানীয় চেম্বারগুলো/অ্যাসোসিয়েশনের শক্তিশালী ভূমিকা থাকা দরকার। সরকারি ও বেসরকারি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে সমষ্টিগত মতামত প্রদানে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ ভিত্তিতে নীতিমালার ওপর গবেষণা এবং একটি ভারসাম্যপূর্ণ বিজনেস পরিবেশ তৈরিতে একটি প্লাটফর্ম থাকা দরকার, যাতে সময়ভিত্তিক রোডম্যাপ তৈরি হয় এবং তা বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট মডেল তৈরি করা যায় এবং এটির এমন বাস্তবায়ন দরকার যার প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঊর্ধ্বে থাকবে।
৫. প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের ক্ষেত্রে কিছু সংস্কারের চিন্তা করা হয়েছে। তবে শুধু টপ লেভেলে পরিবর্তন দিয়ে কাঠামোগত পরিবর্তন সম্ভব নয়। সুশাসনের অভাবে বেসরকারি খাতের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতিযোগী হতে পারে না। এ বিষয়টিকে তাদের সক্ষমতা বাড়াতে ব্যক্তি খাতকে যেমন ব্যবসায়ে স্বচ্ছতা, নৈতিকতা মেনে উদ্যোগ পরিচালনা করতে হবে, তেমনি বাস্তবায়নযোগ্য রেগুলেটরি রিফর্মের জন্য সরকারকে কাজ করতে হবে।
৬. স্টার্টআপ ব্যবসা একটি সুখবর আনতে পারে, বিগত সামিটে এ ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহ দেখা গেছে। আসন্ন বাজেটে তাদের জন্য রেজিস্ট্রেশন, অর্থায়ন সম্পর্কিত সুবিধা ঘোষণা ও ঘোষিত ফান্ডের বাস্তবায়ন দরকার। এসব উদ্ভাবনী উদ্যোগ একদিকে বিদেশী বিনিয়োগে আকর্ষণে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হতে পারে।
ফেরদাউস আরা বেগম: সিইও, বিল্ড-একটি পাবলিক-প্রাইভেট ডায়ালগ প্লাটফর্ম