অভিমত

বর্ণবাদ ও আমার ভাবনা

২০ জানুয়ারি, ২০২২। একে তো কভিড-১৯-ডেল্টা-ওমিক্রনের উপদ্রব, তার ওপর ন্যাশভিলে ইদানীং ভীষণ ঠাণ্ডা পড়েছে। বাইরে বেরোনোর কোনো উপায় নেই। এমন দিনে মাগরিবের পর লিভিংরুমে বসে অলস সময় কাটাচ্ছি এবং হাতের সেলফোন নাড়াচাড়া করছি। হঠাৎ আমাদের ভাইবার চ্যাট গ্রুপে বন্ধু আশরাফের খুদেবার্তা মোবাইল আলোর পর্দায় ভেসে উঠল। পড়ে দেখি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নশাস্ত্র বিভাগের সাবেক অধ্যাপক কাজী আলী আজম আর নেই।

২০ জানুয়ারি, ২০২২। একে তো কভিড-১৯-ডেল্টা-ওমিক্রনের উপদ্রব, তার ওপর ন্যাশভিলে ইদানীং ভীষণ ঠাণ্ডা পড়েছে। বাইরে বেরোনোর কোনো উপায় নেই। এমন দিনে মাগরিবের পর লিভিংরুমে বসে অলস সময় কাটাচ্ছি এবং হাতের সেলফোন নাড়াচাড়া করছি। হঠাৎ আমাদের ভাইবার চ্যাট গ্রুপে বন্ধু আশরাফের খুদেবার্তা মোবাইল আলোর পর্দায় ভেসে উঠল। পড়ে দেখি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নশাস্ত্র বিভাগের সাবেক অধ্যাপক কাজী আলী আজম আর নেই।

সঙ্গে সঙ্গে আমার স্মৃতিপটে ভেসে উঠল উনিশশ আটাত্তর কি ঊনসত্তর সালের সেই দিনের কথা, যেদিন তন্ময় হয়ে স্যারের গল্প শুনছিলাম ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক শ্রদ্ধেয় মেসবা-উস্-সালেহীনের অফিসকক্ষে বসে। সঠিক দিন-তারিখ মনে নেই, তবে ওইদিনের ছবি এখনো আমার চোখের সামনে আকাশের উজ্জ্বল তারার মতো জ্বল জ্বল করে ভাসে। দুপুর গড়িয়ে বেলা ১টা কি ২টা বাজে। ঘন কালো মেঘে সমস্ত আকাশ অন্ধকার। এর মাঝে বিজলি চমক, বজ্রধ্বনি আউলা-ঝাউলা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে অনবরত ঝরছে বড় বড় ফোঁটার বৃষ্টিকী ধুন্দুমার বৃষ্টি! বাংলাদেশে বৈশাখ মাসেও কদাচিৎ এমন ঝড়-তুফান হয়। আমরা তিনজন ওই সময় ওইখানে কীভাবে একত্র হয়েছিলাম তার প্রেক্ষাপট মনে নেই। যেটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি তা হলো, সেদিন আজম স্যারের হাতে একটি বাঁকা হাতলওয়ালা ছাতা গুটানো ছিল। ঝড়-বৃষ্টি অনেকক্ষণ ধরে হয়েছিলআমাদের বৈঠকি আলাপের আসরও চলছিল ততক্ষণ। বলা বাহুল্য, ওই আড্ডার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সদ্য বিলাতফেরত অধ্যাপক কাজী আলী আজম। তিনি তার প্রবাসজীবনের অভিজ্ঞতা-সংবলিত একটি চমকপ্রদ কাহিনী এমনভাবে আমাদের সামনে তুলে ধরছিলেন, মনে হচ্ছিল যেন সিনেমা দেখছি। বাদলাদিনে ঘরমুখো বাঙালির অলস মন গল্প শোনার জন্য যে কতখানি ব্যাকুল হয়ে ওঠে, তা আমি সেদিন মর্মে মর্মে অনুভব করেছিলাম।

রকমই একটি দিনের কথা বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছেন তার অমর সংগীতখানা

এমন দিনে তারে বলা যায়,

এমন ঘন ঘোর বরিষায়

এমন দিনে মন খোলা যায়।

................................

................................

যে কথা জীবনে রহিয়া গেল মনে,

সে কথা আজি যেন বলা যায়,

এমন ঘন ঘোর বরিষায়।

এত সব লেখার পরও রবি ঠাকুর কিন্তু তার মনের কথাটি কাউকে বলে যাননি। অনাগত দিনের অগণিত পাঠক-শ্রোতাকে আপন আপন উপলব্ধির জন্য কবি তার হূদয় নিংড়ানো আকুতি উহ্যই রেখে গেলেন। অথচ আলী আজম স্যার সেদিন তার অভিজ্ঞতা অনুভূতির কথা সুস্পষ্ট করেই উচ্চারণ করেছিলেন। কিন্তু আফসোস, মাত্র একটি কথা বাদে বাকি সব আমি আজ ভুলে গেছি। ওই মেঘলা দিনে অকপটে তার সেই বলে যাওয়া কথাটিই আমার আজকের প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু। ইংরেজদের সামাজিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে তিনি সেদিন উল্লেখ করেছিলেন, সভ্য সমাজে আজকাল আর কৃষ্ণাঙ্গ লোকদের Negro বলা চলে না। আমি প্রশ্ন করেছিলাম, কেন, যা সত্য তা বলতে বাধা কোথায়? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, একজন হিন্দুকে যেমন মালাউন বলে হেয় করা যায় না, একজন মুসলমানকে যেমন ম্লেচ্ছ, যবন নামে ডাকা ঠিক নয়, তেমনি।

আমার জীবনে বর্ণবাদ নিয়ে ভাবনা-চিন্তার এটাই সূচনা, তারপর চিন্তা আর বেশিদূর এগোয়নি। এর কয়েক মাসের মধ্যেই আমি পড়তে চলে এলাম কানাডা, তারপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৮০-এর দশকের গোড়ার দিকে আমেরিকার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ঐতিহাসিক বোস্টন নগরীতে ছিলাম আড়াই বছর। নতুন জায়গায় আসার অল্প কিছুদিন পরই দুর্ভাগ্যবশত এক তুষারস্নাত দুপুরবেলা নির্জন গলিপথে দুই কৃষ্ণাঙ্গ ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে পকেটে যা ছিল সবই খুইয়ে খালি হাতে ঘরে ফিরেছিলাম। তখন না ছিল আমার কোনো স্থায়ী রোজগার, না ছিল হাতে নগদ টাকা, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেশ থেকে আনা স্ত্রীর - ডলারই ছিল একমাত্র অবলম্বন। অবস্থায় বিদেশ-বিভুঁঁইয়ে এতটাই অসহায় লেগেছিল এবং মনটা এতই খারাপ হয়েছিল যে বলে বোঝানোর সাধ থাকলেও সাধ্য আমার নেই। পুলিশ ডেকে মামলা করেছিলাম। সহূদয় অফিসার ( দেশে পুলিশকে অফিসার বলে সম্বোধন করতে হয়) ঘরে এসে এজহার টুকে নিলেন, সংঘটিত অপরাধ নথিভুক্ত করলেন। যাবার বেলা অতিসংবেদনশীলতার সঙ্গে বলে গেলেন, Be careful, you never know, who’s who. ওয়ালেট, টাকা-পয়সা হারিয়ে যাওয়া গ্রিনকার্ড কিছুই ফেরত পাইনি। তবে আইনের আশ্রয় নেয়াটা ষোলো আনা বৃথা যায়নি। আর কিছু না হোক, মৃত্যুর পরও অনাগত কাল ধরে অপরাধ বিজ্ঞানীদের গবেষণা তথ্যে আমি একটি অকিঞ্চিত্কর সংখ্যা হিসেবে অন্তত বেঁচে থাকার একটি পাকাপোক্ত ব্যবস্থা তো করে গেলাম। আর প্রকৃত বিচারকের আদালতে যেদিন বাদী-বিবাদী তিনজন মিলে হাজির হব, সেদিন শুরুতেই আমি খুশিমনে আমার মামলাটি প্রত্যাহার করে নেব। কে জানে এই উসিলায় হয়তোবা পুলসিরাত পারও হয়ে যেতে পারি!

বোস্টনের বাস্তব দুর্ঘটনার কথা যখন মনে হয় তখন ছোটবেলার আরেকটি অলীক ভয় আমাকে দারুণভাবে স্মৃতিকাতর করে তুলে। তখন একা একা নিকটে ফুফুর বাড়ি যেতে সাহস পেতাম না, তবু যেতে হতো। কে যেন আমার মনে একটি কাল্পনিক ভয় ঢুকিয়ে দিয়েছিল। ছেলেধরা নাকি শিশুদের তুলে নিয়ে মুণ্ডুটা কেটে ফেঞ্চুগঞ্জের পুলের নিচে কুশিয়ারা নদীতে ফেলে দেয়। তখন এতই বোকা ছিলাম, কথাটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বড় কাউকে জিজ্ঞেস করাটাও দরকার মনে করিনি। অদৃষ্টের কী পরিহাস, কালে পরিক্রমায় সেই ভয় থেকে আজ আমার মুক্তি মিলেছে, অথচ বোস্টনে সপরিবারে স্থানান্তর পর্ব আরেকটি নতুন ডরের দড়ি দিয়ে আমাকে স্থায়ীভাবে বেঁধে ফেলল। এখনো কোথাও কোনো নিরিবিলি জায়গায় একা চলার পথে কোনো কৃষ্ণাঙ্গ মানুষকে আমার দিকে হেঁটে আসতে দেখলে আতঙ্কে বুকটা থর থর করে কাঁপে। দুঃখের বিষয়, এক মাইল অন্তর চার্লস নদীর ওপারে অবস্থিত হার্ভার্ড-এমআইটি থেকে বিচ্ছুরিত আলোর তেজও বোস্টনের অন্ধকার দূর করতে পারল না, অথচ সারা দুনিয়ায় জ্ঞান বিতরণ করছে। একেই বলে বাতির তল অন্ধকার! টি পার্টি শহরে জীবনের আরো কিছু কঠিন কঠোর অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে একটি লম্বা সময়ের জন্য আবার কানাডা চলে গেলাম। ম্যানিটোবা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে জীবিকার সন্ধানে ফিরে এলাম মার্কিন মুল্লুকে। প্রথম চার বছর ছিলাম ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের ইস্টার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে। তার পরে থিতু হলাম দক্ষিণে টেনেসির রাজধানী শহরে অবস্থিত টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে।

বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকার ১০০টি এইচবিসিইউর (Hisrotically Black Colleges & Universities) মধ্যে অন্যতম। এখানে দুই দশক শিক্ষকতা করার পর হঠাৎ একদিন প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস ঘাঁটাঘাঁটি করে শিখলাম, ১৯১২ সালে Normal School for Negroes নামে আমাদের বিশ্ব্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। শুধু এটাই নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রকম আরো অসংখ্য প্রতিষ্ঠান আছে, যেগুলোর নামের মধ্যে Negro শব্দটি ছিল। যেমন The American Negro Academy (1897), the Universal Negro Improvement  Association (1914), The Negro World (1918), The Negro Factories Corporation (1919), The Declaration of The Rights of the Negro Peoples of the World (1920) ইত্যাদি।

এসব তথ্যের সন্ধান মেলার সঙ্গে সঙ্গে আবার মনে পড়ল আলী আজম স্যারের কথা। আর আমি পড়ে গেলাম নতুন আরেক ধন্দেNegro শব্দটি যদি একটি গালি হবে তাহলে কৃষ্ণাঙ্গ লোকজন তাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম রকম রাখবে কেন? তখন প্রশ্নের উত্তর আমি জানতাম না এবং আলসেমি করে এর হদিসও তালাশ করতে যাইনি। এরই মধ্যে কেটে গেছে আরো এক যুগ। আজম স্যারের মৃত্যু উপলক্ষে লেখা লিখতে গিয়ে বর্ণবাদের ওপর একটু পড়াশোনা করে যা পেয়েছি, তার একটি খণ্ডাংশ এখন আপনাদের সামনে একে একে তুলে ধরব বলে মনস্থির করেছি।

আমেরিকার অগণিত কৃষ্ণাঙ্গ জনমানুষের শরীরের ঘাম রক্ত দিয়ে লেখা ইতিহাসের পাতায় পাতায় দেখা যায়, ১৬১৯ সালের আগস্টে পর্তুগিজ দাস ব্যবসায়ীরা ২০-৩০ জন অ্যাঙ্গোলা কৃষ্ণাঙ্গ অধিবাসীকে অপহরণ করে আমেরিকার তত্কালীন ব্রিটিশ উপনিবেশ ভার্জিনিয়া নিয়ে আসে। দলিল অনুযায়ী বলা হয়, সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে এভাবেই আমেরিকায় দাস প্রথা চালু হয়েছিল। কিন্তু ইতিহাসবেত্তা পণ্ডিতদের দৃঢ় বিশ্বাস, তারও অনেক আগে থেকে, অর্থাৎ পঞ্চদশ শতাব্দীর গোড়া থেকেই আফ্রিকার কৃষ্ণকায় মানুষ আমেরিকার ব্রিটিশ উপনিবেশে ক্রীতদাসরূপে এক অসহনীয় নতুন বন্দিজীবন শুরু করে। বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিক থেকে কৃষ্ণকায় ক্রীতদাস সম্প্রদায়কে Negro বলে ডাকা হতো।

পাঁচ অক্ষরের Negro শব্দটি ব্যুত্পত্তিগতভাবে এসেছে লাতিন Niger অথবা Nigr থেকে, যার মানে কালো তবে শব্দটি সরাসরি লাতিন থেকে ইংরেজিতে আসেনি, বরং ষোড়শ শতাব্দীতে স্প্যানিশ পর্তুগিজ ভাষা হয়ে আমেরিকান ব্রিটিশ ইংরেজিতে এসে ঢুকেছে। কিন্তু আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের বোঝানোর জন্য শব্দটি ছাপার অক্ষরে বইয়ের পতায় উঠে এসেছে আরো পরেঠিক কখন থেকে, সেকথা জানতে আরো গবেষণা দরকার; যা জানা যায় তা হলো, বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি পর্যন্ত W. E. B. DuBois Booker T. Washington-এর মতো ঝানু কৃষ্ণাঙ্গ সামাজিক অ্যাক্টিভিস্ট, লেখক প্রচারকরাও Negro শব্দটি অতিস্বচ্ছন্দে ব্যবহার করেছেন। Martin Luther King Jr. ১৯৬৩ সালে তার বিখ্যাত I have a dream...’ বক্তৃতায় Negro শব্দটি একাধিকবার উচ্চারণ করেছেন।

ইউরোপ-আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গরা কৃষ্ণাঙ্গদের শুধু Negro নামেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করত না, এর বিকল্প হিসেবে তাদের অভিধানে আরো অসংখ্য শব্দ ছিল। এসবের একটি নমুনা হলো Dark, Darky, Nigger, Negrito, Negroid, Marky, Sambo, Obscure, Mulatto, Ebony, Kafir ইত্যাদি। আগেকার দিনে রকম অন্তত ৩০টি নামে কালো লোকদের ডাকা হতো। শ্বেতাঙ্গরা একসময় কৃষ্ণকায় মানুষদের Kafir বলেও সম্বোধন করতএকথা জেনে আমি অবাক না হয়ে পারিনি! বিষয়টি নিয়ে যখন আমার বন্ধু মাহবুবের সঙ্গে আলাপ হলো, তখন সে এর একটি ব্যাখ্যা দিল। তার মতে, দক্ষিণ পূর্ব আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গরা যখন মুসলমান হলো তখন তারা নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার তাগিদে অমুসলমান কালোদের কাফির বলত। কাফিরের মর্মার্থ না বুঝে শ্বেতাঙ্গরা দক্ষিণ পূর্ব আফ্রিকার সব কালোকেই কাফির বলে ডাকতে শুরু করে। এভাবেই কাফির শব্দটি মুসলমান-অমুসলমান নির্বিশেষে সব কালোর কপালে কালিমা হয়ে লেগে গেল।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় সমাজবিজ্ঞানী Tom W. Smith বর্ণবাদের ওপর একটি ক্ষুদ্র প্রবন্ধ লিখে গেছেন। এর এক জায়গায় তিনি উল্লেখ করেছেন, ইউরোপ-আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের প্রথমে বলা হতো Colored, তারপর Negro, তারপর Black, এরপর African American Colored শব্দটি চালু ছিল ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে শেষ অবধি। তার আগে কৃষ্ণাঙ্গদের জন্য কী ডাক ব্যবহূত হতো, সে প্রশ্নে Tom W. Smith নীরব রয়েছেন। আমার মামুলি প্রচেষ্টায় আমিও এর কোনো সুরাহা করতে পারিনি।

এখন আমি আরো সুনির্দিষ্ট করে দেখতে চাই সত্যি সত্যি কবে থেকে আমেরিকায় Negro শব্দটি সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠল। প্রকৃতপক্ষে শব্দ চালু হওয়ার বাঁকবদল বা সন্ধিক্ষণ দেখা দেয় তখনই, যখন বিখ্যাত কৃষ্ণকায় সামাজিক অ্যাক্টিভিস্ট Stokely Carmichael ১৯৬৬ সালের মিসিসিপি সমাবেশে Negro power না বলে প্রথমবারের মতো ব্যবহার করেছিলেন বিশিষ্টার্থ শব্দসমষ্টি Black power. এর পর থেকে Negro শব্দটির সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত কমতে থাকে এবং এর বিপরীতে Black ব্যবহূত হতে থাকে। ১৯৮০-এর দশকে এসে Negro শব্দটি একেবারেই ভব্যতাবিবর্জিত হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৮৮ সালের দিকে Stokely Carmichael-এর Black power আন্দোলন যখন নিস্তেজ হয়ে আসে তখন ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা Reverand Jessie Jackson এস্তেমাল করেন, African American. বর্তমানে কৃষ্ণাঙ্গদের বোঝাতে Black African American দুটোই প্রায় সমানতালে চলে।

 

আবু এন এম ওয়াহিদ: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্র; এডিটর, জার্নাল অব ডেভেলপিং এরিয়াজ

আরও