কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সরকারি সেবা, বিচার ব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়িয়ে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা অনেক ক্ষেত্রে নতুন জটিলতা তৈরি করছে। এক সময় ই-মেইল যোগাযোগ সহজ করেছিল। কিন্তু ক্রমেই অপ্রয়োজনীয় বার্তার চাপ বাড়িয়েছে। এআইও তেমনি বিপুলসংখ্যক আবেদন, অভিযোগ ও চিঠি তৈরির সুযোগ দিয়ে প্রশাসনিক কাজের বোঝা বাড়াচ্ছে।
এআই ব্যবহার করে মানুষ এখন দ্রুত অভিযোগপত্র, তথ্য অধিকার আবেদন, আদালতের মামলা ও চাকরির আবেদন তৈরি করতে পারছে। ফলে সরকারি দপ্তর, সংসদ সদস্যদের কার্যালয় ও আদালতে আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে। এসব আবেদনের অনেকগুলো অসংলগ্ন বা ভুল তথ্যে পূর্ণ হলেও প্রকৃত অভিযোগ ও প্রয়োজনীয় বিষয় শনাক্ত করতে কর্মকর্তাদের সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। একইভাবে, চাকরিপ্রার্থীরা এআই দিয়ে নির্বিচারে আবেদন পাঠানোয় নিয়োগদাতাদের পক্ষেও যোগ্য প্রার্থী বাছাই কঠিন হয়ে উঠছে।
এআই দিয়ে এসব আবেদন যাচাইয়ের ব্যবস্থা করলেও ঝুঁকি রয়েছে। কারণ ভাষাগত দুর্বলতা বা এআইয়ের সহায়তা নিয়ে লেখা কোনো আবেদনেও প্রকৃত সমস্যা থাকতে পারে। ভবিষ্যতে এআই এজেন্টের ব্যাপক ব্যবহার এ সংকট আরো বিস্তৃত করতে পারে। অর্থাৎ এআইয়ের মাধ্যমে এক জায়গায় সময় বাঁচলেও অন্য অনেক কাজ বাড়ছে।
[দ্য গার্ডিয়ানের নিবন্ধ থেকে অনূদিত মূলভাব]
গেবি হিনসলিফ: দ্য গার্ডিয়ানের কলামিস্ট