গত ২৪ অক্টোবর মধ্যরাতে মোবাইল ফোনে একটি খুদেবার্তা পেলাম—‘সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন মারা গেছেন।’ বার্তাটি দেখে বুকের মাঝে ধক করে ওঠে। সত্যাসত্য যাচাইয়ের জন্য তখনই সৈয়দ আবুল হোসেনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিগত সহকারী সমীরকে ফোন করলাম। ঢাকায় তখন ভোর সাড়ে ৪টা হবে। সমীর কাঁদতে কাঁদতে জানালেন, সৈয়দ আবুল হোসেন স্যার আড়াই ঘণ্টা আগে (২৫ অক্টোবর ২টা ৫ মিনিটের দিকে) ইউনাইটেড হাসপাতালে মারা গেছেন। সন্ধ্যায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সম্ভবত উপর্যুপরি কয়েকটি হার্টঅ্যাটাকে তিনি মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।
নানা কারণে সৈয়দ আবুল হোসেন বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটি পরিচিত নাম। গত শতাব্দীর আশির দশকের মাঝামাঝি আমি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কর্মরত থাকাকালে অফিসে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘সাকো ইন্টারন্যাশনাল’-এর ক্যালেন্ডার ও ডাইরি পাই। পরে অবশ্য তার সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে দেখাও হয়। ২০০৮-০৯ সালে আমি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব থাকাকালে তার সঙ্গে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার সুযোগ হয়। পদ্মা সেতুর অর্থায়নের ব্যাপারে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নেগোশিয়েশনে অন্যদের সঙ্গে আমিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করি। সৈয়দ আবুল হোসেন সাহেব ভাবলেন আমার সঙ্গে যেহেতু বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও জাইকা—সবারই সুসম্পর্ক রয়েছে, তার ওপর আমার সচিব আমারই ব্যাচমেট মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভূইঞা আমার কাজের প্রশংসা করেন, সেহেতু আমাকে সেতু বিভাগের সচিব করা হলে ওই বিভাগের কাজে আরো গতি আসবে। তিনি অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে আমাকে সেতু বিভাগের সচিব করার প্রস্তাব করেন। সৈয়দ আবুল হোসেনের শিষ্টাচার, ভদ্রতা, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার ইত্যাদি সম্পর্কে আমার পূর্ব থেকেই জানা ছিল। তবে তার সঙ্গে কাজ করে তার মেধা, চিন্তা, কর্মদক্ষতা, দেশপ্রেম ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য, বিশ্বাস ও আস্থার বিষয়গুলো সরাসরি প্রত্যক্ষ করি। সেতু বিভাগের যাবতীয় কাজে তিনি আমার সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত দিতেন। কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার প্রবণতা তার মধ্যে ছিল না।
সৈয়দ আবুল হোসেনের জন্ম ফরিদপুর জেলার মাদারীপুর মহকুমার কালকিনী থানার ডাসার গ্রামে। তার পিতা সৈয়দ আতাহার আলী ছিলেন ওই এলাকার একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রজীবন থেকেই সৈয়দ আবুল হোসেনের সুরুচি, ভদ্র আচরণ, সবার সঙ্গে মেলামেশা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়া ইত্যাদির কারণে সহপাঠী, বন্ধুবান্ধব ও শিক্ষকদের প্রিয় পাত্র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং সে সুবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বড় বোন শেখ হাসিনার সান্নিধ্যে আসেন। তিনি ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদ থেকে ম্যানেজমেন্টে এম কম পাস করার পর তিনি কিছু সময়ের জন্য টিসিবিতে চাকরি করেন। ১৯৭৫ সালেই তিনি নিজ নামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাকো ইন্টারন্যাশনাল গড়ে চাকরি ত্যাগ করেন। সৈয়দ আবুল হোসেনের ব্যবসা ভাগ্য খুব ভালো। তার প্রতিষ্ঠান সড়ক, সেতু, রেলযোগাযোগ, বিদ্যুৎ প্রভৃতি অবকাঠামো নির্মাণে বিখ্যাত বিদেশী ঠিকাদারের স্থানীয় এজেন্ট বা পার্টনার হিসেবে কাজ করে। দরপত্র প্রস্তাব, চুক্তিপত্র ইত্যাদি বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সহযোগে তার অফিসে প্রণীত হয় এবং তার প্রতিষ্ঠান থেকেই দরপত্র জমা দেয়া হয়। তিনি নিজে ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে এসব কাজের তদারকি করতেন। জাতীয় পার্টি, বিএনপি, আওয়ামী লীগ—সব সরকারের আমলেই তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভালো করেছে। অনেকে বলেন, টিসিবির একজন সামান্য অফিসার থেকে ব্যবসা করে এত বড়লোক, এত টাকা-পয়সা কামালেন কীভাবে। তারা অনুসন্ধান করে দেখতে পারেন, তিনি কারো কাছ থেকে কোনো অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করেননি। কোনো ব্যাংকের টাকা চুরি করেননি। তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করেছে তার মেধা, বুদ্ধি ও দক্ষতার কারণে। পৃথিবীর বহু দেশের নামিদামি কোম্পানির সঙ্গে তার ব্যবসায়িক যোগাযোগ ছিল; তবে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তার ব্যবসা ছিল সবচেয়ে বেশি। সেই সুবাদে চীন সরকারের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিদের সঙ্গেও তার সম্ভাব ছিল।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সাহচর্যে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসেন। পার্টির জন্য তিনি বিনা বাক্য ব্যয়ে অর্থ খরচ করতেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী প্রয়াত আবুল মাল আবদুল মুহিত কথা প্রসঙ্গে একদিন আমাকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগে অনেক ব্যবসায়ী নেতা রয়েছেন, কিন্তু আবুল হোসেনের মতো মুক্তহস্তে পার্টির জন্য টাকা খরচ করতে কাউকে দেখিনি। গত শতাব্দীর আশি ও নব্বই দশকে পার্টির দুর্দিনে আবুল যা করেছে তার কোনো তুলনা হয় না। ১৯৯৪-৯৬ সালে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় পার্টির পক্ষ থেকে প্রণীত স্মারকলিপি, কাগজপত্র ইত্যাদি তার কাছে দেয়া হলে এক রাতের মধ্যে ফটোকপি, বাইন্ডিং ইত্যাদি করে পরদিন সকালের মধ্যে সব বিদেশী দূতাবাস, বহুজাতিক সংস্থা, সুশীল সমাজ সবার কাছে তার লোকদের মাধ্যমে গাড়ি করে বিলি করে দিতেন।’
সৈয়দ আবুল হোসেন প্রচলিত ধারার রাজনীতি করতেন না। তিনি কোনো মিছিল বা জনসভায় যেতেন না। কেবল নিজ জেলা বা নির্বাচনী এলাকার জনসভা হলে সেখানে যোগ দিয়ে বক্তৃতা করতেন এবং মঞ্চে বসতেন। তবে তিনি পার্টির গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ে যোগ দিতেন। সৈয়দ আবুল হোসেন নিজ এলাকার শিক্ষা বিস্তার, অবকাঠামো উন্নয়ন ও দরিদ্রদের দান-অনুদান ও অন্যান্য সহায়তা করে যে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন তার জন্য এলাকার লোকজন তাকে চিরদিন মনে রাখবে। তিনি পিতা-মাতা, বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এবং নিজ নামে চারটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ ছয়টি কলেজ ও স্কুল এবং ১৫০টির মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। সৈয়দ আবুল হোসেন দেশে যতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন তার নজির শুধু বাংলাদেশ কেন প্রতিবেশী দেশ ভারতেও বিরল। শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবার জন্য তিনি ২২টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন। এছাড়া তিনি ২০টি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন।
সৈয়দ আবুল হোসেন ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে চারবার সংসদ সদস্য হয়েছেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ দীর্ঘ ২১ বছর পর পুনরায় ক্ষমতায় এলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৈয়দ আবুল হোসেনকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করেন। অবশ্য একটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে তিনি মেয়াদ পূর্তির আগেই মন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়ান। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এলে সৈয়দ আবুল হোসেনকে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। এ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে তিনি সড়ক, রেলপথ ও সেতু বিভাগে বহু নতুন নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করে একনেক সভায় নিয়ে গেছেন। তিন শতাধিক প্রকল্প প্রণয়ন করে পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়নের জন্য তালিকাভুক্ত করেন। এসব প্রকল্পের অনেকগুলো এরই মধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে এবং বেশকিছু প্রকল্প এখনো বাস্তবায়নাধীন।
সৈয়দ আবুল হোসেনের সঙ্গে সচিব হিসেবে আমার কর্ম অভিজ্ঞতা খুবই সুখকর ছিল। তিনি কখনো কোনো কাজে অনৈতিক তদবির বা আদেশ প্রদান করতেন না। তার সঙ্গে আমি স্বাধীনভাবে কাজ করেছি। সরকারের সচিবদের তিনি খুব সম্মানের চোখে দেখতেন। আমাকে সব সময় ‘সচিব মহোদয়’ সম্বোধন করতেন। পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজের প্রতিটি ধাপেই অগ্রগতি মনিটর করতেন। মন্ত্রী মহোদয়কে সঙ্গে নিয়ে আমি প্রায় প্রতি সপ্তাহেই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যেতাম। আমাদের টার্গেট ছিল পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ সরকারের মেয়াদকাল অর্থাৎ ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেই শেষ করা।
পদ্মা সেতুর কাজে সংশ্লিষ্ট বিশ্বব্যাংক ও অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তারা যোগাযোগমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তবে কেউ কেউ সন্দেহ করেন, সৈয়দ আবুল হোসেনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘সাকো ইন্টারন্যাশনাল’-এর কর্মকর্তারা পদ্মা সেতুর কাজ পেতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে গোপনে যোগাযোগ করতে পারেন। এ ব্যাপারে পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাংক অভিযোগও উত্থাপন করে। দেশের একটি স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় বিশ্বব্যাংক যখন পদ্মা সেতুর ঋণ চুক্তি বাতিল করে তখন দেশের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সুশীল সমাজের একাংশ সৈয়দ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও তীব্র সমালোচনা করে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিশ্বব্যাংককে পদ্মা সেতু প্রকল্পে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সরকার বিশ্বব্যাংকের কয়েকটি অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি হয়। আমাকে বাধ্যতামূলক ছুটি প্রদান করা হয়। অর্থমন্ত্রীসহ কতিপয় মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা ও সুধীজনের চাপাচাপিতে সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে তার পদত্যাগপত্র দিয়ে আসেন। প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১০ দিন এ পদত্যাগের বিষয় প্রকাশ করেননি। সৈয়দ আবুল হোসেন মন্ত্রণালয়ে অফিস করা থেকে বিরত থাকায় মিডিয়ার সন্দেহ হয় এবং কোনো কোনো গণমাধ্যমে প্রকাশ হয় যে সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগ গৃহীত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশে তাকে ‘দেশপ্রেমিক’ আখ্যায়িত করেন। কারণ দেশের স্বার্থে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন।
পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের সন্দেহের তীর প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের দিকেও বর্ষিত হয়েছিল। সেজন্য পরবর্তী সময়ে আমাদের তিনজনের মধ্যে আরো সখ্য গড়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণামতে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ সমাপ্ত হলে ২০২২ সালের ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী এ সেতু উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনস্থলে প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, ড. মসিউর রহমান ও আমাকে তার পাশে নিয়ে বোতাম টিপেন। তার বক্তৃতায়ও আমাদের অবদান ও ত্যাগ স্বীকারের কথা উল্লেখ করেন। এটি আমাদের জন্য বিরাট পাওয়া। শুধু পদ্মা সেতু নয়, এরই মধ্যে বাস্তবায়িত ও বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কর্ণফুলীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু টানেল, বেশকিছু বৃহৎ সেতু এবং রেলের বিভিন্ন প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সৈয়দ আবুল হোসেনের নেতৃত্বে আমরা শুরু করেছিলাম। এসব মেগা প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত থাকতে পেরে আমি গর্বিত।
জার্মানিতে বসেও মাঝে মাঝে তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা হতো। তিনি সরকারে না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর স্নেহভাজন ও প্রিয়পাত্র ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীও ২৫-২৬ অক্টোবর ব্রাসেলস অবস্থান করছিলেন। নিশ্চয়ই তিনিও খুব মর্মাহত হয়েছিলেন। দেশে ফিরে তিনি সৈয়দ আবুল হোসেনের গুলশানের বাসভবনে গিয়ে তার পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি জ্ঞাপন করেন ও সান্ত্বনা দেন।
সৈয়দ আবুল হোসেন একজন অতিশয় সজ্জন ও পরোপকারী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি কখনো কাউকে কটু কথা বলতেন না, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল কিংবা নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করতেন না বা ক্ষতি করার চেষ্টা করেননি। তার কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণকারী অনেকে তার বিপদের সময় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।
মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া: সাবেক সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান, বর্তমানে জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত