দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস

দুর্যোগ ঠেকানো নয়, অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে হবে

গোটা বিশ্ব আজ জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে অস্বস্তিতে। মানবসৃষ্ট কারণে ইউরোপ কিংবা পশ্চিমা দেশগুলোতে দাবদাহ, দাবানল, অসময়ের বন্যা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগ পরিস্থিতি আমাদের জন্য আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে তা সংশ্লিষ্ট অনেকের হতাশারও কারণ হয়ে উঠেছে। আধুনিক সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে। কিন্তু দুর্যোগ মোকাবেলায় মানুষের সচেতনতাই বেশি কার্যকর।

প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও সংরক্ষণ করতে পারলে যেকোনো দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। কিন্তু কেমন দুর্যোগের কথা বলছি আমরা? প্রকৃতিকে জয় করার সুযোগ নেই। এমনকি প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হলে কাউকে দোষ দেয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু মানুষের অবহেলা কিংবা সামান্য কিছু ভুলের কারণে প্রকৃতির ওপর বিপর্যয় নেমে আসে। তাতে ব্যাহত হয় যাপিত জীবন ও অর্থনীতির স্বাভাবিক কার্যক্রম। মানবসৃষ্ট দুর্যোগ অত্যন্ত জটিল এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা ভয়াবহ হয়ে ওঠে। মানবসৃষ্ট দুর্যোগগুলো অপ্রত্যাশিতভাবেই আমাদের আঘাত করে এবং এ ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলার প্রস্তুতি প্রায়ই নেয়া হয় না। ফলে মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কমিয়ে যেকোনো ভয়াবহতা ঠেকানোর উদ্যোগটি বিশ্বের অধিকাংশ দেশের জন্যই এখন গুরুত্বপূর্ণ ভাবনা হয়ে উঠেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বরাবরই দুর্যোগপ্রবণ। ভৌগোলিক পরিভাষায় গ্রেটার ডেল্টা বলে পরিচিত এ অঞ্চলে আকস্মিক ও মৌসুমি বন্যা, নদীভাঙন, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা, পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধস এবং ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে। ঐতিহাসিকভাবে এখানকার প্রকৃতি তার আপন গতিতে আমাদের জীবনকে যেমন প্রভাবিত করেছে তেমনি তার খেয়ালে কিছু দুর্যোগও এসেছে, আসে এবং ভবিষ্যতেও আসবে। প্রাকৃতিক হোক বা মানবসৃষ্ট, দুর্যোগকে রুখে দেয়ার ক্ষমতা সত্যিই মানুষের নেই। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগকে সইবার মতো শক্তি অর্জন করার প্রস্তুতি নিতে হয়। আর মানবসৃষ্ট দুর্যোগ কমিয়ে আনার জন্য নিজেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হয়। কারণ যেকোনো দুর্যোগই সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এমনকি আইনি জটিলতা তৈরি করে। তাই দুর্যোগ সইবার এবং যেকোনো জটিলতা যেন আকস্মিকভাবে আমাদের বিপর্যস্ত করতে না পারে সে সতর্কতা বাড়াতে হয়।

গোটা বিশ্ব আজ জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাবের কারণে অস্বস্তিতে। মানবসৃষ্ট কারণে ইউরোপ কিংবা পশ্চিমা দেশগুলোতে দাবদাহ, দাবানল, অসময়ের বন্যা বাড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগ পরিস্থিতি আমাদের জন্য আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে তা সংশ্লিষ্ট অনেকের হতাশারও কারণ হয়ে উঠেছে। আধুনিক সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক বেড়েছে। এখন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহজ হয়েছে। কিন্তু দুর্যোগ মোকাবেলায় মানুষের সচেতনতাই বেশি কার্যকর। কারণ সচেতন থাকলে মানুষ দুর্যেোগের ঝুঁকি পরিমাপ করেও প্রস্তুতি নিতে পারে। আর প্রস্তুতি থাকলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি নাটকীয়ভাবে কমানো সম্ভব। দুর্যোগের সতর্ক সংকেত বুঝে প্রস্তুতি নিতে পারলে প্রাণহানির ঝুঁকি কমে যায়। এ বিষয়টি যে অনেকটা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে তা এ বছরের জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবসের প্রতিপাদ্য দেখেই অনুধাবন করা যাচ্ছে। ‘দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রস্তুতি, বাঁচায় প্রাণ ক্ষয়ক্ষতি’—শীর্ষক প্রতিপাদ্যটি আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাগত বাস্তবতার দিকটিকেই ইঙ্গিত করে।

স্বাধীনতার পর এ দীর্ঘ সময়ে আমাদের ব্যাপক অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে। অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং জনকল্যাণের স্বার্থেই এসব অবকাঠামো নির্মাণ করার সময় আমাদের ভূপ্রকৃতি এবং নদী-জলাশয় অববাহিকার চরিত্রে বদল আনতে হয়েছে। কিন্তু এ বদল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরিবেশ সংবেদনশীল নয়। তার বিরূপ প্রভাব হিসেবে প্রতিনিয়ত আকস্মিক দুর্যোগ আমাদের হতবিহ্বল করে তুলছে। নগরায়ণ ও আধুনিকায়নের জন্য অনেক স্থানের বনভূমি উজাড় করা হয়েছে। আবাসন ও যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য নদী-জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। জল ও স্থলে মানবসৃষ্ট কারণে দূষণের মাত্রাও বেড়েছে। এজন্যই বেড়েছে শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, পানিদূষণ এমনকি মৃত্তিকা দূষণের মতো জটিলতা। আর এসব দূষণের কারণেই দেশে বাড়ছে তাপপ্রবাহ, অসময়ের বন্যা, জলাবদ্ধতা, মাটির অনুর্বরতা, নদী-নালা হ্রাস পাওয়ার মতো অসংখ্য সমস্যা। এগুলো অপরিণামদর্শিতার ফল।

বাংলাদেশ জনসংখ্যাবহুল হওয়ায় এখানে আবাসন একটি জটিল সমস্যা। আবাসন সংকট নিরসন করতে গিয়ে পরিকল্পনাহীনভাবে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এসব ভবন নির্মাণের জন্য উপযুক্ত ভূমি নির্বাচনও অনেক ক্ষেত্রে করা হয়নি। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা না মানার অভিযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি এগুলোকে পরিবেশ সংবেদনশীল করে নির্মাণ করা হয়নি। এগুলো গাফিলতিজনিত ভুলের পথ রেখে দেয়। যেমন শহরের অধিকাংশ ভবন ভূমিকম্প সহনশীল উপকরণ দিয়ে নির্মিত নয়। অনেক ভবনের সামনে সড়ক অবকাঠামো পথচারীবান্ধব তো নয়ই, এমনকি যাতায়াত উপযোগীও নয়। এছাড়া ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও অপ্রতুল। শহরাঞ্চলে যেকোনো মানবসৃষ্ট কারণে অগ্নিদুর্যোগ ঘটা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু অগ্নিনির্বাপণের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেই। দুর্যোগকালীন সময়ে জানমালের নিরাপত্তার প্রস্তুতিও অনেক ক্ষেত্রে থাকে না। এমনকি আগুন নেভানোর জন্য কোনো রিজার্ভয়ের অথবা পার্শ্ববর্তী জলাশয়ের অভাব রয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নগরগুলোতে সামান্য বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তাতে মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। অপচয় হয় কর্মঘণ্টা। এমনকি ভৌগোলিক অবস্থান কিংবা প্রাণবৈচিত্র্য বিবেচনা করে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয় না। যে ধরনের অবকাঠামো ঢাকা বা চট্টগ্রাম নগরের সঙ্গে মানানসই, সে ধরনের অবকাঠামো হাওর এলাকায় মানানসই হবে না। আবার দেশের সব এলাকার মাটির গুণাগুণ কিংবা বৈশিষ্ট্য এক নয়। সব স্থানের নদী ও জলাশয়ের প্রকৃতিও এক নয়। এগুলোকে বিবেচনা করে অবকাঠামো কিংবা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভাব দেখা যায়।

শুরুতেই বলেছি, প্রকৃতির রোষ আমরা ঠেকাতে পারব না। কিন্তু সে রোষ সহ্য করার উপযোগী পরিবেশ-পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্প আমাদের জন্য বড় শঙ্কা-উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈজ্ঞানিকভাবে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেয়া যায় না। তবে ভূমিকম্পের তীব্রতর ঝুঁকি নির্ণয় করার সুযোগ আমাদের রয়েছে। এ ঝুঁকি বিবেচনা করে আমার অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে যাতে ভবন বা স্থাপনা সে কম্পন সহ্য করতে পারে। এজন্য আমরা প্রায়ই বলি, ভূমিকম্প কখনো মানুষ মারে না, স্থাপনাই মানুষের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়। একই সত্য প্রাণপ্রকৃতির ক্ষেত্রেও সত্য। যেমন আমরা নদীশাসনের নামে অনেক নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে ফেলেছি। এক্ষেত্রে পদ্মা সেতুর উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। পর্যটন খাতেরও বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ সেতু করতে গিয়ে নদীর গতিপথের সামান্য পরিবর্তন আনতে হয়েছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সেতুর নিচের চর এলাকাগুলোতে। নাওডোবা চর, কাওরাকান্দি ও কাঁঠালবাড়ি চর, মাওয়া ও দোয়াগাছি চরাঞ্চল এলাকায় নদীভাঙন আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। কিছু এলাকার চর স্থায়ী রূপ পেয়েছে আর কিছু এলাকায় তা রূপ নিয়েছে ডুবোচরে। একটি বড় প্রকল্প নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিকল্পনাগত ঘাটতির কারণেই এ সমস্যাগুলো বাড়ছে।

সবচেয়ে হতাশার বিষয়, আমাদের দেশের প্রাণ বলে পরিচিত নদীগুলো হারিয়ে যাওয়া। নদীকে জীবিত সত্তা বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। তার পরও নদীকে আমরা মেরে ফেলছি। নদী সংরক্ষণের জন্য ড্রেজিং নিয়মিতভাবে করা হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুধু লোকদেখানো উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু উদ্যোগটিকে বিভিন্ন ধাপে বাস্তবায়নের চেষ্টা থাকে না। অথচ কাজটুকু কঠিন নয়। এক্ষেত্রে দুটো বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত, পরিকল্পনাকে পরিবেশ সংবেদনশীল, যুগোপযোগী, টেকসই এবং আমাদের ভূগোলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে হবে। আর দ্বিতীয়ত, এ সামঞ্জস্য অব্যাহত রাখার জন্য অবশ্যই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সচরাচর দেশের অবকাঠামোগত পরিকল্পনার সঙ্গে নগর-মহানগরের বাস্তবতার সামঞ্জস্য নেই। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ। প্রতিবার মর্মন্তুদ ঘটনাগুলোয় আমাদের দুর্যোগ পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি আমাদের বিদ্যমান অসংগতিগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। উন্নত বিশ্বে যেকোনো ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবনের নকশা নির্ধারণ করা হয়। এক্ষেত্রে অগ্নিদুর্ঘটনা, ভূমিকম্প সহনশীলতার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। কিন্তু এ পর্যন্তই তারা থেমে থাকে না। নিয়মিত তদারকি করে এবং কোনো অসংগতি থাকলে তা সুরাহার ব্যবস্থা নিশ্চিত করে। বিভিন্ন প্রতিবেদন ও গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের শহরাঞ্চলে শর্টসার্কিট কিংবা গ্যাসলাইনের ত্রুটিজনিত কারণে অধিকাংশ অগ্নিদুর্ঘটনা ঘটে। আবার কোনো ভবন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সইতে পারবে কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়ার পরই ভবন নির্মাণের অনুমোদন মেলে। ভবনটি ওই এলাকার মাটিতে নির্মাণোপযোগী কিনা সেটিও যাচাই-বাছাই করা হয়। একটি ভবন কতটা কার্বন নিঃসরণ করবে অথবা কীভাবে ভবনে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে দূষণ অনেকটা কমানো যায় সেটিও ভাবা হয়। উন্নত দেশগুলোতে দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সতর্ক করারও ব্যবস্থা থাকে। আমাদের দেশে অনেক পরামর্শ বা পরিকল্পনা ভালো হলেও সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আইনি তদারকি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নজরদারির অভাব রয়েছে।

দেশে অবকাঠামোগত টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও উদাসীনতা রয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক। আমি নিজে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করছি। দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বাদেও ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগ রয়েছে। আমাদের দেশেই অনেকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এ নিয়ে চর্চা করছেন। নিজ ভূগোলে অবস্থান করেই আমরা এখানকার চরিত্র সম্পর্কে অবহিত হই। দেখা যায়, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পরিকল্পনা থাকলে সচরাচর আমাদের মতো বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হয়। কিন্তু যখন বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয় তখন বিদেশ থেকে অনেক পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হয়। তাতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিদেশী পরামর্শক নিয়োগ দেয়া অন্যায় নয়। কিন্তু তারা এখানকার পরিবেশ-প্রতিবেশ এমনকি ভৌগোলিক চরিত্রকে খুব নিবিড়ভাবে দেখেছেন এমনটি হলপ করে বলা যায় না। আমি নিজে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাটির প্রকৃতি নিয়ে গবেষণা করেছি। এখানকার বিভিন্ন অঞ্চলের মাটির গুণাগুণ ও পরিসংখ্যান আমার জানা। বহিরাগত কেউ এসে উন্নত জ্ঞান আমাদের দিতেই পারেন। কিন্তু দেশীয় বিশেষজ্ঞ ও মেধার কর্মসংস্থানকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে আমাদের ঘাটতিটুকু নিয়েও ভাবতে হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সামঞ্জস্য অনেক জরুরি। সেটার জন্য সব পক্ষকেই কাজ করতে হয়। যেহেতু বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তাই সইতে পারার ও ধকল সামলানোর দিকেই বেশি মনোযোগ দেয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে একাডেমিক ও পেশাদার অঙ্গনকে কাজে লাগাতে হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দেশের মেধাকে জনসম্পদে পরিণত করার সুযোগ আছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।

ড. মো. জিল্লুর রহমান: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক, ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

আরও