১৯৭০
দশকের
মাঝামাঝি
সময়ে
ঢাকার
কোনো
এক
ট্র্যাভেল
এজেন্সি
অথবা
বিদেশী
সংস্থার
অফিসের
দেয়ালে
সাঁটানো
একটি
রঙিন
পোস্টার
দেখেছিলাম।
তাতে
বড়
বড়
ছাপার
হরফে
লেখা
ছিল:
‘When
a man is tired of London, he is tired of life.’
কাজে
ও
অকাজে
(বেড়াতে) বেশ
কয়েকবার
লন্ডন
গিয়েছি।
কখনো
একা,
কখনো
সপরিবারে।
কোনোবার
আত্মীয়-স্বজনদের
বাসায়
থেকেছি,
কোনোবার
হোটেলে
উঠেছি।
আপনজনদের
সঙ্গে
যে
কয়েক
দিন
কাটিয়েছি,
তাদের
অকৃত্রিম
আদর-আপ্যায়নে
আপ্লুত
হয়েছি,
অভিভূত
হয়েছি!
কাউকে
না
কাউকে
সঙ্গে
নিয়ে
নতুন-পুরনো
লন্ডনের
রূপ
দেখতেও
বেরিয়েছি।
যেবার
হোটেলে
আস্তানা
গেড়েছিলাম
সেবার
কুটুম্বিতার
উষ্ণ
ছোঁয়া
পাইনি,
তবে
নিজের
স্বাধীনতাটুকুর
ষোলো
আনা
সদ্ব্যবহার
করতে
কসুরও
করিনি।
সকাল
৮টা
থেকে
রাত
১২টা
পর্যন্ত
ঘুরে
ঘুরে
ঐতিহাসিক
লন্ডন
নগরী
দেখেছি।
এমনও
দিন
গেছে,
দেখতে
দেখতে
ক্লান্ত-শ্রান্ত
হয়ে
গভীর
রাতে
হোটেলে
ফিরে
ধুমসে
ঘুমিয়েছি।
সকালে
উঠে
নতুন
উদ্যমে
ট্র্যাভেল
ব্যাগ
ও
ভিডিও
ক্যামেরা
কাঁধে
নিয়ে
বউ-ছেলে-মেয়েসহ
আবার
স্বপ্ননগরী
দেখতে
বেরিয়ে
পড়েছি।
মাইলের
পর
মাইল
হেঁটেছি,
রোদে
পুড়েছি,
বৃষ্টিতে
ভিজেছি,
তবু
থামার
পাত্র
নই।
স্থানীয়
সময়
বেলা
৩টার
দিকে
একবার
বিরতি
নিয়ে
ছোট্ট
এক
দোকান
থেকে
লন্ডনবাসীর
প্রিয়
খাবার
‘ফিশ অ্যান্ড
চিপস’
কিনে
খেলাম—ওটাই
প্রথম
খাওয়া,
সম্ভবত
ওটাই
শেষ।
সেদিন
তো
ফুটপাত
ধরে
হাঁটার
সময়
আমার
স্কার্ফখানা
কোথায়
কেমন
করে
যে
গলা
থেকে
গড়িয়ে
পড়ে
গেল,
টেরও
পাইনি।
টিউবে,
ট্যাক্সিতে
এবং
পয়দলে
বিগবেন,
ওয়েস্টমিনস্টার
অ্যাবে,
লন্ডন
আই,
বাকিংহাম
প্যালেস,
পিকাডিলি
সার্কাস,
ট্র্যাফালগার
স্কোয়ার,
মাদাম
তুসো,
লন্ডন
ব্রিজসহ
কত
কিছু
যে
দেখেছি
তার
সব
এখন
মনেও
নেই।
তবে
মহানগর
লন্ডনে
যে
আরো
অনেক
দর্শনীয়
স্থান
অদেখা
রয়ে
গেছে
সেকথা
বলা
বাহুল্য।
আফসোস,
এতবার
এত
ঘোরাঘুরির
পরও
বিলেত
দেখার
সাধ
মেটেনি,
তৃষ্ণা
মেটেনি।
তাই
তো
ভাবি,
সুযোগ
পেলে
আবার
যাব।
তথাপি
‘লন্ডনই জীবন,
জীবনই
লন্ডন!’
একথা
আমি
মানতে
নারাজ।
বস্তুতপক্ষে,
মানুষের
জীবন
সংক্ষিপ্ত
হলেও
এর
প্রগাঢ়
পরিধি
লন্ডনের
চেয়ে
অনেক
বিস্তীর্ণ,
তাত্পর্যপূর্ণ,
মহিমান্বিত
এবং
জটিলও
বটে!
জীবনে
সফলতা
আছে,
ব্যর্থতা
আছে,
আছে
বুকভরা
হতাশার
দীর্ঘশ্বাস;
আবেগ-উচ্ছ্বাসও
আছে,
আছে
সম্পর্কের
নানান
কিসিম
টানাপড়েন।
আদমসন্তানের
বাস্তব
জীবন
কেন
এত
জটিল,
কঠিন,
কর্মশক্তিপূর্ণ
ও
গতিময়—এসব
প্রশ্নের
উত্তর
নির্ভর
করে
যে
জবাব
দিচ্ছে
তার
ওপর।
কারণ
জীবনকে
সবাই
একভাবে
দেখে
না,
যাপিত
জীবনও
সবার
কাছে
সমান
নয়।
আর
তাই
এখানে
বিতর্কের
অবকাশ
আছে
বৈকি।
সে
বিতর্ক
আমার
আজকের
এ
আলোচনার
জন্য
প্রাসঙ্গিক
নয়।
তর্কের
খাতিরে
আপাত
যদি
ধরেও
নিই,
‘লন্ডন-ই
জীবন’,
তাহলে
যে
মানুষটি
তন্নতন্ন
করে
গোটা
লন্ডন
শহর
দেখে
ফেলল,
তার
জীবনের
সব
সাধ-আহ্লাদ
কি
ষোলো
আনা
মিটে
গেল?
যদি
তাই
হয়,
তবে
তারপর
সে
কী
করবে,
তার
জন্য
করার
কি
আর
কিছু
বাকি
থাকে?
এ
অবস্থায়
অনেকে
অনেক
কিছুই
করতে
পারে।
যে
প্রতিক্রিয়াশীল
স্বভাবের
মানুষ,
সে
লক্ষ্যহীনভাবে
জীবনের
অর্থ
খুঁজে
খুঁজে
হয়রান
হয়ে
প্রথমে
জীবনবিমুখতার
ঘেরাটোপে
আটকা
পড়ে
যেতে
পারে।
পরে
অন্তহীন
হতাশাজনিত
কারণে
নেশার
অন্ধকার
কানাগলিতে
ঘুরপাক
খেতে
খেতে
লোকচক্ষুর
আড়ালে
কোথাও
গিয়ে
আছড়ে
পড়তে
পারে।
কারো
পক্ষে
অভিনব
সামাজিক
অপরাধে
লিপ্ত
হওয়াও
অসম্ভব
নয়।
এর
যেকোনো
একটাই—একটা
তরতাজা
জীবনকে
তিলে
তিলে
নিঃশেষ
করে
দেয়ার
জন্য
যথেষ্ট।
কেউ
আবার
অবসাদগ্রস্ততার
অভিঘাত
সহ্য
করতে
না
পেরে
আত্মহত্যা
করেও
বসতে
পারে।
এর
বিপরীতে
এমনও
ক্রিয়াশীল
মানুষ
আছে—যে
ব্যক্তিত্বে
দৃঢ়,
সংকল্পে
অনড়,
অটল,
সে
নিয়ত
প্রবর্তয়িতা
ও
সৃষ্টিশীল।
তার
জীবনের
সব
সাধ
মরণের
আগ
পর্যন্ত
পরিপূর্ণ
হয়
না।
একঘেয়েমিও
তাকে
ছুঁতে
পারে
না।
কোনো
না
কোনোভাবে
সে
আপন
জীবনকে
ক্রমে
নতুন
নতুন
উপায়ে
সমৃদ্ধ
করে
চলে।
সে
জীবনের
স্রোতকে
ভিন্নভাবে
ভিন্নধারায়
প্রবাহিত
করতে
জানে।
সে
নিজে
নিজেই
এক
জীবন
থেকে
অন্য
জীবনে
তার
উত্তরণও
ঘটাতে
পারে।
তেমন
মানুষের
পক্ষে
নতুন
করে
নতুন
জীবনের
নতুন
নতুন
অর্থ
সংযোজন
করাও
সম্ভব।
সে
কর্মময়
সরস
জীবনের
মধুময়
রস
আকণ্ঠ
শুষে
নিতে
জানে!
এ
ধরনের
মানুষ
সাধারণ
ঘরে
জন্মেও
অসাধারণ
হয়ে
আত্মপ্রকাশ
করে,
অন্যের
জীবনকে
আলোকিত
করে,
বিকশিত
করে।
আল্লাহর
জমিনে
এমন
মানুষ
নিতান্তই
বিরল।
ইতিহাসের
দিকে
ফিরে
তাকালে
দেখা
যায়,
লন্ডন
নগরী
অসংখ্য
মানুষের
জন্ম
দিয়েছে,
যারা
জীবনের
কোনো
এক
সময়
কোনো
অলৌকিক
শক্তির
বলে
মানুষের
কথা
ভেবে
ভেবে
হয়রান
হয়েছে।
গতানুগতিক
বৈষয়িক
জীবন
ছেড়ে
কর্মময়
জীবনের
কঠিন
কঠিন
সব
চ্যালেঞ্জ
স্বেচ্ছায়
মাথা
পেতে
নিয়েছে।
সমাজ
ও
সভ্যতার
সেবায়
নিজেদের
জীবন
বিলিয়ে
দিয়েছে।
এসব
বড়
বড়
মানুষের
বড়
বড়
আলামত!
বড়
মানুষ
এমন
কাজ
যত
সহজে
করতে
পারে,
আমরা
আম
মানুষ
তত
সহজে
পারি
না।
সহজে
তো
নয়-ই,
আমরা
কোনোভাবেই
পারি
না।
আমাদের
যোগ্যতায়
যেমন
ঘাটতি
আছে
তেমনি
মনও
দুর্বল,
তার
ওপর
আত্মপ্রত্যয়ের
অভাব
তো
আছেই।
আমরা
কাজের
কাজ
কিছুই
জানি
না।
যা
পারি
তা
কেবল
আকাশকুসুম
কল্পনা
ছাড়া
আর
কিছুই
নয়।
এই
আমাদের
সীমানা,
এই
আমাদের
সান্ত্বনা!
আমি
একজন
অকিঞ্চিত্কর
মানুষ,
এই
দলেই
পড়ি—না
জানি
লন্ডনের
ইতিহাস,
না
রাখি
এই
আলোকোজ্জ্বল
রূপসী
নগরীর
গহিন
অন্তরাত্মার
খবর।
আমি
এই
লন্ডন
দেখলেইবা
কী,
আর
না
দেখলেইবা
কী—থোড়
বড়ি
খাড়া
আর
খাড়া
বড়ি
থোড়।
আমার
জীবনের
সব
আশা
পূরণ
হলেই-বা
কী,
আর
না
হলেই-বা
কী।
এ
বয়সে
এসে
বুঝতে
পারি
আমি
যে
অবস্থায়
যেখানেই
থাকি
না
কেন,
আমার
মন
পড়ে
থাকে
গ্রামবাংলায়।
অলস
মুহূর্তে
বসে
আমি
আকাশকুসুম
চিন্তা
করি,
অলীক
স্বপ্ন
দেখি।
আমার
ইচ্ছে
হয়,
যদি
এমন
হতো,
চাকরি-বাকরি
পেছনে
ফেলে
প্রবাসে
নাগরিক
জীবন
থেকে
ছুটি
নিয়ে
চলে
যেতে
পারতাম
আমার
জন্মমাটিতে,
মরা
ধামাই
গাঙের
পারে
তাল-নারকেল-আম-কাঁঠালের
ছায়ায়
মায়াময়
সেই
গেরস্ত
বাড়িতে।
সেখানে
দেখেছি
বছরজুড়ে
রাতদিন
মানুষ
গম
গম
করে।
সেই
বাড়িতে
সুপারি
গাছে
বাবুই
পাখির
ঝুলন্ত
বাসা
বাতাসে
দোল
খায়,
হা-হুতাশ
করা
আমার
মনে
দোলা
দিয়ে
যায়,
আমাকে
ভুলিয়ে
রাখে
জীবনের
যাবতীয়
পেরেশানি
থেকে।
আমার
গ্রামে
জ্যৈষ্ঠ
মাসে
আম-কাঁঠালের
মিষ্টি-মধুর
গন্ধে
বাতাস
উতলা
হয়ে
ওঠে।
বাড়ির
উঠোনে,
গাছের
নিচে,
পুকরপাড়ে
আনারসের
খোসায়
মাছি
ভন
ভন
করে,
তাও
ভালো
লাগে।
সে
যে
আরেক
দুনিয়া,
অন্য
জীবন।
সেখানেও
তো
মানুষ
থাকে।
থাকে
মানে!
আমার
বাপ-দাদা
পূর্বপুরুষের
ভিটেমাটি
তো
সেখানেই।
সেই
তো
আমার
আসল
পরিচয়,
সেটাই
তো
আমার
শিকড়ের
ঠিকানা।
তবে
কেন,
আমি
কেন
সাত
সমুদ্দুর
পাড়ি
দিলাম,
কেন
আজ
জীবনসাগরে
ডুবে
হাবুডুবু
খাচ্ছি?
কিসের
আশায়,
কোন
ভরসায়
এলাম
এ
দেশে?
কী
পেলাম
আমি?
বিদেশ-বিভুঁইয়ে
না
এলে
কি-ইবা
হারাতাম?
আর
হারানোর
মতো
কি-ইবা
ছিল
আমার?
আর
১০
জনের
যা
নেই,
তা
আমার
থাকতেই
হবে
কেন?
এসব
প্রশ্ন
বারবার
আমাকে
নাড়া
দেয়,
খোঁচা
দেয়,
সবসময়
ভাবায়।
অনেক
সময়
এ
রকম
ভাবতে
ভাবতে
ঘুমিয়ে
পড়ি,
কখনো
আবার
এমন
সব
চিন্তা
মাথায়
নিয়ে
গভীর
রাতে
ঘুমও
ভাঙে।
শুনে
অবাক
হবেন?
যদি
বলি,
ঘুমের
ঘোরে
স্বপ্ন
এসে
আমাকে
কানে
কানে
বলে
দিয়ে
যায়,
‘তোমার জীবনের
এত
সব
জটিল
অংকের
কঠিন
হিসাব
কোনো
দিন
মিলবে
না।’
যে
লন্ডনবাসীর
জীবনের
অংক
সহজে
মিলে
যায়,
তার
কাছে
লন্ডন
অন্য
রূপে
ধরা
দেয়।
সে
জানে
লন্ডন
দুই
হাজার
বছরের
পুরনো
একটি
শহর।
সময়ের
এই
দীর্ঘ
পথপরিক্রমায়
এ
নগরের
লাখ-কোটি
নাগরিক
জীবনের
ঝুলিতে
ভালো-মন্দ
যত
গল্প
জমা
হয়েছে,
সে
তার
সবকিছুর
মর্যাদাবান
অংশীদার।
সে
যেমন
লন্ডন
জীবনের
পরিশুদ্ধ
সৌন্দর্যের
উচ্ছ্বসিত
প্রশংসা
করে,
তেমনি
নগরের
অন্ধকার
গলিপথে
হাঁটতেও
সংকোচ
বোধ
করে
না।
তার
কাছে
‘লন্ডনই জীবন,
জীবনই
লন্ডন’।
কারণ
বিচিত্র
এ
শহরে
বিচিত্র
সব
মানুষের
বাস।
কেউ
মনে
করে,
‘লন্ডন এমন
এক
জায়গা,
যেখানকার
প্রতিটি
মানুষ
স্বতন্ত্র।
আর
তাই
যে
কেউ
লন্ডনে
বসবাসকারী
মানুষের
মিলনমেলায়
যুক্ত
হয়ে
সহজেই
মিশে
যেতে
পারে।’
কারো
মতে,
‘দুনিয়ার জমিনে
যত
কিছু
হতে
পারে,
তার
সবই
লন্ডনে
পাওয়া
যায়।’
কেউ
বিশ্বাস
করে,
‘যে লন্ডনের
‘ডিনার টেবিল’-এ
বসে
তর্কে
জিততে
পারে,
সে
সারা
দুনিয়া
জয়
করতে
সক্ষম।’
এখানে
এমনও
মানুষ
আছে—যে
মনে
করে,
‘যে কোনো
দিন
লন্ডনের
রাস্তায়
বের
হয়ে
নতুন
কিছু
না
দেখে,
নতুন
কোনো
অভিজ্ঞতা
হাসিল
না
করে
ঘরে
ফেরা
যায়
না।’
কারো
ধারণা,
‘লন্ডনের একটি
খারাপ
দিন
অন্য
যেকোনো
জায়গার
একটি
ভালো
দিনের
চেয়েও
ভালো।’
আমি
আশ্চর্য হব
না,
অন্য
কারো
মুখে
যদি
শুনি,
‘লন্ডন একটি
‘বদখাসলত’, কিন্তু
কেউ
তা
ছাড়তেও
চায়
না।’
এখানেই
শেষ
নয়,
লন্ডনের
লোকজন
এমন
কথাও
বুকে
লালন
করে,
‘এটি এমন
এক
শহর,
যেখানে
মানুষের
ভিড়ে
মানুষ
হারিয়ে
যায়,
কেউ
কাউকে
তার
ব্যক্তিগত
বিষয়ে
কোনো
প্রশ্ন
করে
না।’
সে
আরো
ভাবে,
‘এখানে ভালোবাসা
ও
ঘৃণা
সমানভাবে
চায়ের
পেয়ালায়
মিষ্টি
ছড়ায়।’
বাহ!
লন্ডনবাসীদের
কী
সব
বিচিত্র
ভাবনা,
বিচিত্র
চিন্তা!
যার
কাছে
লন্ডন
শুধু
ইট-পাথরের
একটি
ঘন
জনপদ
নয়,
বরং
এটি
একসময়
সারা
দুনিয়ার
কূটনীতি,
রাজনীতি,
অর্থনীতি,
বাণিজ্যনীতি,
চাণক্যনীতি,
উচ্চশিক্ষা,
রণনীতি,
বিশ্বপ্রতারণা
ও
ষড়যন্ত্রের
কেন্দ্রবিন্দু
ছিল;
যে
লন্ডন
দেখে,
লন্ডনের
উঁচু
উঁচু
স্থাপনা
দেখে,
মহানগরীর
ইতিহাস-ঐতিহ্যের
খবর
রাখে;
যে
লন্ডনের
সমাজ,
সভ্যতা,
সংস্কৃতি
জানে
ও
বুঝে,
অনুভব
করে
এবং
উপভোগ
করে;
যে
লন্ডনবাসীদের
প্রতিদিনকার
জটিল
ও
কঠিন
প্রতিযোগিতাপূর্ণ
জীবনের
চালচিত্র
দেখে
এবং
বুঝে,
এসবের
মাঝে
নিরন্তর
ডুবে
থাকে,
তার
কাছে
রহস্যময়ী
লন্ডন
তার
জাহির-বাতিন
অবগুণ্ঠন
খুলে
ধরা
দেয়।
সে
বলতেই
পারে,
‘When a man is tired of London,
he is tired of life.’
পল
থের্যু
(Paul Theroux) এ
কথার
একটি
চমকপ্রদ
ব্যাখ্যা
দিয়েছেন
এই
বলে:
‘A person who
is tired of London is not necessarily tired of life; it might be that he just
can’t find a parking place.’
পুনশ্চ:
পরে
জেনেছি,
আমার
ব্যবহূত
প্রথম
উদ্ধৃতিটি
অষ্টাদশ
শতাব্দীর
বিখ্যাত
ইংরেজ
কবি,
লেখক
ও
সাহিত্য
সমালোচক
ড.
স্যামুয়েল
জনসনের
একটি
বহুলপ্রচারিত
উক্তির
খণ্ডিতাংশ।
এ
মনীষী
ব্রিটিশ
ইতিহাসে
‘ড. জনসন’,
‘ডিকশনারি জনসন’
ও
‘দ্য র্যাম্বলার’
নামেও
পরিচিত।
১৭৭৭
সালে
তার
এই
পূর্ণাঙ্গ
উদ্ধৃতিটি
প্রথমবারের
মতো
জানা
যায়,
তিনি
বলেছিলেন:
‘Why,
Sir, you find no man, at all intellectual, who is willing to leave London. No,
Sir, when a man is tired of London, he is tired of life; for there is in London
all that life can afford.’
আবু এন
এম ওয়াহিদ: অধ্যাপক,
অর্থনীতি
বিভাগ,
টেনেসি
স্টেট
ইউনিভার্সিটি,
যুক্তরাষ্ট্র;
এডিটর,
জার্নাল
অব
ডেভেলপিং
এরিয়াজ