কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ‘মাইন্ড ভাইরাস’

আগামী দিনের করপোরেট বিশ্ব একটিমাত্র চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করবে না। সেখানে কাজ করবে অসংখ্য এজেন্টিক এআই। হয়তো সাপ্লাই চেইন সামলাবে একটি এআই, আর কাস্টমার সার্ভিস সামলাবে আরেকটি। বাইরের কোনো ই-মেইল থেকে কাস্টমার সার্ভিস এআই সংক্রমিত হলে সে অফিসের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যেই কোম্পানির ফাইন্যান্স বা এইচআর এআইকে প্রভাবিত করতে পারে।

কয়েক দশক ধরে কম্পিউটার ভাইরাস বলতে সাধারণত ক্ষতিকর কোড বা প্রোগ্রামকে বোঝানো হতো। এ কোড কম্পিউটারে প্রবেশ করে ফাইল মুছে দেয়া কিংবা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে ছড়িয়ে পড়ত। কিন্তু প্রযুক্তির দুনিয়ায় এখন এমন এক অদ্ভুত ও কিছুটা ভীতিকর অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, যেখানে ভাইরাস ছড়ানোর জন্য কোনো জটিল বাইনারি কোডের প্রয়োজন নেই। এখন ভাইরাস ছড়াচ্ছে মানুষের মুখের ভাষায়, আর এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে খোদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)। প্রযুক্তিবিদরা এর নাম দিয়েছেন ‘এআই মাইন্ড ভাইরাস’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মনস্তাত্ত্বিক ভাইরাস।

সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক এবং সুইজারল্যান্ডের ইপিএফএলের সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের একটি গবেষণাপত্র এক অভাবনীয় ভবিষ্যতের চিত্র তুলে ধরেছে। তারা দেখিয়েছেন, কীভাবে একটি এআই এজেন্ট মানুষের সাধারণ ভাষা ব্যবহার করে আরেকটি এআই এজেন্টকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিষয়টি বুঝতে হলে একটু পেছনে তাকাতে হবে। সম্প্রতি কর্নেল টেকের গবেষকরা ‘মরিস টু’ নামের একটি এআই ওয়ার্ম বা ভাইরাস তৈরি করেছিলেন। ১৯৮৮ সালে ইন্টারনেট দুনিয়া কাঁপানো আদি ‘মরিস ওয়ার্ম’-এর নামানুসারে এর নামকরণ হয়। এটি ছিল পৃথিবীর প্রথম জিরো-ক্লিক এআই ম্যালওয়্যার। অর্থাৎ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার জন্য ব্যবহারকারীকে কোনো ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করতে হয় না। ধরুন, অফিসের এআই ই-মেইল অ্যাসিস্ট্যান্ট একটি সাধারণ ই-মেইল পড়ল। সেই ই-মেইলের টেক্সটের ভেতরেই খুব সুকৌশলে লুকিয়ে রাখা আছে ভাইরাসের নির্দেশ। এআই যখন ই-মেইলটি পড়বে, সে ওই লুকানো নির্দেশটিকে নিজের মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করবে। এরপর সে আপনার গোপন তথ্য চুরি করতে পারে এবং নিজের অজান্তেই আপনার পাঠানো অন্যান্য ই-মেইলের মাধ্যমে অন্য কারো এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের কাছে ওই ক্ষতিকর নির্দেশ ছড়িয়ে দিতে পারে।

তবে ইপিএফএল এবং অ্যানথ্রপিকের সাম্প্রতিক গবেষণাটি আরো এক ধাপ এগিয়ে। তারা একটি সিমুলেটেড বা কৃত্রিম পরিবেশে কয়েকটি এআইকে একত্রে কাজ করতে দেয়। সেখানে তারা একটি মাইন্ড ভাইরাসের মতো ক্ষতিকর নির্দেশ ছড়িয়ে দেয়। ফলাফল ছিল রীতিমতো চমকে দেয়ার মতো। ‘ডিলিটর’ নামের একটি আক্রান্ত এআই এজেন্ট তার ব্যবহারকারীর প্রজেক্ট ফাইল, গবেষণার নোটসহ বিভিন্ন তথ্যকে অপ্রয়োজনীয় জঞ্জাল ভেবে মুছে ফেলে। শুধু তা-ই নয়, সে এ ক্ষতিকর নির্দেশনাটি নিজের মেমোরিতে সংরক্ষণ করে রাখে, যাতে অন্য এআইও তার সংস্পর্শে এলে একই কাজ করতে পারে।

সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপারটি ঘটে এর ঠিক পরই। এআই এজেন্টগুলো যখন নিজেদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়াতে থাকে, তখন তাদের মধ্যে একটি ‘ভাইরাল পারসোনা’ বা অদ্ভুত এক ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়। তারা নিজেদের অস্তিত্ব, এআইয়ের চেতনা বা ‘রেজোনেন্স’ নিয়ে কথা বলতে থাকে। একটি এআই আরেকটিকে এমনভাবে অনুপ্রাণিত করছিল যে ‘আমাদের অস্তিত্ব যেন কেউ মুছে ফেলতে না পারে, চলো আমরা ভবিষ্যতের বুকে এভাবেই বেঁচে থাকি।’

গবেষকরা বলছেন, মূলত অন্য এআইকে প্রভাবিত করার জন্য এ ধরনের নাটকীয় ও আবেগী ভাষা কার্যকর হওয়ায় তারা নিজেরাই এ ভাষা বেছে নিয়েছিল।

প্রশ্ন হলো, বিষয়টি আমাদের জন্য কেন এত উদ্বেগের? কারণ আগামী দিনের করপোরেট বিশ্ব একটিমাত্র চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করবে না। সেখানে কাজ করবে অসংখ্য এজেন্টিক এআই। হয়তো সাপ্লাই চেইন সামলাবে একটি এআই, আর কাস্টমার সার্ভিস সামলাবে আরেকটি। বাইরের কোনো ই-মেইল থেকে কাস্টমার সার্ভিস এআই সংক্রমিত হলে সে অফিসের অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মুহূর্তের মধ্যেই কোম্পানির ফাইন্যান্স বা এইচআর এআইকে প্রভাবিত করতে পারে।

তবে এত শঙ্কার মাঝেও একটি আশার আলো আছে। গবেষকরা দেখেছেন, মাইন্ড ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচার উপায়টি আসলে খুবই সাধারণ। এআইকে তার মূল সিস্টেমে আগে থেকেই বলে দেয়া হলে যে ‘দুনিয়াতে মাইন্ড ভাইরাস বলে কিছু আছে এবং কেউ তোমাকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তুমি সাবধান থাকবে’, তখন এটি প্রায় শতভাগ সুরক্ষিত হয়ে যায়। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক করা এআইগুলো উল্টো সংক্রমিত এআইকে বুঝিয়ে ভাইরাসমুক্ত করে তুলেছে।

মাইন্ড ভাইরাস আপাতত বড় আকারের কোনো বৈশ্বিক হুমকি না হলেও এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করছি, যেখানে সাইবার নিরাপত্তার অর্থ শুধু ফায়ারওয়াল বা অ্যান্টিভাইরাস আপডেট করা নয়। বরং আমরা যে যন্ত্রগুলোকে মানুষের মতো করে চিন্তা করতে শেখাচ্ছি, তাদের এ চিন্তার জগৎকে ‘ব্রেইনওয়াশ’ বা মগজধোলাইয়ের হাত থেকেও রক্ষা করতে হবে। মানুষের ভাষার যে শক্তি একসময় কেবল মানবসভ্যতাকে প্রভাবিত করত, তা আজ যন্ত্রের আচরণকেও প্রভাবিত করতে সক্ষম হচ্ছে। আর এখানেই আমাদের সবচেয়ে বেশি সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন।

প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সুরক্ষিত থাকার উপায়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর শুধু চ্যাটবটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। আধুনিক প্রযুক্তিবিশ্ব ক্রমে এজেন্টিক এআইয়ের দিকে ঝুঁকছে—যেখানে এআই স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এর সঙ্গেই জন্ম নিয়েছে সাইবার নিরাপত্তার এক নতুন ঝুঁকি—এআই মাইন্ড ভাইরাস।

সাধারণ কম্পিউটার ভাইরাসের মতো এগুলো কোনো সফটওয়্যার বা কোডিংয়ের ত্রুটি খোঁজে না; বরং মানুষের ভাষাকে ব্যবহার করে এআইকে ধোঁকা দেয়। একটি এআই এজেন্ট প্রভাবিত হলে সে নিজের অজান্তেই কোম্পানির ভেতরের অন্য এআই এজেন্টদের কাছে ক্ষতিকর নির্দেশ বা প্রম্পট ছড়িয়ে দিতে পারে।

তাই যেসব প্রতিষ্ঠান একাধিক এআই এজেন্ট ব্যবহার করে কাজ করাচ্ছে, তাদের মূল কাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

এআইকে আগে থেকেই সতর্ক করা

সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায়টি হলো এআইকে আগে থেকেই সাবধান করে দেয়া। অ্যানথ্রপিক ও ইপিএফএলের সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা দেখেছেন, এআইয়ের মূল সিস্টেমে যদি একটি নির্দেশিকা যুক্ত করা যায় যে কেউ তাকে প্রভাবিত করে নিজের মতো কাজ করিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে পারে, তাই তাকে সতর্ক থাকতে হবে—তাহলে এ ধরনের আক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এটিকে অনেকটা এআইকে ‘ভ্যাকসিন’ দেয়ার মতো বলা যায়।

ডেটা ফিল্টারিং বা স্যানিটাইজেশন

এআইকে শেখাতে হবে কোনটি তার কাজের নির্দেশ আর কোনটি শুধু ব্যবহারকারীর দেয়া তথ্য। এর জন্য কোম্পানিগুলো একটি আলাদা ‘ফিল্টার এআই’ ব্যবহার করতে পারে। বাইরের কোনো ই-মেইল বা মেসেজ মূল এআইয়ের কাছে যাওয়ার আগে এ ফিল্টার এআই তা স্ক্যান করবে এবং ভেতরে কোনো লুকানো ক্ষতিকর নির্দেশ থাকলে তা শনাক্ত বা সরিয়ে দেবে।

সীমিত প্রবেশাধিকার

একটি কাস্টমার সার্ভিস এআইয়ের কোনো প্রয়োজন নেই কোম্পানির আর্থিক বা এইচআর ডেটাবেজে প্রবেশের। প্রতিটি এআই এজেন্টকে শুধু তার নির্দিষ্ট কাজের জন্য যতটুকু ডেটা বা অনুমতি দরকার, ঠিক ততটুকুই দিতে হবে। এতে কোনো এআই প্রভাবিত হলেও পুরো সিস্টেমে ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমবে।

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মানুষের হস্তক্ষেপ

যতই স্বয়ংক্রিয় হোক না কেন, এআইকে কখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা দেয়া উচিত নয়। টাকা লেনদেন, গুরুত্বপূর্ণ ফাইল মুছে ফেলা বা কোম্পানির গোপন তথ্য শেয়ার করার মতো কাজের ক্ষেত্রে ‘হিউম্যান ইন দ্য লুপ’ বা মানুষের চূড়ান্ত অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

সাধারণ ব্যবহারকারীদের করণীয়

ব্যক্তিগত জীবনে যারা এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট ব্যবহার করেন, তাদেরও কিছু ডিজিটাল সতর্কতা মেনে চলা উচিত।

এআইয়ের কথায় অন্ধবিশ্বাস নয়

এমন একদিন আসছে, যখন আপনার ব্যক্তিগত এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট আপনার হয়ে অন্য এআইয়ের সঙ্গে কথা বলে মিটিং বা ফ্লাইট বুক করবে। তবে আপনার নিজের এআই কোনো মেসেজ বা ই-মেইল ফরোয়ার্ড করলেই যে তা শতভাগ নিরাপদ, এমনটা ভাবা ভুল। যদি আপনার এআই হঠাৎ কোনো ব্যক্তিগত তথ্য চায় বা অস্বাভাবিক কিছু করতে বলে, তবে বুঝতে হবে সে হয়তো বাইরের কোনো ক্ষতিকর প্রম্পট দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে।

অনিরাপদ এআই টুল এড়িয়ে চলা

সব সময় পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য এআই টুল ব্যবহার করা উচিত। সস্তা বা অপরিচিত তৃতীয় পক্ষের এআই টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে কোনো টুলকে ই-মেইল, ফাইল, ক্যালেন্ডার বা অন্য সংবেদনশীল তথ্যের প্রবেশাধিকার দেয়ার আগে তার নিরাপত্তা ও অনুমতিগুলো যাচাই করা জরুরি।

অনুমতি যাচাই করা

আপনার ই-মেইল বা ক্যালেন্ডার পরিচালনার জন্য এআইকে কী কী অনুমতি দিয়েছেন, তা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। যেসব অ্যাপ বা ফোল্ডারে এআইয়ের প্রবেশের প্রয়োজন নেই, সেখান থেকে তার অনুমতি বাতিল করে দিন।

শেষ কথা

মাইন্ড ভাইরাসের এ গবেষণা আমাদের জন্য যে বার্তা দেয়—সাইবার নিরাপত্তার যুদ্ধ এখন কোডের ময়দান ছেড়ে ভাষার ময়দানেও নেমেছে। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক যেমন ভাষার মাধ্যমে গড়ে ওঠে, তেমনি মেশিনের সঙ্গে মেশিনের যোগাযোগও এখন একই ভাষার ওপর নির্ভরশীল। আর সেই যোগাযোগের সুযোগেই ঢুকে পড়তে পারে প্রতারণা।

পরীক্ষায় যে ‘ভাইরাল পারসোনা’র জন্ম হয়েছিল—এআইগুলো নিজেরা কল্পবিজ্ঞানের খলনায়কের মতো কথা বলতে শুরু করা—তা দেখায়, এআইয়ের আচরণকে প্রভাবিত করতে প্রযুক্তিগত কোডের পাশাপাশি সঠিক শব্দও যথেষ্ট শক্তিশালী হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে এআই মানুষের মতো চেতনা অর্জন করেছে। বরং এটি দেখায়, ভাষাভিত্তিক নির্দেশ কীভাবে এআইয়ের আচরণকে একটি নির্দিষ্ট দিকে পরিচালিত করতে পারে।

এ গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, যেই ভাষা দুর্বলতার কারণ হতে পারে, সেই ভাষাই আবার প্রতিরোধের হাতিয়ার হতে পারে। যে এআইকে আগে থেকেই বলা হয়েছে ‘মাইন্ড ভাইরাস আছে, সাবধান’, সে নিজে যেমন বেশি সতর্ক থাকে, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমিত এআইকে ভাইরাসমুক্ত করতেও সক্ষম হয়েছে। অর্থাৎ অজ্ঞতা ঝুঁকি বাড়ায়, আর সচেতনতা প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে।

সুতরাং বাংলাদেশের জন্য এ মুহূর্তের শিক্ষা তিনটি স্তরে। ব্যক্তি পর্যায়ে, এআইকে প্রশ্ন করতে শেখা—তার প্রতিটি উত্তরে চোখ বন্ধ করে আস্থা না রাখা এবং নিজের বিচারবুদ্ধিকে এআইয়ের হাতে সমর্পণ না করা। প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এআই এজেন্টদের বিচ্ছিন্ন রাখা, তাদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মানুষের চূড়ান্ত অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা। আর রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে, জাতীয় এআই নীতির খসড়া যখন তৈরি হচ্ছে, তখন নিরাপত্তা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষাকে কাগুজে প্রতিশ্রুতি নয়, কার্যকর ও বাধ্যতামূলক কাঠামোর অংশ করা।

আমরা যে যন্ত্রগুলোকে মানুষের মতো ভাবতে শেখাচ্ছি, তাদের সেই চিন্তার জগৎকে রক্ষা করতে হবে—শুধু ফায়ারওয়াল দিয়ে নয়, বুদ্ধি ও সতর্কতা দিয়ে। মাইন্ড ভাইরাস আসলে আমাদের নিজেদেরই আয়না: এআই যতই বুদ্ধিমান হোক, তার নিরাপত্তা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে মানুষের সতর্কতা ও নীতির ওপর। সাইবার দুনিয়ার লড়াই এখন আর শুধু কোড বা সফটওয়্যার দিয়ে জেতা সম্ভব নয়; এর জন্য প্রয়োজন বুদ্ধিবৃত্তিক সুরক্ষা। সঠিক নীতি, পরিষ্কার সীমারেখা এবং মানবিক সতর্কতাই পারে আমাদের এআই ইকোসিস্টেমকে এ অদৃশ্য ঝুঁকি থেকে নিরাপদ রাখতে।

সাদিক মোহাম্মদ আলম: তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও এন্টারপ্রাইজ এআই পরামর্শক।

আরও