আলোকপাত

জলবায়ু পরিবর্তনে হুমকির মুখে বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য

পৃথিবীব্যাপী নানা ধরনের জীব তাদের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে তৈরি করেছে এক বিশাল বিস্তৃত জীবনজাল। এ জালের ওপর আমরা নির্ভর করি।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকির সঙ্গে যে বিষয়টি বেশি আলোচিত হচ্ছে সেটি হচ্ছে জীববৈচিত্র্যের হ্রাস। জীবের এ বৈচিত্র্য মূলত তার বিভিন্ন চেহারাগত রূপ, জিনের ভিন্নতাকে নির্দেশ করে এবং এর মধ্যে অতি ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া থেকে বৃহৎ বন কিংবা প্রবাল প্রাচীর পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত। বলা চলে, এখন যে জীববৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে তা গড়ে উঠেছে প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর ধরে এবং বলতে দ্বিধা নেই যে বর্তমান এ অবস্থার মাঝে মানুষের প্রভাবও রয়েছে। অথচ এ জীববৈচিত্র্যকে পৃথিবীর ‘হৃদস্পন্দন’ বলা চলে।

পৃথিবীব্যাপী নানা ধরনের জীব তাদের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে তৈরি করেছে এক বিশাল বিস্তৃত জীবনজাল। এ জালের ওপর আমরা নির্ভর করি। আমাদের নিত্যদিনের বেঁচে থাকার অনুষঙ্গ খাদ্য, পানি, ওষুধ, বাসোপযোগী জলবায়ু এমনকি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য। যেমন ধরুন, সারা বিশ্বে এক বিলিয়নেরও অধিক মানুষ তাদের জীবিকার জন্য বনের ওপর নির্ভরশীল, অন্যদিকে ভূমি এবং সমুদ্র পৃথিবীব্যাপী যত কার্বন নির্গমন হয় তার অর্ধেকেরও বেশি শোষণ করে। বিশ্বব্যাপী জিডিপির অর্ধেকেরও বেশি আসে প্রকৃতি থেকে।

কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে পৃথিবী বিশাল সংকটের মুখে পতিত হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, সারা বিশ্বে ১০ লাখেরও অধিক প্রজাতি হুমকির মুখে, যার অনেকগুলোই কয়েক দশকের মধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। বনভূমি উজাড় হওয়ার কারণে বিশ্বের বৃহৎ রেইনফরেস্ট অ্যামাজনের কিছু অংশ কার্বন শোষণের উৎস না হয়ে কার্বন নির্গমনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা পৃথিবীতে ৮৫ শতাংশ জলাভূমি, যার মধ্যে রয়েছে বিশাল লবণাক্ত জলাভূমি—ম্যানগ্রোভ জলাভূমি হারিয়ে গেছে যেগুলো নির্গত কার্বনের বিরাট অংশ শোষণ করত।

মানুষ শুধু নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য ভূমির পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় ঘটাচ্ছে না, সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বব্যাপী জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটাচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে সামুদ্রিক, স্থলজ এবং স্বাদুপানির বাস্তুতন্ত্র পরিবর্তিত হয়েছে। এ কারণে নানা রোগের সংক্রমণে অনেক প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণীর ব্যাপক মৃত্যুর ফলে বিলুপ্তি ঘটেছে অসংখ্য প্রজাতির। সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে সেখানকার জীবজন্তুর ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক পানিতে অম্লায়নের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রবাল, খোলসযুক্ত সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস এবং কঙ্কাল সুগঠিত হচ্ছে না। কৃষিকাজ, খাদ্য উৎপাদন এবং আবাসনের জন্য ভূমিরূপের পরিবর্তন ঘটানো হচ্ছে অনবরত। মানুষের এমন কার্যকলাপের জন্য বরফ আচ্ছাদিত অঞ্চলের বাইরে প্রায় ৭০ শতাংশ ভূমির পরিবর্তন ঘটেছে। ভূমির ব্যবহারে পরিবর্তনের কারণে প্রাণী ও উদ্ভিদ তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে অনেক প্রজাতি বিলুপ্ত হচ্ছে। জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হওয়ার নানা হুমকির মধ্যে রয়েছে মানুষ দ্বারা অধিক প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ, বনভূমি ও জলাভূমি উজাড় করে আবাসনসহ নানা অবকাঠামো তৈরি করা, পরিবেশে আগ্রাসী প্রজাতির বিস্তার ঘটানো, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন।

বিশ্বব্যাপী বহুল আলোচিত আশঙ্কাজনক বিষয় হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয়। গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনপ্রসূত বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে বিভিন্ন প্রাণী অপেক্ষাকৃত শীতল অঞ্চলে গমন করে এবং এ কারণে বাস্তুতন্ত্রের ওপর জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রতিটি মাত্রার সঙ্গে জীব প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিও বাড়ছে। এরই মধ্যে প্রমাণ রয়েছে যে ১৯৯০-এর দশক থেকে বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ হ্রাসের ফলে বিশ্বব্যাপী ৫৯ শতাংশ উদ্ভিদ অঞ্চল স্পষ্টভাবে বাদামি হয়ে গেছে এবং বৃদ্ধির হার হ্রাস পেয়েছে। বিশ্ব উষ্ণায়নের নেপথ্যে রয়েছে কার্বন ডাই-অক্সাইডের উদ্‌গীরণ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি এর কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণকারীর সংখ্যা কমে যাওয়া। ভূ-ভাগের মতো সমুদ্র উপরিস্থ তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে গভীর এবং উপকূলীয় সামুদ্রিক অঞ্চলের বাস্তুসংস্থানের অপরিমেয় ক্ষতি হচ্ছে। জানা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বিশ্বের প্রাচীর থেকে ১৪ শতাংশ প্রবাল হারিয়ে গেছে, যার বেশির ভাগই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ধ্বংসের পথে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্ভিদ, অণুজীব, বিভিন্ন প্রাণী এমনকি মানুষের বসতিতেও পরিবর্তন সাধন হয়। ফলে প্রাণীদের মাঝে অণুজীব ঘটিত নানা ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে নানা প্রজাতির ঔষধি গাছ যা ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য খাতকেও বিপর্যয়ের মুখে ফেলবে।

মানবসৃষ্ট উৎস থেকে নির্গত গ্রিনহাউজ গ্যাসের প্রায় অর্ধেক বায়ুমণ্ডলে থেকে যায়। বাকি অর্ধেক স্থলজ এবং জলজ উদ্ভিদ দ্বারা শোষিত হয়। বাস্তুতন্ত্রে বিদ্যমান জীববৈচিত্র্য প্রকৃতিতে কার্বন শোষণের মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে ভারসাম্য রক্ষা করে।

এর বাইরে প্রাকৃতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের জন্য বন রক্ষা, ব্যবস্থাপনা এবং পুনরুদ্ধারসহ নানা ব্যবস্থা গ্রিনহাউজ গ্যাস প্রশমনে সহায়তা করে। বলা চলে, বিশ্বব্যাপী বনভূমি নির্মূল সত্ত্বেও বন এখনো পৃথিবী নামক গ্রহের ৩০ শতাংশজুড়ে রয়েছে এবং গ্রহটিকে প্রাণের অস্তিত্বের জন্য স্থিতিশীল করে রেখেছে। পৃথিবীজুড়ে ভূমিরূপ বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই—বিশ্বব্যাপী মাত্র ৩ শতাংশ ভূমি দখল করে আছে পিটল্যান্ড জলাভূমি। অথচ এসব ভূমি সমস্ত বনের তুলনায় তিন গুণ কার্বন শোষণ করে। ফলে এসব জলাভূমি সংরক্ষণের মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।

ভূ-ভাগের জীববৈচিত্র্য হ্রাসের সঙ্গে সঙ্গে জলজ জীব, বিশেষ করে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। সিগ্রাস, সামুদ্রিক শৈবাল দিন দিন কমে যাচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে কমে যাচ্ছে ম্যানগ্রোভ বন যারা স্থলজ বনের চেয়ে চার গুণ বেশি হারে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারে। কার্বন শোষণের মাধ্যমে সামুদ্রিক উদ্ভিদ এবং উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে কার্বন নিঃসরণ সীমিত করতে এবং পরিবর্তিত জলবায়ুর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রাকৃতিক স্থান ও বন পুনরুদ্ধার এবং সংরক্ষণ অপরিহার্য।

জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় এবং দূষণের কারণে ত্রিমুখী সংকটে পৃথিবী। পৃথিবীর মানুষের সামনে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, জীবের জন্য স্থিতিশীল বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কার্যকর ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে পদক্ষেপ গ্রহণ এখন অতি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের অধীনে ২০১৫ সালে গৃহীত ঐতিহাসিক প্যারিস চুক্তির মতো ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত জীববৈচিত্র্য কনভেনশনে অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলো প্রকৃতি রক্ষায় একটি চুক্তিতে উপনীত হয়, যেটি কুনমিং-মন্ট্রিয়ল বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্য ফ্রেমওয়ার্ক নামে পরিচিত। ২০২২ সালে কানাডার মন্ট্রিয়লে অনুষ্ঠিত কনফারেন্স অব পার্টিস যেটি কপ নামে পরিচিত, উভয় ক্ষেত্রেই জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি মোকাবেলা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আদিবাসীদের (যারা জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির কারণে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন) অধিকার রক্ষার জন্য নতুন কাঠামোর ওপর অংশীজনরা পদক্ষেপ গ্রহণে সম্মত হয়। সেই সময় জাতিসংঘের মহাসচিব আদিবাসী জনগণ, আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মানুষ এবং স্থানীয় সম্প্রদায়কে প্রকৃতির ‘অভিভাবক’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং তাদের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি ‘জীবন্ত গ্রন্থাগার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

গবেষকরা বিশ্ব উষ্ণায়নের যে ভবিষ্যদ্বাণী করছেন তা দিন দিন দৃশ্যমান হচ্ছে। ২০২৪ সালে পৃথিবীর রেকর্ড উষ্ণতা ভাবিয়ে তুলেছে মানুষকে, এর আগের বছর পৃথিবীর মানুষ দেখেছিল এক দশকের রেকর্ড তাপমাত্রা। এই রেকর্ড তাপমাত্রা বিশ্ববাসীকে চরম আবহাওয়ার বার্তা দিচ্ছে, জানাচ্ছে হিমবাহ গলে যাওয়া, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ এ কারণে ঘটতে যাওয়া নেতিবাচক প্রভাবের কথা। এর সঙ্গে জাতিসংঘ জানিয়েছে যে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জীববৈচিত্র্যে অভূতপূর্ব অবক্ষয়ের কথা।

এই যে পরিবেশ-প্রতিবেশে এতসব নেতিবাচক পরিবর্তন তার মূলে মানবসৃষ্ট কারণ অধিক দায়ী। জীবাশ্ম জ্বালানির অবাধ ও ব্যাপক ব্যবহারের ফলে বিশ্বের বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রা বাড়ছে। গবেষণা থেকে বিজ্ঞানীরা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রার পরিবর্তনের সম্পর্ক পেয়েছেন, যেখানে স্পষ্টত যে জীবাশ্ম জ্বালানি দহন থেকে বাতাসে মিশছে গ্রিনহাউজ গ্যাস যা বিশ্ব উষ্ণায়ন ঘটাচ্ছে। বিশ্ব উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমানোর আহ্বান এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি প্রাক-শিল্প স্তরের চেয়ে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু এর সফলতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর বিপর্যয়কর পরিস্থিতি কতটা মোকাবেলা করা যাবে সেটা নিয়েও সন্দিহান। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরাট প্রভাব হিসেবে দেখা দিচ্ছে দাবানল, ঝড়, দীর্ঘ খরা, তাপপ্রবাহ এবং এসব দুর্যোগের আবর্তন বৃদ্ধি। ২০১৯ সালের শেষ এবং ২০২০ সালের শুরুর দিকে অস্ট্রেলিয়ায় ৯৭ হাজার বর্গকিলোমিটার বন এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল দাবানলে পুড়ে যায়, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য বিরাট হুমকি ছিল। ধারণা করা হয়, সেই দাবানলে ওই অঞ্চলে বিপন্ন প্রজাতির সংখ্যা ১৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

ভূপৃষ্ঠের মাটির কার্বন শোষণ ক্ষমতা যেমন অনেক, তেমনি এটি জীববৈচিত্র্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামকও বটে। নানা অণুজীব, প্রাণী, উদ্ভিদের আবাসস্থল ভূমি। মানুষ নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভূমির গুণাগুণ নষ্ট করছে, ধ্বংস করছে জীবের জন্ম ও বৃদ্ধিসহ বসবাসের পরিবেশ। জলবায়ুর পরিবর্তন, খরার কারণে মাটির অবক্ষয় এবং রাসায়নিক দূষণের কারণে মাটির কার্বন শোষণ যেভাবে হ্রাস পাচ্ছে, তেমনি বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণে মাটি তার মূল অনুষঙ্গ হারিয়ে দিন দিন অনুর্বর হয়ে পড়ছে। গবেষণা বলছে, বিশ্বের আনুমানিক ৮০ লাখ উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে ১০ লাখ প্রজাতি বিলুপ্তির পথে। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ ঘটনা ঘটছে মানুষের কর্মকাণ্ডের জন্য, যার ৮৫ শতাংশ জলাভূমি এলাকা। জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে জীববৈচিত্র্য যেভাবে সহায়তা করতে পারে, তেমনি কার্বন শোষণ এবং বাস্তুতন্ত্রের পরিষেবা প্রদানের মাধ্যমে অভিযোজন প্রক্রিয়ায়ও সহায়ক হতে পারে।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব দিন দিন বিশেষভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবজনিত কারণে বিশ্বব্যাপী হুমকির মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। দেশটির বনভূমি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে এবং তা থেকে পরিত্রাণের তেমন লক্ষণ তো দেখাই যাচ্ছে না, বরং নানা অপরিণামদর্শী ব্যবস্থা গ্রহণের কারণে উদ্ভিদ ও প্রাণী হুমকির মুখে। দেশটির বনভূমির পরিমাণ কমে যাওয়া জলবায়ু পরিস্থিতিকে আরো বিপদসংকুল করে তুলছে। অধিক জনসংখ্যার চাপে ভূমি ব্যবহারে অপরিকল্পিত পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন জীব তার আবাসস্থল হারাচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। এ দেশে অনিয়ন্ত্রিত দূষণ মাটি, পানি, বায়ুকে দিন দিন জীবের বসবাসের অনুপযোগী করে তুলছে। প্লাস্টিক দূষণ সারা দেশে বিস্তৃত হচ্ছে। ফলে মাটি হারাচ্ছে তার গুণাগুণ, তৈরি হচ্ছে জলাবদ্ধতা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিপদ ডেকে আনছে। এমন সমস্যা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোয় চলমান, কিন্তু সমস্যা থেকে উত্তরণে ব্যবস্থাপনা নেই বললেই চলে। জলবায়ু পরিবর্তন সমস্যার বিস্তার, জীববৈচিত্র্যের অবক্ষয় এবং দূষণ এভাবে চলতে থাকলে পুরো বিশ্ব অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখীন হবে। ধরিত্রী এবং এখানকার বসবাসকারীদের স্বার্থে সংকট থেকে পরিত্রাণের জন্য যেসব জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে সেগুলো সর্বসম্মতভাবে কার্যকর করা এখন অতি জরুরি।

ড. এএসএম সাইফুল্লাহ: অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

আরও