অনেকেরই স্মরণে থাকার কথা যে ২০০৭-০৮ সময়কার বৈশ্বিক আর্থিক সংকটে (জিএফসি) পৃথিবীর বৃহৎ ও অগ্রসর অর্থনীতির দেশগুলোর অনেকেরই টালমাটাল অবস্থা ছিল। কিন্তু সেই সময় একটি অনগ্রসর মামুলি অর্থনীতির দেশ হয়েও বাংলাদেশ সে পরিস্থিতি অনেকটা সহজভাবেই সামাল দিতে পেরেছিল। এত বড় যে মন্দা, যেটিকে ১৯৩০-এর বিশ্বমহামন্দার পর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে দেখা হয়, সেটি বাংলাদেরশের পক্ষে কীভাবে অত সহজে মোকাবেলা করা সম্ভব হয়েছিল, তা নিয়ে পরে বিস্তর আলাপ-আলোচনা ও ভালো মানের গবেষণাও হয়েছিল। দেখা গেছে, ওই সময়ে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ ও তৎপরতার চেয়ে বরং ব্যক্তি উদ্যোগ ও প্রচেষ্টাই অধিকতর কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়েছিল। আর সেক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল কৃষক তথা দেশের কৃষি খাত। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা তখন অনেকটা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই তুষ্ট চিত্তে বলতে বাধ্য হয়েছিলেন যে এ বাংলাদেশের নিরক্ষর স্বশিক্ষিত কৃষকরাই সেদিন দেশকে উল্লিখিত সংকটের হাত থেকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছিল।
- কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্য, পরিতাপ ও হতাশার বিষয়, অর্থনীতির এরূপ চরম দুঃসময়ে দেশ ও দেশের মানুষকে যারা অনেকটা পাহারা ও শুশ্রূষা দেয়ার মতো করে পরিপূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় বাঁচিয়ে রেখেছিল, এ শোষণবাদী রাষ্ট্র সেই কৃষকের কথা একেবারেই মনে রাখেনি। বরং সংকট চলাকালে ও সংকট কেটে যাওয়ার পর পর সংকট থেকে উত্তরণের নাম করে কৃষিবহির্ভূত বিভিন্ন খাতের সুবিধাবাদী উদ্যোক্তারাই অধিক হারে রাষ্ট্রীয় সমর্থন ও পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে। তারা রাষ্ট্রের কাছ থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছে। আর ক্রমাগত উপেক্ষা ও অবহেলার শিকার হতে হতে অনেকটাই ম্রিয়মাণ হয়ে পড়েছে পরিত্রাতা কৃষকের জীবন ও তার পেশাক্ষেত্র কৃষি।
- বস্তুত রাষ্ট্রের এরূপ অন্যায় ও অন্যায্য আচরণের কারণেই ২০০৭-০৮-এর অর্থনৈতিক সংকট পরবর্তী দেড় দশকের বাণিজ্য ও অর্থনীতি চরম লুণ্ঠন ও বৈষম্যের চারণভূমিতে পরিণত হয়েছিল। একই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদের মালিকানা মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের হাতে চলে গিয়েই তা সমাজে চরম বৈষম্যমূলক এক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল।
- এভাবে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে জড়িত খাতগুলোর প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শনের ধারা যাতে দেশে নতুন করে আবারো তৈরি না হয় সেটি এখনই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করি। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি যাতে সহসাই বড় ধরনের কোনো ঝুঁকিতে না পড়ে তা নিয়েও চিন্তাভাবনা করা উচিত। কিন্তু লক্ষ করা যাচ্ছে যে বিগত সরকার আমলের মতো এ সরকারের আমলেও কৃষি খাত রাষ্ট্রের কাছ থেকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব ও মনোযোগ আকর্ষণে ব্যর্থ হচ্ছে। একই ধরনের ঘটনা ঘটছে অন্যান্য এমন বেশকিছু খাতেও, যে খাতগুলোর সম্ভাব্য উপকারভোগীরা কৃষকের মতোই প্রভাব-প্রতিপত্তিবিহীন কিংবা অতি স্বল্প প্রভাব-প্রতিপত্তির অধিকারী। অথচ কৃষি, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, পল্লী অবকাঠামো, গ্রামীণ কর্মসংস্থানসহ এ খাতগুলোয় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
- কিন্তু সমস্যা হলো বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে খাতভিত্তিক সংস্কার, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, ক্ষণে ক্ষণে রাজপথে নামা বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ, সংখ্যালঘু ইস্যুতে আকস্মিক চাপ মোকাবেলা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্তৃক সময়ে সময়ে জারীকৃত ফরমান অনুসরণ, নির্বাচনের পথনকশা তৈরি ইত্যাদি নানা কাজে মাত্রাতিরিক্ত ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে। ফলে তাদের পক্ষে কৃষিসহ প্রত্যন্ত গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি মনোযোগ দেয়া একেবারেই সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের নিত্যদিনের ভরণপোষণ, সন্তানের লেখাপড়া, পরিবারের সদস্যদের ন্যূনতম জরুরি চিকিৎসাসেবা, সামাজিকতায় অংশগ্রহণ ইত্যাদি সবই ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমনি পরিস্থিতিতে উপরোক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি আশঙ্কিত সংকট থেকে দেশ ও দেশের অর্থনীতিকে কীভাবে বাঁচানো যায়, সে নিয়ে কিছু টেকসই উপায় অনুসন্ধান করা খুবই জরুরি। আর সেক্ষেত্রে কোনোরূপ তত্ত্বকথার মারপ্যাঁচে না গিয়ে সরাসরি কিছু পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাব এখানে তুলে ধরতে চাই।
- এক. সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টা মহোদয়ের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে বলি, কৃষি মন্ত্রণালয়টি একেবারেই ঠিকমতো চলছে না। অথচ দেশের সিংহভাগ মানুষের প্রধান নির্ভরতার ক্ষেত্রই হচ্ছে কৃষি। কৃষি উপদেষ্টা মহোদয় একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো অন্য একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার কারণেই হয়তো তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের কাজে পর্যাপ্ত সময় ও মনোযোগ দিতে পারছেন না। ফলে বহুসংখ্যক প্রতিষ্ঠান সংবলিত বিশালায়তন কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান ও সেসবের কাজগুলো যথাযথ তত্ত্বাবধান ও পরিধারণ না হওয়ার সংকটে ভুগছে। আর সেই সুযোগে নানা দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি সেখানে ক্রমেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে দায়িত্বহীনতা, গাফিলতি ও অদক্ষতাও। এসব খবরাখবরের কিছু কিছু মাঝে মাঝে গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হচ্ছে। বিএডিসি কর্তৃক সরবরাহকৃত পেঁয়াজবীজ থেকে চারা না গজানোর যে খবর সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, সেটি এ মন্ত্রণালয়ের চলমান বিপন্ন দশারই একটি নমুনা। এ ধরনের আরো অসংখ্য অনিয়ম ও অদক্ষতার ঘটনা পুরো কৃষি খাতকে এতটাই আচ্ছন্ন করে রেখেছে যে সহসা এসব কমিয়ে আনতে না পারলে (পুরোপুরি নির্মূলের আশা করা হচ্ছে না) দেশে খাদ্যোৎপাদন বড় ধরনের ঘাটতির মুখে পড়তে পারে। অথচ এ কৃষি খাত কীভাবে দেশকে ২০০৭-০৮ সময়ের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট থেকে দারুণভাবে বাঁচিয়ে দিয়েছিল, তা এ লেখার শুরুতেই উল্লেখ করা হয়েছে। অতএব প্রস্তাব হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার যেহেতু আরো বেশকিছু সময় দায়িত্বে থাকছে, সেহেতু বাকি সময়ের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য একজন স্বতন্ত্র ও দক্ষ উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হোক ও এরূপ অতি দুর্বল পরিচালনা সংবলিত আরো কিছু মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রেও ঘটানো যেতে পারে।
- দুই. গণস্বাক্ষরতা অভিযান ও ব্র্যাক শিক্ষা উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সর্বসাম্প্রতিক জরিপের ফলাফল জানাচ্ছে যে দেশের চলমান অস্থির পরিস্থিতির কারণে বিদ্যালয়গামী শিশু শিক্ষার্থীদের ৫৫ শতাংশই চরম আতঙ্কে ভুগছে এবং ৩৬ শতাংশ হারে শিশু বিদ্যালয়ে যেতে চাচ্ছে না ও পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। এ অস্থির পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া শুধু যে শিশুদের ওপরই পড়ছে তা নয়, একই সঙ্গে তা স্থান পাচ্ছে তরুণ-যুবা ও অন্যান্য নানা বয়সী মানুষের মধ্যেও। শিক্ষিত তরুণেরা এখন দেশ ছাড়ার জন্য যে যেদিকে পারছে ঊর্ধ্বশ্বাসে দিগ্বিদিক হয়ে ছুটছে। এমনকি নানা বিপদের ঝুঁকি আছে জেনেও পুরুষের পাশাপাশি নারী শ্রমিকেরাও এখন বর্ধিত সংখ্যায় বিদেশে চলে যাওয়ার জন্য হন্যে হয়ে সুযোগ খুঁজছে। মোটকথা, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে এ দেশ ও রাষ্ট্রের ওপর কেউই আর ভরসা রাখতে চাচ্ছে না। এমতাবস্থায় দেশকে যদি গুণগত জনসংখ্যা দিয়ে বাঁচাতে হয় তাহলে যেভাবেই হোক যত দ্রুত সম্ভব এ অস্থিরতা থেকে একে মুক্ত করতে হবে এবং তা করার একটি প্রধান উপায় হচ্ছে এখানে উল্লেখযোগ্য হারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ও সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত খাতগুলোর প্রতি রাষ্ট্রের মনোযোগ বৃদ্ধি করা।
- তিন. বিত্তবান শ্রেণীর প্রতি পক্ষপাতপূর্ণ যেসব রাষ্ট্রনীতির কারণে সমাজে সম্পদবৈষম্য ও আয়বৈষম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেসব নীতি ও সিদ্ধান্তকে যত দ্রুত সম্ভব গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বদলাতে হবে। এর মধ্যে কোনো কোনোটির জন্য আইন প্রণয়নের নিমিত্তে নয়া জাতীয় সংসদের অপেক্ষায় থাকার প্রয়োজন থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমেই সেটি করা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ বিশেষ বিশেষ খাতে নগদ ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান, কর ও শুল্ক ছাড়, খেলাপি ঋণ মওকুফকরণ, জনপ্রশাসনের সদস্যের মধ্যে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হারে সুবিধা বণ্টন ইত্যাদি অন্যায্যতা সাধারণ প্রশাসনিক আদেশ জারির মাধ্যমেই রহিত করা সম্ভব, যার কিছু কিছু গত চার মাসেই হয়ে যেতে পারত। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও গত চার মাসে যা হয়নি, আশা করব সামনের দিনগুলোয় তা হয়ে যাবে।
- চার. ওষুধ শিল্পে বাংলাদেশের আজকের যে সমৃদ্ধ অবস্থান (বাংলাদেশ এখন পৃথিবীর অন্যতম ওষুধ রফতানিকারক দেশ), সেটি আসলে জাতীয় ওষুধ নীতি ১৯৮২-এরই অবদান, যা প্রণীত হয়েছিল ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর উদ্যোগ ও নেতৃত্বে, সামরিক শাসনামলে। এ নীতির প্রণয়ন প্রমাণ করে যে সদিচ্ছা থাকলে একটি অনির্বাচিত সরকারের পক্ষেও অনেক ভালো কাজ করা সম্ভব। উল্লিখিত এ দৃষ্টান্তকে সামনে রেখে বলব, অন্তর্বর্তী সরকারের নানাবিধ যত ব্যস্ততাই থাকুক না কেন, দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় ওষুধ নীতির মতো দু-চারটি বড় মাপের কাজ যেন তারা অবশ্যই করে যান।
- পাঁচ. বাজারে অধিকাংশ জিনিসপত্রের দাম এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। নতুন ব্যবসায়ী-বাণিজ্য উপদেষ্টার স্বল্পকালীন কার্যপ্রবণতা দেখে মানুষ এরই মধ্যে বলতে শুরু করেছে যে বাজার স্থিতিশীল করার বিষয়ে তিনিও সম্ভবত পূর্ববর্তী আমলের বাণিজ্যমন্ত্রীদের মতো ব্যবসায়ীদের স্বার্থই দেখবেন। এরই মধ্যে তিনি বিশেষ পণ্যের দাম কেন বাড়াতে হলো, সে বিষয়ে ব্যবসায়ীদের পক্ষ হয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে ‘আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম বাড়ানো হয়েছে’। তৎকালীন মন্ত্রীরাও এসবকে মূল্যবৃদ্ধি না বলে এভাবে মূল্য সমন্বয়ই বলতেন। নতুন বাণিজ্য উপদেষ্টা মহোদয়ের এ ধরনের আচরণে দ্রব্যমূল্যের বিষয়ে মানুষের মধ্যে হতাশা আরো বাড়বে বলেই ধারণা করা চলে। এ অবস্থায় বিষয়টির প্রতি প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই যে মানুষ হতাশ হয়ে পড়লে কোনো সংস্কারই কাজে দেবে না। অতএব পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ সাধারণ জনগণের সমস্যাগুলোকে আরো গভীরভাবে দেখতে হবে।
- সমস্যা ও সুপারিশের তালিকা আরো দীর্ঘ করা যায়। কিন্তু এ মুহূর্তে সে দীর্ঘ তালিকার চেয়েও অধিক জরুরি সর্বাধিক জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর অগ্রাধিকারক্রম নির্ধারণ করে যত দ্রুত সম্ভব সেগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা। সব মিলিয়ে বলব, নানাবিধ ও নানামাত্রিক কর্মকাণ্ডের চাপে থাকা অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যস্ততার বিষয়টি অবশ্যই বোধগম্য। কিন্তু ব্যস্ততার অজুহাতে অর্থনীতির অধিকতর জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় ও ক্ষেত্রগুলো যদি উপেক্ষিত থাকে ও মনোযোগ হারায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত সেটি সরকারকেই সমস্যায় ফেলবে সবচেয়ে আগে। অতএব জনগণের স্বার্থে তো বটেই, সরকারের নিজের স্বার্থেও উল্লিখিত বিষয়গুলোর প্রতি আরো মনোযোগী হওয়া উচিত বলে মনে করি। বিশেষ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নেয়া সরকারকে মনে রাখতে হবে, বিশেষ পরিস্থিতির দায় ও দায়িত্বও বিশেষ রকমেরই হয়ে থাকে। আর সে ধরনের দায়িত্ব পালনে সম্মত হয়েই তারা এসব আসনের অধিষ্ঠান গ্রহণ করেছেন। ফলে এমনটি বলার কোনোই সুযোগ নেই যে ‘দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারলেই বেঁচে যাই’। অতএব যতক্ষণ দায়িত্বে আছেন ততক্ষণ মত, পথ, আদর্শ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের প্রয়োজন ও চাহিদার প্রতি সরকারকে দৃষ্টি দিতেই হবে। আর সে ক্ষেত্রে শুধু রাজধানী বা তৎসন্নিহিত এলাকার ঘটনা ও মানুষদের প্রতি দৃষ্টি দিলেই হবে না। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষক, দূর কারখানার শ্রমিক, দুর্গম পাহাড়ের আদিবাসী, সমুদ্র উপকূলের ভাসমান জেলে, বনভূমির অন্যায়লিপ্ত নিরুপায় কাঠুরে প্রভৃতি সবার চাহিদা ও প্রযোজনের দিকেই তাকাতে হবে। কিন্তু বিষয়টিতে ব্যাপক ঘাটতি আছে বলেই এ লেখা। অতএব এ বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারের নীতিনির্ধারণী ব্যক্তিরা যদি দয়া করে এতে উপস্থাপিত পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাবগুলোর প্রতি একবারের জন্য হলেও চোখ বোলান, তাহলে তাদের চিন্তার নিবদ্ধতা রাজধানী ও রাজভবন থেকে সরে কিছুক্ষণের জন্য হলেও সাধারণের মধ্যে ঠাঁই পাবে বলে আশা করা যায়।
আবু তাহের খান: সাবেক পরিচালক
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক), শিল্প মন্ত্রণালয়