ব্যাংক খাত

সংকটাপন্ন ব্যাংক পুনরুদ্ধার ও জনআস্থা পুনর্গঠন

বাংলাদেশ ব্যাংকেরও এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগ, পদোন্নতি ও বিশেষায়িত পদে পদায়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

দেশে বর্তমানে ব্যাংক খাত একটি কঠিন চ্যালেঞ্জিং সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক খাতে বিরাজমান এ অস্থিরতার কারণে ব্যাংক গ্রাহকদের আস্থার জায়গাটিও দোদুল্যমান অবস্থায় আছে। তাই এ সংকট কাটিয়ে উঠতে ও সংকটাপন্ন ব্যাংক পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

বস্তুত পেশাদার পরিচালনা, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকার থেকে অব্যাহত সহায়তা গ্রহণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ব্যাংক খাত সম্পর্কে জনমনে বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি তৈরি করা সম্ভব। যথাযথ নজরদারি ও তদারকির মাধ্যমে এ বিষয়গুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক খাতে সুশাসন জোরদার করা ও সংস্কারের পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে অর্থ উত্তোলন ও পরিশোধ করার ব্যবস্থাও যাতে সচল থাকে সেজন্য আপৎকালীন সহায়তা কার্যক্রমও চালু করা যেতে পারে।

মনে রাখা প্রয়োজন, ব্যাংকিং লাইসেন্স একটি প্রতিষ্ঠানকে জনগণের আমানত গ্রহণের অনুমতি প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বা ব্যাংকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সংরক্ষণের মধ্যে আবদ্ধ নয়। ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আরো অনেক দায়িত্ব ও কার্যক্রম সম্পৃক্ত থাকে। সে জায়গা থেকেই কারো ব্যাংকে বিনিয়োগ করার সক্ষমতা থাকলেই তিনি সে ব্যাংক পরিচালনার যোগ্য হয়ে যান না। একইভাবে ব্যাংকের মালিক-পৃষ্ঠপোষক কখনই আমানতকারীদের অর্থ নিজেদের সম্পদ হিসেবে ভাবার লাইসেন্স পেয়ে যান না। তেমনি ঋণ বিতরণ, নিয়োগ প্রক্রিয়া ও প্রতিবেদন তৈরিতে অনৈতিক প্রভাব চলমান রেখে শুধু ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক পরিবর্তন করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।

প্রতিটি সংকটাপন্ন ব্যাংকের প্রয়োজন তাদের লোন, প্রভিশন, মূলধন, নগদ অর্থের অবস্থান, জামানত ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দেয়া ঋণের ব্যাপারে নিজেদের নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করা। এর মাধ্যমে নগদ অর্থের সাময়িক ঘাটতি ও ব্যাপক আর্থিক লোকসানের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হবে এবং এ অবস্থা থেকে ব্যাংকটির আদৌ পুনরুদ্ধার সম্ভব কিনা সে সম্পর্কে ধারণা মিলবে। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকটি যদি টিকে থাকার কোনো উপায় না পায়, সেক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উচিত হবে আইনানুগভাবে ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার ভেতর যাওয়া।

আমার মতে, ব্যাংক খাতের এ সংকট মূলত ব্যাংকের নীতি ও বাস্তব পরিচালনার মধ্যে গুরুতর ব্যবধানই স্পষ্ট করে। সার্কুলার জারি করা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন সংগ্রহ করাই এখানে পর্যাপ্ত নয়। একজন যোগ্য পর্যবেক্ষক বা নিয়ন্ত্রকের উচিত হবে ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থান যাচাই করা, অপ্রকৃত তথ্যের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং সময়মতো সংশোধন নিশ্চিত করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকেরও এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। নিয়োগ, পদোন্নতি ও বিশেষায়িত পদে পদায়নের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা, সততা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা পৃষ্ঠপোষকতা যেন কোনোভাবেই পদমর্যাদা বা পদোন্নতি প্রাপ্তির নির্ধারক না হয়। এক্ষেত্রে আমার সুপারিশ হলো প্রতিটি সংকটাপন্ন ব্যাংকে একটি নিবেদিত নিয়ন্ত্রক গোষ্ঠী বা তত্ত্বাবধায়ক কমিটি থাকা উচিত। কমিটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবী বা পরামর্শক, যিনি কোনো সমস্যা চিহ্নিত হলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উত্থাপন করতে পারবেন। প্রযোজ্য আইন ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সব পরিচালক, ব্যবস্থাপক ও তত্ত্বাবধায়ককে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে আমার প্রস্তাব হলো প্রযোজ্য আইনে নয় সদস্যবিশিষ্ট একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা, যেখানে সবাই হবেন অনির্বাহী পরিচালক। এ পর্ষদে একজন চেয়ারম্যান, উপযুক্ত তিনজন শেয়ারহোল্ডার প্রতিনিধি এবং ছয়জন স্বতন্ত্র পেশাজীবী থাকবেন। পরিচালকদের ব্যাংকিং, ঋণ আদায়, অর্থায়ন, হিসাবরক্ষণ, আইন, প্রযুক্তি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিশেষ দক্ষতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে তাদের স্বাধীন কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক কমিটির কাজ যেন ব্যাহত না হয় এবং তৃতীয় পক্ষ যেন কোনোভাবে পুনরায় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান পরিচালনা পর্ষদকে নেতৃত্ব দেবেন, অন্যদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এক্ষেত্রে চেয়ারম্যানের পদকে কেবল সম্মানসূচক অথবা পারিশ্রমিকবিহীন স্বেচ্ছাসেবামূলক দায়িত্ব হিসেবে দেখা উচিত নয়। কেননা এ দায়িত্ব পালনের জন্য ব্যাংকিং বিষয়ে জ্ঞান, সততা, পর্যাপ্ত সময় এবং হিসাব ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করার সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। প্রযোজ্য আইন, স্বচ্ছ অনুমোদন প্রক্রিয়া ও তথ্য প্রকাশের শর্ত অনুসরণ করে উপযুক্ত পারিশ্রমিক নির্ধারণ করতে হবে। এটি যেমন চেয়ারম্যানের দায়িত্বের গভীরতাকে প্রতিফলিত করে, তেমনি তার স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও বজায় রাখতে সহায়তা করে।

ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে অবশ্যই কৌশলগত পরিকল্পনা, ঝুঁকির সীমা, পুনরুদ্ধার ও মূলধন পরিকল্পনা অনুমোদন করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম যথাযথভাবে তদারকি ও পর্যালোচনা করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককেও এসব বিষয়ে কার্যকর তদারকি ও নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে সরকারি অর্থায়ন ও মালিকানা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। কোনো পক্ষই যেন নিজেদের দায়িত্ব অন্য পক্ষের ওপর চাপিয়ে দেয়ার অনৈতিক সুযোগ নিতে না পারে সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

ম্যানেজমেন্টকেও লিখিতভাবে ক্ষমতা প্রদান করতে হবে এবং তাদের নগদ অর্থ পুনরুদ্ধার, নতুন ঋণ খেলাপি, তারল্য, ব্যয়, তহবিলের মার্জিন, টেকসই আয় ও মূলধন বিষয়ে তাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দিতে হবে। এসব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রগতি কতটুকু হলো তা প্রতি মাসে পর্যালোচনা করতে হবে এবং প্রতি ত্রৈমাসিকে আরো বিস্তারিতভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। মূলত ঋণ অবলোপন বা দ্রুত ঋণ সম্প্রসারণের মাধ্যমে শ্রেণীকৃত ঋণের অনুপাত কমানোকে ঋণ পুনরুদ্ধারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না।

বাস্তবতা হলো বছরের পর বছর ব্যাংক খাতে যে পরিমাণ ক্ষতি পুঞ্জীভূত হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতেও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে। এক্ষেত্রে আমার সুপারিশ হচ্ছে যেসব ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য আছে তাদের নিজেদের পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের জন্য প্রাথমিকভাবে পাঁচ বছর সময় দেয়া যেতে পারে। এজন্য তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী শর্তসাপেক্ষে সহায়তা প্রদান করতে হবে এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি বার্ষিক ভিত্তিতে সামগ্রিকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে এ সময়সীমা ১০ বছর পর্যন্তও বাড়ানো যেতে পারে, যদি তারা তাদের অগ্রগতি ও আর্থিক পুনরুদ্ধারের বিষয়ে দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য ভিত্তি তৈরি করতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে ব্যাংকগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সহায়তা পাওয়ার অধিকার অর্জন করবে। এক্ষেত্রে প্রতিটি তারল্য ঋণের ক্ষেত্রে ঋণটির নিজস্ব অপেক্ষাকৃত স্বল্পমেয়াদ ও পরিশোধের শর্তও নির্ধারণ করতে হবে।

বস্তুত নগদ অর্থের ঘাটতি এবং মূলধন ক্ষতির জন্য প্রয়োজন ভিন্ন ভিন্ন প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা। জরুরি তারল্য সহায়তা তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ পরিশোধে হয়তো সাহায্য করে কিন্তু এটি কোনোভাবেই হারানো মূলধনের বিকল্প নয়। মূলধন পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নির্ধারণ, পর্যাপ্ত প্রভিশন সংরক্ষণ, প্রকৃত ইকুইটি নিশ্চিত করা এবং টেকসই আয় অর্জন। সরকারি মূলধন বিনিয়োগের আগে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং যৌক্তিক ক্ষেত্রে মূল ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, এমন সম্পদ বিক্রির উদ্যোগ নিতে হবে। সরকারি বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ মূল্যায়ন, পরিচালনা ব্যবস্থার সংস্কার, আইনানুগভাবে ক্ষতির ভার বণ্টন এবং পরবর্তীকালে সরকারি বিনিয়োগ থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায় তার একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা। সাময়িকভাবে যেকোনো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শিথিল করা হলে তা আইনসম্মত উপায়ে করতে হবে এবং এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রকাশযোগ্য হতে হবে। দেউলিয়াত্ব আড়াল করা বা কৃত্রিমভাবে মূলধন সৃষ্টি করা যেন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শিথিল করার উদ্দেশ্য না হয়। যেকোনো আমানতকে ইকুইটিতে রূপান্তর করতে হলে অবশ্যই যথাযথভাবে আইন অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে পর্ষদ চাইলেই নিজের মতো করে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে না।

দৈনিক নগদ অর্থের ব্যবস্থাপনা, অর্থ পরিশোধের বিষয়ে বাস্তবসম্মত প্রতিশ্রুতি, আমানতকারীদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠ করা অত্যাবশ্যকীয়। স্বল্প ব্যয়ের আমানত, লেনদেন সেবা, রেমিট্যান্স, বাণিজ্য সেবা এবং বিদ্যমান নগদ অর্থ ও মূলধনের সীমার মধ্যে বিচক্ষণতার সঙ্গে আয় বাড়াতে হবে।

ঋণ আদায় ও পুনরুদ্ধার দলকে ঋণগ্রহীতা ও জামানত-সংক্রান্ত যাচাইকৃত নথি সংরক্ষণ করতে হবে। পরিশোধের সক্ষমতা রয়েছে এমন ঋণগ্রহীতাদের সক্ষমতা ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ পরিশোধের ভিত্তিতে ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দেয়া যেতে পারে। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি, প্রতারণা ও অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করতে হবে। পুনঃতফসিল, অবলোপন, পুনর্মূল্যায়ন ও সম্পদ হস্তান্তরের বিপরীতে প্রকৃত নগদ আদায়ের পরিমাণ প্রতিবেদনে আলাদাভাবে দেখাতে হবে। প্রকৃতপক্ষে ঋণ অবলোপনের মাধ্যমে কোনো নগদ অর্থ আদায় হয় না, আর সম্পদ হস্তান্তর করলেই তা অর্থনৈতিক ক্ষতি দূর করে না।

তাই নথিপত্র সুরক্ষিত রাখা, দৈনিক ভিত্তিতে নগদ অর্থের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিশ্বস্ততার সঙ্গে আর্থিক মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করে পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা অনুমোদন এবং শেষে যাচাইকৃত ফলাফল প্রকাশের লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। বারবার ব্যর্থতা, মিথ্যা প্রতিবেদন বা নতুন অনিয়ম দেখা দিলে আইনানুগ সংশোধনমূলক ব্যবস্থা বা ব্যাংক রেজল্যুশন শুরু করতে হবে।

আমানতকারীরা যখন তাদের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন, হিসাবপত্রে প্রকৃত আর্থিক অবস্থা প্রতিফলিত হবে এবং পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে বাস্তব ফল পাওয়া যাবে, তখনই জনআস্থা ফিরবে। পেশাদার পরিচালনা, শর্তসাপেক্ষে অব্যাহত সহায়তা এবং কার্যকর তদারকির সমন্বিত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি ব্যাংক ও তদারকি কর্তৃপক্ষ উভয়ের ক্ষেত্রেই জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

ফজলুর রহমান: চেয়ারম্যান, এবি ব্যাংক

আরও