বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫-৭৬ সাল ছিল একটা ক্রান্তিকাল। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে শেখ মুজিব গণতন্ত্র উচ্ছেদ করে বাকশাল গঠন করে। তার কয়েক মাসের মাথায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কিছু অফিসার শেখ মুজিবকে খুন করলে নতুন প্রেসিডেন্ট হয় শেখ খন্দকার মোশতাক আহমদ। ইতিহাসের ক্রাইম আর পানিশমেন্টের বাইরেও আমাদের জন্য বোঝা জরুরি, দেশের জন্য ওই ঘটনাগুলোর অর্থ কী।
বাংলাদেশের ইতিহাসের ক্রান্তিকাল বলতে সেই সময়টিকে আমরা বুঝব, যখন রাষ্ট্র ও সমাজের মৌলিক দিকনির্দেশনা একটি গুরুতর পরিবর্তনের মোড় নেয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময়টি বাংলাদেশের ইতিহাসে তেমনই এক ‘ক্রান্তিকাল’। এ সময়ে ক্ষমতার পটভূমিতে একের পর এক পরিবর্তন, সামরিক অভ্যুত্থান, পাল্টা অভ্যুত্থান এবং ব্যাপক রাজনৈতিক টানাপড়েন দেশকে এক অনিশ্চিয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছিল। এ সময়কালকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে, দেশীয় রাজনীতি, একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং বৈশ্বিক শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা জরুরি।
জামানার ইশারা: বাংলাদেশ বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপ নয়, সমকালের বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটেই তখনকার বাংলাদেশকে আমাদের বুঝতে হবে। সে কারণেই কোল্ড-ওয়ার এবং মার্ক্সবাদের জোয়ারে তখনকার বিশ্বের কয়েকটা ঘটনায়ও নজর দিতে হবে আমাদের; যেমন কম্বোডিয়ার পল পট, রোমানিয়ার চসেস্কু এবং পূর্ব ইউরোপের কমিউনিস্ট রাষ্ট্রগুলোর শাসন এবং ইন্ডিয়ায় ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থা জারি। বার্মায় জেনারেল নে উইন বাকশালের রোল মডেল প্রতিষ্ঠা করেন সমাজতন্ত্রের নামে একদলীয় শাসন কায়েম করার মাধ্যমে। ওদিকে পাকিস্তানেও তখন ভুট্টোর সঙ্গে মিলিটারির দ্বন্দ্ব বাড়ছে।
সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চীনে মাও-সেতুংয়ের কমিউনিস্ট বিপ্লব বহু রাজনীতিবিদের কাছেই নয়া দুনিয়ায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের তীব্র জবাব মনে হতে থাকে। আমাদের মওলানা ভাসানীও ছিলেন মাও-ভক্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়ন পূর্ব ইউরোপের যে দেশগুলো হিটলারের দখল থেকে মুক্ত করে সেসব দেশে কমিউনিস্টদের হাতে তারা ক্ষমতা দিয়ে যায়। বিপ্লব হয় কিউবায়, সারা দুনিয়ায় মস্ত নায়ক হিসেবে নাম ছড়িয়ে পড়ে চে গুয়েভারা আর ফিডেল ক্যাস্ট্রোর।
আমাদের খেয়াল করা দরকার যে কমিউনিজমের সে জোয়ারে ক্ষমতালোভীরা ষাট ও সত্তরের দশকে সমাজতন্ত্রকেই উছিলা হিসেবে ব্যবহার করত। ১৯৬২ সালের ২ মার্চ নে উইন একটি সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী উনুকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। এ অভ্যুত্থানের পর তিনি বার্মা সোশ্যালিস্ট প্রোগ্রাম পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন এবং"বার্মা ওয়ে টু সোশ্যালিজম নামে সমাজতান্ত্রিক মতাদর্শ প্রবর্তন করেন। তার শাসনামলে দেশটি প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা এবং একদলীয় শাসন ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত হয়, যা বার্মার অর্থনীতিতে মারাত্মক স্থবিরতা সৃষ্টি করেছিল। ১৩ বছর পর ১৯৭৫ সালে নে উইনের মডেলেই বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করেন শেখ মুজিব।
ইতিহাসের সিলসিলা: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবের পতন বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ার জন্য বিশেষ বার্তা বহন করেছিল। সেটা বুঝতে আমাদের নজর দিতে হবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের পক্ষে যারা যুদ্ধ করছিল, তারা অন্তত তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। এক. বাংলাদেশ সরকারের নিয়মিত সেনাবাহিনী, এরা ছিলেন জেনারেল ওসমানীর অধীনে। দুই. আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে না থাকা মার্ক্সবাদী বেশকিছু দলের কর্মী। তিন. ইন্ডিয়ার গোয়েন্দা দপ্তর র-এর তত্ত্বাবধানে গঠিত মুজিব বাহিনী। উল্টোদিকে হানাদার পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করছিল রাজাকার বাহিনী। জেনারেল টিক্কা খান আর নিয়াজি অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে রাজকার বাহিনী গঠন করে।
পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের কয়েকটা রাজনৈতিক দল পাকিস্তান মিলিটারিকে মদদ দিতে থাকে। উল্টাদিকে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের বদলে ইন্ডিয়ার স্বার্থ বড় করে দেখতে শুরু করে। আজাদ হায়দারাবাদের নিজামকে অনুসরণ করে অক্সিলারি ফোর্স হিসেবে ‘রাজাকার’ বাহিনী বানায় পাকিস্তান আর্মির টিক্কা খান এবং নিয়াজিরা। আফসোসের ব্যাপার, রাজাকার বাহিনীতে প্রধানত পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমান বাঙালিরাই নিযুক্ত হয়। খেয়াল করার ব্যাপার হলো হায়দারাবাদের নাগরিকদের বেশির ভাগ ছিল হিন্দু (৮৫ শতাংশ), সেখানে কোনো ইলেকশন হয়নি আর নিজামও ইলেকটেড ছিলেন না। শাসক অভিজাতরা ছিল প্রধানত মুসলমান এবং নাগরিকদের একটা বড় অংশ ইন্ডিয়ান ইউনিয়নে জয়েন করতে চাচ্ছিল এবং তাদের উসকে দিচ্ছিল নেহেরুর ইন্ডিয়া। নিজামকে দুর্বল করতে অর্থনৈতিক এবং সামরিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইন্ডিয়া। ল্যান্ড-লকড হওয়ায় ইন্ডিয়ার ভূখণ্ড পার হয়ে সাগরেও যাওয়ার উপায় ছিল না নিজামের হায়দারাবাদের। এ পরিপ্রেক্ষিতেই নিজাম রাজাকার বাহিনী গঠন করে।
কিন্তু পূর্ব পাকিস্তানের বেশির ভাগ নাগরিক মুসলমান। তারা ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগকে প্রতিনিধি বানিয়েছিল। ফলে হায়দারাবাদের মতোই পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকদের চেতনাকে স্রেফ ইন্ডিয়ার ফুসলানি হিসেবে দেখার উপায় ছিল না। কিন্তু ঠিক সেই কাজটাই করেছিল পাকিস্তান মিলিটারি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি পলিটিক্যাল পার্টি।
উল্টোদিকে নাগরিকদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের জনগণের আজাদির সংগ্রামকে স্রেফ ইন্ডিয়ার স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার বানিয়ে তোলে! তারা পাকিস্তান মিলিটারির রাজাকার বাহিনীর আদলে ইন্ডিয়ার পক্ষের ‘রাজাকার’ বাহিনী হিসেবে র-এর তত্ত্বাবধানে ‘মুজিব বাহিনী’ গড়ে তোলে। বেশুমার ডাকাতির বাইরেও এ মুজিব বাহিনী বাংলাদেশে ইন্ডিয়ার স্বার্থবিরোধী সব পলিটিক্যাল শক্তিকে খতম করা শুরু করে। বিভিন্ন বাম দলের সদস্য, যারা মুক্তিযুদ্ধ করছিল এবং পাকিস্তানপন্থী নাম দিয়ে এন্টি-ইন্ডিয়ান ইসলামী ভাবনার বিভিন্ন ব্যক্তিদেরও ধরে ধরে খুন করতে থাকে বলে কথিত আছে।
ইতিহাসের এ অধ্যায় পরে পুরোপুরি চাপা পড়ে যায় ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ নামে আওয়ামী ব্যবসার ধোঁয়ায়। তবে ওই খুন চলতে থাকে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও। সে লক্ষ্যে শেখ মুজিব একাত্তরের মুজিব বাহিনীকে রূপান্তরের মাধ্যমে রক্ষীবাহিনী গঠন করে। পাকিস্তানপন্থীরা তখন অনেকেই জেলে। বাকিরা গা ঢাকা দেয়ায় রক্ষীবাহিনীর টার্গেট হয়ে ওঠে মূলত মার্ক্সবাদী বিপ্লবীরা। সে সময়ের মার্ক্সবাদীদের খতম করা কেবল মুজিবের স্বার্থ ছিল না, ইন্ডিয়ার নকশাল-স্মৃতির কারণে বর্ডার এলাকায় ইন্ডিয়ার ভেতরে বিপ্লবী তৎপরতা বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় ইন্ডিয়ার ভাড়াটে হিসেবেও ওই খুনগুলো করা দরকারি হয়ে ওঠে।
ইতিহাসের পুলসিরাতের সামনে বাংলাদেশ: ১৯৭২-৭৫ সাল, এ সাড়ে তিন বছরের বাংলাদেশ এবং মুজিবের শাসন ভিন্ন এক আলোচনা। জাতীয় বিপ্লব এবং সংহতি দিবস নিয়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে শেখ মুজিবের শাসন উৎপাত এবং তারপর পাকিস্তান-ইন্ডিয়া-মার্ক্সবাদী বিপ্লব ইত্যাদি নিয়ে দেশে যে মস্ত টানাপড়েন তৈরি হয়, সেটিই আমাদের আলোচ্য।
১৫ আগস্ট শেখ মুজিব খুনের পরে আওয়ামী লীগ ২৪-এর আগস্টের মতোই পালিয়ে যায়। রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে সামনে চলে আসে দুটি গ্রুপ। একটি বিপ্লবী মার্ক্সবাদীরা, আরেকটি পাকিস্তানপন্থী ইসলামী শক্তির লোকজন। ওই দুটি রাজনৈতিক শক্তির ব্যাপারে ইন্ডিয়ার আপত্তি ছিল অনিবার্য। বাংলাদেশে পাকিস্তান পক্ষের রাজনৈতিক শক্তির আলামত যেমন ইন্ডিয়ার অস্বস্তির কারণ, তেমনি মার্ক্সবাদী শক্তি ইন্ডিয়ার বর্ডারে নকশালবাড়ি আন্দোলনকে আবার শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে ৩ নভেম্বর যখন খালেদ মোশাররফ অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াকে বন্দি করলে পতন হয় খন্দকার মোশতাক সরকারের। হাফ ছেড়ে বাঁচে ইন্ডিয়া। অভ্যুত্থানে খালেদ মোশাররফের পেছনে ইন্ডিয়া সরাসরি ইন্ধন দিয়েছিল কিনা, পরিষ্কার না হলেও অনেক রাজনৈতিক বোদ্ধাদের কাছে অভ্যুত্থানকে ইন্ডিয়াপন্থী বলেই মনে হয়। আর তখনই সক্রিয় হয় জাসদ এবং সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে জাসদের গোপন সংগঠন গণবাহিনী। নেতৃত্বে চলে আসেন কর্নেল তাহের। ৭ নভেম্বর মার্ক্সবাদী শক্তি কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীতে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। খুন হয় খালেদ মোশাররফসহ অসংখ্য অফিসার। বাংলাদেশ একটি মার্ক্সবাদী বিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে হাজির হয়।
এ ডামাডোলে সিপাহিদের তৎপরতায় মুক্তি পান সেনাপ্রধান জিয়া। তাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে কর্নেল তাহের জাসদের বিপ্লব ঘটানোর কাজে লাগাতে চায়। কিন্তু জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাসী, গণহত্যার বিপক্ষে, গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম যুদ্ধ শুরু করা জেনারেল জিয়ার পক্ষে জাসদের বিপ্লবে শরিক হওয়া ছিল অসম্ভব।
জাতীয় অস্তিত্বের নবায়ন: ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের সত্যিকার অর্থ নিহিত রয়েছে এ ঐতিহাসিক টানাপড়েনের কেন্দ্রে। এ দিনে বাংলাদেশ তিনটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিল।
প্রথমত, পতিত আওয়ামী লীগ এবং ইন্ডিয়ান প্রভাব থেকে মুক্তি: বাংলাদেশ ইন্ডিয়ান প্রভাবাধীন আওয়ামী লীগ (বা মুজিব বাহিনীর উত্তরসূরি) দ্বারা শাসিত হওয়া থেকে রক্ষা পেল। দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানপন্থী ভাবনার পুনর্বাসন থেকে মুক্তি: দেশকে নিছক ইন্ডিয়ার ষড়যন্ত্র এবং ১৯৭১ সালের একটি ঐতিহাসিক ভুল মনে করা পাকিস্তানপন্থী গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা চলে যাওয়া থেকে দেশ ও জাতি রক্ষা পায়। তৃতীয়ত, মার্ক্সবাদের খপ্পর থেকে মুক্তি: পূর্ব ইউরোপ বা উত্তর কোরিয়ার মতো মার্ক্সবাদী একনায়কতন্ত্রের খপ্পরে পতিত হওয়া থেকে বাংলাদেশ রক্ষা পেল।
জিয়া: বিপ্লব নয়, পুনর্গঠন
কর্নেল তাহের চেয়েছিলেন এক মার্ক্সবাদী ‘সামরিক সমাজতন্ত্র’। কিন্তু জিয়া চাইলেন রাষ্ট্রের স্থিতি, সংহতি ও স্বাধীনতা।
তিনি বিপ্লব নয়—পুনর্গঠন বেছে নিলেন। বিপ্লব মানে ধ্বংস, পুনর্গঠন মানে নির্মাণ। জিয়া জানতেন, বাংলাদেশ তখন আরেকটি বিপ্লবের ভার নিতে পারবে না। তিনি সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনলেন, রাষ্ট্রযন্ত্রকে স্থিতিশীল করলেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—‘বহুদলীয় গণতন্ত্র’ পুনঃপ্রবর্তন করলেন। জিয়ার রাজনীতির মেরুদণ্ড ছিল জাতীয় স্বাধীনতা, আত্মনির্ভর অর্থনীতি, এবং পররাষ্ট্রে ভারসাম্য। তিনি পশ্চিম ও পূর্ব—উভয়ের সাথেই কূটনৈতিক ভারসাম্য রাখলেন। মুসলিম বিশ্বে যোগ দিলেন আবার জাতিসংঘেও সক্রিয় ভূমিকা নিলেন। এ ভারসাম্যই বাংলাদেশের সার্বভৌম পরিচয়কে বাস্তব রূপ দিল।
শেষ কথা: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গভীর ও বিতর্কিত ক্রান্তিকালের প্রতীক। এ সময়টি ছিল দেশীয় গণতন্ত্রের ব্যর্থতা, সামরিক-রাজনৈতিক ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং শীতল যুদ্ধের আদর্শিক সংঘাতের ফল। ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড, ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান এবং ৭ নভেম্বরের পাল্টা অভ্যুত্থান—এ সবক’টি ঘটনাই ছিল এক অস্থিরতার ফল। ৭ নভেম্বর, এসব চরমপন্থার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে গণতন্ত্র ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের পক্ষেই সিপাহি-জনতার ঐক্যের মাধ্যমে একটি স্থিতিশীল পথ খুঁজে বের করার দিন। এ দিনটি সে ঐতিহাসিক সংগ্রামকে স্মরণ করিয়ে দেয়, যা বাংলাদেশকে যেকোনো এক চরমপন্থার দিকে অতি-হেলে পড়া থেকে বাঁচিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। এ কারণেই 'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' বাংলাদেশের ইতিহাসে 'ক্রান্তিকাল' হিসেবে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
সুলতান মাহমুদ তুষার
সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, কেন্দ্রীয় সংসদ