আলোকপাত

বাংলাদেশে নারীর কর্মহীনতার কারণ ও প্রতিকার

বাংলাদেশ অর্থনীতিতে কর্মহীনতা বহু দশক ধরেই একটি প্রবহমান সমস্যা হিসেবেই স্থিত রয়েছে। বেশকিছু বছর ধরেই বাংলাদেশ বেশ উঁচু মানের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কিন্তু তবু এ দেশের অর্থনীতি দেশের ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তিকে আত্মস্থ করতে পারেনি।

বাংলাদেশ অর্থনীতিতে কর্মহীনতা বহু দশক ধরেই একটি প্রবহমান সমস্যা হিসেবেই স্থিত রয়েছে। বেশকিছু বছর ধরেই বাংলাদেশ বেশ উঁচু মানের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কিন্তু তবু এ দেশের অর্থনীতি দেশের ক্রমবর্ধমান শ্রমশক্তিকে আত্মস্থ করতে পারেনি। সাম্প্রতিককালে অবস্থার আরো অবনতি ঘটেছে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি হার ৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ, কভিড অতিমারী সময়কাল বাদ দিলে গত ৩৪ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের নিম্নতম অর্জিত প্রবৃদ্ধি হার। কৃষি ও সেবা—যে দুই খাত থেকে বাংলাদেশ অর্থনীতির ৮৩ শতাংশ কর্মনিয়োজন আসে, সেই দুই খাতই প্রবৃদ্ধি-শ্লথতায় ভুগছে। সবটা মিলিয়ে বাংলাদেশের কর্মহীনতার চিত্রটি ততটা আশাপ্রদ নয়। আজ বাংলাদেশে ২৭ লাখ লোক কর্মহীন এবং দেশের বেকারত্বের হার প্রায় ৫ শতাংশের কাছাকাছি। বর্তমান অর্থবছরের প্রথমার্ধে ২০ লাখেরও বেশি কাজ বাংলাদেশ অর্থনীতিতে খোয়া গেছে। 

সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নারী কর্মহীনতার অবস্থা আরো সঙ্গিন। যদিও সরকারি ভাষ্যমতে, এ দেশের শ্রমশক্তিতে নারীর অংশগ্রহণের হার ৪১ শতাংশ, কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে যে আদতে এ হার হচ্ছে ১৯ শতাংশ। এর মানে হচ্ছে, বাংলাদেশে প্রতি ১০০ নারীর মধ্যে মাত্র ১৯ জন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যাপৃত আছে, যদিও সে সব কাজের সব ক’টিতে যে কর্মনিরাপত্তা আছে, তা নয়। খাতওয়ারি হিসেবে বাংলাদেশের মোট কর্মনিয়োজনের ৪৪ শতাংশ কৃষিতে ও ৩৮ শতাংশ সেবা খাতে। কৃষি খাতে কর্মনিয়োজিত মোট শ্রমশক্তির মধ্যে ২৬ শতাংশ নারী এবং ১৯ শতাংশ পুরুষ। সেবা খাতের জন্য সংশ্লিষ্ট সংখ্যাদ্বয় হচ্ছে ৩৫ ও ৬৬ শতাংশ।

বাংলাদেশে নারীদের বেকারত্বের প্রকৃত হার ১০ শতাংশ বলে প্রাক্কলিত হয়েছে, যদিও সরকারি ভাষ্যমতে, তা ৪ শতাংশ। তরুণ নারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২২ শতাংশ। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, যেভাবে বেকারত্বের হার সরকারিভাবে সংজ্ঞায়িত এবং নিরূপিত হয়, তাতে যে উপাত্ত পাওয়া যায়, তা প্রকৃত অবস্থার প্রতিফলন নয়। সুতরাং নারীদের মাঝে প্রকৃত বেকারত্বের হার দেয় সরকারি উপাত্তের চেয়ে অনেক বেশি। দেশের বাইরে কর্মনিয়োজিত বাংলাদেশী নারী শ্রমিকদের সংখ্যা বেশ কমে এসেছে। ২০২২ সালে এ সংখ্যা ছিল আট হাজার, চলতি বছরে সেটা এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে তরুণ নারীদের দুই-তৃতীয়াংশ কর্মে, শিক্ষায় কিংবা প্রশিক্ষণে রত নয়। 

এছাড়া বাংলাদেশে কর্মে নিয়োজিত নারীদের বেশিরভাগই নাজুক কাজে রত, যেসব কাজে উৎপাদনশীলতা এবং আয় দুটিই কম। বর্তমান অর্থবছরের প্রথমার্ধে এ অর্থনীতিতে ২০ লাখ কাজ খোয়া গেছে, যার ৮৬ শতাংশই মহিলা। সুতরাং নারীদের কর্মনিয়োজন অবস্থা নাজুকই রয়ে গেছে। কর্মে যেসব নারী নিয়োজিত আছে, তাদের মাত্র ৩ শতাংশ অবসর ভাতা কিংবা তাদের মালিকদের মাধ্যমে অবসর সুবিধা পান।

বাংলাদেশে নারী কর্মহীনতার কারণ বিবিধ—তার কিছু অর্থনৈতিক, কিছু সামাজিক, কিছু আবার সাংস্কৃতিক। যেমন বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নিয়মানুসারে নারীদের গৃহ অভ্যন্তরে কাজ করার কথা। সুতরাং এটা কোনো আশ্চর্যজনক ঘটনা নয় যে এ দেশের ফসল উৎপাদন-পরবর্তী কাজের ৮০ ভাগই মেয়েরা করে। তাছাড়া যেহেতু নারীদের কৃষিজমিতে মালিকানা অত্যন্ত সীমিত, তাই তারা সাধারণত প্রত্যক্ষভাবে ফসল উৎপাদনের কাজে অংশ নেন না—না মালিক-কৃষক হিসেবে, না বর্গাচাষী হিসেবে। যেহেতু মহিলাদের ঘরের ভেতরেই কাজ করার নিয়ম, তাই তারা কুটির শিল্পেও সক্রিয়। এ দেশের পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের কারণে ঘরের বেশির ভাগ মজুরিবিহীন সেবাকর্ম মহিলারাই করে থাকেন। তাদের এ কাজ জাতীয় আয় কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। যেহেতু সমাজের মজুরিবিহীন কাজের বিরাট অংশই নারীরা বহন করে থাকেন, যার ফলে তাদের মজুরিসম্পন্ন কাজের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। 

স্ব-কর্মনিয়োজনেও নারীদের অংশগ্রহণ বেশি। কিন্তু এর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারীরা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতেই উল্লেখযোগ্য হারে নিয়োজিত থাকে। যেকোনো বিপত্তিতেই এসব কর্মকাণ্ডের ভঙ্গুর হয়ে পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই অর্থনৈতিক, সামাজিক, বা রাজনৈতিক বিপত্তি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ শ্রমবাজারে যখন বিপদ ঘটায়, তখন নারীরাই বেশি করে সেই বিপত্তি বা দুর্যোগের শিকার হন। তাছাড়া স্বনিয়োজিত নারী উদ্যোক্তাদের একটি বড় অন্তরায় হচ্ছে ঋণ অপ্রাপ্তি। যেহেতু তাদের ঋণপ্রাপ্তি যোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, তাই আনুষ্ঠানিক ব্যাংক খাত নারীদের ঋণ দিতে উৎসাহী হয় না।

তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতা বাংলাদেশের শ্রমবাজারে নারীদের বেশ অসুবিধাজনক অবস্থায় ফেলে দেয়। এ দেশের ৮৬ শতাংশ পুরুষ মুঠোফোনের মালিক, সেখানে নারীদের জন্য সংশ্লিষ্ট সংখ্যাটি হচ্ছে ৬১ শতাংশ। মাত্র ১৬ শতাংশ মহিলা আন্তঃর্যোগ ব্যবহার করেন, যা পুরুষ ব্যবহারকারীদের ৩৩ শতাংশ অনুপাতের অর্ধেকের চেয়েও কম। উচ্চমানের তথ্যপ্রযুক্তি সেবায় মহিলাদের অভিগমন নিতান্ত কম। এর একাধিক কারণ আছে। যেমন মেয়েদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি যে কতটা দরকার এবং উপকারী, সে ব্যাপারে সচেতনতার অভাব, সাংস্কৃতিক বিধিনিষেধ, মেয়েদের জন্য আন্তর্যোগ অনৈতিক এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি ইত্যাদি। উন্নততর কাজের জন্য মেয়েদের সক্ষমতা বর্ধনের ক্ষেত্রে যে সত্যটি মনে রাখা দরকার, সেটি হচ্ছে, যদিও দেশের মেয়েরা অনেক বেশি সংখ্যায় মাধ্যমিক ও উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে বলে বাংলাদেশ অবশ্যই গর্ব করতে পারে, কিন্তু এসব মেয়ের মাত্র ৮ শতাংশ বিজ্ঞান বিভাগগুলোয় ও ২ শতাংশেরও কম মেয়ে প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিষয়গুলোয় পড়াশোনা করে। সুতরাং বাংলাদেশের মেয়েরা সাধারণত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত ইত্যাদি বিষয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। কিন্তু বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কাজের জন্য এসব বিষয়ে ব্যুৎপত্তি ভীষণভাবে দরকার। 

এসবের পরিপ্রেক্ষিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশে নারীদের কর্মহীনতা দূর করতে কী কী করা যেতে পারে। এ প্রশ্নের জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে তিনটা পর্যবেক্ষণ গুরুত্ববহ। প্রথমত, বিচ্ছিন্নভাবে আলাদা আলাদা ব্যবস্থার মাধ্যমে নারী বেকারত্ব সমস্যা সমাধান করা যাবে না, এর জন্য সার্বিক সামগ্রিক একটি ব্যবস্থা কাঠামো প্রয়োজন হবে। দ্বিতীয়ত, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক নানা কারণ নারীদের কর্মহীনতার পেছনে কাজ করে। সুতরাং এ সমস্যা সমাধানের জন্য এর প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃতীয়ত, নারী কর্মহীনতা মোকাবেলার পরিকল্পনাকে দেশের সামগ্রিক পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং এর সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ হতে হবে। এ সবকিছুর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের নারী কর্মহীনতার সমস্যা সমাধানে নিম্নোক্ত ব্যবস্থাগুলো ভাবা যেতে পারে।

এক. নারী শিক্ষার বিস্তার একান্ত অপরিহার্য। এটা শুধু যে নারীর সক্ষমতা প্রসারণের জন্য দরকার তা-ই নয়, এ বিস্তার নারী শিক্ষা এবং নারী কর্মনিয়োজনের গুরুত্ব বোঝানোর সপক্ষে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। নারী শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়ের ওপর জোর দেয়া দরকার। প্রথমত, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের মতো বিষয়গুলোয় মেয়েদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং দ্বিতীয়ত, মেয়েদের জন্য নানা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, যাতে তারা তাদের জ্ঞান ও দক্ষতাকে আরো ঋদ্ধ করতে পারে, সাম্প্রতিক করতে পারে। যেসব মহিলা কাজের জন্য দেশের বাইরে যাবেন, তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শিক্ষাও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হতে পারে।

২. মহিলাদের জন্য আরো কাজের ক্ষেত্র এবং সুযোগ প্রসারিত করতে হবে। এসব সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তাদেরকে যথাযথ প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে হবে। শুধু বেতন এবং কাজের শর্ত এ প্রণোদনা কাঠামোর অংশ হবে না; মেয়েদের জন্য অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো, যেমন মাতৃত্বকালীন ছুটি, কাজের জায়গায় শিশু পরিচর্যার সুবিধা ইত্যাদিও এ অনুপ্রাণনার অংশ হবে। কাজে যাওয়ার পথে, কাজের জায়গায় নারীদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা কোনো রকমের হয়রানি বা নিপীড়নের শিকার না হয়। কাজসম্পৃক্ত এবং কর্মবহির্ভূত বিষয়গুলোয়ও নারী শ্রমিকদের সমঅধিকার ও সমান সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ করা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। সামগ্রিক একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে বৈদেশিক কর্মনিয়োজনের সুযোগ বাড়ানো জরুরি।

৩. মহিলাদের স্ব-কর্মনিয়োজনের জন্য একটি যথার্থ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এর জন্য মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা প্রদান, ভূমিসহ সব সম্পত্তিতে নারীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ, অর্থনীতির অনানুষ্ঠানিক খাতের জন্য একটি আইনগত ও নিয়ন্ত্রণগত কাঠামো গঠন করতে হবে। মহিলা উদ্যোক্তাদের কাছে প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তি ও অন্যান্য উৎপাদন উপকরণ লভ্য করে দিতে হবে, যাতে মহিলা মালিকানাধীন বা মহিলা পরিচালিত কারখানাগুলো উন্নতি করতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংখ্যা সাক্ষরতা, আয়-ব্যয়ের হিসাব সম্পর্কে জ্ঞান নারী উদ্যোক্তাদের উপকারে আসবে। সামষ্টিক পর্যায়ে নারী অভিমুখীন বাজেট তৈরি হলে নারী উদ্যোক্তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সম্পদ পৌঁছে দেয়া সহজতর হবে।

চার, নারী নিয়োজিত কর্মের নাজুকতা হ্রাস করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক। ‘সবার শেষে নারীদের কাজে নিয়োগ করা হবে এবং সবার আগে তাদের ছাঁটাই করা হবে’—এ চিরাচরিত বিধান পরিত্যাজ্য। অর্থনীতির নাজুক সময়সহ অন্যান্য ভঙ্গুর সময়ে নারীদের কাজের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা কাঠামো থাকা দরকার। তাদের মাতৃত্বকালীন ছুটির কারণে নারীর কর্ম-উন্নয়ন পথযাত্রায় শাস্তিমূলক বা আপসমূলক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া পুরুষ কর্মীদের মতো নারীদেরও অবসর ভাতা ও অবসরকালীন অন্যান্য সুবিধার ব্যবস্থা থাকতে হবে।

৫. তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবে নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এর জন্য নারীদের কাছে প্রয়োজনীয় পন্থা লভ্য করতে হবে, তাদের তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা বাড়ানোর জন্য নীতিমালা গ্রহণ করতে হবে যাতে তারা সফল হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধাগুলো মহিলাদের কাছে লভ্য করে দেয়াই যথেষ্ট নয়, এ প্রযুক্তি ব্যবহারে মেয়েদের ব্যাপারে যেসব নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি আছে, তারও অপসারণ অপরিহার্য। মেয়েদের তথ্যপ্রযুক্তি সংযোগের যেসব অন্তরায় রয়েছে, সেগুলোর প্রতিকার এবং সেই সঙ্গে এ প্রযুক্তিতে মেয়েদের দক্ষতা বাড়ানো ভিন্ন বর্তমান কর্মজগতে মেয়েদের সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। 

৬. নারী কর্মনিয়োজনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভাজিত উপাত্ত সংগ্রহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যেমন প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের কত অংশ মহিলা উদ্যোক্তাদের কাছে যায়। নীতিমালা প্রণয়নে এ-জাতীয় উপাত্তের গুরুত্ব অপরিসীম। সেই সঙ্গে গৃহ অভ্যন্তরে মহিলাদের মজুরিবিহীন কাজের স্বীকৃতিসহ তার আর্থিক মূল্য নিরূপণ এবং জাতীয় আয়ে তার অন্তর্ভুক্তি অবিলম্বে নিশ্চিত করা দরকার।

৭. আমাদের সমাজে নানা ধরনের সামাজিক মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে যা নারী কর্মনিয়োজনের পরিপন্থী, বিশেষত ঘরের বাইরের কাজ বিষয়ে, কিংবা নারীদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার-সংক্রান্ত। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এ ব্যাপারগুলো নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে পিতৃতান্ত্রিকতা একটা বড় ভূমিকা পালন করে। অর্থনীতি-বহির্ভূত এসব অন্তরায় সামাজিক শিক্ষা, সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে দূর করতে হবে।

সেলিম জাহান: ভূতপূর্ব পরিচালক, মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন দপ্তর এবং দারিদ্র্য বিমোচন বিভাগ, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র

আরও