তিনি ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহাম থেকে ফাইন্যান্স ও অ্যাকাউন্টিংয়ে ডিসটিংকশনসহ মাস্টার অব সায়েন্স (এমএসসি) ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রথম বাজেট, বাজেটের অগ্রাধিকার খাত, অর্থায়ন, সরকারের ব্যয় দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের প্রক্রিয়া নিয়ে সম্প্রতি তিনি কথা বলেন বণিক বার্তার সঙ্গে।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম
প্রতি অর্থবছরেই আগের বছরের তুলনায় বড় আকারের বাজেট প্রণয়নের প্রবণতা দেখা যায়। নির্বাচিত নতুন সরকারের প্রথম বাজেট কেমন হওয়া উচিত এবং কোন খাতগুলো অগ্রাধিকার পাওয়া প্রয়োজন?
একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, ফলে অতীতের মতো জনতুষ্টিমূলক ও অবাস্তব বাজেট প্রণয়নের পরিবর্তে বাস্তবসম্মত, জনমুখী এবং কাঠামোগত সক্ষমতানির্ভর বাজেট প্রত্যাশিত। সাধারণত অতীতের বাজেটগুলোতে দেখা গেছে, বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও কাঠামোগত দুর্বলতাগুলো বিবেচনায় না নিয়ে শুধু পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১০, ১৫ কিংবা ২০ শতাংশ বড় আকারের বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ পরিচালন ব্যয় ছাড়া উন্নয়ন বা মূলধনি খাতে কোনো বছরই ৭০ শতাংশের বেশি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
দেশে রাজস্ব আহরণের পরিসর এখনো সীমিত। তার পরও বাজেট প্রণয়নের সময় উচ্চাভিলাষী রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। জানা গেছে, এবার বাজেটের আকার ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি হতে পারে। অর্থাৎ আগের বাজেটের তুলনায় বড় বাজেট প্রণয়নের পুরনো প্রবণতাই আবারো লক্ষ করা যাচ্ছে। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচিত একটি সরকারের প্রথম বাজেটের ক্ষেত্রে এমন প্রবণতা যথাযথ বলে মনে হয় না। সামষ্টিক ও ব্যষ্টিক অর্থনীতির বাস্তবতা, বাজেট বাস্তবায়ন সক্ষমতা, রাজস্ব আহরণ ক্ষমতা, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের বাস্তবসম্মত প্রাক্কলন এবং নির্বাচনী ইশতাহারের অঙ্গীকারগুলো বিবেচনায় নিয়ে বাজেটটি আরো বাস্তবভিত্তিক হওয়া উচিত।
এবারের বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন। সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতাহার অনুযায়ী এরই মধ্যে কিছু উদ্যোগ শুরু করেছে। যেমন ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে। তবে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বর্তমানে শতাধিক কর্মসূচি চলমান রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে ২০-২৫টি মন্ত্রণালয় যুক্ত। এসব কর্মসূচির প্রশাসনিক ব্যয় ও অপচয় অত্যধিক। ফলে যথাযথ সমীক্ষা পরিচালনা, কাঠামোগত পুনর্বিন্যাস এবং অর্থায়ন সক্ষমতা পর্যালোচনা করে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা অধিক যুক্তিযুক্ত হতো।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও কাঠামোগত সংকট রয়েছে। বর্তমানে কার্যকর স্থানীয় সরকার কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক নেতৃত্ব জনস্বার্থে কতটা দক্ষতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এজন্য এবারের বাজেটে জনতুষ্টির চেয়ে বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন। সরকারের বড় শক্তি হচ্ছে জনসমর্থন। তাই গতানুগতিক ধারা থেকে বেরিয়ে আরো কৌশলী ও বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়নের সুযোগ ছিল বলে আমি মনে করি।
প্রতি বাজেটেই বড় আকারের রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বড় অংকের ঘাটতি থেকে যায়। গত অর্থবছরের প্রথম নয় মাসেই প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়েছে। কেন আমরা রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারি না?
ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণ বৈশ্বিক মানদণ্ডে সর্বনিম্ন দেশগুলোর কাতারে। এমনকি এশিয়ার অনেক দেশের তুলনাতেও আমাদের রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। একসময় কর-জিডিপি অনুপাত ৯ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছিল। বর্তমানে তা ৬-৭ শতাংশে নেমে এসেছে। বাস্তবতাবিবর্জিত বড় বাজেটের সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতেই প্রায়ই অবাস্তব রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, যা কোনো বছরই অর্জিত হয়নি।
লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে পরিচালন ব্যয় কমানো সম্ভব হয় না। ফলে সরকারকে ব্যাংক খাত কিংবা সঞ্চয়পত্র থেকে অতিরিক্ত ঋণ নিতে হয়। এতে সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক চাপ তৈরি হয়।
রাজস্ব আয় না বাড়ার অন্যতম কারণ হলো আমরা কার্যকরভাবে করজাল সম্প্রসারণ করতে পারিনি। কর কাঠামো সংস্কারেও পিছিয়ে রয়েছি। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে রাজস্ব বিভাগে ডিজিটালাইজেশনের কিছু উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে, অতীতে কর ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও ডিজিটালাইজেশন খুব একটা বৈজ্ঞানিক ও কৌশলগতভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এনবিআরকে দুটি অংশে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, পরে নির্বাচিত সরকার এসে তা বাতিল করে। এর ফলে প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তার প্রভাব কর আহরণেও পড়ে।
কর প্রশাসনে মানবিক উপস্থিতি বা ‘হিউম্যান ইন্টারফেস’ কমিয়ে ডিজিটালাইজেশনে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষত যারা এরই মধ্যে কর দিচ্ছেন, তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়িয়ে নতুন করদাতাকে করজালের আওতায় আনার দিকে মনোযোগী হতে হবে। শুধু অফিসকেন্দ্রিক কার্যক্রমের মাধ্যমে করজাল সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। বরং করদাতাদের আয়-ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত ডিজিটাল প্লাটফর্মে যুক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি পেতে পারে।
আমাদের বাজেটের বড় অংশ পরিচালন ব্যয়। সরকারের ব্যয় দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাজেটের অর্থ ব্যয় হয়, সেসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক সংস্কার হয়নি। অথচ এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনের যুগ। ফলে প্রশাসনিক কাঠামো ঢেলে সাজানোর প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে। কিছু বিভাগ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা যেতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে জনবল পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন রয়েছে।
অতীতে একাধিক জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন গঠন হয়েছিল এবং সেসব কমিশনের প্রতিবেদনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ রয়েছে। নতুন কমিশন গঠনের পরিবর্তে বিদ্যমান প্রতিবেদনগুলো পর্যালোচনা করে টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস করা যেতে পারে।
সরকারি ব্যয়ের দুটি ধারা রয়েছে—উন্নয়ন ব্যয় ও রাজস্ব ব্যয়। কিন্তু এ দুই ব্যয়ের অনুমোদন ও ব্যবস্থাপনা পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। উন্নয়ন ব্যয় পরিকল্পনা কমিশনকেন্দ্রিক, আর রাজস্ব ব্যয় অর্থ বিভাগকেন্দ্রিক। এ দুই ধারার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে অবকাঠামো নির্মিত হলেও প্রয়োজনীয় জনবল, পরিচালন ব্যয় ও আনুষঙ্গিক সুবিধা নিশ্চিত করা যায় না। ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বহু অবকাঠামো ব্যবহার উপযোগী হয় না এবং অর্থের অপচয় ঘটে।
এজন্য ব্যয় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উন্নয়ন ও রাজস্ব ব্যয়ের বিভাজন কমিয়ে একীভূত বাজেট ব্যবস্থাপনার দিকে যেতে হবে। আমার মতে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) নির্ভর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। পরিকল্পনা কমিশন কৌশলগত পরিকল্পনার দায়িত্ব পালন করবে এবং উন্নয়ন ও রাজস্ব ব্যয় সমন্বিতভাবে একক বাজেট কাঠামোর আওতায় আনা হবে। পার্শ্ববর্তী ভারত এরই মধ্যে পরিকল্পনা কমিশন বিলুপ্ত করে নীতি আয়োগ গঠন করেছে এবং ইতিবাচক ফলও পাচ্ছে।
প্রকল্প পরিচালক বা পিডি-নির্ভর ব্যবস্থাপনাও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রশাসনিক বদলির কারণে অনেক প্রকল্প পরিচালক দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্প তদারক করতে পারেন না। ফলে প্রকল্পগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মূল কাঠামো থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ কারণে পিডি কনসেপ্ট পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
একীভূত বাজেট প্রবর্তিত হলে প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি জনপ্রশাসনের ভূমিকা কেন্দ্রীয় সরকার ও স্থানীয় সরকার—দুই স্তরে পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন।
সংবিধানের ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদের আলোকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে যথাযথভাবে ক্ষমতায়িত করা গেলে স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক পরিকল্পনা, বাজেট ও ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেটের আওতায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যয় পরিচালিত হলেও এর কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহি কাঠামো গড়ে ওঠেনি। এজন্য স্বাধীন স্থানীয় সরকার কমিশন গঠনের বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া উচিত।
মোদ্দা কথা, ‘ফাইন্যান্স’, ‘ফাংশন’ ও ‘ফাংশনারি’—তিন ‘এফ’ স্থানীয় সরকারের কাছে ন্যস্ত করতে হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব ও উন্নয়ন বাজেটকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে পঞ্চবার্ষিক বা মধ্যমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাজেট বাস্তবায়নের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
সরকার তার ইশতাহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন ওয়েলফেয়ার কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এগুলো অর্থনীতিতে কী ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং অর্থায়নের প্রধান চ্যালেঞ্জ কোথায়?
এসব উদ্যোগ মূলত সামাজিক রূপান্তরমূলক কর্মসূচি। দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছলে স্বাভাবিকভাবেই অর্থনীতিতে এর বহুমাত্রিক ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, সঠিক উপকারভোগী চিহ্নিত করা এবং নিশ্চিত করা যে প্রকৃত দাবিদাররাই সুবিধা পাচ্ছেন।
এক্ষেত্রে যথোপযুক্ত প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্যই শুরুতে বলেছিলাম, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় বিদ্যমান স্কিমগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। বর্তমান সরকার কিছু উদ্যোগ পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করছে। সেখান থেকে প্রাপ্ত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে ভুলত্রুটি সংশোধন করে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হবে।
মধ্যমেয়াদে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলোকে জীবনচক্রভিত্তিক কাঠামোয় পুনর্বিন্যাস করা দরকার। প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাকে ২০-২৫টি মন্ত্রণালয়ের আওতায় ছড়িয়ে না রেখে একটি স্বতন্ত্র ও পেশাদার প্রতিষ্ঠান গঠন করা যেতে পারে। এতে প্রশাসনিক ব্যয় কমবে এবং সাশ্রয়কৃত অর্থ উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়াতে ব্যয় করা সম্ভব হবে।
এ প্রতিষ্ঠান একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল উপকারভোগী ডেটাবেজ পরিচালনা ও নিয়মিত হালনাগাদ করবে, যাতে ডুপ্লিকেশন, ভুল টার্গেটিং কিংবা ‘ডাবল ডিপিং’—অর্থাৎ একই ব্যক্তি একাধিক কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ—রোধ করা যায়। এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা জরুরি। জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে এসব কর্মসূচি পরিচালনার কার্যকর বিকল্প নেই।
অর্থায়ন এখানে বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি সামাজিক সুরক্ষা খাতেও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কিন্তু রাজস্ব আহরণে আমরা এখনো আন্তর্জাতিক মান তো নয়ই, প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছাকাছিও পৌঁছতে পারিনি। ফলে আর্থিক চাপ বাড়বে এবং ব্যয় সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়বে।
অর্থায়ন সক্ষমতা বাড়াতে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ নিতে হলে ট্রেজারি বিল, বন্ড কিংবা সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরতা বাড়বে। বর্তমানে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ৬ শতাংশের আশপাশে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। অন্যদিকে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও খুব আশাব্যঞ্জক নয়।
অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকার অতিরিক্ত ঋণ নিলে ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’ তৈরি হবে। অর্থাৎ বেসরকারি খাতের ঋণপ্রাপ্তি কমবে এবং ঋণের ব্যয় বাড়বে। এতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে যেতে পারে। আবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অতিরিক্ত অর্থ সরবরাহের মাধ্যমে সরকারের অর্থায়ন সক্ষমতা বাড়ানো হলে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠতে পারে।
দেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ রয়েছে। খেলাপি ঋণ, মন্দ ঋণ ও অর্থ পাচার নিয়ে উদ্বেগ আছে। আপনার মতে নতুন সরকারের কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত?
বর্তমানে দেশে ব্যাংকের সংখ্যা ষাটেরও বেশি। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী সংসদে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আর্থিক খাত সংস্কারে কিছু অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। আমি মনে করি, এটি দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা থেকে আর্থিক খাতকে বের করে আনতে কাঠামোগত কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে জনকল্যাণমুখী সংস্কারের ইঙ্গিত হতে পারে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার বিবেচনায় এতসংখ্যক ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। ফলে একীভূতকরণ, অবসায়ন কিংবা কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে টেকসই সংস্কার প্রয়োজন হতে পারে।
ব্যাংকের সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ায় অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত দক্ষ ও পেশাদার ব্যাংকার ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যাংকের মালিকানা কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ব্যাংকিং এমন একটি খাত, যেখানে উদ্যোক্তারা সীমিত মূলধন বিনিয়োগ করে জনগণের বিপুল আমানত পরিচালনা করেন। ফলে এটি সাধারণ ব্যবসার মতো নয়; এখানে মালিকরা প্রকৃত অর্থে জনগণের আমানতের তত্ত্বাবধায়ক।
এ কারণে ব্যাংকের মালিকানা, নীতিনির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে জবাবদিহিমূলক ও সুস্পষ্ট বিভাজন থাকা জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবনা দিয়েছে, যেখানে পরিচালনা পর্ষদে স্বাধীন পরিচালকের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। জন-আস্থা পুনরুদ্ধারের স্বার্থে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রেও উপযুক্ত যোগ্যতা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ‘ফিট অ্যান্ড প্রপার’ মানদণ্ড কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একই ধরনের নীতি ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা প্রয়োজন। এসব প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা উচিত।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, জনতা ব্যাংক পিএলসি, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ও রূপালী ব্যাংক পিএলসি দুই যুগ আগে পিএলসিতে রূপান্তরিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল কোম্পানি আইনের আওতায় পরিচালনা এবং ধীরে ধীরে জনগণের জন্য শেয়ার উন্মুক্ত করা। কিন্তু বাস্তবে একমাত্র রূপালী ব্যাংকের সামান্য অংশ ছাড়া অন্য কোনো ব্যাংকের শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি।
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর তদারকি বর্তমানে বিভক্ত—একদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক, অন্যদিকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এ দ্বৈত তদারকি নীতিগত বিভ্রান্তি ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা তৈরি করে। ফলে এসব ব্যাংককে একক নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনা উচিত। একই সঙ্গে বেসরকারি অংশীদারত্বও বাড়ানো প্রয়োজন।
এসব ব্যাংকের সম্পদের মান নিরীক্ষা করে প্রকৃত আর্থিক অবস্থা প্রতিফলিত হয় এমনভাবে ব্যালান্স শিট পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে। এতে ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা সহজ হবে। দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে একীভূত করে সংখ্যা কমিয়ে আনার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশে পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বড় উৎস হলেও বাংলাদেশে ব্যাংক খাতই প্রধান উৎস। আমরা কেন পুঁজিবাজারকে কার্যকর অর্থায়ন উৎস হিসেবে গড়ে তুলতে পারিনি?
বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় লাগে এবং এতে আর্থিক ঝুঁকিও বেশি থাকে। এ ধরনের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় পুঁজিবাজার তুলনামূলকভাবে বেশি সক্ষম। কিন্তু প্রতিষ্ঠার প্রায় সাত দশক পরও বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের প্রধান উৎসে পরিণত হতে পারেনি।
এর অন্যতম কারণ হলো, দেশের আর্থিক নীতিতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংক খাতকে কেন্দ্রীয় অবস্থানে রাখা হয়েছে। ফলে পুঁজিবাজার কখনই কার্যকর বিকল্প উৎস হিসেবে বিকশিত হতে পারেনি। এর ফলে শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের বড় চাপ ব্যাংক খাতের ওপর পড়েছে।
ব্যাংক খাত থেকে বিপুল পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যার ফলে সম্পদ-দায় (অ্যাসেট-লায়াবিলিটি) মিসম্যাচ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ঋণ বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতিও রয়েছে। এর ফলেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে গিয়ে ব্যাংক খাত ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দশকে মোট স্থায়ী মূলধন গঠনের মাত্র ৬ শতাংশ এসেছে পুঁজিবাজার থেকে। এটি পুঁজিবাজারের দুর্বল অবস্থারই প্রতিফলন।
টেকসই অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য কার্যকর পুঁজিবাজার, বন্ড মার্কেট, ডেরিভেটিভ মার্কেট এবং বহুমুখী অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। এতে কোনো একক খাতের ওপর অতিনির্ভরতা তৈরি হবে না এবং আর্থিক ব্যবস্থাও আরো স্থিতিশীল হবে। সরকারের উচিত পুঁজিবাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা ও নীতিগত সীমাবদ্ধতা দূর করার দিকে গুরুত্ব দেয়া।
বাজেটের একটি বড় অংশ পরিচালন ব্যয়। দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের আকার ছোট করার প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন পে-স্কেল প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে তো ব্যয় আরো বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের কাছে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন?
২০১৫ সালে সর্বশেষ পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর প্রায় এক যুগ পার হয়ে গেছে। অতীতে সাধারণত পাঁচ-সাত বছর অন্তর নতুন পে-স্কেল দেয়া হতো। সে সময় যে বেতন কাঠামোকে তুলনামূলক উচ্চ মনে হয়েছিল, ক্রমান্বয়ে মূল্যস্ফীতির কারণে বর্তমানে তার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে। এ বাস্তবতায় নতুন পে-স্কেল প্রবর্তনের যৌক্তিকতা রয়েছে।
তবে একই সঙ্গে সরকারের পরিসর—অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সরকার, স্থানীয় সরকার এবং বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের কাঠামোগত পুনর্বিন্যাস হয়নি। সেই প্রায় চার দশক আগে গঠিত এনাম কমিটির পর এ বিষয়ে আর বড় ধরনের মূল্যায়ন হয়নি।
বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন, মেশিন লার্নিংসহ আধুনিক প্রযুক্তি জনসেবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্ত হচ্ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মানবসম্পদের প্রয়োজন কমে এসেছে। কিন্তু পুরনো জনবল কাঠামো অপরিবর্তিত রয়েছে।
একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। আগে পেনশন পরিশোধ করা হতো বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক পিএলসি কিংবা উপজেলা ও জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসের কাউন্টারের মাধ্যমে। এ কাজে হাজার হাজার কর্মী নিয়োজিত থাকতেন। বর্তমানে সিজিএ অফিসের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল পেনশন ব্যবস্থার মাধ্যমে ইএফটির সাহায্যে প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহেই পেনশনভোগীদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ পৌঁছে যাচ্ছে। এমনকি লাইফ ভেরিফিকেশনও অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে বহু ক্ষেত্রে আগের জনবল কাঠামো আর প্রয়োজনীয় নয়।
এ ধরনের উদাহরণ আরো রয়েছে। যেসব সেবায় ডিজিটালাইজেশন হয়েছে, সেখানে আগের মতো বিপুল জনবল প্রয়োজন হয় না। কিন্তু এখনো অনেক ক্ষেত্রে পদ ও জনবল বহাল রয়েছে, যদিও কাজের পরিমাণ কমে গেছে। ফলে মানবসম্পদ কাঠামোকে বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পুনর্বিন্যাস করা জরুরি। যদিও এটি অপ্রিয় সিদ্ধান্ত হতে পারে, তবু দক্ষ ও কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের জন্য এ ধরনের সংস্কার প্রয়োজন।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমানে দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন সরকারের কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া উচিত, বিশেষ করে বাজেটে?
কর্মসংস্থান সৃষ্টি একটি বহুমাত্রিক ও জটিল বিষয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে নিতে হবে। বর্তমানে বেসরকারি খাত ও শিল্প-কারখানার একটি বড় অংশ বিভিন্ন কারণে কার্যক্রম সংকুচিত করেছে বা বন্ধ রয়েছে। এগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।
এটা বাস্তবতা যে সরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে। প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়বে, সরকারি কাঠামোর আকারও তত ছোট হবে এবং নিয়োগের সুযোগও কমবে। ফলে তরুণ জনগোষ্ঠীকে যুগোপযোগী দক্ষতায় গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
বর্তমানে দেশে যেসব কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, তার অনেকগুলোই সময়োপযোগী নয়। অথচ বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ফলে বাজেট পরিকল্পনায় আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আলাদা কর্মসূচিভিত্তিক বাজেট প্রণয়ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শ্রমঘন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্পসুদে ঋণ প্রদান করতে হবে, যাতে তারা বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে পারে। একই সঙ্গে ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন, নীতির ধারাবাহিকতা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে আমাদের শিল্পনীতি ও করনীতিকে প্রায়ই প্রতিবন্ধক হিসেবে দেখা হয়। বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে কোন কোন ক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে হলে শুধু পোর্টফোলিও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করলে হবে না। পোর্টফোলিও বিনিয়োগ অস্থির প্রকৃতির; এটি দ্রুত আসে এবং চলে যায়। দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিল্পায়নের জন্য টেকসই এফডিআই প্রয়োজন।
তবে বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের পূর্বশর্ত হচ্ছে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করা। দেশীয় বিনিয়োগকারীরা যদি আত্মবিশ্বাসী না হন, তাহলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনও কঠিন হবে। বর্তমানে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের বড় উদ্বেগ হচ্ছে বিনিয়োগ নিরাপত্তা, নীতির স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা।
ব্যাংক, এনবিআর, বিডা, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন প্রক্রিয়াকে সমন্বিত করে কার্যকর ওয়ান-স্টপ সার্ভিস গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত হবে।
বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিজ দেশে মুনাফা প্রত্যাবাসনের সুযোগ আমাদের নীতিমালায় রয়েছে। তবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রিজার্ভ যদি স্থিতিশীল ও সম্মানজনক পর্যায়ে না থাকে, তাহলে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহ হারাতে পারেন।
বর্তমানে টাকার বিনিময় হার কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও পরিস্থিতি এখনো নাজুক। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রবাসী আয়ের ঝুঁকি এবং বৈদেশিক মুদ্রাপ্রবাহের অনিশ্চয়তা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে। ফলে রিজার্ভ পরিস্থিতি শক্তিশালী করা এবং মুদ্রাবাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।