তাদের দাবি, সস্তা চীনা পণ্য বিশ্ববাজার সয়লাব করে উন্নত দেশগুলোর উৎপাদন খাতকে হুমকির মুখে ফেলছে। তবে মূল সত্য হলো, চীনের শিল্পোৎপাদন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সংকট নয়, বরং একটি বড় সুযোগ। বৈচিত্র্যময় ও সাশ্রয়ী চীনা পণ্য আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সাহায্য করছে। তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রে চীনা আমদানির কারণে ভোক্তামূল্য কমেছে, যা মূল্যস্ফীতির সময়ে সাধারণ পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমিয়েছে।
চীনা উদ্যোগ শূন্য-সমষ্টির খেলা নয়, বরং সার্বিক উন্নয়নের পথ উন্মোচন করে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে চীন মূল্য সাশ্রয়ী সমাধান এনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সহজলভ্য করেছে। এছাড়া ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই) ও নতুন সীমান্ত বাণিজ্য রুটের মাধ্যমে চীন অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে গ্লোবাল সাউথসহ অন্যান্য দেশকে বিশ্ব সরবরাহ চেইনে যুক্ত করছে। ইইউর গাড়ি শিল্পের সমস্যা কেবল চীনা ইভি আমদানির কারণে নয়, বরং কাঠামোগত পরিবর্তনের অভাবই সেখানে মূল কারণ। চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপে কারখানা স্থাপন ও যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পকে নতুন রূপ দিচ্ছে। তাই ‘চায়না শক ২.০’ কোনো হুমকি নয়, বরং স্বল্পমূল্যের সবুজ প্রযুক্তি, নিম্ন মূল্যস্ফীতি এবং উন্নত অবকাঠামোর সমন্বয়ে বিশ্ব অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার এক যৌথ সম্ভাবনা।
[সিজিটিএন থেকে সংক্ষেপিত]
শাও জিয়া: সিজিটিএনের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিষয়ক লেখক