আমরা সম্প্রতি আমাদের তৃতীয় জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) ঘোষণা করেছি। সেখানে আমরা গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ২০ দশমিক ৩ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। এটি অর্জনের জন্য কয়েকটি উপলক্ষও ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মোট জ্বালানি চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণ করা, ভবিষ্যতে এ হার আরো বাড়ানো এবং জ্বালানি দক্ষতা ১৯ দশমিক ২ শতাংশ উন্নত করা। এ লক্ষ্যগুলো সামনে রেখে এবং অর্থনৈতিক বিবেচনায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) ও বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশেষ তহবিলের সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য আমরা বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছি।
আমরা আমাদের ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর দক্ষতা কো-জেনারেশন ও ট্রাইজেনারেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে ৭০-৮০ শতাংশে উন্নীত করেছি। পাশাপাশি কারখানাগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ সর্বোচ্চ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। এ পর্যন্ত আমরা প্রায় ২০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছি। আগামী বছর আরো ১০ মেগাওয়াট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। কারখানার কর্মীদেরও আমরা বিভিন্নভাবে সচেতন ও উৎসাহিত করছি, যাতে তারা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং কারখানার বিভিন্ন এলাকায় সবুজায়নের উদ্যোগ নেন।
এছাড়া আমরা বায়োমাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ ও বাষ্প উৎপাদন করছি। বর্তমানে বায়োমাস থেকে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৮০ টন বাষ্প উৎপাদন করছি। আগামী বছর আরো ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ঘণ্টায় অতিরিক্ত ৫৫ টন বাষ্প উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী বছর ১৫-২০ টন সক্ষমতার একটি রিসাইক্লিং ইউনিট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা দেশের অন্যতম বৃহৎ সিনথেটিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশ আমরা পূরণ করি। এ খাতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে কাজ করছি।
আমাদের আরেকটি বিশেষ উদ্যোগ হলো পাটকাঠি থেকে বোর্ড তৈরি। সাধারণত পাটের আঁশ ছাড়ানোর পর যে পাটকাঠি পড়ে থাকে, সেটিকে আমরা কাঠের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করে বোর্ড তৈরি করছি। এসব বোর্ড অভ্যন্তরীণ সজ্জার কাজে ব্যবহার করা যায়। কাঠের বিকল্প উপকরণ তৈরির ক্ষেত্রে এটি বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় একটি উদ্যোগ।
এছাড়া আমরা বিকল্প ব্লক তৈরি করছি। প্রতিদিন প্রায় তিন লাখ ব্লক উৎপাদন করছি, যেগুলো প্রচলিত ইটের সমান বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী। এসব ব্লক উৎপাদনে কার্বন নিঃসরণও তুলনামূলকভাবে কম।
এসব উদ্যোগের অভিজ্ঞতা থেকে দেখছি, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের বিষয়ে সরকারেরও আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। কিন্তু সরকারের লক্ষ্য ও বাস্তব নীতিমালার মধ্যে কিছু অসংগতি রয়েছে। আমার আশঙ্কা এ অসংগতির কারণে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রফতানি খাতগুলোর একটি তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্প—দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। কারণ দেশের মোট রফতানি আয়ের প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশ এ খাত থেকে আসে।
এক্ষেত্রে প্রথমে ম্যানমেইড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তুর প্রসঙ্গে আসি। বিশ্বের বড় বড় ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান এখন নেট জিরো লক্ষ্যের দিকে এগোচ্ছে। তাদের সরবরাহ ব্যবস্থাকেও নিঃসরণ কমিয়ে নেট জিরোর উপযোগী করতে চাচ্ছে। এক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি পুরনো কাপড় পুনর্ব্যবহার করে নতুন কাপড় তৈরি করাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ব্র্যান্ড পুনর্ব্যবহৃত উপকরণের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বাড়াতে চায়। কোথাও কোথাও এ হার ৪০ শতাংশ বা তারও বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে।
এখানে বৈশ্বিক বস্ত্রশিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বোঝা দরকার। বিশ্বে বর্তমানে তুলার পাশাপাশি ম্যানমেইড ফাইবারের ব্যবহার বাড়ছে। এর কিছু ব্যবহারিক সুবিধা রয়েছে। নির্দিষ্ট ধরনের কৃত্রিম তন্তু দিয়ে হালকা, টেকসই ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কাপড় তৈরি করা যায়। এসব উপকরণের কিছু ধরন পুনর্ব্যবহার করাও তুলনামূলকভাবে সহজ। অন্যদিকে তুলার তন্তু বারবার পুনর্ব্যবহার করলে এর দৈর্ঘ্য ও শক্তির মতো বৈশিষ্ট্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
কিন্তু বাংলাদেশের পরিস্থিতি এর বিপরীত। দেশে উৎপাদিত কাপড়ের প্রায় ৩০ শতাংশ ম্যানমেইড ফাইবারনির্ভর, আর ৭০ শতাংশ তুলানির্ভর। ফলে বৈশ্বিক চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের উৎপাদন কাঠামোতেও পরিবর্তন আনতে হবে।
এ পরিবর্তনের পথে নীতিগত অসংগতি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে আমাদের তৈরি পণ্যের চেয়ে কাঁচামালের ওপর শুল্ক বেশি ছিল। চলতি বছর শেষ পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান হয়েছে। তবে এ খাতে এখনো আরো অনেক নীতিগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশে ম্যানমেইড ফাইবারভিত্তিক শিল্পকে আমরা এখনো প্রত্যাশিত শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারিনি।
আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ যখন ২০২৯ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরবর্তী পর্যায়ে যাবে এবং জিএসপি প্লাসের মতো বাণিজ্যিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা করবে, তখন আমাদের জন্য দ্বৈত রূপান্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। অর্থাৎ একই সঙ্গে পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ এবং উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার কাজ করতে হবে। আমাদের সুতা উৎপাদন, বস্ত্র বয়ন এবং তৈরি পোশাক উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
আমরা যদি ম্যানমেইড ফাইবারের ক্ষেত্রে স্পিনিং ও উইভিং—এ দুই পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে না তুলি, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের পণ্যের ওপর ৮-২০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের চাপ তৈরি হতে পারে। তখন আমরা আবার সরকারের কাছে ভর্তুকি চাইব। কিন্তু বিষয়টি আগে থেকেই বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নেয়া প্রয়োজন।
বিশ্ব যেদিকে এগোচ্ছে, আমাদেরও সেদিকে এগোতে হবে। নীতিনির্ধারকদের উচিত নয় বিভিন্ন পক্ষের বিরোধপূর্ণ বক্তব্য ও স্বার্থের দ্বন্দ্বের কারণে মূল লক্ষ্য থেকে সরে যাওয়া। আমাদের দেশে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের তিনটি বড় সংগঠন—বিটিএমএ, বিকেএমইএ ও বিজিএমইএ—রয়েছে। এসব সংগঠনের মধ্যে স্বার্থের পার্থক্য থাকতে পারে। কিন্তু নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
অতীতে আমরা দেখেছি, প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছে। বাষ্পচালিত যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হওয়ার সময়ও অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন, এর ফলে কর্মসংস্থান হারিয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তি ও দক্ষতার অগ্রগতি থেমে থাকেনি। আজও আমরা যতই আপত্তি করি না কেন, বিশ্ব যে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে কার্বন-নিরপেক্ষ অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে, সেটিই বাস্তবতা। আমাদের নীতিনির্ধারকদেরও সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এবার নবায়নযোগ্য জ্বালানির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরতে চাই। সেটি হলো শনাক্তযোগ্য বা ট্রেসেবল নবায়নযোগ্য জ্বালানি। আমাদের বড় ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলোর লক্ষ্যের দিকে তাকালেই বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায়। যেমন এইচঅ্যান্ডএম ২০৩০ সালের মধ্যে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ইনডিটেক্স তাদের সরবরাহ ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে চায়। নাইকিও ২০৩০ সালের মধ্যে নিঃসরণ ৩৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার একটি বড় অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে অর্জনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বাস্তবতা কী? দেশে স্থাপিত মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় সৌরবিদ্যুতের অংশ এখনো খুবই কম। সম্প্রতি তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর ছাদে কতটা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, তা নিয়ে একটি সমীক্ষা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, বর্তমানে এ খাতে সম্ভাবনার তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কাজে লাগানো হচ্ছে। পুরো সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে এ খাতের বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৪ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ থেকে পূরণ করা সম্ভব।
অর্থাৎ আমাদের ক্রেতারা যখন শতভাগ, ৫০ শতাংশ কিংবা ৩৫ শতাংশ নিঃসরণ হ্রাসের মতো উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করছে, তখন বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছি না।
টিকে গ্রুপ থেকেও আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছিলাম। নিজেদের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি দিয়ে পূরণ করার পাশাপাশি যেসব ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান শনাক্তযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি খুঁজছে, তাদের কাছে বাণিজ্যিকভাবে এ জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ তৈরি করতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু এক্ষেত্রে নতুন একটি নীতিগত বাধা তৈরি হয়েছে। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক মার্চেন্ট পাওয়ারের জন্য একটি নীতিমালা প্রস্তাব করেছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও হিসাবের ক্ষেত্রে রিয়েল টাইম মিটারিংয়ের কথা বলা হয়েছে।
বিষয়টি বোঝার জন্য প্রচলিত নেট মিটারিং ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা প্রয়োজন। নেট মিটারিংয়ের ক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠান সৌরবিদ্যুৎ থেকে নিজের প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে তা গ্রিডে সরবরাহ করতে পারে। আবার যখন সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হয় না, তখন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নিতে পারে। মাস শেষে গ্রিডে সরবরাহ করা ও গ্রিড থেকে নেয়া বিদ্যুতের হিসাব সমন্বয় করে বিল নির্ধারণ করা হয়।
কিন্তু মার্চেন্ট পাওয়ারের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত রিয়েল টাইম ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়ের সঙ্গে সরবরাহের সময়ের মিল থাকা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। দিনের যে সময় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হয়, মূলত সেই সময়েই তা ক্রেতার কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ করে পরবর্তী সময়ে তা গ্রিড বা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগ না থাকলে বিনিয়োগের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
ধরা যাক, একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র দিনে সাড়ে ৪ ঘণ্টা কার্যকরভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। তাহলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উৎপাদনের সময় সীমিত থাকায় কোনো প্রতিষ্ঠানের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার বড় অংশ এ ব্যবস্থার আওতায় আনা কঠিন হবে। এ ধরনের সীমাবদ্ধতা নীতিমালার মাধ্যমে তৈরি হলে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের আগ্রহ কমতে পারে।
এখানেই সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য এবং বাস্তব নীতিমালার মধ্যে অসংগতিটি স্পষ্ট হয়। একদিকে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে চায়, অন্যদিকে নীতিমালার কিছু শর্ত এ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ সীমিত করতে পারে।
আমাদের মতো উদ্যোক্তারা যদি দেশের কার্বন নিঃসরণ কমাতে এবং ভবিষ্যতে ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত পরিবেশগত মান পূরণ করতে বিনিয়োগ করতে চাই, তাহলে সেই বিনিয়োগের অনুকূল নীতিগত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে যেসব কারখানার ছাদে পর্যাপ্ত সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সুযোগ নেই, তারা যেন বিভিন্ন মার্চেন্ট পাওয়ার প্লান্ট থেকে শনাক্তযোগ্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি কিনতে পারে, সেই ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি।
এজন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন, সরবরাহ, গ্রিডে বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং আর্থিক সমন্বয়ের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রয়োজন। সরকারের পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে নীতিমালার এসব বাধা দূর করতে হবে। অন্যথায় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও আমরা প্রয়োজনীয় অগ্রগতি অর্জন করতে পারব না।
মোহাম্মদ মুস্তাফা হায়দার: গ্রুপ ডিরেক্টর, টিকে গ্রুপ
[বণিক বার্তা আয়োজিত ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস’ শীর্ষক ‘গ্রিন ডায়ালগ’-এ প্যানেল আলোচকের বক্তব্যে]