বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো (এনবিএফআই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। শুধু ব্যাংকই নয়, এনবিএফআইও আর্থিক মধ্যস্থতার কাজ করে। সেদিক থেকে অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদান একেবারে নগণ্য নয়। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের সার্বিক নৈপুণ্য নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানগুলোর সংখ্যা কত, পরিধি, ব্যবসার ধরন ও রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক কেমন প্রভৃতির ওপর।
বাংলাদেশে
বর্তমানে ৩৪টির
মতো এনবিএফআই
আছে। বাংলাদেশ
ব্যাংকই এগুলোর
অনুমোদন, নিবন্ধন
প্রদান ও তদারক করে।
এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত, বেশির ভাগই যৌথ মূলধনি আর কিছু একক ব্যক্তিমালিকানাভিত্তিক। তবে সংখ্যার
তুলনায় দেশের
অর্থনীতিতে এসব প্রতিষ্ঠানের অবদান
সন্তোষজনক নয়। হাতেগোনা কয়েকটি
আর্থিক প্রতিষ্ঠান সন্তোষজনক কাজ করলেও
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের অবস্থা সুখকর নয়। এরই মধ্যে
কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে,
কয়েকটির অবস্থা
এতটাই খারাপ
যে বাংলাদেশ
ব্যাংককে হস্তক্ষেপ
করতে হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এনবিএফআইয়ের প্রচার-প্রচারণা বেড়েছে। তবে এখনো তাদের সম্প্রসারণ আশানুরূপ নয়। দেশের সব জেলায় তাদের শাখা বিস্তৃত হয়নি।
এনবিএফআইয়ের প্রথম বৈশিষ্ট্য হলো, তারা নন-ডিপোজিটরি মধ্যস্থতাকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তারা সাধারণত ফিক্সড ডিপোজিট নিতে পারে না। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের ছয় মাস পর্যন্ত আমানত নেয়ার সুযোগ দিয়েছে। তারা চেক ইস্যু বা পে অর্ডার ইস্যু করতে পারে না। এদিক থেকে বলতে গেলে তারা ব্যাংকের মতো নয়। তবে ব্যাংকের অনুরূপ কাজ করে। যেমন মর্টগেজ ফাইন্যান্সিং, লিজ ফাইন্যান্সিং, ব্রিজ ফাইন্যান্সিং প্রভৃতি। ব্যাংকের মতো আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান বলে এনবিএফআইগুলোরও সুযোগ আছে। এক্ষেত্রে তাদের আরো বেশি সৃজনশীল হতে হবে। নতুন নতুন প্রডাক্ট ও সেবা নিয়ে আসতে হবে, যেটি ব্যাংক করতে পারে না। কারণ সেবা প্রদানে ব্যাংকের ব্যয় অপেক্ষাকৃত বেশি। এ সুযোগটাই এনবিএফআই সদ্ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু হুবহু ব্যাংকের মতো কাজ করলে প্রতিযোগিতায় এনবিএফআই টিকতে পারবে না। ব্যাংকে যারা টাকা রাখতে যাবে, তাদের অনেকেই হয়তো এনবিএফআইতে রাখবে না। ব্যাংক থেকে যারা ঋণ নিতে যাবে, তারা এনবিএফআইতে যাবে না কিংবা অন্য সার্ভিসের জন্য গ্রাহক ব্যাংকের কাছে যতটা যাবে, এনবিএফআইয়ের কাছে ততটা যাবে না। কাজেই ব্যাংকের মতো হুবহু কাজ করতে গেলে তারা টিকতে পারবে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এনবিএফআইগুলো ব্যাংকের কাজই অনুসরণ করছে। এতে তারা ফাঁদে পড়ে যাচ্ছে এবং সেখান থেকে বেরোতে পারছে না।
বাংলাদেশে বেশকিছু এনবিএফআইয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। এর মূল কারণ সুশাসনের ঘাটতি, নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির অভাব। ফলে এ খাতে বিপর্যয় ঘটেছে। এটা শুধু খেলাপি ঋণ বা ঋণ আদায় হয়নি তার জন্য নয়, বিশেষ করে বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎ করার কারণে তাদের এ অবস্থা হয়েছে। এটা হয়েছে কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে। এনবিএফআইগুলোর ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নজরদারির ঘাটতি ছিল বলেই এ ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এনবিএফআইগুলোর দিকে আরো দৃষ্টি দিতে হবে। খাতটিকে শক্তিশালী করতে হলে নিয়মকানুন কঠোর করার পাশাপাশি তাদের বিকাশে সহায়ক পরিবেশও তৈরি করতে দিতে হবে। তাদের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করলে খাতটি বড় হবে না। অর্থনৈতিক অগ্রগতির স্বার্থেই ব্যাংকবহির্ভূত শক্তিশালী আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন।
দুঃখজনক
হলেও সত্য, ব্যাংকের চেয়ে এনবিএফআইগুলোয় বাংলাদেশ
ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ
ও নজরদারি
অপেক্ষাকৃত কম। এর মূল কারণ বাংলাদেশে
অনেক ব্যাংক
অনুমোদন পেয়েছে
এবং সেগুলো
পরিচালিত হচ্ছে।
এমনিতে সেখানে
প্রচুর সমস্যা।
আর এনবিএফআইয়ের সংখ্যাও কম নয়, ৩৪টি। কেন্দ্রীয়
ব্যাংকের বিদ্যমান
লোকবল দিয়ে এতগুলো প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন ও নজরদারি
করা কঠিন।
দ্বিতীয়ত, এনবিএফআইয়ের মোট পোর্টফোলিও ব্যাংকগুলোর তুলনায় অনেক কম। সব এনবিএফআইয়ের যোগফল অনেক ক্ষেত্রে
একটি ব্যাংকের
সমানও নয়। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা খারাপ হচ্ছে।
সমস্যাগুলো চিহ্নিত
এবং তা সমাধানে কার্যকর
ব্যবস্থা নেয়ার
ক্ষেত্রে বড় ধরনের দুর্বলতা
রয়ে গেছে।
সেটিই মূলত এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার মূল নিয়ামক। বাংলাদেশ
ব্যাংক ও এনবিএফআইয়ের পক্ষ থেকে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ
ও সংস্কারের
পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, সেগুলো
অত্যন্ত মন্থর
গতিতে এগোচ্ছে।
এভাবে চললে বিদ্যমান সমস্যা
সহজে সমাধান
হবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন ও কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসক নিয়োগ করেছে। অনেক দিন হয়ে গেল তাতে কোনো অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা যায় না। প্রশ্ন হলো, প্রতিষ্ঠান অবসায়ন করলে সরকার কোথা থেকে অর্থ পাবে এবং আমানতকারীদের অর্থ কীভাবে ফেরত দেবে। যদি চিহ্নিত করা যায় যে ওই প্রতিষ্ঠানের টাকা এক জায়গায় আছে, সেখানকার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে না হয় গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেয়া যায়। তবে শক্ত প্রমাণ ছাড়া অর্থ ফেরত আনা কঠিন। দ্বিতীয়ত, যেকোনো জায়গা থেকে ফান্ড চলে গেলে অন্যান্য ফান্ডের সঙ্গে মিলে যায় সেটি, যা চিহ্নিত করা কঠিন। অর্থ অনেকটা মেলটিং পটের মতো, কোনোভাবে বেরিয়ে গেলে তা ফেরত আনা খুব কঠিন। আরেকটি বিষয় হলো, প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিলে টাকাটা খুঁজে বের করা যায় না। টাকা ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়ার জন্য হলেও একটা লিভিং অর্গানাইজেশন দরকার। বন্ধ করে দিলে কাজটা করা দুরূহ হয়ে পড়ে। কিছুটা চালু অবস্থায় রেখে একটি অ্যাডহক কমিটি বা অ্যাডমিনিস্টার্ড কমিটি দিয়ে টাকা ফেরত দেয়া কিছুটা সম্ভব। আমাদের অতীত অভিজ্ঞতাও তাই বলে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এটি সর্বৈব সত্য প্রমাণিত হয়েছে। দেরিতে হলেও গ্রাহক অর্থ পেয়েছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি এখনো টিকে আছে। বাংলাদেশের মতো দেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধ করে দেয়া সঠিক নয়। এক্ষেত্রে যুবকের উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। যুবকের অনেক সম্পদ আছে। কিন্তু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সম্পদ কাজে লাগিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দেয়া সম্ভব হয়নি। প্রশাসক বসিয়ে প্রতিষ্ঠান চালু রেখে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নেয়াই যুক্তিযুক্ত। এতে সময় বেশি লাগলেও ফল আসে।
যেসব
আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ করা হচ্ছে, সেগুলো
প্রশাসকের দায়িত্ব
এবং কার্যপরিধি যদি সীমিত থাকে
বা তার ক্ষমতা সীমিত
থাকে, তাতেও
তেমন কাজ হবে না। এক্ষেত্রে কতগুলো
বিষয় বিবেচনায়
রাখতে হবে।
প্রয়োজন হলে বোর্ড পুনর্গঠন
করতে হবে।
আরেকটি উপায়
হতে পারে,
কোনো সচল বা ভালো
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা কোনো ভালো
ব্যাংকের সঙ্গে
দুর্বল আর্থিক
প্রতিষ্ঠানটিকে একীভূত
করা। তবে কাজটি সহজ নয়, জটিলতাও
রয়েছে অনেক।
এক্ষেত্রে আইনেরও
সংশোধন করতে
হবে।
বাংলাদেশে এনবিএফআইয়ের সম্ভাবনা এখনো আছে। যেগুলো বিপর্যয়ের মুখে আছে, সেগুলোকে উদ্ধারে কার্যকর পরিকল্পনা করতে হবে। কোনো একটা ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত কিংবা অন্য কোনো এনবিএফআইয়ের সঙ্গে একীভূত করে হোক ব্যবস্থা নিতে হবে দ্রুত। সর্বোপরি সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। বোর্ডে ভালো লোক নিয়ে আসতে হবে। তাদের কঠোর তদারক করতে হবে। আর চৌকস কর্মী নিয়োগ দিতে হবে।
অনেকেই হয়তো অফিস ভাড়াও দিতে পারেন না, স্টাফদেরও বেতন দিতে পারেন না কিন্তু জনগণের কাছ থেকে অর্থ নিয়েই যাচ্ছেন। সেসব প্রতিষ্ঠান চালু রেখে লাভ নেই। আমার পরামর্শ হলো, সেগুলো পুনর্গঠন করতে হবে, তাদের লাইসেন্স বাতিল করে দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। ঋণ দেয়া থেকেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের মূল আয় আসে। এমন একক নির্ভরশীলতা ভালো নয়। ব্যাংক যেমন গ্রাহককে বিভিন্ন সেবা দিয়ে আয় করতে পারে, যেমন অ্যাকাউন্ট পরিচালনার চার্জ, এলসি খোলা, পে অর্ডার ইস্যু চার্জ প্রভৃতি, এনবিএফআইয়ের সে সুযোগ নেই। ফলে আয় বাড়াতে তাদের আরো সৃজনশীল পথ অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে তারা ভেঞ্চার ক্যাপিটালে অর্থায়ন করতে পারে। শেয়ারবাজারেও বিনিয়োগ করতে পারে, তবে অবশ্যই সাবধানে। কারণ শেয়ারবাজার সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া তারা সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে মিউচুয়াল ফান্ড গঠন করতে পারে। স্টক মার্কেটে অ্যাডভাইজরি সার্ভিস দিতে পারে। একই সঙ্গে তাদের সেবার মধ্যে বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে হবে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এনবিএফআইগুলো নানা ধরনের সেবা দেয়। কেউ আবাসনের জন্য ফান্ড গঠন ও ঋণ দেয়। আবার কেউ সমবায়কে ঋণ দেয়। কেউ দুগ্ধ শিল্পে ঋণ দেয় তো কেউ কটেজ শিল্প নিয়ে কাজ করে। একেকটি প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন সেবা নিয়ে কাজ করায় ভারতে এনবিএফআইয়ের দ্রুত সম্প্রসারণ হয়েছে। দেশটিতে পোর্টফোলিওর দিক থেকে অনেক ব্যাংকের চেয়েও বড় এনবিএফআই আছে। বাংলাদেশেও এ সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনীতি দ্রুত বড় হচ্ছে, তাদের কাজের নতুন নতুন দ্বারও উন্মোচন হচ্ছে।
ভারতে বেশকিছু এনবিএফআইয়ের পারফরম্যান্স সেখানকার অনেক ব্যাংকের চেয়ে ভালো। বিশেষ করে ১০-১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ভারতে ভালো করছে। তারা পেটিএম, গৃহায়ণ ঋণ, মিউচুয়াল ফান্ড, বিকেন্দ্রায়িত উপায়ে স্থানীয় পর্যায়ে ফাইন্যান্স করছে। ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলো মাঠ পর্যায়ের প্রয়োজনটা খুব ভালো করে অনুধাবন করতে পারে। তাছাড়া তাদের আইটি সেবা খুব ভালো। কেস নিষ্পত্তি হয় অনেক দ্রুত। ব্যাংকের মতো এত সময়ও নেয় না। গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে পারে দ্রুত, এগুলো ইতিবাচক বিষয়। ভারতের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো কাজে লাগাতে পারে। এক্ষেত্রে আন্তঃযোগাযোগ গড়ে তোলা যেতে পারে।
কিছু প্রতিষ্ঠান ভালো করলেও এ খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংককেই সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। কার্যকর সিস্টেম ডেভেলপ করেছে কিনা, ফাইন্যান্সিয়াল ভায়াবিলিটি ও ইনস্টিটিউশনাল ভায়াবিলিটি আছে কিনা, তাদের এমআইএস ঠিক আছে কিনা, ম্যানেজমেন্ট ঠিক আছে কিনা, সুপারভিশন ঠিক আছে কিনা, ঋণ স্বল্পসংখ্যক ব্যক্তির কাছে কেন্দ্রীভূত হয়ে গেছে কিনা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কেমন প্রভৃতি নিয়মিত দেখতে হবে। ব্যবস্থাপনা উন্নত না হলে চূড়ান্তভাবে তারা ভালো সেবাও দিতে পারবে না।
তথ্য বলছে, জিডিপিতে এ খাতের অবদান এখনো তুলনামূলক কম। তবে এসব প্রতিষ্ঠানে অনেক গ্রাহক এককভাবে ৫০ বা ৬০ লাখ টাকার বেশি জমা রেখেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলো নাজুক হলে তারা বিপদে পড়ে যাবেন। তবে একটা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, আর তা হলো ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্সে স্কিমের আওতায় আমানতকে আনা হয়েছে। এটি কিছুটা হলেও গ্রাহককে সুরক্ষা দেবে। তবে এর পরিমাণ আরো বাড়াতে হবে।
এনবিএফআইগুলোকে সঠিক ধারায় নিয়ে আসতে কিছু পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। প্রথমত,
এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে। সুশাসন,
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত
করতে হবে। সব অনিয়ম
বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত,
বাংলাদেশ ব্যাংকের
নজরদারি বাড়াতে
হবে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগকে
আরো শক্তিশালী
করতে হবে। ব্যাংকের জন্য অনসাইট মনিটরিং,
অফসাইট মনিটরিংসহ
অনেক কিছু আছে। ফাইন্যান্সিয়াল ভিজিলেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেটিভ ইউনিট আছে। এক্ষেত্রে
ব্যাংকের মতো এনবিএফআইয়ের জন্যও
বাংলাদেশ ব্যাংককে
একই ধরনের
পদক্ষেপ নিতে হবে। তৃতীয়ত,
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে। চতুর্থত,
যারা সমস্যাসংকুল তাদের উত্তরণে দ্রুত
ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে মানুষের আস্থা
প্রতিষ্ঠিত হবে। এনবিএফআইয়ের ওপর মানুষের আস্থা
ফিরিয়ে আনাই এখন বড় বিষয়।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ: বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক